খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর

১৯৯৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলার শহরের শিববাড়ী মোড় সংলগ্ন পাবলিক হলের পাশে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর (Khulna Divisional Museum) প্রতিষ্ঠা করা হয়। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন স্থাপনার আলোকচিত্র এই জাদুঘরের অন্যতম আকর্ষণ। যশোরের ভরত ভায়ানা, ঝিনাইদহের বারবাজার ও বাগেরহাটের খান জাহান আলী সমাধী সৌধের মতো বিভিন্ন জায়গা খননের ফলে প্রাপ্ত দুর্লভ নিদর্শন সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে।

এছাড়া খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে গুপ্ত, পাল, সেন, মোঘল ও ব্রিটিশ আমলের নানা ধরনের পুরাকীর্তির নিদর্শন, পোড়ামাটি,কস্টি পাথর ও কালো পাথরের মূর্তি, মোঘল আমলের স্বর্ণ ও রূপার মুদ্রা, তামা, লোহা, পিতল, মাটি ও কাচের তৈজসপত্র, বিভিন্ন ধাতুর তৈরি খেলনা, অস্ত্র ও ব্যবহার সামগ্রী, ক্যালিগ্রাফি ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন সংস্কৃতির নানা নিদর্শন প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে। বর্তমানে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

প্রবেশমূল্য ও সময়সীমা

গ্রীষ্মকালীন সময়ে মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৬ টা পর্যন্ত জাদুঘর খোলা থাকে। আর শীতকালে খোলা থাকে সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। ১ টা থেকে ১ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বিরতি থাকে। প্রতি সপ্তাহের রবি ও অন্যান্য সরকারী ছুটির দিন জাদুঘরটি বন্ধ থাকে। এছাড়া সপ্তাহের প্রতি সোমবার অর্ধ দিবসের জন্য জাদুঘর উন্মুক্ত থাকে। খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে প্রবেশ মূল্য ১৫ টাকা, পাঁচ বছরের নীচের বাচ্চাদের জন্য ৫ টাকা। আর সার্কভুক্ত দেশগুলোর বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রবেশ মূল্য ৫০ এবং অন্যান্য দেশের দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা।

কিভাবে যাবেন

খুলনার বিভাগীয় জাদুঘরে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে খুলনা শহরে আসতে হবে। ঢাকা থেকে ট্রেন, বাস বা লঞ্চে খুলনা যাওয়া যায়। ঢাকার গুলিস্থান বা সায়েদাবাদ থেকে সোহাগ, হানিফ, ফাল্গুনি, সেবা ও গ্রিন লাইনের মতো বাসে খুলনা যেতে পারবেন। বাসভেদে ভাড়া লাগবে ৬০০-১৪০০ টাকা। খুলনা শহর থেকে বিভাগীয় জাদুঘরের দূরত্ব মাত্র ৪ কিলোমিটার। বাসে খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে নেমে স্থানীয় পরিবহণে শিববাড়ী ট্রাফিক মোড়ের মাজিদ সরণিতে জিয়া হলের সামনে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর দেখতে যেতে পারবেন।

রেলপথে ঢাকার কমলাপুর থেকে সুন্দরবন বা চিত্রা এক্সপ্রেসে খুলনা যাওয়া যায়। ভাড়া পড়বে ৫০৫-১৭৩১ টাকা। আর নৌপথে প্রতি বুধবার পি এস মাহসুদ বা পি এস অস্ট্রিচের মতো স্টিমার ঢাকা থেকে মংলা হয়ে খুলনাতে যাতায়াত করে।

কোথায় থাকবেন

খুলনা শহরে বিভিন্ন মানের সরকারী ও বেসরকারি আবাসনের ব্যবস্থা আছে। বেসরকারি হোটেলের মধ্যে টাইগার গার্ডেন ইন্টার ন্যাশনাল হোটেল, সিটি ইন লিমিটেড, হোটেল ক্যাসল সালাম, ওয়েস্টার্ন ইন, হোটেল হলিডে ইন্টারন্যাশনাল ও হোটেল মিলেনিয়াম উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন

খুলনা শহরের শিববাড়ী মোড়ে বেশকিছু ভালো রেস্টুরেন্ট আছে। খুলনা শহরে খাবারের মধ্যে সন্দেশ, ১ টাকার পুরি, কাচ্চি বিরিয়ানি ও গলদা চিংড়ি প্রসিদ্ধ।

অন্যান্য দর্শনীয় স্থান

খুলনার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান মধ্যে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড, শহীদ হাদিস পার্ক, করমজল পর্যটন কেন্দ্র, সুন্দরবন ও কটকা সমুদ্র সৈকত উল্লেখযোগ্য।