ঢাকা

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের একটি অতি প্রাচীন প্রশাসনিক এলাকা যার ইতিহাস কয়েক শতাব্দী প্রাচীন। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে সঠিক কোন নির্ভরশীল তথ্য পাওয়া যায় না। তবে বর্তমান ঢাকা নামটি ঢাকা বিভাগ, ঢাকা জেলা এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের রাজধানীর নাম।অতীতে ঢাকা জেলা একটি বিরাট এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল এবং বিভিন্ন নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে তা একটি ক্ষুদ্র এলাকা নিয়ে গঠিত এবং আয়তন মাত্র ১৪৬৩.৬০ বর্গ কি. মি.। আধুনা এই জেলার উত্তরে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলা, দক্ষিণে মুন্সিগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলা, পূর্বে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং পশ্চিমে মানিকগঞ্জ জেলার অবস্থান। জেলার সদর দপ্তর অর্থাৎ নগর ঢাকা বর্তমান পৃথিবীর একটি অন্যতম প্রধান মেগাসিটি।

বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বসতিপূর্ণ এলাকা ঢাকা জেলা মূলত একটি সমতল ভূমি এবং বহু লোক ও বহু নদ-নদী দ্বারা বিধৌত। জেলার উত্তর ভাগের সামান্য অংশ কিছুটা উচু। এ জেলায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অবস্থান, যা একটি মেগাসিটি এবং বাংলাদেশের প্রশাসনিক, শিল্প ও ব্যবসা-বানিজ্যের প্রধানতম স্থান। জেলার বাকী অংশটি একটি উর্বর কৃষি ভূমি। কৃষি উৎপন্ন পণ্যের মধ্যে ধান, পাট, ইক্ষু, সরিষা ইত্যদি প্রধান।জেলার জলবায়ু সুষমভাবাপন্ন।

ঢাকা জেলার আয়তন : ১৬৮৩.২৭ বর্গ কিঃ মিঃ। মোট জনসংখ্যা: ১ কোটি ২৫ লক্ষ ১৭ হাজার ৩ শত ৬১ জন। উপজেলার সংখ্যা: ৫টি, মেট্রোপলিটন থানা: ৪১, সিটি কর্পোরেশন: ২টি, পৌরসভার সংখ্যা: ৩টি, ইউনিয়নের সংখ্যা: ৭৯টি, মৌজার সংখ্যা: ৯৭৪টি, গ্রাম: ১৯৯৯টি, সংসদীয় আসন ২০টি।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ জেলার জনগনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট এবং সকল অধিবাসী ও সম্প্রদায় ধর্মীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে। মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল-আজহা ও মহরম; হিন্দুদের দূর্গাপূজা, জন্মাষ্ঠমী; বৌদ্ধদের বৌদ্ধ পূর্নিমা এবং খৃষ্টানদের বড় দিন।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারণ করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে। ১৬১০ খ্রীষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। প্রশাসনিকভাবে জাহাঙ্গীরনগর নামকরণ হলেও সাধারণ মানুষের মুখে ঢাকা নামটিই থেকে যায়। নদীপথের পাশে অবস্থানের কারণে ঢাকা প্রাক-মোঘল যুগেই স্থানীয় বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। এখানে উচ্চমান সম্পন্ন সূতিবস্ত্র উৎপাদিত হত যা মসলিন নামে পরিচিত। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৫২, ১৯৬৬, ১৯৭০ সংগ্রামের ফসল হিসেবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং পরিচিতি লাভ করে। একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের রাজধানী হিসেবে ঢাকা রাজনৈতিক,প্রশাসনিক কার্যকলাপ এবং অর্থনৈতিক, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্ররূপে মর্যাদা লাভ করে।

বুড়িগঙ্গা, ইছামতি, ধলেশ্বরী, তুরাগ, বংশী, কালীগঙ্গা, গাজীখালী, কলমাই, পদ্মা প্রভৃতি ঢাকার প্রধান নদ-নদী; তুলসী খলকী খাল, আওনার খাল, ভাঙাভিটা খাল এবং রঘুনাথপুর বিল ও বেতলাই বিল উল্লেখযোগ্য। লোকসংস্কৃতি হিসেবে যাত্রাপালা, পালাগান, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, বাউলগান এ জেলায় উল্লেখযোগ্য।

