27 C
Dhaka
মঙ্গলবার, মে ১১, ২০২১
spot_img
[bangla_date]

শেরপুর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়, শত শত পাহাড়ি বৃক্ষ, শাল গজারির প্রচ্ছন্ন ছায়ায় দাঁড়িয়ে থাকা নয়নাভিরাম বনাঞ্চল নিয়ে বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে মেঘালয়ের কোলঘেষে ও নীল পাহাড়ের এলাকা জুড়ে হিমালয় ছুয়ে আসা ব্রক্ষ্মপুত্র এবং ভোগাই, কংশ সোমেশ্বরীর মতো অসংখ্য জলস্রোতে গড়ে উঠা প্রাচীন জনপদ শেরপুর।

মাত্র ১৩৬৩.৭৬ বর্গকিমি আয়তনের এই জেলাটি ছোট হলেও নিঃসন্দেহে ভ্রমণ পিপাসুদের দৃষ্টি কাড়বে। মসজিদ, জমিদার বাড়ি, মন্দির ছাড়াও জেলাটিতে রয়েছে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান। এছাড়া গজনী অবকাশ কেন্দ্র, পাহড়ে ঘেড়া ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ইকো পার্ক, রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা, নয়াবাড়ির টিলা, পানিহাটা-তারানি পাহাড় ও সুতানাল দীঘির মতো রয়েছে বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থান। ঢাকা থেকে সড়কপথে দিনে গিয়ে দিনে ঘুড়ে আসতে পারেন।

শেরপুর জেলা ময়মনসিংহ বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। শেরপুর জেলা পূর্বে জামালপুর জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৯৮৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এটিকে জেলায় উন্নীত করা হয়। শেরপুর শহর, দেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ১৯৮ কিলোমিটার (১২৩.০৩ মাইল) উত্তরে অবস্থিত। শেরপুর অঞ্চল প্রাচীনকালে কামরূপা রাজ্যের অংশ ছিল। মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে এই এলাকা “দশকাহনিয়া বাজু” নামে পরিচিত ছিল।

শেরপুরের উত্তরে ভারতের মেঘালয়, দক্ষিণ ও পশ্চিমে জামালপুর জেলা ও পূর্ব দিকে ময়মনসিংহ জেলা। প্রধান ফসল-ধান, পাট, গম, সরিষা, আলু, বাদাম, আখ এবং তরিতরকারী। পুরাতন ব্রহ্মপুত্র: জেলার একমাত্র নদ। এছাড়া আরও নদী সমূহ হচ্ছে- প্রধান নদীসমূহ হচ্ছে: কংস, ভোগাই, কর্ণঝরা, চেল্লাখালি, ঝিনাই, দুধদা, মহারশি, মালিঝি, সোমেশ্বরী, মিরগী, দশানি, খলং এবং কালাগাঙ এখন মৃত নদী।

শেরপুর জেলা ৫ টি উপজেলা, ৫২ টি ইউনিয়ন, ৪৫৮ টি মৌজা, ৬৯৫ টি গ্রাম, ৪ টি পৌরসভা, ৩৬ টি ওয়ার্ড এবং ৯৯ টি মহল্লা নিয়ে গঠিত। উপজেলাগুলো হলোঃ ঝিনাইগাতী, নকলা, নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও শেরপুর সদর। সংসদীয় আসন ৩টি।

লোকসংস্কৃতি হিসেবে এ জেলায় ভাটিয়ালি গান, জারি গান, সারি গান, ভাওয়াইয়া গান, মুর্শিদি গান, মারফতি গান, কীর্তন গান, কবিগান, বৃষ্টির গান, মাঙনের গান, মাইজভান্ডারী, দেহতত্ত্ব, মালশি গান, থুবগান, উদাসিনী বা বারোমাসি গান, রাখালিগান, পালা গান, মেয়েলী গান ইত্যাদি লোকগীতির প্রচলন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে গণকবর ২ (শ্রীবর্দী, নালিতাবাড়ী); বধ্যভূমি ৩ (শেরপুর সদর ২, ঝিনাইগাতী ১); স্মৃতিস্তম্ভ ১ (নালিতাবাড়ী); মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিফলক ১ (ঝিনাইগাতী); মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম (শেরপুর সদর)।

দর্শনীয় স্থানসমুহ

  • কলা বাগান,
  • গজনী অবকাশ কেন্দ্র,
  • গড়জরিপা বার দুয়ারী মসজিদ,
  • গোপী নাথ ও অন্ন পূর্ন্না মন্দির,
  • ঘাঘড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ,
  • নয়আনী জমিদার বাড়ি,
  • নয়আনী জমিদার বাড়ির রংমহল,
  • নয়াবাড়ির টিলা,
  • পানিহাটা-তারানি পাহাড়,
  • পৌনে তিন আনী জমিদার বাড়ি,
  • বারোমারি গীর্জা ও মরিয়ম নগর গীর্জা,
  • মধুটিলা ইকোপার্ক,
  • মাইসাহেবা জামে মসজিদ,
  • রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা,
  • লোকনাথ মন্দির ও রঘুনাথ জিওর মন্দির,
  • সুতানাল দীঘি,
  • অলৌকিক গাজির দরগাহ, রুনিগাও, নকলা;
  • আড়াই আনী জমিদার বাড়ি,
  • কসবা মুঘল মসজিদ,
  • গড়জরিপা কালিদহ গাং এর ডিঙি,
  • গড়জরিপা ফোর্ট (১৪৮৬-৯১ খ্রিস্টাব্দ),
  • জরিপ শাহ এর মাজার,
  • নয়াআনী বাজার নাট মন্দির,
  • নালিতাবাড়ির বিখ্যাত রাবারড্যাম,
  • পানি হাটা দিঘী,
  • মঠ লস্কর বারী মসজিদ (১৮০৮ খ্রিস্টাব্দ),
  • মুন্সি দাদার মাজার, নয়াবাড়ি, বিবিরচর, নকলা;
  • শাহ কামাল এর মাজার (১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দ),
  • শের আলী গাজীর মাজার

