27 C
Dhaka
মঙ্গলবার, মে ১১, ২০২১
spot_img
[bangla_date]

পাহাড়ী কন্যা – বান্দরবান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবারিত সবুজের সমারোহ আর মেঘের সমুদ্র খ্যাত বাংলাদেশের পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান চট্টগ্রাম বিভাগ এর অন্তর্গত একটি জেলা। বান্দরবানের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল জুড়ে ঘিরে রয়েছে কক্সবাজার, উত্তর-পশ্চিমে চট্টগ্রাম, উত্তরে রাঙামাটি এবং পূর্বে রয়েছে মায়ানমারের চিন প্রদেশ এবং আরাকান প্রদেশের সীমান্ত।

বাংলাদেশের সবচেয়ে কম জনবসতিসম্পন্ন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনিটি জেলার মধ্যে একটি বান্দরবান। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ সাকা হাফং (১০৫২ মিটার)। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্বতশৃঙ্গ কেওক্রাডং (৮৮৩ মিটার) এবং সর্বোচ্চ খাল রাইখিয়াং এই জেলায় অবস্থিত। জেলার মারমিয়ানা তাং, বথিল তাং, কেওক্রাডং, লাংফি তাং, লাকপাং ডং, থাইংকিয়াং তাং, মৌডাক তাং, মুরাংজা তাং, ক্রিসতং, রুংরাং তাং, নাপরাই তাং, মুরিফা তাং, বুসি তাং ও সারা তাং পাহাড় উল্লেখযোগ্য।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার আয়তন ৪৪৭৯.০৪ বর্গ কিলোমিটার এবং লোকসংখ্যা ৪,০৪,০৯৩ জন। এ জেলায় মারমা, চাকমা, বম, মুরং, ত্রিপুরা, খ্যাং, খুমি, লুসাই প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। বান্দরবান জেলা ৭টি উপজেলা, ৭টি থানা, ২টি পৌরসভা, ৩৩টি ইউনিয়ন, ৯৬টি মৌজা, ১৪৮২টি গ্রাম ও ১টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। প্রধান নদী: সাঙ্গু ও মাতামুহুরী, বাকখালী নদী। উপজেলা গুলো হচ্ছে- রুমা, থানচি, আলীকদম, রোয়াংছড়ি, লামা, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দরবান সদর।

বান্দরবানে সরকারি ভাষা হিসেবে বাংলা প্রচলিত। স্থানীয় বাঙ্গালিরা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। এছাড়াও অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হিসেবে মারমা, ম্রো, ত্রিপুরা, বম, লুসাই, চাকমা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, খেয়াং, খুমী, পাংখুয়া ইত্যাদি প্রচলিত। বান্দরবানের মারমাদের বর্ষবরণ উৎসবের নাম সাংগ্রাই। এছাড়া বড় উৎসবের মধ্যে রয়েছে ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে বা প্রবারণা পূর্ণিমা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, দূর্গা পূজা ইত্যাদি ধর্মীয় উৎসব। রথযাত্রা, থালা নৃত্য, জুম উৎসব, বাঁশ নৃত্য, বৈসুক, সাংগ্রাই, বিঝু, জারিগান, সারিগান, কবিগান উল্লেখযোগ্য হচ্ছে লোকসংস্কৃতি।

 

