জামালপুর

জামালপুর

সাধক দরবেশ হযরত শাহ্ জামাল (র:) এর পূণ্যস্মৃতি বিজড়িত নয়নাভিরাম সৌন্দর্যমন্ডিত গারো পাহাড়ের পাদদেশে যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত জামালপুর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক জেলা এবং বাংলাদেশের মধ্যাংশের অঞ্চল। জামালপুর ময়মনসিংহ জেলার মধ্যে প্রথম মহুকুমা হিসেবে ১৮৪৫ সালে মর্যাদা লাভ করে। মহুকুমা সৃষ্টি হওয়ার ১৩৩ বছর পরে ১৯৭৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর জেলার মর্যাদা পায়।  জামালপুরের আয়তন ২০৩১.৯৮ বর্গ কিলোমিটার। বিশেষ করে কৃষি পণ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র। এটি রেলপথে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, এবং বাহাদুরাবাদ ঘাট ও ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, এবং মেঘালয় (ভারত) এর সঙ্গে রাস্তা দ্বারা সংযুক্ত। কৃষি প্রধান এ অঞ্চলে মূলত প্রধান ফসলের মধ্যে ধান, পাট, আখ, সরিষা বীজ, চিনাবাদাম, এবং গম হয়।ভারত থেকে আমদানিকৃত পন্য ও রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হল জামালপুর। দেশের সবথেকে বড় সার কারখানা এখানেই রয়েছে।

জামালপুরের জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য ও গারো পাহাড়, কুড়িগ্রাম জেলা, পূর্বে শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলা, দক্ষিণে টাঙ্গাইল জেলা এবং পশ্চিমে যমুনা নদীর তীরবতী সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলা। ইসলামপুর, জামালপুর সদর, দেওয়ানগঞ্জ, বকশীগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ এবং সরিষাবাড়ি এই ৭টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত জামালপুর জেলা।

 

ঐতিহ্য

জামালপুর জেলার বিভিন্ন জিনিসের দেশজোড়া খ্যাতি রয়েছে। তার মধ্যে ইসলামপুরের কাঁসার বাসন ও গুড়, মেলান্দহের উন্নতমানের তামাক ও তৈল, দেওয়ানগঞ্জের আখ ও চিনি, সরিষাবাড়ীর পাট ও সার, মাদারগঞ্জের মাছ, দুধ ও ঘি, বকশীগঞ্জের নকশীকাথা, চিনা মাটি,কাঁচ বালি, নুড়ি পাথর, বাঁশ ও বেতের আসবাবপত্র, জামদানি শিল্প এবং জামালপুর সদর উপজেলার আনারস, পান, বুড়িমার মিষ্ট, ও আজমেরীর জিলাপী,সর ভাজা,ছানার পায়েস,ছানার মিষ্টি অন্যতম। তাছাড়া জামালপুরের বিভিন্ন এলাকার কংকরযুক্ত লাল বালি, সাদা মাটি, কাঁচবালি এবং শাক-সবজি নিজ জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অনেক জেলার চাহিদা মিটাতে সহায়তা করে। জামালপুর নকশি কাঁথা ও নকশি চাদর এখনো সারা দেশে সমাদৃত।

 