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

শের আলী গাজী, রবি নিয়োগী, শহীদ শাহ মুতাসিম বিল্লাহ খুররম (মরণোত্তর বীর বিক্রম), আফসার আলী, আবদুল্লাহ-আল-মাহমুদ, খন্দকার আবদুল হামিদ, আতিউর রহমান আতিক এম.পি, আলহাজ জয়নাল আবেদীন, করম শাহ, টিপু শাহ, গোপালদাস চৌধুরী, জানকুপাথর ও দোবরাজপাথর, নিগার সুলতানা (ক্রিকেটার),ফাতেমা তুজ্জহুরা, মতিয়া চৌধুরী, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, মোতাসিম বিল্লাহ খুররম, মোঃ মাহবুবুল আলম শাহিন – চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, এ কে এম মুখলেছুর রহমান রিপন(উপজেলা চেয়ারম্যান), মোঃ আব্দুর রাজ্জাক আশীষ (সাবেক চেয়ারম্যান, শেরপুর পৌরসভা), কবি তালাত মাহমুদ, কবি অভিজিৎ চক্রবর্তী।

 

গজনী অবকাশ কেন্দ্র

পাহাড়ের ঢালে, গায়ে অথবা পাহাড় চূড়ায় সারি সারি শাল, সেগুন, মহুয়া, গজারী, আকাশমনি, ইউকেলিপটাস, মিলজিয়ামসহ আরো নাম না জানা কত শত পাহাড়ি গাছ, বনফুল ও ছায়াঢাকা বিন্যাস যেন বিশাল ক্যানভাসে সুনিপুণ শিল্পীর রঙ-তুলির আঁচড়। শিল্পীর এ আঁচড় খুব সহজেই প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দিয়ে যেতে পারে বলেই প্রতি বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার প্রকৃতিপ্রেমী নারী-পুরুষ, শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ সবাই ছুটে আসেন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী গারো পাহাড়ের মন ছুঁয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অবলোকন করতে।ভারতের মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে ও বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে অরণ্যরাজি আর গারো পাহাড়ের পাদদেশে পাহাড়ি নদী ভোগাই, চেল্লাখালি, মৃগী, সোমেশ্বরী, মালিঝি, মহারশীর ঐশ্বরিক প্রাচুর্যস্নাত অববাহিকায় সমৃদ্ধ জনপদ শেরপুর। এ জেলার বিশাল অংশজুড়ে গারো পাহাড়ের বিস্তৃতি। লাল মাটির উঁচু পাহাড়। গহীন জঙ্গল, টিলা, মাঝে সমতল। দু’পাহাড়ের মাঝখান দিয়ে ছন্দ তুলে পাহাড়ী ঝর্ণার এগিয়ে চলা। পাহাড়, বনানী, ঝরণা, হ্রদ এতসব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মধ্যেও কৃত্রিম সৌন্দর্যের অনেক সংযোজনই রয়েছে গজনী অবকাশ কেন্দ্রে।নিম্নে এর বিভিন্ন অংশের বর্ণনা দেওয়া হলঃ  ডাইনোসরঃউচ্চতা ৩৩ ফুট। নির্মাণ কাল ২০০৬, পরিকল্পনা ও পৃষ্ঠপোষকতায় মোঃ আবু বকর সিদ্দিক, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। নির্মাতা ভাস্কর হারুন অর রশীদ খান। এটি একটি বৃহৎ ভাস্কর্য যা দেখে আমরা পৃথিবীর বিবর্তনের  ইতিহাস জানতে পারি।  ড্রাগনঃএটি একটি স্থাপত্যধর্মী ভাস্কর্য। পৃষ্ঠপোষকতায় জনাব নওফেল মিয়া, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। ড্রাগনের মাথা দিয়ে প্রবেশ করে ভিতর দিয়ে বের হয়ে যাওয়া একটা অন্যরকম অনুভূতি ।  জলপরীঃঝিলের পাড়ে নির্মিত  জলপরি। দেখে মনে হয় জল থেকে সদ্য উঠে এসে  শ্রান্ত ক্লান্ত অবস্থায় বসে আছে। সাদা সিমেন্টে নির্মিত ভাস্কর্যটি পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন নওফেল মিয়া, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। নির্মাতা  ভাস্কর রায়হান ও শীষ । ফোয়ারাঃগ্রীক ধারায় তৈরী চৌবাচ্চার দুইটি হাঁস এবং পানির খেলা। নির্মাণকাল ২০০৮। পৃষ্ঠপোষকতা ও বাস্তবায়নে  জনাব সামছুন্নাহার বেগম, জেলা প্রশাসক, শেরপুর। এর নির্মাতা ভাস্কর মোঃ হারুন অর রশীদ খান।  দন্ডায়মান জিরাফঃউচ্চতা ২৫ ফুট। নির্মাণকাল ২০০৮। এটি  গজনীর অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য। জেলা প্রশাসক সামছুন্নাহার বেগমের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি নির্মিত হয়।  ওয়াচ টাওয়ারঃসুউচ্চ শীর্ষ পাহাড় চূড়ায় নির্মিত হয়েছে আধুনিক স্থাপত্য রীতিতে ৬৪ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন নয়নকাড়া ‘সাইট ভিউ টাওয়ার’। এ টাওয়ারের চূড়ায় উঠে এলে চারদিকে শুধু দেখা যায় ধূসর, আকাশী ও সবুজের মিতালি। পদ্ম সিড়িঃএটিও জনাব নওফেল মিয়ার চিন্তা-চেতনা থেকে তৈরি হয়েছিল। সিঁড়ি বেয়ে আকাশ পানে ওঠা এক অন্যবদ্য সৃষ্টি। রেস্ট হাউস থেকে পাহাড়ের পাদদেশে নামার জন্য আঁকাবাঁকা প্রায় দু’শতাধিক সিঁড়িসহ অত্যন্ত আকর্ষণীয় ‘পদ্ম সিড়ি’ রয়েছে। ‘পদ্ম সিড়ি’ এর পাশেই গজারী বনে কাব্য প্রেমীদের জন্য কবিতাঙ্গনের গাছে গাছে ঝোলানো আছে প্রকৃতিনির্ভর রচিত কবিতা। পাহাড়ের পাদদেশে বর্ষীয়ান বটবৃক্ষের ছায়াতলে শান বাঁধানো বেদীসহ বিশাল চত্ত্বর।