দর্শনীয় স্থান

  • আমিয়াখুম জলপ্রপাত
  • আলীকদম গুহা
  • আলীকদম সেনানিবাস
  • কিয়াচলং লেক
  • ঋজুক জলপ্রপাত
  • কেওক্রাডং
  • চিম্বুক পাহাড় ও উপজাতীয় গ্রাম
  • চিংড়ি ঝর্ণা
  • জাদিপাই ঝর্না
  • জীবননগর
  • ডামতুয়া ঝর্ণা
  • ডিম পাহাড়
  • তাজিংডং
  • তিনাপ সাইতার
  • ত্লাবং ঝর্ণা
  • নাফাখুম জলপ্রপাত
  • নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র
  • নীলাচল
  • প্রান্তিক লেক
  • বগা লেক
  • বুদ্ধ ধাতু জাদি
  • মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র
  • রাইখিয়াং খাল; বাংলাদেশের দীর্ঘতম খাল।
  • রাজবিহার এবং উজানিপাড়া বিহার
  • লুং ফের ভা সাইতার
  • শৈলপ্রপাত
  • সাতভাইখুম জলপ্রপাত
  • সাকা হাফং
  • সাতভাইখুম জলপ্রপাত
  • বান্দরবানের ভূদৃশ্য
  • চিম্বুক পাহাড়
  • ক্রিওক্রাডং
  • নাফাখুম জলপ্রপাত
  • জাদিপাই ঝর্ণা
  • স্বর্ণ মন্দির
  • নীল দিগন্ত পর্যটন কেন্দ্র
  • রিজুক ঝর্না
  • চিংড়ি ঝর্ণা
  • ডিম পাহাড়
  • মারায়ংতং
  • তুঅক দামতুয়া ঝর্ণা
  • দেবতাখুম
  • রেমাক্রী
  • তিন্দু
  • যোগি হাফং
  • জ্বতলং
  • আন্ধারমানিক

কৃতী ব্যক্তিত্ব

  • ইউ কে চিং –– বীর বিক্রম খেতাব প্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা।[১৫]
  • বীর বাহাদুর উশৈ সিং –– রাজনীতিবিদ

যাতায়াত

সড়ক পথে- বান্দরবান যাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বাস। ঢাকা থেকে বাসে বান্দরবান বাসে যেতে সাধারণত ৬ঘন্টা – ১০ঘন্টা সময় লাগে। নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা অথবা গাড়ি ভাড়া করেও বান্দরবান যাওয়া সম্ভব। এছাড়া ঢাকা থেকে ট্রেনযোগে চট্টগ্রাম গিয়ে সেখানে থেকে বাসে করেও বান্দরবান যাওয়া যায়। এছাড়াও রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার থেকেও বান্দরবান যাওয়া যায়।

ঢাকা থেকে সরাসরি: আরামবাগ থেকে শ্যামলী, ঈগল, ইউনিক বাস সার্ভিস সরাসরি বান্দরবান যায়।

চট্টগ্রাম হয়ে বান্দরবান: দেশের যেকোন এলাকা থেকে বান্দরবান যাওয়ার জন্য প্রথমে চট্টগ্রাম যেতে হবে। সেখানের বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে বাস-এ করে যেতে হবে বান্দরবান। বিভিন্ন বাস সার্ভিস আছে। প্রতি ৩০ মিনিট পরপর বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি ২০০ থেকে ২৫০ টাকা।

বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে ১ ঘন্টা পর পর বান্দরবানের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়। ভাড়া জনপ্রতি-৯০ টাকা। প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে শুরু করে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত প্রতি ১ ঘন্টা পর পর এই পরিবহনের বাসগুলো চট্টগ্রাম-বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে যাতায়াত করে।

এখানকার সড়কপথে সংযোগগুলো হচ্ছে চিম্বুক – রুমা, বান্দরবান – রোয়াংছড়ি – রুমা, আজিজনগর – গজালিয়া – লামা, খানহাট – ধোপাছড়ি – বান্দরবান, বান্দরবান – চিম্বুক – থানচি – আলীকদম – বাইশারী – ঘুনধুম এবং চিম্বুক – টঙ্কাবতী – বারো আউলিয়া।

রাত্রীযাপন

বান্দরবান সদরে বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। এগুলো হল- হোটেল ফোর স্টার, হোটেল গ্রিন হিল, হোটেল হিল বার্ড, হোটেল পূরবী, হোটেল প্লাজা ইত্যাদি। এছাড়া হোটেল থ্রি স্টার বান্দরবান বাসস্ট্যান্ডের পাশে অবস্থিত। নীলগিরির গাড়ি এই হোটেলের সামনে থেকে ছাড়ে। এই হোটেলের সুবিধা হল এখানের ৪ বেডের একটি ফ্ল্যাটে ৮ থেকে ১০ জন একসাথে থাকতে পারে।

দৃষ্টি আকর্ষনঃ যেকোন সমস্যা কিংবা তথ্যের প্রয়োজনে কল দিয়ে যোগাযোগ করুন। 

  • ৩৩৩- জাতীয় তথ্য সেবা
  • ৯৯৯- জরুরী সেবা 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

21,943FansLike
2,757FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles