ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল

ধান-নদী-খাল, এই তিনে বরিশাল

প্রাচ্যের ভেনিস নামে পরিচিত বরিশাল কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত। যার পূর্বতন নাম “বাকলা চন্দ্রদীপ” বা চন্দ্রদীপ। প্রাচীন কাল থেকেই এই শহর ইতিহাস ঐতিহ্যে অনেক সমৃদ্ধ। দেশের খাদ্যশষ্য উৎপাদনের মূল উৎস এই বৃহত্তর বরিশাল। বরিশাল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নদীবন্দর এবং বাংলাদেশ-এর একটি অন্যতম সুন্দর শহর।

নদ-নদী, খাল-বিল, অরণ্য ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বরিশাল গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ অঞ্চলের অন্যতম জেলা। সতত গতি পরিবর্তনশীল এখানকার নদ-নদী ক্রমাগত ভাঙন ও ভূমিগঠনের কাজ করে চলেছে। তাই এই ভাঙা-গড়ার ভিতর এখানকার মানুষ নিয়ত সংগ্রামশীল। যুগ যুগ ধরে নানা দেশের নানা জাতির লোক এসে বসতি স্থাপন করে এ জেলার জনপদগুলিকে সমৃদ্ধ করেছে।

বরিশাল জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। এটি ১৭৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। আয়তন- ২,৭৮৪.৫২ বর্গ কিঃমিঃ, মোট লোকসংখ্যা ২৪,৮৭,০১২ জন। বরিশাল জেলার উত্তরে চাঁদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা; দক্ষিণে ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালী জেলা; পূর্বে লক্ষ্মীপুর জেলা ও মেঘনা নদী এবং পশ্চিমে পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও গোপালগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

বরিশাল জেলায় আছে- সিটি কর্পোরেশন- ১টি, উপজেলা- ১০টি (বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া, উজিরপুর, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী, বানারীপাড়া, গৌরনদী), থানা-১৪টি, সংসদ নির্বাচনী এলাকা ৬টি, পৌরসভা- ৬টি, ইউনিয়ন- ৮৭টি, গ্রাম ১,১১৬টি, মৌজা- ১০০১টি।

বরিশালের প্রধান নদ-নদীঃ মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, বিষখালী, কীর্তনখোলা, তেতুলিয়া, কালাবদর, সন্ধ্যা ইত্যাদি। লোকসংস্কৃতি হিসেবে এ জেলায় ভাটিয়ালী, রাখালী, মারফতী, জারি, সারি, মুর্শিদী, পুঁথিগান, ধাঁধাঁ, প্রবাদ, খনার বচন, লোককাহিনী, পালাগান, কবিয়ালী গান ইত্যাদির প্রচলন রয়েছে। এছাড়া এ উপজেলায় যাত্রাপালা ও নাট্যচর্চা লক্ষ্য করা যায়।

 