কিভাবে যাওয়া যায়:শেরপুর থেকে আনুমানিক দূরত্ব = ৩০ কি:মি: বাসভাড়া= ৫০ টাকা। সিএনজি ভাড়া = ২৫০ টাকা। এখানে আসার জন্য সড়ক পথে যাতায়ত খুব সহজ। গজনী অবকাশ পর্যন্ত রয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মসৃণ পিচঢালা পথ। রাজধানী ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াতই সবচেয়ে উত্তম। উত্তরবঙ্গ থেকে টাঙ্গাইল-জামালপুর হয়েও আসতে পারেন সড়ক পথে। শেরপুর শহর থেকে গজনীর দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে সরাসরি মাইক্রোবাস অথবা প্রাইভেট কারে গজনী অবকাশ যেতে পারেন। ঢাকা থেকে নিজস্ব বাহনে মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার ঘন্টায় ঝিনাইগাতীর গজনী অবকাশে আসা যায়। এ ছাড়া ঢাকার মহাখালি থেকে ড্রিমল্যান্ড বাসে শেরপুর আসা যায়। ভাড়া ২৫০টাকা। মহাখালী থেকে দুপুর ২টায় ছাড়ে এসিবাস। ভাড়া ৩৫০টাকা। এছাড়া ঢাকা বঙ্গবন্ধু জাতীয় ষ্টেডিয়াম ৪ নং গেইট থেকে সরাসরি বিকাল ৩-৪টায় শিল্প ও বণিক সমিতির গাড়ী ঝিনাইগাতীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। ভাড়া ৩০০টাকা । যারা ড্রিমল্যান্ডে আসবেন, তারা শেরপুর নেমে নিউমার্কেট থেকে মাইক্রোবাস ৫০০ টাকায় সোজা গজনী যেতে পারবেন। শেরপুর থেকে লোকাল বাস,টেম্পু, সিএনজি অথবা রিক্সায় গজনী অবকাশ কেন্দ্রে যাওয়া যায়।

মধুটিলা

পাহাড়ের চূড়ায় সাইট ভিউ টাওয়ারে উঠলেই চোখ জুড়িয়ে যায় সীমান্ত পেরিয়ে উঁচু উঁচু পাহাড় আর সবুজ অরণ্যের মনোরম দৃশ্য দেখে। দূরের অরণ্যকে একটু কুয়াশাচ্ছন্ন মনে হলেও এর সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই। গারো পাহাড়ের আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথ পেরিয়ে যত দূর এগোনো যায়, ততই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমারোহ। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে এই মধুটিলা ইকোপার্কটির অবস্থান।

পার্কের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই নজরে পড়বে উঁচু গাছের সারি। রাস্তা থেকে ডান পাশে খোলা প্রান্তর আর দুই পাশে রকমারি পণ্যের দোকান। রেস্তোরাঁ পেরোলে পাহাড়ি ঢালুর আঁকাবাঁকা রাস্তা। পাহাড়ের প্রবেশপথেই অভ্যর্থনা জানাবে ধূসর রঙের বিশাল আকৃতির শুঁড় উঁচানো পাথরের তৈরি দুটি হাতি।

 

এরপর যত এগোনো যাবে, ততই মন ভরে যাবে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে। পথে বুনো গাছপালার ফাঁকে ফুটে আছে হরেক রকমের বুনোফুল, তাতে বাহারি প্রজাপতির বিচরণ। এক পাহাড় থেকে অন্য পাহাড়ে যাওয়ার পথে ঝোপঝাড়ে দেখা মিলবে হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, হ্রদের ধারে কুমির, ব্যাঙ আর মৎস্যকন্যার অতি চমৎকার সব ভাস্কর্য। আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচু পথে ঘন ঘন গাছের সারি গভীর অরণ্যের দিকে চলে গেছে। এখানে উঁচু পাহাড়ের গাছের ছায়ায় বসে কাটানো যাবে দুপুর ও বিকেল।

