হাতিয়া দ্বীপ

Back to Posts

হাতিয়া দ্বীপ

বাংলাদেশের মূল ভূ-খন্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন একটি উপকূলীয় দ্বীপ হাতিয়া। চারদিকে অথৈ জলরাশি আর উত্তাল তরঙ্গের মাঝে ভাসমান ভেলাসদৃশ এ দ্বীপ এবং তার আশপাশে জেগে ওঠা ১৯টি চর নিয়ে হাতিয়া নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। ২১০০ বর্গকিমি আয়তনের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য সম্বলিত এ দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ। আব্দুল্লাহ আল মামুন পরিচালিত চলচ্চিত্র “দরিয়া পাড়ের দৌলতী” হাতিয়া দ্বীপের জীবনধারার উপর ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে।

অবস্থান

হাতিয়া উপজেলার উত্তরে মেঘনা নদী ও সুবর্ণচর উপজেলা, উত্তর-পশ্চিমে মেঘনা নদী ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলা, পশ্চিমে হাতিয়া চ্যানেল ও ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে সন্দ্বীপ চ্যানেল ও চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ উপজেলা অবস্থিত। হাতিয়া উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়ন রয়েছে।

আনুমানিক অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে জেগে ওঠা এ দ্বীপের নামকরণে- ‘হাটিয়া’- ‘হাতি’- ‘হাইতান’- ‘হা-ইতিহ’ ইত্যাদি বিভিন্ন নামে প্রবাদ থাকলেও কালক্রমে এটি বর্তমানের ‘হাতিয়া’ নামে নামান্তরিত হয়ে সারাবিশ্বে সুপরিচিতি লাভ করেছে। হাতিয়াকে প্রধানত দু’টি কারণে পৃথিবীর মানুষ চিনেছে। প্রথমত এ মাটির সুপ্রাচীন ও সমৃদ্ধ গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস এবং অন্যটি এ দ্বীপের উপর বয়ে যাওয়া বিগত শতাব্দীর ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়সমূহ। ভেনিসিয়ান পরিব্রাজক সিজার ফ্রেডারিকের মতে, এ দ্বীপাঞ্চল ছিল পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম উর্বর ও বাসযোগ্য এলাকা। হাতিয়ার সুপরিচিতি লাভে দ্বীপের অনন্য ও বিদগ্ধ প্রতিভাবান পন্ডিতদের অবদানও কোন অংশে কম নয়।

হাতিয়া দ্বীপের প্রাচীন স্বর্ণালী ইতিহাস বর্তমানে অনেকটা ম্লান, নিভু নিভু। নদীর অব্যাহত ভাঙন, ঘূর্ণিঝড়–জলোচ্ছবাস ইত্যাদি প্রকৃতির বৈরীসুলভ আচরণে আজ ক্ষত-বিক্ষত হাতিয়ার জনজীবন। হাতিয়া ভাঙছে, আবার গড়ে উঠছে নতুন নতুন চর। নিঝুমদ্বীপ হাতিয়ার অলঙ্কার। নিঝুমদ্বীপসহ জেগে উঠা চরাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনার আরেক নতুন বাংলাদেশ।

দর্শনীয় স্থান

  • নিঝুম দ্বীপ।
  • কাজির বাজার।
  • কমলার দিঘী।
  • রহমত বাজার ঘাট।
  • তমরুদ্দি পাথর ঘাট।
  • সূর্যমূখী সি বীচ।
  • দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা পার্ক।
  • সর্ণদ্বীপ সেনানিবাস।
  • আলাদি গ্রাম।
  • টাংকির ঘাট।
  • ভাষান চর।
  • দমার চর।
  • কাটাখালী ম্যানগ্রোভ।
  • কাটাখালী খাল।
  • আমতলী ফরেষ্ট এরিয়া, জাহাজমারা।
  • মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা
  • মোক্তারিয়া ঘাট।

ঐতিহ্য

হাতিয়া মহিষ ও গরুর দধির জন্য বিখ্যাত। কথায় আছে – “হাতিয়ার দই, নোয়াখালীর কৈ, স্বন্দ্বীপের ডাব, রামগতির রাব।” এছাড়া রয়েছে জামাই পিঠা নামে খ্যাত “নকশী পিঠা” বা হাতিয়ার ভাষায় পাক্কন পিঠা। পুলি পিঠা, চিতই পিঠা, ভাপা পিঠা, জালার পিঠা, রস ভোগ, আনতাসা পিঠা, সাইন্না পিঠা, ভরা পিঠা সহ হরেক রকমের পিঠা। নাউর এবং গ্রামীণ কৃষ্টি-সংস্কৃতির বিয়ে এখানে এখনও প্রচলিত।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে হাতিয়ায় ২ ভাবে যাওয়া যায় – সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে এবং ট্রেন/বাসে নোয়াখালী হয়ে।

সড়ক বা রেল পথে- যেকোন পরিবহনের বাসে যেতে হবে নোয়াখালীর সোনাপুরে। প্রতিদিন সকাল দুপুর ও সন্ধ্যায় ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর এর দিকে বাস ছেড়ে যায়। অথবা রেলে করে নোয়াখালীর মাইজদি পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ঢাকা কমলাপুর থেকে বৃহস্পতি বার বাদে, প্রতিদিন বিকাল ৪.২০ মিনিট এ ৭১২ নং আন্তঃনগর উপকুল এক্সপ্রেস নোয়াখালী এর দিকে ছেড়ে যায়, মাইজদি পৌঁছে রাত ১০.২২ মিনিট। ভাড়া – স্নিগ্ধা – ৫০৩ টাকা, প্রথম চেয়ার – ৩৫৫ টাকা, শোভন চেয়ার – ২৭০ টাকা, শোভন – ২৩০ টাকা।

নোয়াখালীর সোনাপুর / মাইজদি থেকে স্থানীয় বাস বা সিএনজিতে করে নামতে হবে বয়ার চর – চেয়ারম্যান ঘাটে। চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পীড বোট ছাড়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সি-ট্রাক ছাড়ে প্রতিদিন সকাল ৮ টায়। ভাড়া জনপ্রতি – ৮০ টাকা, ট্রলার – ১২০ – ১৫০ টাকা ভাড়া প্রতিজন ও স্পীড বোট জনপ্রতি ভাড়া – ৪০০-৫০০ টাকা। যাত্রীদেরকে নামাবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে। 

জল পথে- লঞ্চে করে ঢাকার সদরঘাট থেকে যেতে হবে। ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে – মোট ৪ টা লঞ্চ ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে প্রতিদিন ২টি করে ছেড়ে যায়, প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬.০০ মিনিটে। লঞ্চ গুলোর নাম এম.ভি ফারহান – ৩ ও ৪ এবং এম. ভি. তাসরিফ – ১ ও ২। এম. ভি. তাসরিফ লঞ্চগুলো সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে এই পথে চলাচল করছে। এদের মধ্যে প্রতিদিন ২টা করে লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টায় এবং ৬ টায় ছেড়ে যায়। সেটি হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে পৌঁছবে পরদিন সকাল ৮-৯ টায়। (ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর ১২.৩০ টায় এবং ১.৩০ টায়)

এম.ভি. ফারহান – ৩ : +৮৮০ ১৭৮৫৬৩০৩৬৫, এম. ভি. ফারহান – ৪ : +৮৮০ ১৭৮৫৬৩০৩৭০ এম.ভি. তাসরিফ- ১ : +৮৮০ ১৭৩০৪৭৬৮২২, এম.ভি. তাসরিফ-২ : +৮৮০ ১৭৩০৪৭৬৮২৪

কোন কারনে হাতিয়ার লঞ্চে উঠতে না পারলে বিকাল ৬.৩০ মিনিটে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে চালু করা এম ভি টিপু-৫ অথবা এম ভি পানামা লঞ্চে করে তজুমুদ্দিন অথবা মনপুরা নেমে গিয়ে হাতিয়ার লঞ্চ ধরা যাবে অথবা মনপুরা থেকে ট্রলারে করে হাতিয়া যাওয়া যাবে। এই লঞ্চ দুটো এই রুটে চলেঃ

ঢাকা – চাঁদপুর – কালিগঞ্জ (মেহেন্দীগঞ্জ) – বিশ্বরোড (ভোলা) – দৌলত খাঁ (ভোলা) – মির্জাকালু – শরাশগঞ্জ – ভোলা তজুমুদ্দিন – মনপুরা (রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট) ও মনপুরা হাজির হাট লঞ্চ ঘাট।

বিশেষ কারনে যদি এই দুটো অর্থাৎ টিপু -৫ বা পানামা লঞ্চ। এছাড়া বিকাল ৬.৩০ মিনিট এম ভি ফারহান-৬ অথবা ফারহান-৭ লঞ্চ এ করে তজুমুদ্দিন গিয়ে হাতিয়ার লঞ্চ ধরতে পারবেন অথবা তজুমুদ্দিন থেকে ট্রলার এ হাতিয়া যেতে পারবেন।

এম ভি ফারহান – ৬ অথবা ফারহান – ৭ লঞ্চ দুটো এই রুটে চলে: ঢাকা-ফতুল্লা-কালিগঞ্জ(মেহেন্দীগঞ্জ)-বিশ্বরোড (ভোলা)-দৌলত খাঁ (ভোলা)-মির্জাকালু-শরাশগঞ্জ-ভোলা তজুমুদ্দিন-শরশী সী-ট্রাক ঘাট-মঙ্গল শিকদার- বেতুয়া (চরফ্যাশন)। আপনাকে নামতে হবে তজুমুদ্দিন লঞ্চ ঘাটে।

লঞ্চে গেলে ভাড়া পড়বে- ডেকে ২০০ টাকা, একা কেবিন- ৮০০+ টাকা, দ্বৈত-১৫০০+ টাকা, পরিবার-২৫০০/৩০০০, ভিআইপি -৪০০০/৫০০০ হাতিয়া এর তমুরদ্দী ঘাট পর্যন্ত।

চট্রগাম থেকে হাতিয়া আসতে হলে’, চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়াগামী জাহাজ এম ভি বার আওলিয়া অথবা এম ভি আব্দুল মতিন এ উঠে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এ নামতে হবে। শুক্র ও রবিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ এ চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে যায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সন্দীপ হয়ে হাতিয়া পৌছে বিকাল ৫ টায়। সময়সূচী : প্রতিদিন সকাল ৯ টা (শুক্র ও রবিবার বাদে)। স্থান : চট্টগ্রাম সদরঘাট, ভাড়া : প্রথম শ্রেনী/ দ্বিতীয় শ্রেনী/ চেয়ার ক্লাস, সন্দীপ : ১২০০/- ৬২০/- ২৩০/- হাতিয়া : ২২১৫/- ১১১০/- ৩৫০/-

হোটেল ও আবাসন

সরকারি ডাক বাংলো,ধানসিঁড়ি,হোটেল সম্রাট, হোটেল সিংগাপুর, হোটেল মোহনা, হোটেল হংকং, হোটেল শেরাটন, হোটেল প্রিন্স।

তথ্য সহযোগিতার প্রয়োজনে যোগাযোগঃ  শাহাদাত হোসেন, উদ্যোক্তা, জাহাজমারা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, হাতিয়া, মোবাইল- 01711139090

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!