ফুরোমন : অপার্থিব সৌন্দর্যের পাহাড়

Back to Posts

ফুরোমন : অপার্থিব সৌন্দর্যের পাহাড়

লাল পাহাড়ির দেশে যা
রাঙামাটির দেশে যা
ইতাক তোকে মানাইছে না রে
ইক্কেবারে মানাইছে না রে

সবুজ পাহাড়ের রুপের রাণী, পাহাড়ি কন্যা খ্যাত রাঙামাটির সৌন্দর্য পেখম মেলে সব ঋতুতেই। প্রকৃতির নিবিড় আলিঙ্গনে বাঁধা রূপের রানী রাঙামাটির পরতে পরতে রয়েছে সৌন্দর্যের বৈচিত্র্যতা। যেখানে আছে সবুজ অরণ্যে ঢাকা পাহাড়, কাপ্তাই হ্রদের বয়ে চলা স্রোতধারা, রুপের রাণী সাজেক, পলওয়েল পার্ক, লাভবার্ড,ঝুলন্ত ব্রীজ, শুভলং
ঝর্ণা,অরন্যক, জুমঘর পাহাড়, পেদা র্টিংটিং, ডিসি বাংলো, রাজবন বনবিহার, বীরশ্রেষ্ট মুন্সী আব্দুর রউফ এর সমাধীস্থল সহ প্রকৃতির আদি সৌন্দর্য। রাঙামাটির আরো গহীনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য রূপের পসরা। এর মধ্যে অনন্য এক সৌন্দর্যের নাম ফুরোমন পাহাড়ের কথা আলাদাভাবে বলতেই হয়। অপার্থিব সৌন্দর্যের এই পাহাড় আপনাকে বিস্মিত করবেই।

রাঙামাটি শহরের অদূরে ফুরোমোন পাহাড় এর অবস্থান। চাকমা ভাষায় ফুরোমন এর অর্থ ফুরফুরে মন। এই পাহাড়ের চূড়ায় মন ফুরফুরে হয়ে যায় বলে এই পাহাড়ের নাম ফুরোমন। এই পাহাড় এক হাজার ৫১৮ ফুট উঁচু। এর চূড়ায় দেখা মেলে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের। পুরো রাস্তাটা ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি বাঁক, খাড়া পাহাড়। সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে আনুমানিক ২/৩ হাজার ফিট উঁচুতে, প্রায় ৪০০ ধাপ খাড়া সিঁড়ি বেয়ে আপনি পেয়ে যাবেন এক সমুদ্র নির্জনতা এই পাহাড়ের চূড়ায়। নির্জন পরিবেশ আর কাপ্তাই হ্রদের বিশাল জলরাশির দেখা মেলে এ পাহাড় থেকে। এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য আপনাকে বিমোহিত করবে। এই পাহাড়ের পূর্বে কাপ্তাই হ্রদের বিশাল নীল জলরাশি। ফুরোমনের চূড়া থেকে পাখির চোখে দেখা যায় এই লেকের বিস্তৃত জলরাশি। নীল জলরাশির কাপ্তাই লেক, স্বচ্ছ নীলাভ জল আর বিস্তৃত আকাশ দেখে আপনার মনে হতে পারে পাহাড়ের মধ্যে সমুদ্রের তীরে পৌঁছে গেছেন। শীতল বাতাস ছুঁয়ে থাকে লেকের নীল জল, পাহাড় পেরিয়ে কাছে-দূরে কেবল নীল জলরাশি। জলরাশির মধ্যভাগে জেগে থাকে ছোট ছোট সবুজ দ্বীপ। ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ছুটে চলছে জলের বুকে। আর দূরে যাত্রী বোঝাই করা দোতলা কাঠের লঞ্চ। এই পুরো সৌন্দর্যটাই এক লহমায় দেখে নিতে পারবেন ফুরোমন এর চূড়া থেকে।