ঐতিহাসিক স্থানসমূহ

  • ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  • জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (গাছগাছালীঘেরা জলাশয় , জাবি উদ্ভিদ-উদ্যান , দেশস্বাধীনের বার্তাবাহী সংশপ্তক),
  • জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
  • লালবাগ কেল্লা
  • ঢাকেশ্বরী মন্দির,
  • আহসান মঞ্জিল,
  • হোসেনী দালান,
  • ছোট কাটরা, বড় কাটরা,
  • কার্জন হল,
  • ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ভবন (পুরাতন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলা ভবন),
  • সাত গম্বুজ মসজিদ,
  • তারা মসজিদ,
  • ঢাকা গেইট,
  • পরীবিবির মাজার
  • পার্ক বাহাদুর শাহ পার্ক,
  • নর্থব্রুক হল,
  • জিনজিরা প্রাসাদ,
  • খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ,
  • মুসা খান মসজিদ, (একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ভাস্কর্য)

বিনোদন ও প্রাকৃতিক স্থান

  • রমনা উদ্যান,
  • সোহ্‌রাওয়ার্দী উদ্যান,
  • জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান,
  • বাংলাদেশ,
  • ঢাকা শিশু পার্ক,
  • ঢাকা চিড়িয়াখানা,
  • বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর,
  • মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর,
  • বলধা গার্ডেন,
  • রোজ গার্ডেন
  • নন্দন সিটি 
  • ফ্যান্টাসি কিংডম 

স্মৃতিসৌধ ও স্মারক

  • কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,
  • জাতীয় স্মৃতিসৌধ,
  • শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, (রায়ের বাজার),
  • অপরাজেয় বাংলা (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),
  • আসাদ গেট,
  • তিন নেতার মাজার

আধুনিক স্থাপত্য

  • জাতীয় সংসদ ভবন,
  • বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন,
  • ভাসানী নভো থিয়েটার,
  • বসুন্ধরা সিটি,
  • যমুনা ফিউচার পার্ক,
  • হাতির ঝিল

জেলার উপজেলা ভিত্তিক দর্শনীয় স্থান

সাভার উপজেলা

  1. জাতীয় স্মৃতিসৌধ
  2. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজা হরিশ চন্দ্রের প্যালেস প্রত্নস্থল
  4. আড়াপাড়া জমিদার বাড়ী
  5. অরণ্যালয় মিনি চিড়িয়াখানা
  6. বিরুলিয়া
  7. সাদুল্লাপুর ফুলের বাগান
  8. আশুলিয়া
  9. সাভার সেনানিবাস
  10. সাপের বাজার
  11. ফ্যান্টাসি কিংডম,
  12. নন্দনের মত amusement পার্ক।

ধামরাই উপজেলা

  1. বংশী নদী
  2. মাধববাড়ী ও জগন্নাথ দেবের রথ যাত্রা/মেলা উৎসব
  3. চৌহাটের ইকবাল ফাউন্ডেশন। সংরক্ষক (সজীব মোল্লা)
  4. ধামরাই বাজার জামে মসজিদ
  5. মহিশাষি মহাম্মদী গার্ডেন অ্যান্ড রিসোর্ট
  6. হস্তশিল্প ও মেটাল শিল্প গ্রাম ও কেনাকাটা
  7. বালিয়া জমিদার হাউস
  8. হলুদ ধামরাই- সরিষা ক্ষেতের গ্রাম

কেরানীগঞ্জ উপজেলা

  1. ধলেশ্বরী নদী
  2. ধলেশ্বরী রির্সোট
  3. বসুন্ধরা পার্ক
  4. কন্টেইনার পোর্ট, পানগাঁও
  5. হলুদ কেরানীগঞ্জ -রোহিতপুরের চমৎকার সরিষা ক্ষেত