 

ইকোপার্কে ঢুকতে জনপ্রতি পাঁচ টাকায় টিকিট কাটার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে আলাদা ফি দিয়ে হ্রদে প্যাডেল বোট চালিয়ে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ। ওয়াচ টাওয়ারে উঠে ভারতে অবস্থিত উঁচু উঁচু পাহাড় আর সীমান্তবর্তী সবুজ গারো পাহাড় দেখতে পাবেন। ভাগ্য ভালো হলে ওয়াচ টাওয়ার থেকেই মিলতে পারে বুনোহাতির দলের দেখা। তারা সাধারণত শেষ বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় গভীর অরণ্য থেকে নেমে আসে।

বিভিন্ন রাইড নিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা করে গড়ে তোলা হয়েছে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক। এখানে ভ্রমণপ্রিয়দের দিনের বেলায় ব্যবহারের জন্য রয়েছে পাহাড়ের চূড়ায় মহুয়া রেস্টহাউস। এটি ব্যবহার করতে চাইলে ময়মনসিংহ অথবা শেরপুর বন বিভাগের অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এ ছাড়া এখানে রয়েছে ডিসপ্লে মডেল, তথ্যকেন্দ্র, গাড়ি পার্কিং জোন, ক্যানটিন, মিনি চিড়িয়াখানা। ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির বৃক্ষ, মৌসুমি ফুলসহ বিভিন্ন রঙের গোলাপের বাগান। রয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পটও। পার্কটিতে জীববৈচিত্র্য ও প্রাণীর সমাহারও চোখে পড়বে।

কিভাবে যাওয়া যায়:ঢাকা থেকে মধুটিলা ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরে আসতে হবে। শেরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস সার্ভিস রয়েছে। নন্নী বাজার থেকে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল ভাড়ায় পাওয়া যায়। শেরপুর থেকে ভাড়ায় মাইক্রোবাস, অটোরিকশা অথবা মোটরসাইকেলে মধুটিলা ইকোপার্কে আসা যাবে। অথবা ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে সরাসরি নালিতাবাড়ী পর্যন্ত গেটলক সার্ভিস রয়েছে। জনপ্রতি ভাড়া ৩০০ টাকা। নালিতাবাড়ী থেকে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলে ২০-২৫ মিনিটে মধুটিলায় যাওয়া যায়। ঢাকা থেকে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া যায়।

 

কলা বাগান

সবুজের সাথে মিতালি করতে চাইলে চলে আসুন শেরপুরের অর্কিড পর্যটন প্রকল্পে। শেরপুর জেলা শহরের মধ্যেই ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা হয়েছে অর্কিড পর্যটন প্রকল্প। এ প্রকল্পের চারিদিকে রয়েছে সারি সারি দেশী-বিদেশী বিভিন্ন প্রজাতির সবুজ গাছ, মাঠ জুড়ে রয়েছে সবুজ ঘাস আর সান বাঁধানো পুকুর। পুকুরের চারপাশে মাছ খেতে বসে থাকে সাদা-সাদা বক। সবুজ বাতায়নের ওই অর্কিড প্রাঙ্গণের খাঁচায় খেলা করছে বানর, টার্কিছ, খরগোশসহ দেশীয় বিভিন্ন জীবজন্তু। প্রিয়জন অথবা বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে বসে আড্ডা দেয়ার জন্য রয়েছে বেশ কয়েকটি ছাতা এবং ছাতার নিচে রয়েছে বসার জন্য চেয়ার। চা, কফি ও সেভেন-আপ বা কোকাকোলা পানের জন্য রয়েছে ছনের তৈরী সুদৃশ্য ক্যান্টিন এবং রেস্ট হাউজ। এ যেন শহরের মধ্যে এক খন্ড সবুজের লীলা ভুমি। পরিবার-পরিজন নিয়ে হাতের কাছে বেড়ানো বা শহুরে জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে চমৎকার একটি পারিবারিক বিনোদন কেন্দ্র এই ‘অর্কিড পর্যটন কেন্দ্র’।

শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শেরপুর-ঝিনাইগাতী ফিডার রোডর সংলগ্ন কান্দাপাড়া মহল্লার স্থানীয় চাতাল ব্যাবসায়ী ও সৌখিন মনের অধিকারী মো: আজাহার আলী ১৯৯০ সালে প্রাথমিক ভাবে তার ধানের খোলার পাশেই প্রায় সারে ৫ একর জমির উপর সম্পূর্ণ ব্যক্তি খরচে নানা জাতের দেশী-বিদেশী বনজ ও ফলদ গাছ-গাছড়া রোপণ করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড বাগান’। সেসময় ওই বাগান ‘কলা বাগান’ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছিল। এরপর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে ওই বাগানের সৌন্দর্য হারানোর পর আবার ২০০৮ সাল থেকে অর্কিড মালিক আজাহার আলী তার মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রচুর টাকা খরচ করে নানা অবকাঠামো তৈরীর মাধ্যমে নতুন করে গড়ে তুলেন ‘অর্কিড পর্যটন প্রকল্প’। এবার তার অর্কিডে প্রবেশ করতে স্বেচ্ছাদান হিসেবে ২০ টাকা করে ধার্য করেছেন। প্রতিদিন ওই অর্কিডে বন্ধু-বান্ধবসহ ক্লান্ত জীবনের একটু অবকাশ কাটাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে আসছে শহরবাসী এবং জেলার অন্যান্য স্থানের লোকজন। বিশেষ করে ছুটির দিনে বেড়াতে আসা লোকজনের ভিড় বেশী হয়। কেউ যদি অর্কিড রিজার্ভ করে কোন প্রতিষ্ঠান বা পারিবারিক কোন অনুষ্ঠান করতে চায় তবে দিন চুক্তি ৫ হাজার টাকায় বুকিং করতে হয়। আপাতত রাত্রি যাপনের কোন ব্যাবস্থা না থাকলেও ভবিষ্যতে এখনে আবাসিক বাংলোসহ ভ্রমনবিলাসী ও বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের জন্য নানা সুযোগ সবিধা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্কিড মালিক আজাহার আলী। বর্তমানে প্রতিদিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৬ টা পর্যন্ত (সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত) অর্কিডে বেড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর কোন দর্শনার্থীকে ভিতরে থাকতে দেওয়া হয়না।

কিভাবে যাওয়া যায়:শেরপুর জেলা শহরের পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের শেরপুর-ঝিনাইগাতী ফিডার রোডর সংলগ্ন কান্দাপাড়া মহল্লার মো: আজাহার আলীর ধানের খোলার পাশে কান্দাপাড়া, শেরপুর সদর, শেরপুর।

সুতানাল দীঘি

নালিতাবাড়ী উপজেলার অন্যতম ঐতিহাসিক দীঘি হলো কমলা রাণীর দীঘি বা সুতানাল দিঘি বা বিরহীনি দীঘি। খৃষ্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মধ্যমকুড়া গ্রামে সশাল নামে এক গারো রাজা রাজত্ব করতেন। তাঁর আমলেই এই দীঘি খনন করা হয়। পরিখার মতো দীঘিটি খনন করা হয়েছিল ১৮০ বিঘা জমির উপর। দীঘিমধ্যে ছোট্ট ভূ-খন্ডের উপর একটি সুন্দর ঘর ছিল সেখানে রাজা রাত্রি যাপন করতেন। ডিঙ্গি নৌকায় চড়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী চতুর্দিকে টহল দিত। কালক্রমে ভূ-খন্ডটি ধ্বসে গেছে। রাজার শেষ বংশধর ছিলেন তাঁর রাণী বিরহীনি। এ দীঘিতে মৎস্য শিকারের জন্য প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে মৎস্য শিকারীরা আগমন করে থাকেন।

কিভাবে যাওয়া যায়:নালিতাবাড়ী আড়াইআনী বাজার হতে সুতিয়ারপাড় বাজার হয়ে শালমারা রাস্তায় যাওয়া যায়। টেম্পু, অটোরিক্সা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম।

রাজার পাহাড় ও বাবেলাকোনা

ছোট নদী ঢেউফা। এ নদীর শান্ত শীতল জলের স্রোতধারা এক টানা বয়ে চলেছে। সহজ সরল এ নদীর বুকে জেগে উঠা চরের বালু চকচক করছে। এর পাশেই বিশাল উঁচু টিলা রাজার পাহাড়। নদী আর সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি রাজার পাহাড় যেন ঐশ্বরিক স্বপ্নপুরি। এর কূল ঘেঁষে নানা কারুকার্যে সাজানো উপজাতি এলাকা বাবেলাকোনা। এ গ্রাম যেন যোগ করেছে সৌন্দর্যের নতুন মাত্রা। ঢেউফা নদীর দু’পাশে সবুজ বৃক্ষ আচ্ছাদিত অসংখ্য উঁচু-নিচু পাহাড়। গভীর মমতা আর ভালবাসায় গড়া উপজাতিদের বর্ণিল জীবনধারা। অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মিলিত আহ্বান।

সৌন্দর্যময়ী এ স্থানটি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের মেঘালয়ের পাদদেশে ,অবারিত সবুজের যেন মহা সমারোহ। গারো পাহাড় কত যে মনোমুগ্ধকর না দেখলে হয়ত বিশ্বাস হবেনা। যারা একবার দেখেছেন তারাই অনুভব করতে পেরেছেন।কিংবদন্তি রয়েছে, প্রচীনকালে এক রাজার বাসস্থান ছিল এখানে। সে অনুসারে এ পাহাড়ের নাম হয় রাজার পাহাড়। কিন্তু এ পাহাড়ের আগের সৌন্দর্য এখন আর নেই। তবে এর বৈশিষ্ট প্রতিবেশী পাহাড়গুলো রয়ে গিয়েছে। গারো পাহাড়ে যতগুলো পাহাড় রয়েছে তার মধ্যে এটির উচ্চতা সবচেয়ে বেশি। এ পাহাড়ের চূড়ায় শতাধিক হেক্টর জমির সমতল বিরান ভূমি। এখান থেকে মেঘালয় যেন আরো কাছে মনে হয়। এর চূড়া সবুজ আর নীলের সংমিশ্রণে যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। যেন আকাশ ছোঁয়া বিশাল পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য। এটি মনকে করে আবেগতাড়িত। রাজার পাহাড় ঘেঁষা জনপদ বাবেলাকোনা। এখানে অসংখ্য উঁচু-নিচু টিলায় ঘেরা এক অন্যবদ্য গ্রাম। প্রাচীনকাল থেকে এখানে গড়ে ওঠেছে জনবসতি। ঝোপ-জঙ্গলে আবৃত্ত গ্রামটি কালের আবর্তে পরিবর্তিত। প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত সবার কাছে পরিচিত রাজার পাহাড় থেকে বাবেলাকোনা।

