সমুদ্রকন্যা পটুয়াখালী

Back to Posts

সমুদ্রকন্যা পটুয়াখালী

সাগরকন্যা খ্যাত পটুয়াখালী অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সম্ভাবনাময় জেলা। মেঘনা নদীর পলল ভূমি এবং ছোট ছোট চরাঞ্চল নিয়ে পটুয়াখালী গঠিত। সাগরকন্যা খ্যাত পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এ জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এখানে আছে একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূযোর্দয় এবং সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার অপূর্ব সুযোগ, যা বিশ্বে বিরল। তাই দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটকের কাছে কুয়াকাটা অনন্য এক দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এ জেলারই ঐতিহ্য বহনকারী বেলাভূমি। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকল ঋতুতেই মৌসুমী পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব। তাইতো দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটন পিপাসুরা বছরের বিভিন্ন ঋতুতে বার বার ছুটে আসে কুয়াকাটায়। কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই এখানে। সে কারণেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে প্রকৃতির নিয়মের সাথে নিজের মনকে একাকার করে প্রকৃতির স্বাদ নিজ উপলব্ধিতে অনুভব করতে মরিয়া হয়ে উঠে।

পটুয়াখাযে বরিশাল বিভাগ এর অন্তর্গত একটি জেলা। এর উত্তরে বরিশাল, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে ভোলা এবং পশ্চিমে বরগুনা জেলা অবস্থিত। এই জেলাটি কলাপাড়া, গলাচিপা, দশমিনা, দুমকি, পটুয়াখালী সদর, বাউফল, মির্জাগঞ্জ এবং রাঙ্গাবালী – এই আটটি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত।

লোহালিয়া, লাউকাঠী, পায়রা, লেবুখালী, আন্ধারমানিক, আগুনমুখা, বুড়া গৌরাঙ্গ, তেঁতুলিয়া উল্লেখযোগ্য নদী। লোকসংস্কৃতি হিসেবে এ জেলায় যাত্রাগান, কবিগান, পুতুল নাচ, বানরনাচ, বয়াতী গান, পালাগান, শ্লোক ভাঙ্গানি বা হেয়ালী ধাঁধাঁ, রয়ানি ইত্যাদির প্রচলন রয়েছে। ঝাড়-ফুঁকের তন্ত্রমন্ত্র, নারীর মন জয় করার মন্ত্র বা তুকতাক ইত্যাদি লোকজ বিশ্বাস এ অঞ্চলের লোকসংস্কৃতির বিশেষ স্থান দখল করে আছে। হাডুডু, লাটিম ঘোরানো, দাড়িয়াবাঁধা, ডুব-সাঁতার, মল্লযুদ্ধ, ডাংগুলী, কানামাছি, মার্বেল, ক্রিকেট, কুতকুত, চোর-পুলিশ, কুকপালানী, হাড়িভাঙ্গা এ জেলার উল্লেখযোগ্য স্থানীয় লোকক্রীড়া।

১ জানুয়ারী, ১৯৬৯ খ্রিঃ পটুয়াখালী জেলারুপে প্রতিষ্ঠা পায়, আয়তন- ৩,২২০.১৫ বর্গ কিলোমিটার। এ জেলায় রয়েছে উপজেলা- ৮টি, পৌরসভা- ৫ টি, থানা- ৮টি, ইউনিয়ন- ৭২ টি, সংসদীয় আসন- ৪টি, মৌজা- ৫৫৮টি, গ্রাম- ৮৮২টি, হোল্ডিং- ২,২১,৯৫৮টি।

 

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • কুয়াকাটা
  • শ্রীরামপুর জমিদার বাড়ি
  • মহেন্দ্র রায়ের জমিদার বাড়ি
  • কানাই বলাই দিঘী
  • কাজলার চর
  • ফাতরার চর
  • কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত
  • কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির
  • মির্জাগঞ্জ উপজেলায় হযরত ইয়ার উদ্দিন খলিফার মাজার
  • পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
  • সোনার চর
  • কুয়াকাটা রাখাইন পল্লী
  • মজিদবাড়িয়া মসজিদ
  • সীমা বৌদ্ধ বিহার
  • দশমিনায় এশিয়ার বৃহত্তম বীজ বর্ধন খামার
  • পায়রা বন্দর
  • পানি যাদুঘর
  • পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ
  • কালাইয়া প্রাচীন বন্দর

