পাহাড়-টিলা-হাওড়-বন-হবিগঞ্জের-পর্যটন

পাহাড়-টিলা-হাওড়-বন-হবিগঞ্জের-পর্যটন

চিরসবুজ চায়ের বাগান আর দিগন্তজোড়া হাওরে বেষ্টিত অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক বিচিত্র লীলাভূমি হবিগঞ্জ। বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এই জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপরূপা নদী, হাওর-বাওড়, টিলা ও বিস্তীর্ণ সমতলভূমি, সুদৃশ্য মনোরম চা-বাগান, রাবার বাগান, প্রাকৃতিক গ্যাস-এর প্রাচুর্যময় প্রাকৃতিক নৈসর্গ ঘেরা বহুমাত্রিক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। ‘একটি কুড়ি দুটি পাতা’র চা বাগান সমৃদ্ধ হবিগঞ্জ জেলা ধর্মীয় ও মুক্তিযুদ্ধের ভাবগাম্ভীর্যের নিরীখেও একটি অত্যন্ত পবিত্র স্থান।

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট, মাধবপুর আর বাহুবল উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠির বৈচিত্রময় জীবনযাপন এবং স্বতন্ত্র সংস্কৃতি এই জেলার পরিচিতিকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। সবমিলিয়ে হবিগঞ্জ জেলা যেন ক্ষুদ্র পরিসরে একখন্ড বাংলাদেশ। সুফি সাধক হযরত শাহজালাল (রঃ) এর অনুসারী সৈয়দ নাছির উদ্দিন (রঃ) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত খোয়াই, করাঙ্গী সুতাং, বিজনা, রত্না প্রভৃতি নদী বিধৌত হবিগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক জনপদ। ঐতিহাসিক সুলতানসী হাবেলীর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সুলতানের অধঃস্তন পুরুষ সৈয়দ হেদায়েত উল্লাহর পুত্র সৈয়দ হবিব উল্লাহ খোয়াই নদীর তীরে একটি গঞ্জ বা বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নামানুসারে হবিবগঞ্জ থেকে কালক্রমে তা হবিগঞ্জে পরিণত হয়। ইংরেজ শাসনামলে ১৮৬৭ সালে হবিগঞ্জকে মহকুমা ঘোষণা করা হয় এবং ১৮৭৮ সালে হবিগঞ্জ মহকুমা গঠনকরা হয়। ১৯৮৪ সালের ০১ মার্চ ( ১৭ ফাল্গুন ১৩৯০ বাংলা) জেলায় উন্নীত হয়।

হবিগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। আয়তন: ২৬৩৬.৫৮ বর্গ কিমি। হবিগঞ্জের উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, পূর্বে মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলা, পশ্চিমে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া ও কিশোরগঞ্জ জেলা। রাজধানী ঢাকা থেকে ১৬৩ কিলোমিটার এবং বিভাগীয় শহর সিলেট থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হবিগঞ্জ। জনসংখ্যা: ,২০,৮৯,০০১ জন (সর্বশেষ আদমশুমারী অনুযায়ী সমন্বিত। উপজেলা: ০৯ টি (হবিগঞ্জ সদর, লাখাই, মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ ও শায়েস্তাগঞ্জ), নৌ-থানা: ২ টি- মাদনা (লাখাই) ও মারকুলী (বানিয়াচং) পৌরসভা: ০৬ টি, ইউনিয়ন: ৭৭টি।

প্রধান নদ-নদী: কুশিয়ারা, খোয়াই, সুতাং, রত্না, শুটকী, সোনাই, করাঙ্গী, ঝিংড়ী, ভেড়ামোহনা, বরাক, বিজনা প্রভৃতি। লোকসংস্কৃতি – এ জেলার মাযারে ওরস উপলক্ষে মরমী গান, ফকিরলী গান, মার্শিয়া গান ইত্যাদি গাওয়া হয়। বর্ষাকালে নৌকাবাইচের সময় সারিগানের প্রচলন রয়েছে। এছাড়া ধামাইল নাচ ও গান, গাজীর গীত, কীর্তন, ব্রত সঙ্গীত, পালা গান, হোলী গান (চা শ্রমিকদের গান) ও জারি গান উল্লেখযোগ্য।

 

