বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড

Back to Posts

বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড

সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট, দুবলার চর ও লোনাপানির মাছের খনির মাঝামাঝি সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডের বঙ্গোপসাগরের গভীরে জেগে ওঠা বিশাল ভূখণ্ড ‘বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড’ (যা পুটুনির দ্বীপ নামেও পরিচিত)। বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০ নটিক্যাল মাইল ও  বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন উপকূল দুবলার চর-হিরন পয়েন্ট থেকে ১০ নটিক্যাল মাইল দূরে সাগর গভীরে এই দ্বীপটি বাংলাদেশের আরেক ‘সেন্ট মার্টিন’। 

বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ডের চারপাশে সমুদ্রের স্বচ্ছ নীল জল, নানা প্রজাতির পাখির কিচিরমিচির শব্দ, সৈকতে আছড়ে পড়া সমুদ্রের ঢেউ, বাতাসের শোঁ শোঁ শব্দ মনকে নিয়ে যায় প্রকৃতির গভীরে। মাইলের পর মাইল দীর্ঘ এই সৈকতে বসে দেখা মেলে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত জুড়ে ঘুরে ফিরছে কচ্ছপ, হাজারো লাল রঙের ছোট শিলা কাঁকড়া। স্বচ্ছ নীল জলে ঘুরছে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট-বড় সামুদ্রিক মাছ। কখনো কখনো দেখা মিলছে ডলফিনের। এখানকার নীল জলে নেই কোনো হাঙরের আনাগোনা। সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ে শাপরিংয়ের আদর্শ জায়গা। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড যে কোনো দেশি-বিদেশি পর্যটকের মন কেড়ে নেবে।  

ইতিহাস

১৯৭৬ সাল থেকেই স্যাটেলাইট ইমেজে দ্বীপটির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এর পর দ্বীপটি মাঝেমধ্যে জেগে ওঠে আবার ডুবে যায়। ১৯৯২ সালে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রথম নতুন জেগে ওঠা একটি চরের দেখা পান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের একনিষ্ঠ ভক্ত, মালেক ফরাজী নামের এক মৎস্য শিকারী। এ সময় তিনি জনমানবহীন এ দ্বীপের নাম দেন ‘বঙ্গবন্ধু দ্বীপ’ এবং সেখানে একটি সাইন বোর্ড লাগিয়ে দিয়ে আসেন। ২০০৪ সালের পর থেকে দ্বীপের আকার ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় আসতে থাকে। এর পর থেকে না ডুবে ক্রমেই বড় হচ্ছে দ্বীপটি।

ভৌগোলিক আয়তন ও ভূপ্রকৃতি

শুরুতে মাত্র ২ একর আয়তন থাকলেও, বর্তমানে এই দ্বীপ ৭ দশমিক আট-চার বর্গকিলোমিটার জায়গা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২ মিটার। দ্বীপটির চারদিকে গড়ে উঠেছে প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫০০ মিটার প্রশস্ত বালুকাভূমি বা সমুদ্রসৈকত। দ্বীপটির পেছনেই রয়েছে নয়নাভিরাম ছোট ছোট বালির ঢিবি বা বালিয়াড়ি। সর্ব পেছনে রয়েছে এক দশকেরও কম সময়ে গড়ে ওঠা সবুজ, শ্যামল বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল ও ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট।

উদ্ভিদ ও প্রাণি বৈচিত্র

জীববৈচিত্র্যের আঙ্গিকেও দ্বীপটির উদ্ভিদ ও প্রাণিসম্ভার বেশ বৈচিত্র্যময়। অজস্র লাল কাঁকড়ার মনোরম ছোটাছুটি, স্বচ্ছ পানি, প্রশস্ত বালুকাভূমিসহ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দ্বীপটিকে নান্দনিক করে তুলেছে।প্রাথমিকভাবে দ্বীপটিতে চার প্রজাতির কাঁকড়া, ১৬ প্রজাতির মোলাস্কা (শামুক-ঝিনুক ইত্যাদি), আট প্রজাতির প্লাংকটন ও দুই প্রজাতির বার্ণাকল পাওয়া গেছে। এছাড়া দ্বীপটিতে এক প্রজাতির এসিডিয়ানের সন্ধান মিলেছে, যা বাংলাদেশে প্রথম। এছাড়া স্থলজ প্রাণিকুলের মধ্যে ফড়িং, প্রজাপতি, মৌমাছিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পোকা-মাকড় পাওয়া যায়।

