বন্দরনগরী চট্টগ্রাম

বন্দরনগরী চট্টগ্রাম

বারো আউলিয়ার পুণ্যভূমি, প্রাচ্যের রাণী বীর প্রসবিনী, আধ্যাত্মিক রাজধানী, বন্দরনগরী, আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী, কল্যাণময় নগরী এমন অসংখ্য গুনে পরিচিত এই চট্টগ্রাম। পাহাড়, সমুদ্র, উপত্যকা, বন‌-বনানীর কারণে চট্টগ্রামের মতো ভৌগোলিক বৈচিত্র বাংলাদেশের আর কোন জেলার নেই। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবেও স্বীকৃত চট্টগ্রাম হাজার বছরের পুরাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অধিকারী।

আয়তনে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা চট্টগ্রাম বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। চট্টগ্রাম জেলার উত্তরে ফেনী জেলা এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে কক্সবাজার জেলা, পূর্ব দিকে বান্দরবান, রাঙামাটি, ও খাগড়াছড়ি জেলা, এবং পশ্চিমে নোয়াখালী জেলা এবং বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এছাড়া দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপ চট্টগ্রামের অংশ।

চট্টগ্রাম জেলার আয়তন ৫,২৮৩ বর্গ কিঃ মিঃ। মোট লোকসংখ্যা ৭৯,১৩,৩৬৫ জন। চট্টগ্রাম জেলা ৪১ ওয়ার্ড এবং ২৩৬টি মহল্লা বিশিষ্ট ১টি সিটি কর্পোরেশন, ১৫টি উপজেলা, ৩২টি থানা (উপজেলায় ১৬টি ও ১৬টি মেট্রোপলিটন থানা), ১৫টি পৌরসভা, ১৯০টি ইউনিয়ন, ৮৯০টি মৌজা, ১২৬৭টি গ্রাম ও ১৬টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। উপজেলাগুলো হলো- মীরসরাই, সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, কর্ণফুলী।

১৬৬৬ সালে চট্টগ্রাম জেলা গঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা এ জেলার অন্তর্ভূক্ত ছিল। ১৮৬০ সালে পার্বত্য এলাকা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা গঠন করা হয়। পরবর্তীতে এ জেলা ভেঙ্গে কক্সবাজার জেলা গঠিত হয়।

লোকসংস্কৃতি- মুসলমান সম্প্রদায়ের মেজবান, হিন্দুদের মহধেশ্বরী পূজা, আদিবাসী সম্প্রদায়ের নববর্ষ উপলক্ষে বৈসাবী উৎসব এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা, প্রবারণা পূর্ণিমা, কঠিন চীবর দানোৎসব, শিবলী পূজা, অষ্ট উপকরণ দানানুষ্ঠান ও দূর্গাপূজা প্রভৃতি প্রচলিত। এছাড়া বিয়ে, চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ, হালখাতা, পূণ্যাহ, নবান্ন, পৌষ পার্বন, অন্ন প্রাশন উপলক্ষে এ জেলার জনগোষ্ঠী লোকজ অনুষ্ঠান পালন করে। বিভিন্ন উৎসবে জেলার আদিবাসীরা ময়ূর নৃত্য, জেলে নৃত্য, সাপুড়ে নৃত্য, ভইয়া নৃত্য, বোতল নৃত্য, থালা নৃত্য ও বাঁশ নৃত্যের অনুষ্ঠান করে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গণকবর ৯; বধ্যভূমি ১৩; স্মৃতিস্তম্ভ ৯

চট্টগ্রামের মানুষ ভোজন রসিক হিসেবে পরিচিত। তারা যেমন নিজেরা খেতে পছন্দ করেন, তেমনি অতিথি আপ্যায়নেও সেরা। চট্টগ্রামের মেজবান হচ্ছে তার বড় উদাহরন। শুঁটকি মাছ, মধুভাত, বেলা বিস্কিট, বাকরখানি, লক্ষিশাক,গরুর গোস্ত ভুনা, পেলন ডাল, মেজবানি মাংস, আফলাতুন হালুয়া, তাল পিঠা, নোনা ইলিশ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য।

 