দর্শনীয় স্থান স্থাপনা

কমলারানীর সাগর দীঘি, বানিয়াচং; প্রাচীন রাজবাড়ির ধংসাবশেষ, বানিয়াচং; মহারত্ন জমিদার বাড়ি, বানিয়াচং; তেলিয়াপাড়া চা বাগান ও সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর; কালেঙ্গা অভয়ারণ্য, চুনারুঘাট; শাহজীবাজার রাবার বাগান, মাধবপুর; সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ) এর মাজার, মুড়ারবন্দ, চুনারুঘাট; সৈয়দ ফতেহ গাজী (রঃ) এর মাজার, শাহজীবাজার, মাধবপুর; উচাইল শাহী মসজিদ (১৪৯৩-১৫১১ খ্রিঃ), হবিগঞ্জ সদর; হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজ – হবিগঞ্জ সদর; সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চল, হবিগঞ্জ সদর; রেমা কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল, হবিগঞ্জ সদর; মশাজানের দিঘী শ্রীবাড়ি চা বাগান; রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্র (১৯৬০), বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্র, আজমিরীগঞ্জ হবিগঞ্জ গ্যাস ক্ষেত্র, মাধবপুর। মহাকবি সৈয়দ সুলতান প্রতিষ্ঠিত সুলতানশী হাবেলী (সদর উপজেলা), বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড (নবীগঞ্জ), শাহজীবাজার বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র (মাধবপুর), বানিয়াচং রাজবাড়ি (বানিয়াচং), মশাজানের ঐতিহাসিক সৈয়দ গোয়াসের (রঃ) দীঘি, সাগরদীঘি (বানিয়াচং), চুনারুঘাট, মাধবপুর উপজেলার চা বাগান, কমলারানীর সাগর দীঘি – বানিয়াচং; সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান; বিতঙ্গল আখড়া – বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান (বানিয়াচং); বানিয়াচং রাজবাড়ি – বানিয়াচং; দ্বীল্লির আখড়া – বৈষ্ণব ধর্মালম্বীদের তীর্থস্থান; শ্রীবাড়ি চা বাগান; রেমা–কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য – চুনারুঘাট; তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ- মাধবপুর; তেলিয়াপাড়া চা বাগান – মাধবপুর; বিবিয়ানা গ্যাস – নবীগঞ্জ; শংকরপাশা শাহী মসজিদ; মহারত্ন জমিদার বাড়ি – বানিয়াচং; দাড়া-গুটি – বানিয়াচং, রাধানন্দ জমিদার বাড়ি (হাতিরথান জমিদার বাড়ি), আদাঐর জমিদার বাড়ি

 

দর্শনীয় স্থান:

  • তেলিয়াপাড়া চা বাগান সংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ, মাধবপুর
  • কালেঙ্গাঁ অভয়ারণ্য, চুনারুঘাট
  • শাহাজীবাজার রাবার বাগান – মাধবপুর
  • সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (রঃ) এর মাজার, মুড়ারবন্দ, চুনারুঘাট
  • সৈয়দ ফতেহ গাজী (রঃ) এর মাজার, শাহাজীবাজার, মাধবপুর
  • বিথঙ্গঁল আখড়া, বানিয়াচং
  • উচাইল- শংকরপাশা শাহী মসজিদ (১৪৯৩- ১৫১১ খ্রি.), হবিগঞ্জ সদর
  • সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চল
  • রেমা কালেঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল

প্রধান প্রধান আদিবাসি: কর্মকার, ভৌমিক, বাউরি, সাওতাল, মুন্ডা, মৃধা, উড়ীয়া, তাঁতী, কন্দ, প্রদান, রিকিয়াশন কৈরী,গোয়ালা, পার্শী, তেলেঙ্গা, রেলিখাসিয়া, মনিপুরি, ত্রিপুরা, গড়, পাইনকা, বাড়াইক শবর, কেউট, বুনার্জী, নায়েক, বানিয়া, ঝরা, চৌহান, রুদ্রপাল, খাড়িয়া, রাউতিয়া, কানু  ভূইয়া, তন্তবায়, কাঁহার, ছত্রী, অহির, রাজবংশী, শুক্লবদ্য, ভূমিজ, বিহারী, গঞ্জু, রবিদাস মহালী, বাক্তী, জংলী, তেলেগু, ভোজপুরী, উৎকোল, উরাং প্রভৃতি উপজাতি এ জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় বাস করে। এদের  মোট জনসংখ্যা- ৮৪,০২০ জন।