কিভাবে যাবেন

সুন্দরবন কেন্দ্রিক স্পটগুলো অনেক রেঞ্জ দিয়ে যাওয়া যায়। সাতক্ষীরা রেঞ্জ কিংবা মংলা হয়েও যেতে পারেন।

মংলা থেকে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড- ঢাকার সায়দাবাদ থেকে মংলাগামী সরাসরি বেস কিছু বাস সার্ভিস চালু আছে। এক্ষেত্রে সুন্দরবন ও পর্যটক সার্ভিসের বাসে মংলা পর্যন্ত জনপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়া পড়বে। চাইলে কেউ বাগেরহাট যেয়ে বাগেরহাট থেকে মংলা যেতে পারেন। এক্ষেত্রে ঢাকার গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে মেঘনা পরিবহন (01717-388583), পর্যটক পরিবহন (01711-131078) সাকুরা পরিবহন (01711-010450), সোহাগ পরিবহন (01718-679302) ইত্যাদি বাসে সহজেই বাগেরহাট যেতে পারবেন। এরপর মংলা বন্দর থেকে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড যাওয়ার জন্যে ট্রলার ভাড়া করতে পারবেন। অথবা মংলা থেকে হিরণ পয়েন্ট যেয়ে ওখান থেকে ট্রলার নিতে পারেন।

সাতক্ষীরা থেকে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড- ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরগামী যেকোন বাসে শ্যামনগর নামবেন। এরপর শ্যামনগর থেকে মুন্সী গঞ্জগামী বাসে উঠলে পথে পরবে বংশীপুর বাজার। বাজারের বামদিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে গেলে মুন্সীগঞ্জ বাস স্ট্যান্ড। স্ট্যান্ডে নেমে অটোতে বামদিকের রাস্তা ধরে গেলে সামনে কলবাড়ি বাজার। বাজারের বামের রাস্তায় আরো তিন কি.মি. গেলে নীল ডুমুর বাজার। বাজারের ডানে বোট ঘাট। ঘাট হতে রিজার্ভ বোটে ৮/১০ ঘন্টায় হিরণ পয়েন্ট। হিরণ পয়েন্ট থেকে দক্ষিণে ২ ঘন্টায় বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড।

কোথায় থাকবেন 

বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড থেকে দিনে ফিরে মংলায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের মোটেল পশুর এ ৬০০ থেকে ২০০০ টাকায় থাকতে পারবেন। রুম বুক করতে যোগাযোগ করতে পারেন 04662-75100 নাম্বারে। এছাড়াও মংলা শহরে সাধারণ মানের হোটেলগুলোতে ২০০ থেকে ৮০০ টাকায় রাত্রিযাপন করতে পারবেন।

যদি সুন্দরবনে রাত কাটাতে চান তবে ট্যুরিস্ট ভেসেলে রাত কাটাতে পারবেন। এছাড়া হিরণপয়েন্টের নীলকমল, টাইগার পয়েন্টের কচিখালী এবং কাটকায় বন বিভাগের রেস্ট হাউজে রাত্রিযাপন করতে পারবেন। নীলকমল ও কচিখালীতে কক্ষ প্রতি ৩০০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। তবে কচিখালীতে ৪ কক্ষ ভাড়া নিলে ১০,০০০ টাকায় থাকতে পারবেন। কটকা রেস্ট হাউজে রুম নিতে লাগে ২০০০ টাকা। বিদেশি ভ্রমণকারীদের এই সব রেস্ট হাউজে রাত কাটাতে রুম প্রতি গুনতে হবে ৫০০০ টাকা।

 

Share this post

Comment (1)

  • AffiliateLabz Reply

    Great content! Super high-quality! Keep it up! 🙂

    February 24, 2020 at 1:02 pm

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!