কাসা শিল্প

জামালপুর জেলার ইসলামপুরের কাসা শিল্প একসময় সারা বিশ্বব্যাপি পরিচিত ছিল। কাসা দিয়ে বিভিন্ন নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদি তৈরী হত। এর মধ্যে ঘটি-বাটি, পে­ট, জগ, গ্লাস, বদনা, হুক্কা, খেলনা সামগ্রী এবং পূজা পার্বনে ব্যবহুত জিসিষপত্র ইত্যাদি। এগুলোর নির্মাণ শৈলী খুবই চমৎকার এবং মানুষ এগুলোকে তৈজসপত্র হিসেবে পারিবারিক ও ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করত। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন এ শিল্পের সাথে বেশী জড়িত ছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এ শিল্পের সাথে জড়িত অনেকেই দেশ ত্যাগ প্রতিবেশী ভারতে চলে যায়। পাকহানাদার বাহিনী এ শিল্পের সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ী আগুনে পুড়ে দেয়ায় স্বাধীনতার পর অনেকেই দেশে ফিরে তাদের পৈত্রিক পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। তাছাড়া আধুনিক যুগে নৈত্য ব্যবহার্য দ্রব্যাদির ধরন বদলে যাওয়ায় বর্তমানে এ শিল্পে ধস নেমেছে। তবুও পৈত্রিক পেশাকে ধরে রখার জন্য বর্তমানে ইসলামপুরে প্রায় ২০/২৫টি পরিবার কাজ করছে। কাসা শিল্পের সাথে জড়িতরা খুবই গরীব। এদেরকে সরকারীভাবে আর্থিক সাহায্য সহযোগিতা প্রদান  এবং বেসরকারী সংস্থাগুলো পৃষ্টপোষকতায় এগিয়ে এলে এ শিল্পটি তার হারানো গৌরব পুনরায় ফিরে পেত এবং শিল্পীরা তাদের বাপদাদার পেশাটিকে দীর্ঘদিন বাচিয়ে রাখতে সক্ষম হত।

 

নকশীকাঁথা শিল্প

আবহমানকাল থেকেই বাংলার বধূরা স্বভাবগতভাবেই বাংলার ঐতিহ্য, কৃষ্টি, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের দৃশ্যগুলোকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সূই-সূতার মাধ্যমে কাপড়ের উপর তৈরী করত অপূর্ব চিত্র। গ্রামের বৌ-ঝিরা সাংসারিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে সৌখিনতাবশত, নকশীকাঁথা তৈরী করত। মেয়ে বড় হওয়ার সাথে সাথে মা, নানী-দাদীরা মেয়েকে শুশুরবাড়ী পাঠানোর সময় বাহারী রঙ এর নকশীকাঁথা সঙ্গে দিত। যারা গরীব তারাও মেয়েকে ২/১ টি কাথাঁ বালিশ দিতে ভুলত না। জামালপুরের নকশী কাঁথা ও হাতের কাজের বাহারী পোষাক পরিচ্ছদ সারাদেশে বহু পূর্ব থেকেই প্রশংসিত ছিল। বর্তমানে তা আরো উন্নত হয়ে দেশে ও দেশের বাইরে সমাধৃত হচ্ছে। জামালপুরের বকশীগ্ঞ্জ, দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, ইসলামপুর, মেলান্দহ এবং সদর উপজেলাতেই নকশী কাঁথা শিল্পের কম বেশী উৎপাদন হয়। তবে জামালপুর সদর উপজেলায় এ শিল্পের বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে জামালপুর শহরে এর আধিক্য সবচেয়ে বেশী লক্ষ্যনীয়। এখানকার পোষাক পরিচ্ছদের গুনগতমান উন্নত হওয়ায় এবং দাম তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় দেশ ও দেশের বাইরে এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এ ঐতিহ্যবাহী মনোমুগ্ধকর সূচি শিল্পটি একসময় হারিয়ে যেতে বসেছিল। ৭০ দশকের শেষভাগে এ শিল্পের চিহ্ন প্রায় বিলুপ্ত হতে থাকে। অবশেয়ে ৮০ দশকের শুরুতেই আবার হারাতে বসা নকশী শিল্পটি পুনরুদ্ধার করে বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গতিযোগ করে ব্র্যাক নামীয় বেসরকারী প্রতিষ্ঠানটি।