দর্শনীয় স্থান

  • শাপলা বিল,উজিরপুর,বরিশাল।
  • বিবির পুকুর,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • ব্রজমোহন কলেজ,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • বরিশাল মহাশ্মশান,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • জীবনানন্দ দাশ এর বাড়ি(ধানসিঁড়ি),বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিউদ্দীনের বাসভবন,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • অক্সফোর্ড মিশন গীর্জা,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • বেল ইসলামিয়া হসপিটাল,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • বঙ্গবন্ধু উদ্যান(বেলস পার্ক),বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • ৩০ গোডাউন,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • ৩০ গোডাউন বধ্যভূমি,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • অশ্বিনী কুমার টাউন হল।,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • এবাদুল্লাহ মসজিদ,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • শ্বেতপদ্ম পুকুর,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • মুকুন্দ দাসের কালিবাড়ী,বরিশাল সদর উপজেলা,বরিশাল
  • দুর্গাসাগর দিঘী,বাবুগঞ্জ উপজেলা,বরিশাল
  • বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়,বরিশাল
  • বাইতুল আমান জামে মসজিদ(গুঠিয়া মসজিদ),উজিরপুর উপজেলা,বরিশাল
  • মাহিলারা মঠ।
  • সংগ্রাম কেল্লা।
  • শরিফলের দুর্গ।
  • শের-ই-বাংলা জাদুঘর।
  • শংকর মঠ।
  • মাধবপাশা জমিদার বাড়ি
  • লন্টা বাবুর দিঘী (লাকুটিয়া)।
  • কবি বিজয়গুপ্তর * মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখিত মনসা মন্দির।]]
  • আদম আলী হাজীর গলি।
  • পাক্কা বাড়ি দূর্গ (মেহেন্দিগঞ্জ)
  • লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি( বরিশাল সদর উপজেলা বরিশাল)
  • কড়াপুর মিয়া বাড়ি জামে মসজিদ ( বরিশাল সদর বরিশাল)
  • নাটু বাবুর জমিদার বাড়ি
  • গুঠিয়া মসজিদ
  • প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পঃ রামমোহনের সমাধি মন্দির, সুজাবাদের কেল্লা, সংগ্রাম কেল্লা, শারকলের দুর্গ, গীর্জামহল্লা, বেল্স পার্ক, এবাদুল্লা মসজিদ, কসাই মসজিদ, অক্সফোর্ড গির্জা, শংকর মঠ, মুকুন্দ দাসের কালীবাড়ি, ভাটিখানার জোড় মসজিদ, অশ্বিনী কুমার টাউন হল, চরকিল্লা, দুর্গাসাগর দিঘী, এক গম্বুজ মসজিদ (কসবা), সাড়ে তিনমন ওজনের পিতলের মনসা (বড় বানিয়া বাড়ি)।

 

কৃতি ব্যক্তিত্ব

  • অশ্বিনী কুমার দত্ত
  • কামিনী রায়
  • আবুল কাশেম ফজলুল হক
  • কুসুমকুমারী দাশ
  • জীবনানন্দ দাশ
  • আরজ আলী মাতুব্বর
  • বেগম সুফিয়া কামাল
  • উৎপল দত্ত
  • বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর
  • শহীদ তারেকশ্বর সেনগুপ্ত
  • মাওলানা ফজলুল করীম
  • আগা বাকের খান
  • হানিফ সংকেত
  • আবদুর রহমান বিশ্বাস
  • সেক্টর কমান্ডার মেজর আব্দুল জলিল
  • ডঃ সুরেন্দ্র নাথ
  • ডঃ কামাল হোসেন
  • আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ
  • মোশাররফ করিম
  • গোলাম মুস্তাফা
  • সুরকার আলতাফ মাহমুদ
  • অমৃত লাল দে
  • সরদার ফজলুল করিম
  • মুকুন্দ দাস
  • মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা
  • স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ
  • ফণিভুষণ দাশগুপ্ত
  • মনোরঞ্জন ব্যাপারী
  • মনোরমা বসু
  • আবদুর রব সেরনিয়াবত
  • আবুল হাসানাত আব্বদুল্লাহ্
  • বিজয় গুপ্ত
  • মেজর জলিল
  • রাশেদ খান মেনন
  • আল হাজ্জ্ব হাবিবুল্লাহ মিয়া
  • মুন্না মিয়া
  • আল-নাহিয়ান খান জয়

 

কিভাবে যাবেন?

সড়ক পথে ঢাকা হতে বরিশালের দূরত্ব ২৭৭ কিলোমিটার। অপরদিকে বরিশাল হাইডোগ্রাফী বিভাগ ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে জরীপ শেষে ঢাকা-বরিশাল নৌপথের দূরত্ব ১৬১ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।

সড়কপথ- ঢাকার গাবতলী বাস স্টেশন থেকে বরিশাল আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৬ হতে ৮ ঘন্টা। ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে হানিফ, শ্যামলী, সাকুরা, ঈগল প্রভৃতি পরিবহণ কোম্পানীর বাস আছে প্রতি ৩০ মিনিট পর পর। এ পথে এসি চেয়ার কোচ, হিনো চেয়ার কোচ ও নরমাল চেয়ার কোচ চলাচল করে; এসি চেয়ার কোস ও হিনো চেয়ার কোচগুলো সরাসরি ফেরী পারাপার এবং নরমাল চেয়ার কোচগুলো লঞ্চ পারাপার। ফেরী পারাপারের গাড়ীগুলো সচরাচর পাটুরিয়া ফেরীঘাট দিয়ে গেলেও কিছু গাড়ী মাওয়া হয়েও যায়। লঞ্চ পারাপারের গাড়ীগুলো পাটুরিয়া দিয়ে চলাচল করে।