নবাবগঞ্জ উপজেলা

  1. শাহী ভাঙ্গা মসজিদ
  2. আফাজউদ্দিন শাহ্ এর মাজার
  3. হাসনাবাদের জপমালা রানীর গির্জা
  4. কোকিলপেয়ারী জমিদার বাড়ির
  5. উকিল বাড়ি
  6. জমিদার ব্রজেন সাহার ব্রজ নিকেতন যা এখন জজ বাড়ি
  7. ব্যবসায়ী রাধানাথ সাহার বাড়ি,
  8. লোকনাথ সাহার বাড়ি যা এখন মঠবাড়ি বা তেলিবাড়ি
  9. মধুবাবুর পাইন্না বাড়ি, পোদ্দার বাড়ি এবং কালি বাড়ি।
  10. খেলারাম দাতার বিগ্রহমন্দির
  11. মহামায়া দেবীর মন্দির
  12. হাসনাবাদে জপমালা রানীর গির্জা।
  13. সামসাবাদ তাঁত শিল্পসহ
  14. আলালপুরের বিখ্যাত হস্তচালিত তাঁতশিল্প
  15. বান্দুরা শহীদ মিনার
  16. ইছামতি নদী: নবাবগঞ্জের ঠিক পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ইছামতী নদী।
  17. পাকা বাড়ি
  18. তুইতাল গ্রাম
  19. নয়নশ্রী বট জোড়া বট গাছ- একটি পুরুষ আরেকটি মেয়ে গাছ
  20. যন্ত্রাইল মঠ: এটি মূলত একটি কালী মন্দির

দোহার উপজেলা

  1. মৈনট ঘাঁট, পদ্মার নদীর পাড়ে বাহ্রা ঘাট, কোঠাবাড়ি বিল
  2. নারিশা পদ্মার পার, আড়িয়াল বিল (নিকড়া)
  3. নুরুল্লাহপুর ওরস শরীফ এর মেলা
  4. ডাক বাংলো (মুকসুদপুর)
  5. দুবলী টু নওয়াবগঞ্জ রোড
  6. সাইনপুকুর বড়বাড়ি