 

খাবার

হবিগঞ্জে স্থানীয় পর্যায়ের বিশেষ কোনো বিখ্যাত খাদ্য নেই। তবে স্থানীয় আনারস, কমলা, পান, লেবু এবং কাঠালের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে চা-পাতা। হাওড় এলাকায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং খামার ভিত্তিক হাঁস পালন করা হয়। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। স্থানীয় পর্যায়ের উন্নতমানের ও নিরিবিলি পরিবেশের রেস্তোরা হিসাবে রয়েছেঃ হোটেল জামিল; হোটেল আলিফ; হোটেল সোনার তরী।

 

থাকা রাত্রী যাপনের স্থান

হবিগঞ্জে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু মানসম্মত রেস্ট হাউস ও মোটামুটি মানের হোটেল রয়েছে, যেখানে ৪০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাওয়া যায়। আবাসিক ও রাত্রি যাপনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের যেসব আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে এখানে সেগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

  • সার্কিট হাউজ, হবিগঞ্জ, ☎ ০৮৩১-৫২২২৪।
  • জেলা পরিষদ রেস্টহাউজ, হবিগঞ্জ।
  • পানি উন্নয়ন বোর্ড রেস্টহাউজ, হবিগঞ্জ। সিংগেল কক্ষ ভাড়াঃ ১২০/- ও ডাবল কক্ষ ভাড়াঃ ২০০/-।
  • শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে রেস্টহাউজ – বাংলাদেশ রেলওয়ে’এর ব্যবস্থাধীন (সরকারী)। মোবাইল: ০১৯২০-৪১৬৬২৩।
  • সড়ক ও জনপথ বিভাগ রেস্টহাউজ – (সরকারী)।
  • পল্লী বিদ্যুৎ রেস্টহাউজ, শায়েস্তাগঞ্জ – পল্লী বিদ্যুৎ’এর ব্যবস্থাধীন (সরকারী)।
  • হোটেল সোনার তরী, হবিগঞ্জ। সিংগেল কক্ষ ভাড়াঃ ৩০০/- ও ডাবল কক্ষ ভাড়াঃ ৩৫০/- এবং এসি কক্ষ ভাড়াঃ ৭০০/-

 

কিভাবে যাবেন?

সড়ক পথে ঢাকা হতে হবিগঞ্জের দূরত্ব ১৬৩ কিলোমিটার এবং বিভাগীয় শহর সিলেট হতে হবিগঞ্জের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। ঢাকার সায়েদাবাদ বাস স্টেশন থেকে হবিগঞ্জে আসার সরাসরি দুরপাল্লার বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৪ হতে ৫ ঘন্টা। ঢাকা থেকে সরাসরি হবিগঞ্জ আসার জন্য পরিবহণ কোম্পানিগুলো হচ্ছে – অগ্রদুত পরিবহণ (এসি ও নন-এসি), দিগন্ত পরিবহণ (এসি ও নন-এসি) এবং বিছমিল্লাহ পরিবহন (নন-এসি)।

 

ঢাকা-হবিগঞ্জ ভাড়া -এসি বাসে – ২৫০ টাকা এবং নন-এসি বাসে – ২০০ টাকা।

এছাড়াও সিলেট বিভাগের যেকোন স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা দুরপাল্লার বাসে শায়েস্তাগঞ্জ এসে সেখান থেকে বাস, ম্যাক্সি, লেগুনা, সিএসজি অটোরিক্সা, জীপ প্রভৃতিতে করে হবিগঞ্জ জেলা সদরে আসা যায়। শায়েস্তাগঞ্জ হচ্ছে সড়কপথে সিলেট বিভাগের প্রবেশদ্বার ও অন্যতম প্রধান বাস স্টেশন এবং এখান দিয়েই মূল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বিস্তৃত বলে যেকোন বাসে করে এখানে এসে তারপর হবিগঞ্জ আসা সম্ভব। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে হানিফ, শ্যামলী, এনা, ইউনিক, মামুন, সাউদিয়া, গ্রীনলাইন, মিতালী প্রভৃতি পরিবহণ কোম্পানীর বাস আছে প্রতি ১০ মিনিট পর পর।

 