বাবেলাকোনায় গারো, হাজং, কোচ অধ্যুষিত উপজাতিদের সংস্কৃতি ভিন্ন মাত্রায় বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনধারা। যেন প্রাকৃতিক বিরুপতা। এ যেন জঙ্গল আর জন্তু-জানোয়ারের নৈসর্গিক মিতালি। জনপদটির চলমান জীবন সংগ্রামের বিরল দৃশ্য। উপজাতিদের সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার কেন্দ্রগুলোও যেন আলাদা আকর্ষণ। এসব হচ্ছে বাবেলাকেনা কালচারাল একাডেমি, ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশন অফিস (টিডব্লিও), জাদুঘর, লাইব্রেরি, গবেষণা বিভাগ, মিলনায়তন এর অন্যতম নিদর্শন। এখান থেকে উপজাতিদের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানা যায়। মিশনারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হচ্ছে এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বর্ষাকালে ঢেউফা নদীর জোয়ারে কানায় কানায় ভরে উঠে। কিন্তু দিনের শেষে ভাটা পড়ে। শুকিয়ে যায় এ নদীর পানি। তবে খরস্রোতা এ নদীর পানির গতি কখনোই কমেনা। সারা বছরই হেঁটে পার হওয়া যায়। ক’বছর ধরে এ নদীর দু’পাশে দুটি ব্রীজ নির্মিত হওয়ায় এখন আর নদীতে নামতে হয়না। এর বুক জুড়ে বিশাল বালুচর যা নির্মাণ কাজে ব্যবহারের জন্য শহরে নিয়ে যাচ্ছে। এ যেন রাজার পাহাড় থেকে বাবেলাকোনা কুল ঘেষাঁ বিকল্প সমুদ্র সৈকত।বাবেলাকোনার উপজাতিদের কারুকার্য মন্ডিত ধর্মীয় গীর্জা, মন্দিরসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক নিদর্শনের সমাহার। উপজাতিদের চালচলন, কথাবার্তা ও জীবনপ্রণালী দর্শনার্থীদের অাকৃষ্ট করে। তাদের সংস্কৃতিতে রয়েছে ভিন্নতা। ওদের জীবন যেন প্রবাহিত হয় ভিন্ন ধারায়। এখানে রয়েছে ওয়ার্ল্ড ভিশন, বিট অফিস, বিজিবি ক্যাম্প এবং রাবার বাগান।

কিভাবে যাওয়া যায়:দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা যে কোনো যানবাহনে আসা যায় শেরপুর শহরে। এখান থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদীর কর্ণঝোরা বাজার। বাস, টেম্পুসহ যে কোনো যানবাহনে আসা যায় মনোমুগ্ধকর নয়ানিভিরাম স্থান রাজার পাহাড় থেকে বাবেলাকোনায়। পাশেই রয়েছে অবসর কেন্দ্র। রাত হলে সেখানে থাকার জন্য রয়েছে নিরাপত্তাবেষ্টিত আবাসিক ভবন। কম খরচে, কম সময়ে এ গারো পাহাড় আপনাকে দেবে অনাবিল আনন্দ।

নয়াবাড়ির টিলা

শেরপুরের গারো পাহাড়ের জনবসতি সংলগ্ন নয়াবাড়ির টিলা এখন বন্যহাতির অভয়ারণ্য। রাতে এসব বন্যহাতি আশপাশের গ্রামের ধান ক্ষেতে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। কৃষকরা দলবদ্ধভাবে হাতির পাল তাড়ানোর চেষ্টা করেন। এ যেন বন্যহাতির নিরাপদ টিলাভূমি। নয়ানিভিরাম পাহাড়ি টিলায় লোকজনের সমাগমে যেন গড়ে উঠছে এক পর্যটন এলাকা। এখানে প্রকৃতিকভাবেই গড়ে উঠেছে সৌন্দর্যময়ী পাহাড়ি টিলা। চোখ ধাধাঁনো আর মনকে কেড়ে নেয়ার মতো ভ্রমণপিপাসুদের টিলায় নতুন করে দেখার সুযোগ হচ্ছে বন্যহাতির বিচরণ।

শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার গারো পাহাড়ের বালিজুরি রেঞ্জের মালাকোচা বিটের এ নয়াবাড়ির টিলা। প্রায় এক হাজার একর জুড়ে বিশাল উঁচু ও সমতল এ টিলা ভূমি। যার চারিদিকে ছোট ছোট কয়েকটি টিলা ভূমি যেন এর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে এখানে বন বাগান করা হতো। কিন্তু ক’বছর কাঠ চুরির কারণে এখানের বন বাগান উজার হয়েছে। এসব পরিত্যক্ত ভূমিতে আশপাশের লোকজন আদা, হলুদ, বেগুনসহ সবজির চাষাবাদ করছেন।  নয়াবাড়ির টিলার পূর্বে হালুহাটি, দক্ষিণে মালাকোচা, পশ্চিমে হাতিবর ও উত্তরে ভারতের সীমানা। ভারতের পোড়াকাশিয়া এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বন্যহাতির একটি পাল পাহাড়ে আসে। দিনের বেলায় আশপাশের এলাকার ঝোঁপ জঙ্গলে থাকে আর রাতে হানা দেয় জনবসতি এলাকায়।

