সোনালি আঁশের ফরিদপুর

সোনালি আঁশের ফরিদপুর

ব্রিটিশ শাসন আমলে সৃষ্ট একটি অন্যতম প্রাচীন জেলার নাম ফরিদপুর। সুপ্রাচীন কাল থেকেই ফরিদপুরের রয়েছে বহু কীর্তিময় গৌরব-গাঁথা। অনেক আউলিয়া-দরবেশ, রাজনীতিক, পূণ্যাত্মার আবাসভূমি হিসেবে এ অঞ্চল অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ। এ জেলার পূর্বনাম ছিল ‘‘ফতেহাবাদ’’। প্রখ্যাত সাধক এবং দরবেশ খাজা মাইনউদ্দিন চিশতী (রহঃ) এর শিষ্য শাহ ফরিদ (রহঃ) এর নামানুসারে এ জেলার নামকরণ করা হয় ফরিদপুর।

ফরিদপুর জেলা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। আয়তন ২০৭২.৭২ বর্গ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে মাগুরা ও নড়াইল জেলা এবং পূর্বে মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

ফরিদপুর জেলায় মোট পৌরসভা ৪টি, ওয়ার্ড ৩৬টি, মহল্লা ৯২টি, ইউনিয়ন ৭৯টি, গ্রাম ১৮৫৯টি। নির্বাচনী এলাকা ৪টি, উপজেলা ৯টি। সেগুলো হচ্ছেঃ ফরিদপুর সদর, মধুখালী, বোয়ালমারী,আলফাডাঙ্গা, সালথা, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন।

লোকসংস্কৃতি হিসেবে এ জেলায় ছড়া, ধাঁধাঁ, প্রবাদ-প্রবচন, মুর্শিদি, মারফতি, কবিগান, জারিগান, সারিগান, বিচারগান উল্লেখযোগ্য। লোকসংখ্যা ১৭,৪২,৭২০ জন। দেশের প্রধান পাট ফলনশীল জেলা ফরিদপুরে সুস্বাদু ধান, ইক্ষু, গম, পেঁয়াজ, সরিষা সহ নানা ফসল উৎপন্ন হয়। ফরিদপুরের পদ্মার ইলিশ জগৎখ্যাত হয়ে আছে আজও। আকাশ ও উজান থেকে আসা পানির উপযোগিতায় ফরিদপুরে কৃষির সম্প্রসারণ হয়েছে অভাবিত। এখনও কৃষিই এখানকার অর্থনীতির প্রাণ। প্রমত্তা পদ্মা, কোল থেকে ভূবনেশ্বর ও আড়িয়াল খাঁ, কুমার, মধুমতি, গড়াই, চন্দনা, বারাশিয়া নদী মানুষের হাতে সোনার ফসল ও মাছসহ অনন্য সম্পদ তুলে দিয়েছে।

দর্শনীয় স্থান

  • পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বাড়ী ও কবর স্থান
  • হযরত শাহ্ ফরিদ মসজিদ।
  • জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রম।
  • গৌর গোপাল আঙ্গিনা, গোয়ালচামট।
  • আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, সদরপুর।
  • বাইশ রশি জমিদার বাড়ী, সদরপুর
  • সাতৈর মসজিদ, বোয়ালমারী।
  • মথুরাপুরের দেউল, মধুখালী।
  • পাতরাইল মসজিদ, ভাঙ্গা।
  • বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুর রউফের গ্রামের রাড়ী
  • নদী গবেষণা ইন্সটিটিউট
  • টেপাখোলা সুইচ গেট
  • ধলার মোড় (পদ্মার পাড়)
  • রাজেন্দ্র কলেজ (সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ)
  • পদ্মা বাঁধ
  • পদ্মা নদীর বালুচর, সি এন্ড বি ঘাট
  • শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন (হিন্দু মন্দির)
  • নন্দালয়, সিংপাড়া (হিন্দু মন্দির)
  • শেখ রাসেল শিশু পার্ক (বিনোদনকেন্দ্র)
  • কাঠিয়া কালীবাড়ি, তালমা মোড় (হিন্দু মন্দির)
  • তালমা মোড় (গোরুর খামার)
  • অম্বিকা ময়দান
  • ফরিদপুর জেলা জজ কোর্ট ভবন
  • ফলিয়া মুন্সী বাড়ি ,আলফাডাঙ্গা
  • মীরগঞ্জ নীল কুঠি,আলফাডাঙ্গা
  • কালিনগর, কালিবাড়ী(কালি মন্দির), বোয়ালমারি

প্রত্নসম্পদ

  • শেরশাহ গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড
  • বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ স্মৃতি জাদুঘর ও পাঠাগার
  • মথুরাপুর দেউল
  • পাতরাইল মসজিদ ও দিঘী,
  • সাতৈর শাহী মসজিদ
  • ফরিদপুর জেলা জজ কোর্ট ভবন
  • ভাঙ্গা মুন্সেফ আদালত ভবন।
  • শ্রীঅঙ্গন
  • কানাইপুর জমিদার বাড়ি

কিভাবে যাবেন?

সড়কপথ- রাজধানী শহরের সংগে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে। আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগব্যবস্থা আছে। ঢাকা থেকে ফরিদপুরে সাধারনত সড়ক পথেই যাতায়াত করা হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে ফরিদপুরে সড়ক পথে যাতায়েত করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা, তবে ফেরী পারাপারের সময় যানজট থাকলে সময় বেশী লাগে।

গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বেশ কয়েকটি বাস ফরিদপুরের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এ সব বাস গুলোর মধ্যে গোল্ডেন লাইন পরিবহন, সাউথ লাইন পরিবহন, সূর্যমুখী পরিবহন, বিকাশ পরিবহন, আজমিরী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, দ্রুতি পরিবহন, শাপলা পরিবহন ও সোহাগ পরিবহন অন্যতম। গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত কিছু কিছু লোকাল বাস চলাচল করে। পাটুরিয়া থেকে লঞ্চে করে গোয়ালন্দ ঘাট যাওয়া যায়। সেখান থেকে অন্য লোকাল বাসে,মাহিন্দ্র তে উঠে ফরিদপুর যাওয়া যায়। তবে খুলনা ও যশোর রুটের অনেক গাড়ী লঞ্চে যাত্রী পারাপার করে থাকে। লঞ্চে যাতায়াত করলে সময় ও অর্থ দুটোই কম লাগে।

রাত্রী যাপন

ফরিদপুরে যাওয়ার পর ভ্রমণকারীর থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আবাসিক হোটেল গুলোর দূরত্ব মাত্র নেই বললেই চলে। চাইলেই হাতের কাছেই খুজে পেতে পারেন থাকার স্থান। আবাসিক হোটেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮০ টাকা সর্বোচ্চ ভাড়া ২০০০ টাকা। আবাসিক হোটেল গুলোতে সিঙ্গেল ও ডাবল উভয় বেড রয়েছে। সরকারি কর্মকতা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে সার্কিট হাউজ।