নকশীকাঁথা শিল্পের জিনিষ পত্রাদির মধ্যে রয়েছে নকশীকাঁথা, বেড কভার, থ্রীপিছ, ওয়ালমেট, কুশন কভার, শাড়ী, পাঞ্জাবী, টি শার্ট, ফতুয়া, স্কার্ট, লেডিজ পাঞ্জাবী, ইয়ক, পার্স, বালিশের কভার, টিভি কভার, শাড়ীর পাইর, ওড়না, ফ্লোর কুশন, মাথার ব্যান্ড, মানি ব্যাগ, কলমদানী, মোবাইল ব্যাগ, ওয়ালমেট, ছিকা, শাল চাদর ইত্যাদি। নকশীকাঁথা পণ্যের মূল্য ২৫ টাকা থেকে শুরু করে ১০০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

 

মৃৎ শিল্প

কুমার সম্প্রদায় এ অঞ্চলে গ্রামীণ লোকায়ত জীবনে পোড়া মাটির শিল্প দ্রব্য এবং তৈজসপত্র তৈরী করে ব্যাপকভাবে পরিচিতি অর্জন করেছে। ১৯০১ সালের লোক গগণা হিসেবে জামালপুরের কুমার পরিবারের লোক সংখ্যা ছিল ১৫০০ জন। এরা হিন্দু সম্প্রদায়ভুক্ত ছিল। এদের তৈরী জিনিসপত্র জামালপুরসহ সারা দেশেই সমাদৃত ছিল। সে আমলে ভাত তরকারীসহ রান্না-বান্নার যাবতীয় কাজ মাটির হাড়িতেই হতো। মাটির কলসে পানি রাখত, মাটির গ্লাসে পানি এবং কাদাতে (থালা) ভাত খেত। বর্তমানে আধুনিক এল্যুমিনিয়াম, ষ্টিল এবং মেলামাইনের তৈজসপত্র তৈরীর ফলে মাটির বাসন কোসন প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। তবে এখনও কিছু কিছু পরিবারে মাটির বাসন-কোসনের ব্যবহার করতে দেখা যায়। মৃৎ শিল্পের সাথে জড়িতদের অনেকেই পৈত্রিক পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় কাজ করতে উৎসাহী নয়। ফলে তাদেরকে মানবেতন জীবন যাপন করতে হচ্ছে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে এবং এ পেশার সাথে জড়িতদের কথা বিবেচনা করে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া প্রয়োজন।

 

তাঁত শিল্প

জামালপুরের তাঁত শিল্প এক সময় খুবই উন্নত ছিল। বর্তমানে এ শিল্পটি মৃতপ্রায়। জেলার সদর উপজেলার দিকপাইত, মেষ্টা ও তিতপল্লা ইউনিয়নে বর্তমানে কিছু তাঁতী রয়েছে। বকশীগঞ্জ উপলোয় একটি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট রয়েছে। এ শিল্পটিকে সরকারীভাবে পৃষ্টকতা প্রদান করা হলে শিল্পটি আবারো তার হ্রত গৌরব ফিরে পেতে পারে।

 

খাবার

জামালপুর জেলার লোকজন সাধারণত ভাত, মাছ, মাংশ, ডাল ও শাক-সবজি খেতে পছন্দ করে। তবে কারো মৃত্যু উপলক্ষে বা কোন বিশেষ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ জেলার মানুষ একটি বিশেষ খাবার খেয়ে থাকে। তা হলো মেন্দা বা মিল্লি বা মিলানি বা পিঠালি। দেখতে অনেকটাই হালিমের মতো। যেটি গরু বা খাসি বা মহিষের মাংশের সাথে সামান্য চালের গুড়া ও আলু দিয়ে রান্না করা হয়। তার সাথে সাদা ভাত ও মাশকলাইয়ের ডাল। অনেক জায়গায় খাবার শেষে দই ও মিষ্টিও দিয়ে থাকে।

 