ঢাকার প্রথম

  • মন্দির : ঢাকার প্রথম মন্দির সম্ভবত বকশিবাজারের ঢাকেশ্বরী মন্দির। ধারণা করা হয় এ মন্দিরের নাম থেকেই এই শহরের নামকরণ হয়েছে ‘ঢাকা’।এটির প্রতিষ্ঠাতা সেনবংশের রাজা বল্লাল সেন।এর মাধ্যমেই ঢাকার প্রাচীনত্ব প্রমাণিত হয়।
  • মসজিদ : ১৪৫৬-৫৭ সালে নির্মিত নারিন্দার বিনত বিবির মসজিদই সম্ভবত ঢাকার প্রথম মসজিদ।
  • মুসলিম শিলালিপি : নারিন্দার বিনত বিবি মসজিদে প্রাপ্ত শিলালিপিটিই সম্ভবত ঢাকার প্রথম মুসলিম শিলালিপি।
  • গির্জা : পর্যটক তাভারনিয়ার ও মানরিকের বর্ণনায় প্রাপ্ত গির্জাটি ১৬১২ সালের দিকে অগাস্টিয়ানদের নির্মিত বলে জানা গেলেও এর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
  • নির্বাক চলচ্চিত্র : ১৯৩১ সালে নির্মিত ঢাকার প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাক চলচ্চিত্র দি লাস্ট কিস।
  • পাবলিক মার্কেট : ঢাকা পৌরসভার চেয়ারম্যান নবাব ইউসুফজান ১৯১৩ সালে ঢাকায় প্রথম পাবলিক মার্কেট স্থাপন করেন।
  • খেলাফত কমিটির অধিবেশন : নবাব সলিমুল্লার জ্যেষ্ঠপুত্র খাজা হাবিবুল্লাহর উদ্যোগে ডিসেম্বর ১৯২০ সালে আহসান মঞ্জিলে ঢাকা খেলাফত কমিটির প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
  • পৌরসভা : ১৮৬৪ সালে ঢাকায় প্রথম পৌরসভা গঠিত হয়।
  • ব্যালট পেপারে নির্বাচন : ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯১৯ সালের পরের নির্বাচনে ঢাকায় প্রথম ব্যালট পেপার ব্যবহৃত হয়।
  • ঘোড়াগাড়ির প্রবর্তক : আরমেনিয়ান জিএম সিরকোর প্রথম ঢাকায় ঘোড়াগাড়ি প্রবর্তন করেন বলে ধারণা করা হয়। তার প্রবর্তিত ঘোড়াগাড়ি ঢাকায় পরিচিতি পায় ঠিকাগাড়ি নামে।
  • জেনারেটরে বৈদ্যুতিক বাতি : ৭ ডিসেম্বর ১৯০১ সালে নবাব আহসান উল্লাহর আমন্ত্রণে ছোট লাটের সেক্রেটারি বোলটন ঢাকায় আসেন। বোলটন আহসান মঞ্জিলে হেমন্তের এক শনিবার বিকাল ৫টার সময় সুইচ টিপে ব্যক্তিগত জেনারেটর চালু করে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালান।
  • ম্যাজিস্ট্রেট : সম্ভবত ইংরেজ মি. ডে ঢাকার প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট।
  • নির্বাচিত চেয়ারম্যান : জনগণের ভোটে নির্বাচিত ঢাকার প্রথম চেয়ারম্যান আনন্দ চন্দ্র রায়।
  • হাসপাতাল : কলকাতার দেশীয় হাসপাতালের শাখা হিসেবে ১৮০৩ সালে ঢাকার প্রথম হাসপাতাল স্থাপিত হয়।
  • ডিপার্টমেন্টাল স্টোর : ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা নাজিমউদ্দিন ও খাজা শাহাবউদ্দিন ২৩ মার্চ ১৯২৩ সালে ঢাকায় প্রথম ডিপার্টমেন্টাল স্টোর খোলেন।
  • জজ : ১৭৭৮ সালে ঢাকার প্রথম জজ নিযুক্ত হন মি. ডানকানসান।
  • ইমামবাড়া : বেশ কয়েকটি প্রাচীন ইমামবাড়ার কথা জানা গেলেও ঢাকার প্রথম ইমামবাড়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
  • গুরুদুয়ারা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারের পশ্চিম পাশে তপুর শিখ সঙ্গত নামে স্থাপিত শিখ মন্দির। এটি গুরুদুয়ারা নানক শাহী নামে পরিচিত।
  • ব্রাহ্মসমাজ মন্দির : পাটুয়াটুলীর মুখে ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের পাশে ২২ আগস্ট ১৮৬৯ সালে ঢাকা ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরটি নির্মিত হয়।
  • বিদ্যালয় : ১৮১৬ সালের এপ্রিলে ছোট কাটরায় স্থাপিত লিওনার্দোর স্কুল।
  • সরকারি বিদ্যালয় : ১৫ জুলাই ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কলেজিয়েট স্কুলটিই ঢাকার প্রথম সরকারি বিদ্যালয়।
  • বালিকা বিদ্যালয় : ১৮৭৩ সালে ব্রাহ্মসমাজের উদ্যোগে ফরাশগঞ্জের একটি বাড়িতে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকার প্রথম বালিকা বিদ্যালয়।
  • কারিগরি বিদ্যালয় : ১৮৭৬ সালে ঢাকায় প্রথম সার্ভে স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে এটিই ঢাকা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচিত।
  • সরকারি কলেজ : ১৮৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ঢাকার প্রথম সরকারি কলেজ ঢাকা কলেজ।
  • বেসরকারি কলেজ : ঢাকার প্রথম বেসরকারি কলেজ জগন্নাথ কলেজ।
  • নৈশ্য কলেজ : ১৯৬১ সালে স্হাপিত বকশিবাজারে অবস্থানরত নাইট কলেজ। বর্তমানে ফার্মগেটে স্থানান্তরিত তেজগাঁও কলেজ।