কিভাবে যাওয়া যায়: দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে বাসে বা যে কোনো যান বাহনে আসা যায় শেরপুর শহরে। এখান থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদী।

পানিহাটা-তারানি পাহাড়

প্রকৃতিপ্রেমীদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার অপরূপা পানিহাটা-তারানি পাহাড়। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি দৃশ্য যে কোন প্রকৃতি প্রেমীর মনকে কাছে টানবে। আর তাই পানিহাটা-তারানি পাহাড়ি এলাকা হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। পানিহাটা নামের স্থানটির একটা অংশে রয়েছে তারানি গ্রামের পাহাড়। তাই দর্শণার্থীদের জন্য পানিহাটা-তারানি দুটো মিলেই গড়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র ।

এখানে  দেখতে পাবেন উত্তরে ভারতের তুরা পাহাড়কে আবছা আবরণে ঢেকে আছে মেঘ-কুয়াশা। দূরের টিলাগুলো মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলছে যেন। তুরার অববাহিকা থেকে সামনে সোজা এসে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ি নদী ভোগাই। নদীর একপাশে শত ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড়। নদীর টলটলে পানির নিচে নুড়ি পাথরগুলো ঝিকিমিকি করছে। সামনের একশ গজ দূরে ভারত অংশে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিমে মাঝেমধ্যেই হুসহাস করে ছুটে চলছে মালবাহী ট্রাকগুলো। চতুর্দিকে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সাড়ি। পাশেই খ্রিস্টানদের উপাসনালয়, ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল।

সরকারের সদিচ্ছা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নীতকরণসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে এ স্থানটি আকর্ষণীয় একটি পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি রাজস্ব আয়ের মাধ্যমে সরকারের কোষাগার সমৃদ্ধ হতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে যোগাযোগ ব্যবস্থা নাজুক থাকলেও বর্তমানে অনেকটা উন্নত হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারি বা সরকারের সহযোগিতায় বেসরকারি উদ্যোগে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।

কিভাবে যাওয়া যায়: শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার এবং শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ স্থানটি। তবে ঢাকা থেকে শেরপুর জেলা শহরে না এসেই নকলা উপজেলা শহর থেকেই নালিতাবাড়ী যাওয়ার সহজ ও কম দূরত্বের রাস্তা রয়েছে। এরপর নালিতাবাড়ী শহরের গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় হয়ে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাঁও স্থলবন্দরের কাছাকাছি গিয়ে পূর্ব দিকটায় মোড় নিয়ে ভোগাই ব্রিজ পাড়ি দিতে হয়। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়। এ মোড়ে এসে আবারও গতিপথ বদলে যেতে হয় উত্তরে। উত্তরের এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানির মূল পয়েন্ট। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিশা বা ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলেও যাওয়া যায় নালিতাবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটের ব্যবধানে এবং অল্প খরচের মধ্যেই। এতে মোটরসাইকেল ভাড়া আসা-যাওয়ায় প্রায় ১৫০ টাকা।

 

যাতায়াত

বাংলাদশের রাজধানী ঢাকা। ঢাকার সাথে যোগাযোগ করতে হয় প্রতিনিয়ত। ঢাকায় যাতায়াত করার সহজ মাধ্যম হলো সড়ক পথ। ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যাতায়াত সহজ পদ্ধতি। শেরপুর থেকে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ২০৩ কিলোমিটার, যাতায়াতে সময় লাগে মাত্র চার থেকে সাড়ে চার ঘন্টা। ভাড়া ৩০০-৩৫০ টাকা মাত্র। নিম্নে শেরপুর থেকে ঢাকা স্টেডিয়ামে যাওয়ার গাড়ি গুলো নাম ফোন নাম্বার এবং ভাড়া উল্লেখ করা হলো-

 

সুপ্রীম নাইট কোচ সার্ভিস

শেরপুর থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম

ভাড়া ৩০০ টাকা মাত্র

কাউন্টার-

শেরপুর নিউমার্কেট কাউন্টারঃ ০১৭১৬-৪৮৬৪৬৭

সুপারভাইজারঃ ০১৭৭৫-৪১৩৫৪১

মালিক পক্ষঃ ০১৭১২-৭২৯৮৫৩

 

গাড়ি ছাড়ার স্থান ও সময়ঃ

শেরপুর থেকে রাত ১২.০০ মিনিট।

ঢাকা স্টেডিয়াম থেকে সকাল- ০৮.০০ মিনিট।

 

কালেক্টরেট কর্মচারী কল্যাণ সমিতি

শেরপুর থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম

ভাড়া ৩০০ টাকা মাত্র

কাউন্টার-

শেরপুর নিউমার্কেট মোড়ঃ ০১৭৫৫-৪১৮১৪৩, ০১৯১২-৫৬৭৫৩০

ঢাকা স্টেডিয়াম কাউন্টারঃ

সুপারভাইজারঃ ০১৭২৯-১৪২৮৩১

 