কৃতী ব্যক্তিত্ব

  • আল্লামা শামসুল হক ফরিদপুরী (সদর সাহেব হুজুর) বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব,লেখক ও গবেষক
  • আবদুল খালেক – অবিভক্ত ভারতবর্ষের কংগ্রেস নেতা, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবী, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক (১৯০০-২০০৩);
  • অ্যাডভোকেট শামসুল বারি (মিয়া মোহন) ভাষাসৈনিক;
  • অম্বিকাচরণ মজুমদার – সাবেক সভাপতি, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস (১৯২৬-১৯২৮);
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান – বাঙালী জাতির স্থপতি; তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমায় জন্ম। 
  • শেখ হাসিনা,বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী; তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমায় জন্ম।
  • হাজী শরিয়তুল্লাহ – ফরায়েজি আন্দোলনের নেতা;
  • মুন্সি আব্দুর রউফ – বীরশ্রেষ্ঠ;
  • শাইখুল হাদিস মুফতী আব্দুল গফফার দাঃবাঃ বিখ্যাত ইসলামিক স্কলার
  • নবাব আব্দুল লতিফ সমাজ সংস্কারক
  • আলাওল – মধ্যযুগের কবি;
  • জসীম উদ্দিন – পল্লিকবি;
  • কাজী মোতাহার হোসেন – বিখ্যাত লেখক, বিজ্ঞানী, দাবাড়ু, সাবেক জাতীয় অধ্যাপক ;
  • গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার
  • মনমোহন ভাদুড়ী – স্বাধীনতা সংগ্রামী ও আজাদ হিন্দ ফৌজ সংগঠক
  • বিচারপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম
  • শরৎচন্দ্র রায়চৌধুরী – স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ফরিদপুর জেলা কংগ্রেস সভাপতি
  • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় – ঔপন্যাসিক, কবি;
  • নরেন্দ্রনাথ মিত্র – ঔপন্যাসিক;
  • হুমায়ুন কবির – শিক্ষাবিদ;
  • মৃণাল সেন – ভারতীয় বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও লেখক;
  • তারেক মাসুদ – চলচ্চিত্রকার;
  • মোহিনী চৌধুরী – গীতিকার ও চিত্র পরিচালক
  • বিবেকানন্দ মুখোপাধ্যায় – সাংবাদিক, পদ্মভূষণপ্রাপ্ত;
  • চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ,
  • ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশারফ হোসেন – মাননীয় এলজিআরডি মন্ত্রী;
  • সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী – সংসদ সদস্য, সংসদ উপনেতা, সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী;
  • মুসা বিন শমশের – বাংলাদেশের শীর্ষ ধনী;
  • মাকসুদুল আলম – পাটের জীবন রহস্য উন্মোচনকারী প্রথম বাংলাদেশী বিজ্ঞানী;
  • ফজলুর রহমান খান – সিয়ার্স টাওয়ারের ডিজাইনার;
  • এম. এ. ওয়াহিদ – যুক্তফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য, আইন লেখক;
  • অজিতকুমার চক্রবর্তী বাঙালি সাহিত্যিক।
  • দরবেশ হাশেম শাহ – আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব।
  • রমেশ চন্দ্র মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, বিখ্যাত লেখক, গবেষক।
  • চৌধুরী আবদ-আল্লাহ জহির উদ্দিন (লাল মিয়া),ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, কংগ্রেস পার্টি এবং পরবর্তিতে মুসলিম লীগের জাদরেল নেতা।
  • মৌলভী তমিজউদদীন খান – পাকিস্তান এসেম্বলি ১৯৬২-৬৩ এর মাননীয় স্পিকার।
  • চৌধুরী ময়েজউদ্দিন বিশ্বাস – বিখ্যাত জমিদার।
  • সুকান্ত ভট্টাচার্য – ক্ষনজন্মা প্রতিভাবান বাঙালী কবি।
  • মীর মোশাররফ হোসেন বিখ্যাত বাংলা সাহিত্যিক।
  • ফখর উদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের সাবেক তত্বাবধায়ক সরকার।
  • এ কিউ এম জায়নুল আবেদিন, বাংলাদেশ সংবাদপত্র পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট।
  • শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, বাংলাদেশের প্রথম ফার্স্টলেডী।
  • কাজী আনোয়ার হোসেন,একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী।
  • ওয়াহিদুজ্জামান, অল পাকিস্তান মুসলিম লীগ নেতা, পাকিস্তান মুভমেন্টের অন্যতম কর্মী।
  • চিত্তপ্রিয়া রায় চৌধুরী, বৃটিশবিরোধী স্বাধীনতাকামী শহিদ।
  • স্বামী প্রবানন্দ হিন্দু ধর্মের ধর্মীয় ব্যাক্তিত্ব।
  • যোহরা বেগম কাজী, প্রথম বাঙালী মুসলিম নারী চিকিৎসক।
  • আবু ইসহাক, বিখ্যাত সাহিত্যিক।
  • সিরাজ শিকদার, নক্সাল আন্দোলনকারী নেতা।
  • অমিতাভ দাশগুপ্ত, কবি। বাবরী মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে তিনি প্রথম কবিতা
  • আবদুর রহমান ( রাজনীতিক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ)
  • ইউসুফ হায়দার চৌধুরী (রাজনীতিক, ১৯৫৪ সালের পাকিস্তান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী)
  • কে.এম. ওবায়দুর রহমান (রাজনীতিক, বিএনপির সাবেক মহাসচিব, ১৯৭২-৭৫ ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, ১৯৭৮-৮১ বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী)
  • আহসান উল্লাহ (সমাজসেবক)
  • “আমার নিরবতা আমার ভাষা” পাঠ করে প্রতিবাদ জানান। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে পশিমবঙ্গ সরকারের রবীন্দ্র পুরষ্কার লাভ করেন। ২০০৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
  • [অঞ্জু ঘোষ ] বেদের মেয়ে জোসনা খ্যাত অভিনেত্রী।
  • [অধ্যাপক মাহবুবুল হক] বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার এবং একুুুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক, গবেষক, অধ্যাপক।
  • [ আবুল হাসান ] বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার এবং একুশে পদক প্রাপ্ত ক্ষণজন্মা কবি।
  • [ রাজিয়া খান ] বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত লেখিকা, তমিজউদ্দিন মৌলভীর সুযোগ্য কন্যা।
  • [ সুফি মোতাহার হোসেন ] বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার প্রাপ্ত লেখক।
  • [ রোকনুজ্জামান খান দাদা ভাই ] কচিকাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত সাহিত্যিক।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!