ঢাকা-সিলেট রুটে সরাসরি চলাচলকারী পরিবহণে শায়েস্তাগঞ্জ আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ এসি বাসে – ১০০০- ১২০০ টাকা এবং নন-এসি বাসে ৩০০ – ৪৫০ টাকা।

১০০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বিভাগীয় শহর সিলেট হতে ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস’ বাসে ২ থেকে ২:৩০ ঘন্টায় হবিগঞ্জ আসা যায়। এপথে ভাড়া নেয়া হয় ১৫০ টাকা। 

পরিবহণ সম্পর্কিত যোগাযোগ- 

  • অগ্রদূত পরিবহণ, ☎ ০৮৩১-৫২৩৫১; ০১৭১৮৬০০৫৫১; ০১৭১৬০৩৮৬৯১;
  • দিগন্ত পরিবহণ, ☎ ০৮৩১-৫২৮৭৩; ০১৭১১৩২৯৯৪৪; ০১৭১৮০১৬৯৬৩;
  • বিছমিল্লাহ পরিবহণ, ☎ ০৮৩১-৫২৩৭১; ০১৭১১৯০৮৬৮৪।

 

রেলপথ

রেলপথে ঢাকা হতে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশনের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার; এখানে রেল যোগাযোগ নেই বিধায়, প্রথমে শায়েস্তাগঞ্জ এসে তারপর হবিগঞ্জ আসতে হয়। তবে, সবচেয়ে নিকটবর্তী ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির স্থান হলো শায়েস্তাগঞ্জ রেল স্টেশন।

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন বা চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনে সরাসরি শায়েস্তাগঞ্জ এসে সেখান থেকে সড়ক পথে হবিগঞ্জ আসা যায়; কারণ শায়েস্তাগঞ্জ হচ্ছে রেলপথে সিলেট বিভাগে প্রবেশের অন্যতম প্রধান স্টেশন এবং এই শহরটির উপর দিয়েই মূল ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথটি বিস্তৃত। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ঢাকা – সিলেট এবং চট্টগ্রাম – সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

৭১০ পারাবত এক্সপ্রেস – সিলেট হতে দুপুর ০৩ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় রাত ০৯ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে (মঙ্গলবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে ভোর ০৬ টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে দুপুর ০১ টা ৪৫ মিনিটে (মঙ্গলবার বন্ধ);

৭১৮ জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস – সিলেট হতে সকাল ০৮ টা ৪০ মিনেটে ছাড়ে এবং ঢাকায় বিকাল ০৪ টায় পৌছে (বৃহস্পতিবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে দুপুর ১২ টায় ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে সন্ধ্যা ০৭ টা ৫০ মিনিটে (কোন বন্ধ নেই);

৭২০ পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস (শনিবার বন্ধ) সিলেট হতে সকাল ১০ টা ১৫ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে রাত ০৭ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে;

৭২৪ উদয়ন এক্সপ্রেস (রবিবার বন্ধ) সিলেট হতে রাত ০৭ টা ২০ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে ভোর ০৫ টা ৫০ মিনিটে পৌছে;

৭৪০ উপবন এক্সপ্রেস – সিলেট হতে রাত ১০ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় ভোর ০৫ টা ১০ মিনিটে পৌছে (কোন বন্ধ নেই) ও ঢাকা থেকে রাত ০৯ টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে ভোর ৫ টা ১০ মিনিটে (বুধবার বন্ধ);

৭৭৪ কালনী এক্সপ্রেস – সিলেট হতে সকাল ০৭ টায় ছাড়ে এবং ঢাকায় দুপুর ০১ টা ২৫ মিনিটে পৌছে (শুক্রবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে বিকাল ০৪ টায় ছাড়ে এবং সিলেট পৌছে রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে (শুক্রবার বন্ধ)।

ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনে শায়েস্তাগঞ্জ আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ

২য় শ্রেণির সাধারণ – ৫৫ টাকা;২য় শ্রেণির মেইল – ৭৫ টাকা;কমিউটার – ৯০ টাকা;সুলভ – ১১০ টাকা;শোভন – ১৮০ টাকা;শোভন চেয়ার – ২১৫ টাকা;১ম শ্রেণির চেয়ার – ২৮৫ টাকা;১ম শ্রেণির বাথ – ৪২৫ টাকা;এসি সীট – ৪৮৯ টাকা এবংএসি বাথ – ৭৩১ টাকা।