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • হযরত শাহ জামাল (রঃ)-এর মাজার – জামালপুর সদর
  • হযরত শাহ কামাল (রঃ)-এর মাজার – দুরমুঠ, মেলান্দহ উপজেলা।
  • শেখ হাসিনা সাংস্কৃতিক পল্লী, সদর
  • গারো পাহাড় লাউচাপড়া পাহাড়িকা বিনোদন কেন্দ্র – বকশীগঞ্জ উপজেলা;
  • মুক্তিযুদ্ধে কামালপুর ১১ নং সেক্টর;
  • কামালপুর স্থলবন্দর- বকশীগঞ্জ উপজেলা
  • বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স মিল লিঃ ও লেদার মিল লিঃ;
  • দয়াময়ী মন্দির – জামালপুর সদর;
  • যমুনা ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি – তারাকান্দি, সরিষাবাড়ী;
  • তরফদার খামারবাড়ী-জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, সরিষাবাড়ী;
  • জিল বাংলা চিনিকল – দেওয়ানগঞ্জ;
  • দীঘির পাড়- দেউর পাড় চন্দ্রা
  • ইন্দিরা- উত্তর দেউর পাড় চন্দ্রা
  • যমুনা সিটি পার্ক – পোগলদিঘা, সরিষাবাড়ী;
  • লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক-বেলটিয়া, জামালপুর।
  • বোসপাড়া গ্রামীণ ব্যাংক
  • যমুনা জেটি ঘাট -জগন্নাথগঞ্জ ঘাট, সরিষাবাড়ী;
  • গুঠাইল বাজার ঘাট, ইসলামপুর উপজেলা।
  • উলিয়া বাজার পাইলিং ঘাট, ইসলামপুর উপজেলা।
  • বাহাদুরাবাদ ঘাট, কুলকান্দি, ইসলামপুর উপজেলা।
  • হাইওয়ে রোড,খরকা বিল,মাদারগঞ্জ উপজেলা।
  • স্বপ্ননীল পার্ক, সাতপোয়া, সরিষাবাড়ী।
  • মেয়র পার্ক,পপুলার মোড়,সরিষাবাড়ী।
  • গান্ধী আশ্রম,হাজীপুর।
  • যমুনা পাড়, দেওয়ানগঞ্জ।
  • ৩৫ বিজিবি ক্যাম্প,সদর
  • কালীবাড়ী,সরিষাবাড়ি
  • মধুটিলা ইকোপার্ক
  • পোল্লাকান্দি ব্রিজ
  • নান্দিনা-শ্রীপুর-বাশচরা কাছাকাছি পাহাড়
  • সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজ
ক্রমিক নাম কিভাবে যাওয়া যায় অবস্থান
হযরত শাহ জামাল রহঃ পবিত্র মাজার শরীফ জামালপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জামালপুর এর সন্নিকটে অবস্থিত। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন হতে রিক্সা বা ইজিবাইকে করে আসা যায়।
হযরত শাহ কামাল রহঃ এর পবিত্র মাজার শরীফ জামালপুর কিংবা মেলান্দহ হতে সরাসরি বাসে/সিএনজিতে দুরমুট বাজার আসতে হবে।। বাজারের মধ্যেই অবস্থিত।অথবা ট্রেনে দুরমুট স্টেশনে নেমে মাজারে যাওয়া যাবে।
গান্ধী আশ্রম জামালপুর এবং মেলান্দহ হতে সড়ক পথে খুব সহজেই সরাসরি যাওয়া যায়। উভয় স্থান থেকেই দূরত্ব মাত্র ১৫ কি.মি.।
মালঞ্চ মসজিদ, মেলান্দহ জামালপুর হতে সরাসরি বাসে/সিএনজিতে ১০ কি.মি. এসে মালঞ্চ বাজারে নামতে হবে। বাজারের সন্নিকটেই কমপ্লেক্সটি অবস্থিত।
ঝিনাই নদীর উৎসমুখ, জঙ্গলদি মেলান্দহ থেকে রওনা হয়ে নয়ানগর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রাম ছাড়িয়ে সাধুপুর ভাংগা ব্রিজ পেরিয়ে ঝিনাই নদীর উৎসমুখ জঙ্গলদি বহিরচড় যাওয়া যাবে। মেলান্দহ শহর থেকে প্রায় ১০ কি.মি. পথ।
লাউচাপড়া পিকনিক স্পট, বকশীগঞ্জ ঢাকা হতে বাসে কিংবা জামালপুর বা শেরপুর হতে সিএনজিতে বকশীগঞ্জ গিয়ে সেখান হতে ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ধানুয়া-কামালপুরে যেতে হবে।
দয়াময়ী মন্দির জামালপুর শহরের ০ পয়েন্টে দয়াময়ী মন্দির অবস্থিত। জামালপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিক্সা বা ইজিবাইকে যাওয়া যায়।
দেওয়ানগঞ্জের সুগার মিলস দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে এটি অবস্থিত। জামালপুর থেকে এর দুরত্ব ৪৭ কিঃ মিঃ। জামালপুর থেকে সিএনজি করে যাওয়া যায়।
যমুনা সার কারখানা সরিষাবাড়ী হতে এটির দুরত্ব ১২ কিঃমিঃ। জামালপুর থেকে সিএনজি করে কিংবা সরিষাবাড়ী থেকে ইজিবাইক বা সিএনজি করে এখানে যাওয়া যায়।

