পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালী

Back to Posts

পাহাড়ী দ্বীপ মহেশখালী

মহেশখালী বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ বা দ্বীপ বেষ্টিত উপজেলা যা চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত। মহেশখালীর পশ্চিমে কুতুবদিয়া দ্বীপ ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলা, দক্ষিণে আছে কক্সবাজার সদর ও বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরে চকরিয়া উপজেলা দ্বারা বেষ্টিত। এ দ্বীপ ১৮৫৪ সালে বাংলাদেশের বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়।

কক্সবাজার জেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পশ্চিমে ২১°২৮´ থেকে ২১°৪৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫১´ থেকে ৯১°৫৯´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে অবস্থিত মহেশখালী উপজেলার আয়তন ৩৮৮.৫০ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৩,২১,২১৮ জন। এ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন রয়েছে। মহেশখালী উপজেলা আরো তিনটি ছোট ছোট দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। এগুলো হল: সোনাদিয়া, মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা।

মহেশখালী উপজেলার লোকসংস্কৃতি ও লোক উৎসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আদিনাথ মেলা। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের কোন একদিন থেকে শুরু হয়ে প্রায় দশ-পনের দিন পর্যন্ত চলে এই মেলা। মেলায় দেশীয় পণ্যের পসরা বসে। মাটির কিংবা বাঁশ-বেতের তৈরি জিনিসের মধ্যে হাঁড়ি পাতিল, কলসি, হাতা, ধুছনী, লোহার তৈরি দা-বটি ইত্যাদি পণ্য মেলাতে কেনাবেচা হয়। মেলা উপলক্ষে নাটক, যাত্রা, সার্কাস, পুতুল নাচ ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

 

দর্শনীয় স্থান

  • আদিনাথ মন্দির
  • বড় রাখাইন পাড়া বৌদ্ধ মন্দির
  • আদিনাথ ও গোরকঘাটা জেটি
  • লবণ মাঠ
  • শুটকি মহাল
  • গোরকঘাটা জমিদারবাড়ী
  • উপজেলা পরিষদ দীঘি
  • সোনাদিয়া দ্বীপ ও সমুদ্র সৈকত
  • হাঁসের চর
  • চরপাড়া সী-বিচ
  • মৈনাক পাহাড়
  • প্যারাবন
  • চিংড়ী ঘের
  • এছাড়া মহেশখালীর আদিনাথ বাজার, জয়ের খাতা, হরিয়ার চরা, জেমঘাট, পাকুয়া, মাতার বাড়ি, পশ্চিমপাড়া প্রভৃতি জায়গাগুলোও চমৎকার।

 

কিভাবে যাবেন

কক্সবাজার ভ্রমণে গেলে অবশ্যই পরিকল্পনায় মহেশখালী রাখতে পারেন। কক্সবাজার থেকে গিয়ে দিনে ঘুরে আসা সম্ভব। ফেরার সময় বিকালে ট্রলার পাবেন। মহেশখালী যাওয়ার জন্য প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে পারেন স্থলপথ, রেল পথ কিংবা আকাশ পথে। ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী বাসগুলোর মধ্যে গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। শ্রেণী ভেদে বাসগুলোর প্রতি সীটের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকার পর্যন্ত। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান, নভো এয়ার, ইউএস বাংলা সহ বেশকিছু বিমান ঢাকা থেকে কক্সবাজার ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। মহেশখালীতে যাওয়ার পথ দুটি। সড়ক পথে চকরিয়া থেকে বদরখালি হয়ে মহেশখালী অথবা কক্সবাজার থেকে ট্রলার বা স্পিড বোটে। মহেশখালীর মধ্যে সড়ক পথে বদরখালিতে নদীর মতো চ্যানেলের ওপর সেতু তৈরি হয়ে গেছে ফলে এই পথ দিয়ে নৌপথে পাড়ি দেবার দরকার নেই। চকরিয়া হয়ে যাবার পথে চোখে পরবে “মহেশখালী জেটি”। এটি একটি ব্রিজ এবং দৈর্ঘ্যে বেশ লম্বা। এর চারপাশে প্রচুর জলাভূমি আর পেরাবন। যেখানে প্রচুর অতিথি পাখি আসে। এসব দেখে চোখের ক্লান্তি অনেকটাই দুর হয়ে যাবে। আসতে মাত্র দের ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া কক্সজবাজার শহরের যেকোন জায়গা থেকে মহেশখালী যাবার জেটিতে (৬ নং ঘাট) চলে আসুন। তারপর লোকাল ট্রলার বা স্পীড বোটে ৭০-৮০ টাকা ভাড়ায় মহেশখালি আসবেন। চাইলে স্পিডবোট রিজার্ভ নিতে পারবেন। মহেশখালি এসে সবকিছু ঘুরে দেখতে এক বা দুজন হলে একটা রিক্সা (ভাড়া ১৫০-১৭০ টাকা) অথবা ৫-৭ জন হলে অটো/ইজিবাইক ভাড়া (৩০০-৩৫০ টাকা) করে নিবেন। তবে ভালো করে দরদাম করে নিবেন, না হয় ভোগান্তিতে পরতে পারেন।

খাওয়া দাওয়া

আদিনাথ মন্দির থেকে নেমে আসলেই জেলে পাড়া। জেলেদের জীবনযাপনের সাথে মেশার অপূর্ব সুযোগ রয়েছে। সমুদ্রের পাড়ে দেখা যায় বিচিত্র শামুক আর ঝিনুক। যে-কোন রেস্তোঁরায় কম দামে মজাদার রূপচাঁদা কিংবা কোরালের ন্যায় মজার মজার সামুদ্রিক মাছ খাবার ব্যবস্থা আছে। শুঁটকিও খাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন:

মহেশখালীতে রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা আছে। হোটেল সি গার্ডেন ভালোমানের হোটেল। কক্সবাজার শহরের কলাতলীতেও ভালোমানের হোটেল আছে। বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেল শৈবাল, লাবণী, প্রবাল ছাড়াও বেসরকারি হোটেলগুলোর মধ্যে হোটেল সী গাল, হোটেল সী প্যালেস, মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, জিয়া গেস্ট হাউজ, সোহাগ গেস্ট হাউজ, গ্রীন অবকাশ রিসোর্ট, নিট বেল রেস্টহাউজ রয়েছে। এ সকল হোটেলে ৩০০ থেকে ৩০০০ টাকায় রাত্রিযাপন করা যায়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!