ভাড়া-এসি বাসে – ৭০০/- (রেগুলার) ও ৯০০/- (এক্সিকিউটিভ) এবং নন-এসি বাসে – ৩০০/- – ৫০০/-।

আকাশ পথে- বরিশালে সরাসরি বিমানে আসা যায়; ঢাকা থেকে বরিশালের সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশ বিমান, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, ইউনাইটেড এয়ার – প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবা রয়েছে ঢাকা থেকে বরিশালে আসার জন্য।

জল পথে- নদ-নদী ও জলাশয় বেষ্টিত এই উপজেলায় যাতায়াতের জন্য নৌ-পথই সবচেয়ে সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। ঢাকা-বরিশাল নৌপথের দূরত্ব ১৬১ কিলোমিটার। ঢাকা সদরঘাট নদী বন্দর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে যেসব লঞ্চ ছেড়ে যায় সেগুলো হল এম. ভি. সুন্দরবন-৭, এম. ভি. সুন্দরবন-৮, সুরভী-৭, সুরভী-৮, পারাবত-২, পারাবত-৯, পারাবত-১১, কীর্তনখোলা-১, কালাম খান, সাত্তার খান ও দ্বীপরাজ।

ঢাকা সদরঘাট থেকে রাত ৮.১৫ মিনিট হইতে রাত ৮.৩০ মিনিটের মধ্যে লঞ্চগুলো বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সকাল ৬টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে লঞ্চগুলো বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে পৌছে।

ভাড়ার হারঃ লঞ্চে সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ৮৫০ টাকা, ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৬০০, ডেকে ২৫০ টাকা।

বেসরকারি কোম্পানী গ্রীনলাইন বে-ক্রুজার সার্ভিস চালু করেছে। দিনের বেলায় ভ্রমন পিপাসু ও শৌখিন ব্যক্তিদের জন্য এ সার্ভিসে শ্রেনী ভেদে ভাড়া নির্ধারন করা হয়েছে ৮’শ থেকে ১২’শ টাকা এবং এতে সর্ব্বোচ্চ সময় লাগে ৪ ঘন্টা।

 

খাওয়া দাওয়া

স্থানীয় পর্যায়ের বিখ্যাত খাদ্য হলো গৌরনদীর দই ও ইলিশ মাছ। এছাড়াও স্থানীয় পেয়ারা, আমড়া, লেবু এবং পানের দারুন সুখ্যাতি রয়েছে। এই এলাকায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। এখানে কিছু উন্নতমানের হোটেল ও রেস্তোরা রয়েছেঃ

  • হোটেল নীরব, চকবাজার, বরিশাল;
  • নিউ আল জামিয়াহ রেষ্টুরেন্ট, গীর্জা মহল্লা, বরিশাল;
  • রাধুনী রেস্তোরা, ফকির বাড়ী রোড, বরিশাল;
  • রয়েল রেস্তোরা, সদর রোড, বরিশাল;
  • ঘরোয়া রেষ্টুরেন্ট, গীর্জা মহল্লা, বরিশাল;
  • বৈশাখী রেষ্টুরেন্ট, চকবাজার, বরিশাল।

বিখ্যাত খাবারের নাম নিতাইয়ের কাঁচা গোল্লা (বরিশাল)বরিশালের নারকেল নাড়ু,আমড়া,বরিশালের শশী মিষ্টি। এছাড়া বরিশালের হাতে ভাজা মুরি চিড়া ও খইও বেশ ভালো এবং জনপ্রিয়।

রাত্রী যাপনের স্থান

বরিশালে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও থাকার জন্য উন্নতমানের কিছু হোটেলও রয়েছে –

  • হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনাল : সদর রোড, বরিশাল;
  • হোটেল ইম্পেরিয়াল : গীর্জা মহল্লা, বরিশাল;
  • হোটেল গোল্ডেন ইন : এনায়েতুর রহমান সড়ক, বরিশাল;
  • হোটেল গ্রান্ট প্লাজা : পোর্ট রোড, বরিশাল;
  • এরিনা হোটেল : সদর রোড, বরিশাল;
  • হোটেল এ্যাথেনা ইন্টারন্যাশনাল : কাঠপট্টি রোড, বরিশাল।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!