  • মেডিকেল কলেজ : ঢাকার প্রথম মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতাল কলেজ।
  • মাদ্রাসা-মক্তব : ঢাকা শহরে অনেক মসজিদের সঙ্গেই ছিল মক্তব ও মাদ্রাসা। সরকারের স্বীকৃত মাদ্রাসা হিসেবে ঢাকা মাদ্রাসাই সম্ভবত ঢাকার প্রথম মাদ্রাসা।
  • বেতার কেন্দ্র : ১৬ ডিসেম্বর ১৯৩৯ সালে নাজিমউদ্দিন রোডে খান বাহাদুর নাজির উদ্দিন সাহেবের ভাড়া বাড়িতে দুটি স্টুডিও নিয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিও ঢাকার বেতার সম্প্রচার শুরু করে।
  • ফটোগ্রাফিক স্টুডিও : ১৯১০ সালে ১৬ নম্বর নবাবপুর রোডে আর সি দাস অ্যান্ড সন্স নামে ঢাকায় প্রথম ফটোগ্রাফিক স্টুডিও প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • মোটরগাড়ি : ১৯০৫ সালে ঢাকায় প্রথম মোটরগাড়ি চালু করেন নবাব সলিমুল্লাহ।
  • রিকশা : সম্ভবত ১৯৩৬-৩৭ সালে ঢাকার মৌলভীবাজারের দুই ব্যক্তি ব্যবসায়িক উদ্দেশে কলকাতার চন্দননগর থেকে ১৮০ টাকায় ঢাকায় দুটি সাইকেল রিকশা আমদানি করেন।
  • মুদ্রণযন্ত্র : ঢাকার প্রথম মুদ্রণযন্ত্র বাংলা মুদ্রণযন্ত্র। মুদ্রণযন্ত্রটি ঢাকায় ১৮৬০ সালে স্থাপন করা হয়।
  • বই : মুনতাসীর মামুনের মতে, ঢাকার ছোট কাটরা থেকে ১৮৪৯ সালে কাটরা প্রেস থেকে ব্যাপটিস্ট মিশনারির প্রকাশিত The first report of the East bengal Missionary Society MDCC-CXL VIII, with an Appendix etc. রিপোর্টিই ঢাকার প্রকাশিত প্রথম বই।
  • সংবাদপত্র : ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা নিউজ।
  • বাংলা সংবাদপত্র : ঢাকা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশ।
  • ইংরেজি সংবাদপত্র : ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা নিউজ।
  • উর্দু সংবাদপত্র : ১৯০৬ সালে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় উর্দু সংবাদপত্র আল মাশরিক।
  • বিজ্ঞান পত্রিকা : জানুয়ারি ১৮৮১ সালে ঢাকার প্রথম বিজ্ঞান পত্রিকা ভিষক প্রকাশিত হয়।
  • থিয়েটার : ঢাকার প্রথম থিয়েটার সম্ভবত পূর্ববঙ্গ রঙ্গভূমি। প্রতিষ্ঠাকাল নিয়ে মতভেদ থাকলেও ধারণা করা হয় ১৮৬১ সালের দিকে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • নাটক : ঢাকায় প্রথম মঞ্চস্থ নাটক নিয়ে দ্বিধা থাকলেও এক্ষেত্রে দীনবন্ধু মিত্রের নীল দর্পণকেই প্রথম মানা হয়।
  • যাত্রা : সম্ভবত ‘সীতার বনবাস’ যাত্রাপালাটি ঢাকায় প্রদর্শিত প্রথম যাত্রা।
  • বায়োস্কোপ : ১৮৯৮ সালে নবাব আহসানউল্লাহ কলকাতা থেকে বায়োস্কোপ এনে পরিবার ও ঢাকাবাসীকে দেখানোর ব্যবস্থা করেন।
  • সিনেমা হল : ঢাকার পিকচার হাউস নাট্যমঞ্চটি (শাবিস্তান হল) ১৯১৪ সালে সিনেমা হলে রূপান্তরিত হয়।
  • বাণিজ্যিক ব্যাংক : ঢাকার প্রথম বাণিজ্যিক ব্যাংক ছিল ঢাকা ব্যাংক।
  • বিদ্যুৎ বাতি : ৭ ডিসেম্বর-১৯০১ সালে নবাব আহসানউল্লাহর অর্থায়নে ঢাকার বেশকিছু রাস্তায় বিদ্যুৎ বাতির ব্যবস্থা করা হয়।
  • তেলের বাতি : ১৮৭১ সালে সাধারণ ঢাকাবাসীর চাঁদায় শহরে সর্বপ্রথম ১০০টি ল্যাম্পপোস্ট আর তেলের বাতি চালু করা হয়।
  • শ্মশান : আদিতে ঢাকার নদী ও খালপাড়ে মরদেহ পোড়ানো হতো। ঢাকার আদি স্বীকৃত শ্মশানের মধ্যে দয়াগঞ্জ শ্মশানঘাট, পোস্তগোলা ও লালবাগের শ্মশানের কথা জানা যায়।
  • কবরস্থান : আদি ঢাকায় যত্রতত্র কবর দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। ১৮৮২ সালে ঢাকার পুরনো নাখাসে মিউনিসিপ্যালিটির তত্ত্বাবধানে প্রথম কবরস্থান স্থাপন করা হয়।
  • ডক্টরেট-পিএইচডি : নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায় বাংলার যাত্রাপালা নিয়ে গবেষণা করে সুইজারল্যান্ড থেকে প্রথম ঢাকাবাসী হিসেবে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
  • নায়েব নাজিম : ঢাকার প্রথম নায়েব নাজিম মুহম্মদ আলী খান।
  • মুসলমান গ্র্যাজুয়েট : আদিনাথ সেনের মতে, ঢাকার প্রথম মুসলমান গ্র্যাজুয়েট খাজা মুহম্মদ আসগর।
  • নারী চিত্রশিল্পী : নবাব পরিবারের মেহেরবানু খানমই সম্ভবত ঢাকার প্রথম নারী চিত্রশিল্পী।
  • ঢাকার প্রথম চলচ্চিত্র : ঢাকার নবাব পরিবারের খাজা আদিল ও খাজা আজমল ঢাকার প্রথম ছবি সুকুমারী নির্মাণ করেন। এ চলচ্চিত্রটি ছিল পরীক্ষামূলক।