দর্শনীয় স্থান

  • পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত,
  • ফয়’স লেক,
  • চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা,
  • হযরত শাহ আমানত (র:) এর মাজার,
  • হযরত বায়েজীদ বোস্তামী (র:) এর দরগাহ,
  • জাতিতাত্ত্বিক যাদুঘর,
  • ওয়ার সিমেট্রি,
  • জাম্বুরী পার্ক,
  • ডিসি হিল,
  • বাটালি হিল,
  • কোর্ট বিল্ডিং (জেলা প্রশাসকের কার্যালয়),
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক (সীতাকুন্ড),
  • চন্দ্রনাথ পাহাড় (সীতাকুন্ড),
  • বাঁশখালী ইকোপার্ক,
  • বাঁশখালী খানখানাবাদ সমুদ্র সৈকত,
  • বাঁশখালী চা বাগান,
  • পারকি সমুদ্র সৈকত (আনোয়ারা),
  • মহামায়া লেক,
  • মহুরি প্রজেক্ট,
  • খৈইয়াছরা ঝরনা (মিরসরাই),
  • বাঁশবাড়িয়া সমুদ্র সৈকত,
  • গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকত(সীতাকুণ্ড)।
  • বাটারফ্লাই পার্ক
  • সিআরবি
  • মাইজ ভান্ডার দরবার শরীফ (ফটিকছড়ি)
  • হযরত মিনকিন শাহ (রহঃ) চকবাজার
  • হযরত গরীব উল্ল্যাহ শাহ (রহঃ) জিসি মোড়
  • হযরত কালু শাহ (রহঃ) ফকিরহাট
  • হযরত বদর শাহ (রহঃ) পাথরঘাটা
  • হযরত মনির উদ্দিন রুহুল্লাহ (রহঃ) হালিশহর
  • হযরত বশির শাহ (রহঃ) মাইজভাণ্ডারী, হালিশহর
  • হযরত আব্দুল আলী শাহ (রহঃ, খাজা মঞ্জিল, দক্ষিণ কাট্টলী, নছর উল্ল্যাহ চৌধুরী বাড়ি, ফইল্ল্যাতলী বাজার সংলগ্ন, পাহাড়তলি, চট্টগ্রাম।
  • হযরত শাহ মোহসেন আউলিয়া (রহঃ) আনোয়ারা
  • হযরত শের এ বাংলা শাহ (রহঃ) অক্সিজেন
  • হযরত মঈন উদ্দিন শাহ (রহঃ) কার্নেল হাট
  • হযরত আলী শাহ (রহঃ) হালিশহর
  • হযরত আফজাল ফকির (রহঃ)
  • হযরত নুর আলী শাহ (রহঃ) আব্দুর পাড়া, হালিশহর।

ঐতিহাসিক স্থানসমূহঃ

  • লালদিঘী ও লালদিঘী ময়দান,
  • বদর আউলিয়ার দরগাহ
  • হযরত শাহ আমানত শাহ(রা:)এর দরগাহ
  • বায়েজিদ বোস্তামীর মাজার,
  • চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবন,
  • আদালত ভবন,
  • চেরাগী পাহাড়,
  • জে এম সেন হল,
  • প্রীতিলতার স্মৃতি স্মারক,পাহাড়তলী।

 

পার্ক, বিনোদন ও প্রাকৃতিক স্থানঃ

  • ফয়েজ লেক,
  • জাতি-তাত্ত্বিক জাদুঘর,
  • মুসলিম হল,
  • স্বাধীনতা পার্ক,
  • ডিসি হিল,
  • কর্ণফুলী শিশুপার্ক,
  • পতেঙ্গা সমূদ্র সৈকত,
  • পতেঙ্গা বাটারফ্লাই পার্ক,
  • ফয়েজ লেক ওয়াটার ল্যান্ড,
  • কাজির দেউরি জাদুঘর,
  • বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি,
  • বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকো-পার্ক, সীতাকুণ্ড,
  • ভাটিয়ারী গল্ফ ক্লাব,
  • জাম্বুরি পার্ক
  • চুনতি অভয়ারণ্য – জাতিসংঘ পুরষ্কার প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক লীলাভূমি,

 

স্মৃতিসৌধ ও স্মারকঃ

  • কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,
  • কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রি চট্টগ্রাম।

 

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • ড: জামাল নজরুল ইসলাম
  • প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার
  • বিনোদবিহারী চৌধুরী
  • ড. অনুপম সেন
  • মুহাম্মদ ইউনূস
  • সূর্য সেন
  • একে খান
  • খান বাহাদুর বদি আহমদ চৌধুরী
  • ড.আব্দুল করিম
  • ড.অছিয়র রহমান
  • প্রফেসর জামিলুর রেজা চৌধুরী
  • সৈয়দ আহমদুল্লাহ মাইজভান্ডারী
  • মুহাম্মদ ইব্রাহিম (পদার্থবিজ্ঞানী)
  • নুরুল ইসলাম
  • ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক
  • আল্লামা এম. এ. মান্নান
  • আ জ ম নাছির উদ্দিন
  • এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী
  • আবদুল হক (বীর বিক্রম)
  • আবদুল করিম (বীর বিক্রম)
  • এম হারুন-অর-রশিদ (বীর প্রতীক)
  • আবদুল গফুর হালী
  • সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ
  • আবুল ফজল (সাহিত্যিক)
  • আহমদ ছফা
  • আহমদ শরীফ
  • মাহবুব উল আলম চৌধুরী (কবি)
  • মাহাবুব উল আলম (সাহিত্যিক)
  • শাবানা
  • শাহ মুহম্মদ সগীর
  • শেফালী ঘোষ
  • শ্যামসুন্দর বৈষ্ণব
  • আসকর আলী পন্ডিত
  • রমেশ শীল
  • সত্য সাহা
  • কুমার বিশ্বজিৎ – শিল্পী
  • আইয়ুব বাচ্চু – শিল্পী
  • তামিম ইকবাল – ক্রিকেটার
  • আফতাব আহমেদ – ক্রিকেটার
  • পার্থ বড়ুয়া – গায়ক,শিল্পী
  • সুকুমার বড়ুয়া – লেখক
  • সুব্রত বড়ুয়া – লেখক
  • সুজন বড়ুয়া – লেখক

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!