এই পাহাড়ের দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম শহর, বন্দরে ভাসমান জাহাজের মাস্তুল। তার সঙ্গে দেখে নিতে পারবেন সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত এর অপার্থিব সৌন্দর্য। নৈসর্গিক এই সৌন্দর্যের সবটুকুরই দেখা মিলবে ফুরোমন পাহাড়ের চূড়ায়।

সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশে মেঘের মিতালি ঘটে ফুরোমোন পাহাড়ে। চারিদিকে ঝিঁঝি পোকার ডাক, প্রজাপতির স্বাধীন আস্ফালন, বুনোপোকাদের ব্যস্ততা, হাজার বছরের পাতাঝরা গাছের উত্তলিত আহবান। অপার সৌন্দর্যে হারাতে আর কি লাগে! সামনে পুরো রাঙ্গামাটি জেলা, নানিয়ারচর, লোগাং। এখানে বাতাস আর নীরবতার খেলা চলে সর্বক্ষণ।

এই পাহাড় চূড়ায় আছে একটি বৌদ্ধ মন্দির। ঠিক যেন মনে হয় এই মেঘের দেশে প্রকৃতির মায়ায় গৌতম বুদ্ধ নীরব হয়ে বসে থাকেন। এখানে হৈ হুল্লোড় থেকে বিরত থাকুন। কারন ভান্তেরা এখানে মেডিটেশন করেন। মনে রাখতে হবে যে, এটা পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটা তীর্থ কেন্দ্র।

পাহাড়ে চড়ার আগে প্রয়োজনীয় জিনিসপাতি সাথে নিয়ে নিন কারন পথে কিছুই পাবেন না। যেমনঃ পর্যাপ্ত পানি, শুকনা খাবার, হাঁটার জন্য লাঠি ইত্যাদি। আর পুরো রাস্তায় মাত্র দুটো বাড়ি এছাড়া পুরোটাই জনমানব শূন্য। চারিদিকে মেঘের ছড়াছড়ি। আর নিচে কাপ্তাই লেকের অপরূপ দৃশ্য জুম ক্ষেতের ভেতর দিয়ে। এক কথায় অসাধারণ। যাতায়াত ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় শুষ্ক মৌসুম ছাড়া অন্য সময়ে এখানে যাতায়াত করা কষ্টকর।

যেভাবে যাবেন:

ঢাকার ফকিরাপুল মোড় ও সায়দাবাদে রাঙামাটি গামী অসংখ্য এসি ও নন-এসি বাস রয়েছে। এই বাসগুলো সাধারণত সকাল ৮ টা থেকে ৯ টা এবং রাত ৮ টা ৩০ মিনিট থেকে রাত ১১ টার মধ্যে রাঙামাটির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তাদের মধ্যে রয়েছে হানিফ, শ্যামলী, এস আলম, ইউনিক, সৌদিয়া ইত্যাদি। এসকল বাসে ভাড়া পড়বে ৬০০-৯০০ টাকার মধ্যে। এসব বাসে চেপে যেতে হবে রাঙামাটি শহর।

রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজিযোগে চলে যাবেন ঘাগড়া বাজার। ঘাগড়া বাজার পেরুলেই ব্রিজের একটু সামনে দেখবেন বড় সাইনবোর্ডে লিখা আছে বৌদ্ধমূর্তি স্থাপনের জন্য নির্ধারিত স্থান। এখানেই ফুরোমন পাহাড়।

যেখানে থাকবেন:

রাঙামাটিতে অসংখ্য হোটেল, মোটেল ও রেস্ট-হাউজ আছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স, হোটেল গোল্ডেন হিল, হোটেল গ্রিন ক্যাসেল, হোটেল লেক ভিউ, হোটেল সুফিয়া, হোটেল জজ, হোটেল আল মোবা, হোটেল মাউন্টেন ভিউ, হোটেল ডিগনিটি ইত্যাদি।

তথ্য সহযোগিতার প্রয়োজনে যোগাযোগঃ রাজু আহমদ, উদ্যোক্তা, সাপছড়ি ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, রাঙ্গামাটি সদর, মোবাইল- ০1889205000

 

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!