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ

কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন, ☎ ০২-৯৩৫৮৬৩৪,৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২, মোবাইল নম্বর: ০১৭১১৬৯১৬১২

বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন, ☎ ০২-৮৯২৪২৩৯

ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd

আকাশ পথে

এই শহরটিতে সরাসরি বিমানে চলাচলের কোনো ব্যবস্থা এখনো তৈরি হয় নি; তবে ঢাকা হতে সিলেটে আকাশ পথে বিমানে এসে সেখান থেকে সড়কপথে সরাসরি কিংবা রেলপথে শায়েস্তাগঞ্জ এসে সেখান থেকে হবিগঞ্জ আসা যায়।

জল পথে

অপ্রচলিত মাধ্যম হিসাবে নৌপথ ব্যবহৃত হয়ে থাকে; তবে কেবলমাত্র শেরপুর ও আজমেরীগঞ্জ ছাড়া অন্য কোনো এলাকার সাথে ঢাকা থেকে বা সিলেট শহর হতে সরাসরি কোনো নৌযান চলাচল করে না। অপরদিকে, হাওড় এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌযান।

 

কৃতী ব্যক্তিত্ব

  • সৈয়দ নাসির উদ্দীন – শাহ জালালের সঙ্গী ও তরফ বিজয়ী বীর;
  • সৈয়দ সুলতান (১৫৫০-১৬৪৮) – মধ্যযুগের প্রখ্যাত কবি;
  • শেখ ভানু (১৮৮৯-১৯১৯) – প্রখ্যাত সাধক;
  • বৃন্দাবন চন্দ্র দাশ (১৮৫০-১৯৩২) – প্রখ্যাত সমাজ সংস্কারক;
  • বিপিন চন্দ্র পাল (১৮৫৮-১৯৩২) – ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব;
  • জগৎজ্যোতি দাস (১৯৪৯-১৯৭১) – বীরবিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের দাস বাহিনীর প্রধান;
  • এম এ রশীদ – বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রথম ভাইস চ্যান্সেলর ও সাবেক মন্ত্রী;
  • আব্দুর রউফ চৌধুরী (১৯২৯-১৯৯৬) – দ্রোহী কথাসাহিত্যিক
  • এম মোখলেসুর রহমান চৌধুরী – রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী;
  • সিরাজুল হোসেন খান – রাজনীতিবিদ, সাবেক মন্ত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য;
  • শাহ এ এম এস কিবরিয়া – সাবেক অর্থমন্ত্রী, কূটনীতিক, পররাষ্ট্র সচিব এবং এসকাপের সাবেক নির্বাহী সচিব;
  • দেওয়ান ফরিদ গাজী – মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও রাজনীতিবিদ;
  • মোহাম্মদ আবদুর রব – মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড, বাংলাদেশের প্রথম সেনাবাহিনী প্রধান;
  • মেজর জেনারেল (অবঃ) সি আর দত্ত – মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সেক্টর কমান্ডার;
  • সিরাজুল হোসেন খান – রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য;
  • এনামুল হক মোস্তফা শহীদ – মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য।[৩]
  • রামনাথ বিশ্বাস – ভূপর্যটক
  • সৈয়দ এ. বি. মাহমুদ হোসেন – সাবেক প্রধান বিচারপতি;
  • সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেন – সাবেক প্রধান বিচারপতি;
  • ফজলে হাসান আবেদ – ব্র্যাক-এর প্রতিষ্ঠাতা;
  • সেগুফতা বখ্‌ত চৌধুরী সাবেক গভর্ণর বাংলাদেশ ব্যাংক।
  • সৈয়দ মোস্তফা কামাল গবেষক,লেখক,সাবেক ডি ডি ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
  • আবদুল মান্নান চৌধুরী – সাবেক সংসদ , ইংল্যান্ডে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক;
  • মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন – বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর;
  • নাজমুল হোসেন (জন্মঃ ১৯৮৭) – জাতীয় দলের ক্রিকেটার;
  • অনুদ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য – শিক্ষাবিদ ও শহীদ বুদ্ধিজীবী;
  • হেমাঙ্গ বিশ্বাস – ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ব্যক্তিত্ব, কবি ও গায়ক;
  • সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান – আইনজীবি ও পরিবেশবিদ;
  • সুবীর নন্দী – কন্ঠশিল্পী।
  • ব্যরিষ্টার সুমন

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!