গাড়ি ছাড়ার স্থান ও সময়-

শেরপুর নিউ মার্কেট মোড় থেকে প্রতিদিন সকাল ৫.৩০ মিনিট।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে প্রতিদিন বিকাল ২.৪৫ মিনিট।

 

শেরপুর টেনিস ক্লাব

শেরপুর থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।

ভাড়া ৩২০ টাকা মাত্র।

কাউন্টার-

শেরপুর কাউন্টারঃ ০১৭৬১-৭৯৭৯৭৭

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম কাউন্টারঃ

সুপারভাইজারঃ ০১৭৭০-৭৭৪৭৭৪

 

গাড়ি ছাড়ার স্থান ও সময়-

শেরপুর গ্রামীণফোন অফিস সম্পদ প্লাজার সামনে থেকে রাত ১২.৪৫ মিনিট।

ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম থেকে দুপুর ০১.০৫ মিনিট

পেজবুক পেজ www.fb.me/STC1954

 

চেম্বার অব কমার্স ২

শেরপুর থেকে ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম।

ভাড়া ৩২০ টাকা মাত্র।

কাউন্টার-

শেরপুর কাউন্টারঃ ০১৭৭৮-৫৫৮৮৩৫

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামঃ

সুপারভাইজারঃ ০১৭৭৮-৫৫৮৮৯০

 

গাড়ি ছাড়া স্থান ও সময়-

শেরপুর নিউমার্কেট সম্পদ প্লাজার উত্তর পাশে থেকে প্রতিদিন রাত ১২.৩০ মিনিট

ঢাকা স্টেডিয়াম থেকে প্রতিদিন দুপুর….

 

এছাড়াও বিস্তারিত তথ্যের জন্য সুপারভাইজারের সাথে যোগাযোগ করুন।

 

অভ্যন্তরীন যানবাহনঃ

জেলা দুটির অভ্যন্তরে পর্যটন স্পটগুলোতে ঘুরতে সিএনজি,অটোরিক্সা পাবেন। রিজার্ভ নিলে সবচেয়ে সুবিধা হবে। বাসও চলে বিভিন্ন রুটে। একবার রিজার্ভ করলে বেশ কয়েকটা স্পট ঘুরতে পারবেন এমনভাবে পরিকল্পনা করুন। আমি এ কথাটা বারবারই বলি গাড়ী রিজার্ভ করার ক্ষেত্রে দরদাম করবেন, নইলে ঠকবেন। নিজের মতো করে ভ্রমণ পরিকল্পনা করুন এবং ভ্রমণ উপভোগ করুন।

রাত্রীযাপন 

যদি শেরপুরে রাত্রিযাপন করতে চান তবে শেরপুর জেলা সদরেই থাকতে হবে। কারণ সীমান্তবর্তী এলাকার কোনো স্পটেই রাত্রীযাপনের কোনো ব্যবস্থা বা অনুমতি নেই। এছাড়া নিচে উল্লেখিত স্থানগুলোতে এমনকি ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ি,শ্রীবর্দী এসব সীমান্তবর্তী উপজেলা সদরে রাত্রিযাপন করার মতো কোনো ভালো আবাসিক হোটেল নেই। শেরপুর জেলা শহরে হাতে গোনা তিনটি-চারটা ভালো মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে। এসব হোটেলের রুম ভাড়া নন এসি ডাবল ৪০০-১২০০ টাকা পর্যন্ত। তবে এসি রুমের ভাড়া ৮০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত। আর ভিআইপিদের জন্য জেলা সার্কিট হাউজ, জেলা পরিষদ ও এলজিইডির রেস্ট হাউজ রয়েছে। ঝিনাইগাতী ডাকবাংলো অথবা বন বিভাগের ডাকবাংলোতেও থাকতে পারবেন। এসব ক্ষেত্রে আপনাকে অগ্রীম অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। জেলা পরিষদের রেস্ট হাউজের প্রতিরুম এক রাতের জন্য ভাড়া ৫০ টাকা, এলজিইডির প্রতিরুম ৫০ থেকে ১০০ টাকা এবং সার্কিট হাউজের প্রতিরুম ৪০০ টাকায় ভাড়া নেয়া যায়। তবে ওই রেস্ট হাউজে সরকারি কর্মকর্তারা নামমাত্র মূল্যে দিয়ে রাত্রীযাপন করতে পারেন।

খাবার

শেরপুর জেলা শহরে কয়েকটি বিখ্যাত খাবার হোটেল আছে। হোটেল শাহজাহান, শাহী খানা খাজানা,বাগান বাড়ি রেস্টুরেন্ট,হোটেল আহার কিংবা হোটেল প্রিন্স শেরপুরের বিখ্যাত। আপনার সুবিধামতো খাবার খেতে পারবেন। খাবারের দাম স্বাভাবিক। শহরের বেশ কয়েকটি হোটেল অর্ডার দিলে পার্সেল সরবরাহ করে। তবে সীমান্ত এলাকায় ভালো মানের খাবার হোটেল পাবেন না। তবে পেট চালিয়ে নেবার মতো খাবার হোটেল মাঝেমধ্যে পাবেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

21,943FansLike
2,756FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles