Back to Posts

যশোর

“নানা রঙের ফুলের মেলা খেজুর গুড়ে যশোর জেলা”

দেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা স্বীকৃতি প্রাপ্ত যশোর অতি প্রাচীন এক জনপদ এবং মুক্তিযুদ্ধে প্রথম স্বাধীন হওয়া জেলা। যশোর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। ব্রিটিশ আমলে খুলনা ছিল যশোর জেলার অধিভুক্ত একটি মহুকুমা। বিখ্যাত যশোর রোড কিংবা মাইকেল মধুর কথা সামনে আসলেই যশোরের চিত্রপট ফুটে উঠে। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার।

প্রশাসনিক কাঠামোর দিক থেকে যশোর বাংলাদেশের ১৩তম বৃহত্তম জেলা। যশোরের উত্তরে ঝিনাইদহ জেলা ও মাগুরা জেলা, দক্ষিণ পূর্বে সাতক্ষীরা জেলা, দক্ষিণে খুলনা জেলা, পশ্চিমে ভারত। পূর্বে নড়াইল জেলা। মোট আয়তন ৬৬৭৪ বর্গ কিলো মিটার। লোকসংখ্যা ২৭,৬৪,৫৪৭ জন। নির্বাচনী এলাকা- ৬টি উপজেলা ৮টি (যশোর সদর, অভয়নগর, কেশবপুর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, বাঘারপাড়া, মনিরামপুর ও শার্শা), পৌরসভা- ৮ টি, ইউনিয়ন- ৯৩ টি, গ্রাম- ১৪৭৭ টি, মৌজা- ১০৩৬ টি, থানা- ৯ টি।

অতি প্রাচীন জনপদ যশোর আনুমানিক ১৪৫০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে পীর খান জাহান আলীসহ বারজন আউলিয়া যশোরের মুড়লীতে ইসলাম ধর্ম প্রচারের প্রধান কেন্দ্র স্থাপন করেন। ক্রমে এ স্থানে মুড়লী কসবা নামে একটি নতুন শহর গড়ে উঠে । ১৫৫৫ খ্রীস্টাব্দের দিকে যশোর রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। যশোর-খুলনা-বনগাঁ এবং কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের অংশ বিশেষ যশোর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো। ১৭৪৭ খ্রিষ্টাব্দের দিকে যশোর নাটোরের রাণী ভবানীর রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে যশোর একটি পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং এটিই হচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম জেলা। ১৮৬৪ সালে ঘোষিত হয় যশোর পৌরসভা। ১৮৩৮ খ্রিষ্টাব্দে যশোর জিলা স্কুল, ১৮৫১ খ্রিষ্টাব্দে যশোর পাবলিক লাইব্রেরি, বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় ও চতুর্থ দশকে যশোর বিমান বন্দর এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে কলকাতার সাথে যশোরের রেল-যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়।

লোকসংস্কৃতি হিসেবে গ্রামাঞ্চলে জারি, ধুয়োভাব, বাউল, ফোলই গানের প্রচলন রয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী বেদে, পোদ, কাওরা, বাগদি ও বুনো প্রভৃতি সম্প্রদায় পূজা ও বিয়ে উপলক্ষে বিভিন্ন লোকজ অনুষ্ঠান পালন করে। নদী- ভৈরব নদ, কপোতাক্ষ নদ, বেতনা নদী, চিত্রা নদী, হরিহর নদ, ঝাঁপা বাওড়, ভবদহ বিল, শার্শা কন্যাদাহের আশ্চর্য বাওড়, পদ্ম বিল চাকলা, কালিয়ানীর বিল বা বাহাদুরপুর বাওড়, বুকভরা বাওড।

চিত্তাকর্ষক স্থান ও স্থাপনা

  • চাঁচড়া শিব মন্দির।
  • চাঁচড়া জমিদার বাড়ি
  • যশোর ইনস্টিটিউট
  • যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী
  • ফুলের হাট গদখালি
  • সাগরদাড়ী, বাংলা পদ্যর জনক মাইকেল মধুসূদন দত্ত-এর বাড়ি
  • তাপস কুটির (কাস্টমস অফিস)
  • বেনাপোল স্থল বন্দর
  • যশোর বিমানবন্দর
  • যশোর সেনানিবাস
  • শ্রীধরপুর জমিদার বাড়ি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধি
  • মনিহার সিনেমা হল
  • কালেক্টরেট পার্ক
  • লালদীঘির পাড়
  • বিনোদিয়া পার্ক
  • যশোর বোট ক্লাব
  • ভরত রাজার দেউল (ভরত ভায়না)
  • জেস গার্ডেন পার্ক
  • যশোর আইটি পার্ক
  • মীর্জা নগর নবাব বাড়ি
  • চাঁচড়া শিব মন্দির।
  • যশোর ইনস্টিটিউট
  • যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরী
  • ফুলের হাট গদখালি
  • সাগরদাড়ী, বাংলা পদ্যর জনক মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি
  • যশোর জিলা স্কুল
  • তাপস কুটির (কাস্টমস অফিস)
  • খড়কি পীর সাহেবের বাড়ি
  • বেনাপোল স্থল বন্দর
  • যশোর বিমানবন্দর ও যশোর সেনানিবাস
  • শ্রীধরপুর জমিদার বাড়ি
  • বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের সমাধি
  • মনিহার সিনেমা হল
  • কালেক্টরেট পার্ক
  • লালদীঘির পাড়
  • বিনোদিয়া পার্ক
  • যশোর বোট ক্লাব
  • ভরত রাজার দেউল ( ভরত ভায়না )
  • জেস গার্ডেন পার্ক
  • যশোর আইটি পার্ক

 

বিখ্যাত ব্যক্তিবর্গ

  • সনাতন গোস্বামী (১৪৮০-১৫৫৮)[৬]
  • রূপ গোস্বামী (১৪৮৯-১৫৫৮)[৭]
  • শ্রীজীব গোস্বামী (১৫১৩-)[৮]
  • সুরেন্দ্রনাথ মজুমদার (১৮৩৮-১৮৭৮)[৯]
  • মাইকেল মধুসূদন দত্ত (২৫ জানুয়ারি ১৮২৪ – ২৯ জুন ১৮৭৩) – ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বাঙালি কবি ও নাট্যকার;
  • কিরণচন্দ্র মুখোপাধ্যায় (১৮৯৩-১২ ডিসেম্বর ১৯৫৪) – ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের বিপ্লবী;
  • ফররুখ আহমদ (১০ জুন ১৯১৮ – ১৯ অক্টোবর ১৯৭৪) – মুসলিম রেনেসাঁর কবি;
  • সরোজ দত্ত – ভারতীয় বাঙালি বামপন্থী রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী
  • গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭-১৯৬৪) – মুসলিম রেঁনেসার কবি;
  • আবুল হোসেন (১৫ আগস্ট ১৯২২ – ২৯ জুন ২০১৪) – কবি;
  • এস এম সুলতান (১০ আগস্ট ১৯২৩ – ১০ অক্টোবর ১৯৯৪) – প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী;
  • ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান (১৮৯৭-১৯৩৬) – প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী;
  • বাঘা যতীন – ভারতের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী;
  • ইলা মিত্র (১৮ অক্টোবর ১৯২৫ – ১৩ অক্টোবর ২০০২) – বিপ্লবী এবং সংগ্রামী কৃষক নেতা;
  • কমরেড অমল সেন (১৯ জুলাই ১৯১৩ – ১৭ জানুয়ারি ২০০৩) – তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় নেতা;
  • রাধাগোবিন্দ চন্দ্র (১৬ই জুলাই ১৮৭৮ – ৩রা এপ্রিল ১৯৭৫) – জ্যোতির্বিজ্ঞানী[১০]
  • মুন্সি মেহেরুল্লা
  • রাজা প্রতাপাদিত্য
  • ড. শমসের আলী
  • কোহিনূর আক্তার সুচন্দা – অভিনেত্ৰী
  • ফরিদা আক্তার ববিতা – অভিনেত্ৰী
  • গুলশান আরা চম্পা – অভিনেত্ৰী
  • শাবনূর- অভিনেত্ৰী
  • প্রণব ঘোষ – সুরকার
  • মিনু রহমান – অভিনেত্রী
  • হাসান – কন্ঠ শিল্পী
  • দীনেশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় – শিশুসাহিত্যিক ও সম্পাদক
  • অবনীভূষণ চট্টোপাধ্যায় – গণিতজ্ঞ ও লেখক
  • কাজল – কৌতুক অভিনেতা
  • কামরুল হাসান নাসিম- লেখক, সাংবাদিক ও রাজনীতিক
  • হাসিবুর রেজা কল্লোল – চলচ্চিত্র পরিচালক
  • মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান-শিক্ষাবিদ,কবি,গীতিকার,গবেষক ।

কীভাবে যাবেন

স্থল পথে- যশোরের সাথে এর কাছাকাছি জেলাগুলি যোগাযোগ ব্যবস্থা আছে। পশ্চিম ও পূর্ব বাংলায় পরিবহণের জন্য এখানে মহাসড়ক আছে। ঢাকা থেকে যশোর ও ঢাকা বাস সেবা চালু রয়েছে। বাসগুলি মতিঝিল, কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যায়।

আকাশ পথে- এখানে থাকা যশোর বিমানবন্দরটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিমানঘাঁটি। তবে রানওয়ে দিয়ে সামরিক বিমানসহ অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল করে। দৈনিক চলাচল করা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যিক বিমানের মধ্যে রয়েছে ইউএস-বাংলা, নভো এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।

খাওয়া দাওয়া

খাবারের দিক থেকে যশোরের জামতলার মিষ্টি বেশ বিখ্যাত। যশোরের গন্ডি পেরিয়ে দেশ বিদেশের ভোজন রসিকের রসনাতৃপ্ত করতে এই মিষ্টির জুরি নেই। আর আপনার রসনা যদি হয় মিষ্টান্ন লোভী তাহলে তো কথাই নেই। যশোর রোড ধরে সোজা চলে যাবেন জামতলা বাজারে। এখানে মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। জামতলার রসগোল্লা মিষ্টির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- খাটি ছানায় বানানো বাদামী রঙের পঞ্জ মিষ্টিটি মোটেও কড়া মিষ্টি নয়। প্লেটে সাজিয়ে আপনার সামনে যখন পরিবেশন করবে বিভিন্ন সাইজের রসগোল্লা, তখন আপনার চোখও ছানাবড়া হতে বাধ্য।

সকালের নাস্তা হিসেবে যশোর শহরের চৌরাস্তায় অবস্থিত জলযোগ হোটেলের লুচি ডাল বিখ্যাত।

 

রাত্রিযাপন

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!