 

বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব

  • মরহুম-সৈয়দ আশরাফ হোসেন (ভাষা সৈনিক,সাবেক সাংসদ ৬৫-৭০, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক,সাধারণ সম্পাদক-ন্যাপ)
  • শাহরিয়ার ইসলাম (সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট)
  • কবি খন্দকার অাব্দুল খালেক
  • ডঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদ (সাবেক ছাত্রনেতা ও সমাজ সেবক)
  • ডাক্তার কামরুন নেছা (ভাষা সৈনিক)
  • এ এন আনোয়ারা বেগম ( ভাষা সৈনিক)
  • এ্যাড: জেবুন নেছা ( ভাষা সৈনিক)
  • স্মরণ ইমাম (কবি)
  • মোজহার উদ্দিন বিশ্বাস (শিক্ষানুরাগী), কলাপাড়ায় কলেজ,স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছেন।
  • তানিয়া আহমেদ (অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
  • ওয়াসিমুল বারী রাজীব( চলচ্চিত্র অভিনেতা)
  • হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস ( সাবেক ভিপি বি এম কলেজ,পাকিস্তান আমল)
  • শহীদ আলাউদ্দিন(১৯৬৯ এর শহীদ)
  • বিজরী বরকতউল্লাহ(অভিনেত্রী)
  • সোহাগ গাজী( বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়ার)

 

কিভাবে যাবেন?

রাজধানী ঢাকা হতে পটুয়াখালীর সড়কপথে দূরত্ব ৩১৯ কি:মি:। স্থলপথ ও জলপথে পটুয়াখালীতে আসা যায়।

সড়ক পথ: ঢাকার গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে বাসযোগে পটুয়াখালী যাওয়া যায়। রুট দুটির একটি হলো ঢাকা-মাওয়া-বরিশাল-পটুয়াখালী এবং অন্যটি হলো ঢাকা-আরিচা-বরিশাল-পটুয়াখালী। ভাড়া ৪৫০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে।

এই জেলাটি একটি উপকূলী ও নদীবহুল অঞ্চল হওয়ায় এখানকার যেকোনো স্থানে আসার জন্য নৌপথ সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবহণ ব্যবস্থা। তবে, সড়ক পথেও এখানে আসা সম্ভব; সেক্ষেত্রে ফেরী পারাপার হতে হবে। পটুয়াখালীতে রেল যোগাযোগ বা বিমান বন্দর নেই বলে এই দুটি মাধ্যমে এখানকার কোনো স্থানে আসা যায় না।

সড়কপথে

ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে যেসব গাড়ি ছেড়ে যায় সেগুলো হল এসি চেয়ার কোচ, হিনো চেয়ার কোচ ও নরমাল চেয়ার কোচ। এসি চেয়ার কোস ও হিনো চেয়ার কোচগুলো গুলো ফেরী পারাপার এবং নরমাল চেয়ার কোসগুলো লঞ্চ পারাপার। এছাড়া লোকাল পথেও বরিশাল হয়ে যাওয়া যায়।

কাটা লাইনে পটুয়াখালী যেতে চাইলে গুলিস্তান থেকে যেসব গাড়ীগুলো ছেড়ে যায় সেগুলো শুধু মাওয়াঘাট পর্যন্ত যায়। তারপর যাত্রীগণকে গাড়ী থেকে নেমে লঞ্চে অথবা স্প্রীড বোর্ডে কাওরাকান্দি যেতে হয়। লঞ্চে পদ্মা নদী পার হতে হলে ১.৩০ থেকে ২.০০ ঘন্টা সময় লাগে। লঞ্চ ভাড়া ৩০ টাকা। স্প্রীড বোর্ডে নদী পার হলে আনুমানিক ২০ মিনিট সময় লাগে। স্প্রীড বোর্ডে ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কাওরাকান্দি থেকে বাস অথবা মাইক্রোবাসে বরিশাল যাওয়া যায়। বাসে ডাইরেক্ট বরিশাল ভাড়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। মাইক্রোবাসে ডাইরেক্ট বরিশাল ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা। এছাড়া কাওরাকান্দি থেকে ভাংগা পর্যন্তও বাসে যাওয়া যায়। কাওড়াকান্দি থেকে ভাংগা পর্যন্ত বাস ভাড়া-৪০, ভাংগা থেকে বরিশাল পর্যন্ত বাস ভাড়া- ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এরপর বরিশাল থেকে পটুয়াখালী যেতে হয়; বরিশাল থেকে পটুয়াখালী ভাড়া ৬০ টাকা।