 

 যাতায়াত পদ্ধতি

ঢাকা থেকে জামালপুর এ  সড়ক ও রেল উভয় পথেই ভ্রমণ করা যায়।

সড়ক পথে ভ্রমণ- এনা পরিবহন

এনা ট্রান্সপোর্ট (প্রা:) লি: যাত্রা শুরু করে ১৯৯৮ সালে। ঢাকা থেকে বৃহত্তর ময়মনসিংহ এলাকায় চলাচল করে এনা ট্রান্সপোর্টের বাস সার্ভিস। এই কোম্পানীতে সবগুলো নন এসি বাস।

প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা

বাসা– ২৩,রোড–৮, ব্লক– এ, মিরপুর -১২, ঢাকা –১২০৬। যোগাযোগের মোবাইল নম্বর- +৮৮-০১৯২৪-৭৬৪৫৭১, ০১৭১৬-১৩১৪৮১।

গন্তব্য- এনা ট্রান্সপোর্টের বাস ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নেত্রকোণা, জামালপুর এবং শেরপুর জেলায় চলাচল করে থাকে।

 

কাউন্টার- মহাখালী আন্ত:জেলা বাসটার্মিনাল ছাড়াও শহরের কাকলী, বনানী ও টঙ্গীতে এই কোম্পানীর কাউন্টার রয়েছে।

গাড়ী ছাড়ার সময়

ভোর পাঁচটা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত প্রতি আধাঘন্টা পরপর গাড়ী চলাচল করে। রাতে কোন গাড়ী চলাচল করে না। জেলা অনুযায়ী গাড়ি ছাড়ার সময়সূচী নিম্নরুপ-

  • ময়মনসিংহ – সকাল ৫.৩০ টা
  • নেত্রকোণা – ৬.০০ টা
  • জামালপুর – ৬.৩০ টা
  • শেরপুর – ৭.৩০ টা
  • টাঙ্গাইল – ৮.০০ টা

টিকেটের মূল্য

এই বাস কোম্পানীতে অগ্রীম টিকেট কাটার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে ফোনের মাধ্যমে সিট বুকিং দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। টিকেট ফেরত দিতে হলে কমপক্ষে ১ ঘন্টা আগে কাউন্টার কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হয়। এখানে লাইন ধরে টিকেট সংগ্রহ করতে হয়। ঈদের সময় ও লাইন ধরে টিকেট কাটতে হয়। ঢাকা থেকে গন্তব্য অনুসারে  ভাড়ার হার নিম্নরুপ-