বিখ্যাত অধিবাসী

  • মুহাম্মদ আজম শাহ : মুঘল সম্রাট
  • শায়েস্তা খান : মুঘল গভর্নর, বাংলা
  • অমর্ত্য সেন : নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ
  • সত্যেন্দ্রনাথ বসু : বিজ্ঞানী, বোস-আইনেস্টাইন পরিসংখ্যানের পথ প্রদর্শক
  • ইসলাম খান : মুঘল জেনারেল
  • মীর জুমলা : মুঘল গভর্ণর
  • শান্তিরঞ্জন সোম : ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী
  • উৎপলা সেন: বিংশ শতাব্দীতে বাংলা গানের একজন বিখ্যাত গায়িকা ছিলেন
  • তাসকিন আহমেদ, ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় দল
  • নবাব আবদুল গনি
  • নবাব খাজা আহসান উল্লাহ
  • খাজা সলিমুল্লাহবা নবাব সলিমুল্লাহ
  • নবাব খাজা হাবিবুল্লাহ বাহাদুর
  • শামসুর রাহমান
  • আজম খান
  • আব্দুর রহমান বয়াতী

উপজেলা ভিত্তিক

  • রাখালচন্দ্র সাহা – সাভারের দানবীর নামে খ্যাত,
  • বাংলার শিশু সাহিত্য সম্রাট দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার,
  • এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম – রাজনীতিবিদ ও সাংসদ,
  • আশরাফ উদ্দিন খান ইমু – রাজনীতিবিদ ও সাংসদ,
  • ডাঃ দেউয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু – রাজনীতিবিদ ও সাংসদ,
  • ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান – রাজনীতিবিদ ও সাংসদ
  • সালমান এফ রহমান (বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান),
  • সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা,
  • মেজর জেনারেল প্রফেসর ডাঃ এ আর খান (সাবেক উপদেষ্টা ‘৯৬),
  • সাবেক মন্ত্রী আশরাফ আলী চৌধুরী,
  • আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার শামীম আশরাফ চৌধুরী
  • মহাকবি কায়কোবাদ – কবি;
  • আব্দুল মান্নান খান – রাজনীতিবিদ
  • জাতীয় অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক
  • সালমা ইসলাম – রাজনীতিবিদ
  • নসরুল হামিদ বিপু-এম.পি, বিদ্যুৎ, জালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী।
  • গগন (এমপি)
  • মোস্তফা মোহসিন মন্টু (বীর মুক্তিযোদ্ধা)
  • আমান উল্লাহ আমান -রাজনীতিবিদ, সাবেক প্রতি-মন্ত্রী
  • গয়েশ্বর চন্দ্র রায়- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
  • আতাউর রহমান খান
  • বেনজীর আহমদ এবং এম এ মালেক – রাজনীতিবিদ।
  • মাসুদ আহমেদ – বাংলাদেশের প্রাক্তন মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি)।

 

খাওয়া দাওয়া

 

রাত্রী যাপন

 

যাতায়াত

সড়ক পথে- ঢাকা জেলার সংগে দেশের সকল অংশের সংগে বাস যোগাযোগ আছে। জেলার প্রধান তিনটি বাস স্টেশন হচ্ছে গাবতলি, সায়েদাবাদ এবং মহাখালীতে অবস্থিত।

জলপথ- ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে সর্বমোট ৪৫ টি রুটে নৌযান চলাচল করে। এই নদীবন্দর থেকে বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলের এলাকাগুলো যেমন, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, ঝালকাঠী, মাদারীপুর, চাঁদপুর, খুলনা, হাতিয়া, বাগেরহাট প্রভৃতি গন্তব্যে লঞ্চ ও স্টিমার ছেড়ে যায়।

আকাশ পথ- ১,৯৮১ একর এলাকা বিস্তৃত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে দেশের প্রায় ৫২ শতাংশ আন্তর্জাতিক এবং আভ্যন্তরীন ফ্লাইট উঠা-নামা করে

রেলপথ- কমলাপুর, বিমানবন্দর

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!