নৌপথে

ঢাকা সদরঘাট নদী বন্দর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পটুয়াখালীর লঞ্চ আছে। এছাড়াও ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে যেসব লঞ্চ ছেড়ে যায় সেগুলোতে আসা যায়; বা বরিশালগামী লঞ্চে এসে সেখান থেকে লোকাল নৌযানে আসা যায়।

 

রাত্রী যাপন

ক্রমিকনামপরিচালনাকারী/মালিকের নামহোটেল/মোটেল/রেস্তোরাঁ/রেস্ট হাউজ/গেস্ট হাউজ/ডাকবাংলো ইত্যাদির ঠিকানামোবাইল
হোটেল ও আবাসনের ধরণঃ বেসরকারী
হোটেল বনানীকাঞ্চন মিয়াকলেজ রোড, পটুয়াখালী।
হোটেল বনানী প্যালেসমোঃ শফিকুর রহমান চানহোটেল বনানী প্যালেস, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ।০১৭১৩৬৭৪১৮৯
হোটেল কুয়াকাটা ইনমোঃ অহিদুজ্জামান সোহেলহোটেল কুয়াকাটা ইন, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ০১৭৫০০০৮১৭৭,
হোটেল নীলাঞ্জনাতহমিনা আক্তার নিলাহোটেল নিলাঞ্জনা, রাখাইন মার্কেটের অপজিটে, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ। ফোনঃ- +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০১৪, ১৫৬০১৮. মোবাইলঃ- ০১৭১২৯২৭৯০৪.০১৭১২৯২৭৯০৪.
কুয়াকাটা গেস্ট হাউজ,আঃ মোতালেব শরীফকুয়াকাটা গেস্ট হাউজ, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ।০১৭৩০১৮৯১৫২
হোটেল স্কাই প্যালেসমোঃ শহিদুল ইসলামহোটেল স্কাই প্যালেস, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ। ফোনঃ +৮৮ ০৪৪২৮৫৬০২৬-৭, মোবাইলঃ- ০১৮২৩-৬০৭৩. ০১৭২৭-৫০৭৪৭৯. ০১৯১৫২২৯৯২৩. ঢাকা অফিসঃ-০১৭১১-৫৪২৮৮১. -০১৭৩২-৯৬৬২৮৮.০১৭২৭-৫০৭৪৭৯
হোটেল মোহনা ইন্টারন্যাশনাল লিঃমিসেসঃ শারমিন আক্তারহোটেল মোহনা ইন্টারন্যাশনাল লিঃ, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ। ফোনঃ- +৮৮ ০৪৪২৮-৫৬১৭৫. ফ্যাক্সঃ- +৮৮ ০৪৪২৮ ৫৬১৭৬. মোবাইলঃ- ০১৭৫০০৯৫৩৪০. ০১৭৫০০৯৫৩৩৮. ০১৮১৬৭৫৫০৬৫. মেইলঃ-hotelmohona@hotmail.com০১৭৫০০৯৫৩৪০
সাগর কন্যা রিসোর্ট লিঃমোঃ মনিরুল কুদ্দুসসাগর কন্যা রিসোর্ট লিঃ, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ।-০১৭২১০৭৩৭৬৩
বীচ হ্যাভেনমিঃ ফ্রানসিস ঢাকীবীচ হ্যাভেন, কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ।০১৭৩০-০২১৩৪১
১০হোটেল আল হেরামাওঃ আঃ মান্নানহোটেল আল হেরা কুয়াকাটা পর্যটন এলাকা, কলাপাড়া, বাংলাদেশ। ফোনঃ- +০৪৪২৮-৫৬০৫৪. মোবাইলঃ ০১৭১২-৪৯১৮০৩. -০১৮১৪-৭৩২৬৩১.০১৭১২-৪৯১৮

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!