  • ময়মনসিংহ ১৮০ টাকা
  • শেরপুর ২৫০ টাকা
  • জামালপুর ৩০০ টাকা
  • টাঙ্গাইল ২২০ টাকা
  • নেত্রকোণা ২২০ টাকা

 

ট্টেনে ভ্রমণ

ঢাকা-বাহাদুরাবাদ রুটে চলাচল করে ৭০৮/৭০৭ নং তিস্তা আন্ত:নগর ট্রেনটি।

সময়সূচি

রুট ছাড়বে পৌছাবে বন্ধের দিন
ঢাকা থেকে বাহাদুরাবাদ সকাল ৭:২০ দুপুর ২:৫০ সোমবার
বাহাদুরাবাদ থেকে ঢাকা দুপুর ২:৪০ রাত ৮:০৫ সোমবার

 যাত্রা বিরতীর স্থান ও ভাড়ার তালিকা

গন্তব্যস্থল শো: সাধারণ শো: চেয়ার ১ম সিট
বাহাদুরাবাদ ১৮০ ২১০ ২৮০
দেওয়ানগঞ্জ ১৭৫ ২০৫ ২৭৫
ইসলামপুর ১৬৫ ২০০ ২৬৫
মেলান্দহ ১৫৫ ১৮৫ ২৫০
জামালপুর ১৫০ ১৭৫ ২৩৫
ময়মনসিংহ ১১০ ১৩০ ১৭৫
গফরগাঁও ৮০ ৯৫ ১২৫

 যোগাযোগ

  • কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন- ফোন নম্বর: ৯৩৫৮৬৩৪,৯৩৩১৮২২ মোবাইল নম্বর: ০১৭১১৬৯১৬১২
  • বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন- ফোন নম্বর: ৮৯২৪২৩৯  ওয়েবসাইটwww.railway.gov.bd

 

 আবাসিক হোটেল  

আবাসিক হোটেল   যোগাযোগ
হোটেল রাশেদ,গেইটপাড়,জামালপুর ০১৯১৪৮৫৯৩৮৭
হোটেল শাহজামাল,মেডিকেল রোড,জামালপুর ০১৭১২২২৫৬২২
হোটেল আল করিম, স্টেশন রোড,জামালপুর ০১৭১৬০৩৬৮০৮
 হোটেল সজিব, স্টেশন বাজার,জামালপুর ০৯৮১৬২৬৬৬

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

জামালপুর জেলায় অনেক কৃতি ও গুণী মানুষের জন্ম হয়েছে যারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতি সম্পন্ন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগণ হলেন: নাটকে বাংলার মুকুট বিহীন সম্রাট আনোয়ার হোসেন, জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত নাট্যকার আমজাদ হোসেন, প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন , বিখ্যাত গীতিকার ও শিল্পী মরহুম নজরুল ইসলাম বাবু, নাট্যকার মরহুম এম এস হুদা ও গিয়াস মাস্টার, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনাকারী মরহুম হাসান হাফিজুর রহমান, মরহুম স্পীকার আব্দুল করিম,মরহুম প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল জব্বার, মরহুম আ: ওয়াদুদ মাস্টার,মরহুম প্রিন্সিপাল রইছ উদ্দিন, মরহুম আশেক মাহমুদ তালুকদার, মরহুম নঈম মিয়া, স্বর্গীয় নলিণী মোহন দাশ মাখন বাবু, শ্রী বঙ্কিম বিহারী রাউৎ,মরহুম আব্দুর রহিম তালুকদার, ভাষা সৈনিক মরহুম এডভোকেট আনোয়ারুজ্জামান,মরহুম কাদা মিয়া, মরহুম মোখলেসুর রহমান ফকির বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্ণর ড. আতিউর রহমান, সচিব গোলাম রববানী, মরহুম আব্দুর রশিদ,মরহুম মজিবর রহমান ও আবুল কালাম আজাদ প্রমূখ।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!