পেয়ারা আর শীতলপাটি এই নিয়ে ঝালকাঠি

পেয়ারা আর শীতলপাটি এই নিয়ে ঝালকাঠি

সবুজ মাঠ, গাছ-গাছালী, নদী-নালা, খাল-বিল, অপার সৌন্দর্য্যমন্ডিত ৭৫৮.০৬ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিশিষ্ট পরিপাটি জেলা ঝালকাঠি।  কবি জীবনানন্দ দাশ এর বিখ্যাত কবিতা আবার আসিব ফিরে কবিতার ধানসিঁড়ি নদীটি এ জেলায় অবস্থিত । এ জেলার আছে এক গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস । এ জেলাটি বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে  অবস্থিত হলে ও এর কিছু  বৈশিষ্ট রয়েছে। সুগন্দা বিশখালি ধানসিঁড়ির মতো বিখ্যাত নদী  এ জেলায় বুক চিড়ে প্রবাহিত।

ঝালকাঠি জেলা বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। মোট আয়তন ৭৫৮.০৬ বর্গ কিমি। ঝালকাঠির উত্তর-পূর্বে বরিশাল,দক্ষিণে বরগুনা ও বিশখালি নদী এবং পশ্চিমে লোহাগড়া ও পিরোজপুর জেলা অবস্থিত। ঝালকাঠি জেলায় ৪টি উপজেলা (কাঁঠালিয়া, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি এবং রাজাপুর), ২টি পৌরসভা, ৪টি থানা, ৩২টি ইউনিয়ন, ৪৭১টি গ্রাম, ৪১২টি মৌজা, ৩১টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসসহ ৮৯টি হাট-বাজারের সম্মিলন ঘটেছে এ জেলায়। জনসংখ্যা মোট ৬,৮২,৬৬৯ জন।

লোকসংস্কৃতি হিসেবে এ জেলায় ভাটিয়ালী গান, ধুয়া গান, লোকগীতি, বারোমাসি গান, কবি গান, কীর্ত্তন, জারি গান, ছাদ পেটানোর গানের প্রচলন আছে। কথক নাচসহ নানা প্রকার নাচের প্রচলনও লক্ষ করা যায়। জেলার প্রধান নদী: বিষখালী, গজালিয়া, নলছিটি, কালিজিরা, কীর্তনখোলা, খায়রাবাদ, বিষখালী, সুগন্ধা, ধানসিঁড়ি, গাবখান নদী, জাংগালিয়া নদী ও বাসন্ডা নদী।

কথিত আছে, ঝালকাঠীর পশ্চিম তীরে জেলেরা জঙ্গল সাফ করে বাসস্থান তৈরী করতঃ জেলে+কাঠি=জাল+কাঠি অপভ্রংশে ঝালকাঠি নামকরণ করা হয়েছে। এই জেলে ও জঙ্গলের কাঠি থেকেই উৎপত্তি হয় ঝালকাঠির নাম। তেমনি চাঁদকাঠি,কৃঞ্চকাঠি,চরকাঠি, বিনয়কাঠি ইত্যাদি। যা বিস্তৃত রয়েছে স্বরুপকাঠী পর্যন্ত। বিশ্বরুপ সেনের একখানি তাম্রলিপিতে ঝালকাঠি ও নৈকাঠির নামোল্লেখ আছে।এ থেকেও ঝালকাঠি নামটি যে জেলেদের কাছ থেকে পাওয়া তার সমর্থন মিলে। ঝালকাঠি জেলার প্রাচীন নাম ছিল মহারাজগঞ্জ।

দর্শনীয় স্থান

  • সুজাবাদ কেল্লা,
  • ঘোষাল রাজবাড়ী,
  • পুরাতন পৌরসভা ভবন,
  • মাদাবর মসজিদ,
  • সুরিচোরা জামে মসজিদ।
  • সুজাবাদ কেল্লা, ঘোষাল রাজবাড়ী,
  • পুরাতন পৌরসভা ভবন,
  • মাদাবর মসজিদ,
  • সুরিচোরা জামে মসজিদ
  • নেছারাবাদ মাদ্রাসা
  • গাবখান সেতু
  • কীর্ত্তিপাশা জমিদার বাড়ি
  • শের-ই বাংলা ফজলুল হক ডিগ্রি কলেজ
  • বিনয়কাঠি

 

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

  • কামিনী রায়(জন্ম ১৮৬৪- মৃত্যু ১৯৩৩)স্বনামধন্য কবি
  • হযরত মাওলানা মোহাম্মদ আযীযুর রহমান (কায়েদ সাহেব হুজুর)(জন্ম ১৯১১- মৃত্যু ২০০৮)
  • আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু, রাজনৈতিক নেতা
  • বীর সাহসী মুক্তিযোদ্ধা শেফালী রানী

 

কিভাবে যাবেন?

রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব ১৮২ কিলোমিটার। এই জেলাটি একটি উপকূলী ও নদীবহুল অঞ্চল হওয়ায় এখানকার যেকোনো স্থানে আসার জন্য নৌপথ সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবহণ ব্যবস্থা। তবে, সড়ক পথেও এখানে আসা সম্ভব; সেক্ষেত্রে ফেরী পারাপার হতে হবে। ঝালকাঠিতে রেল যোগাযোগ না থাকলেও আকাশ পথে বরিশাল হয়ে সহজে আসা যায়। বরিশাল থেকে ঝালকাঠির দুরুত্ব মাত্র ১৭ কিমিঃ। 

স্থল পথে- ঢাকা থেকে ঝলকাঠির উদ্দেশ্যে যেসব গাড়ি ছেড়ে যায় সেগুলো হল এসি চেয়ার কোচ, হিনো চেয়ার কোচ ও নরমাল চেয়ার কোচ। এসি চেয়ার কোস ও হিনো চেয়ার কোচগুলো গুলো ফেরী পারাপার এবং নরমাল চেয়ার কোসগুলো লঞ্চ পারাপার। এছাড়া লোকাল পথেও ঝালকাঠি যাওয়া যায়।

কাটা লাইনে ঝালকাঠি যেতে চাইলে গুলিস্তান থেকে যেসব গাড়ীগুলো ছেড়ে যায় সেগুলো শুধু মাওয়াঘাট পর্যন্ত যায়। তারপর যাত্রীগণকে গাড়ী থেকে নেমে লঞ্চে অথবা স্পীড বোটে কাওরাকান্দি যেতে হয়। লঞ্চে পদ্মা নদী পার হতে হলে ১.৩০ মিনিট থেকে ২.০০ ঘন্টা সময় লাগে। লঞ্চ ভাড়া ৩০ টাকা। স্পীড বোটে নদী পার হলে আনুমানিক ২০মিনিট সময় লাগে। স্পীড বোটে ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। কাওরাকান্দি থেকে বাস অথবা মাইক্রোবাসে বরিশাল যাওয়া যায়। বাসে ডাইরেক্ট বরিশাল ভাড়া ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা। মাইক্রোবাসে ডাইরেক্ট বরিশাল ভাড়া ১৮০-২০০ টাকা। এছাড়া কাওরাকান্দি থেকে ভাংগা পর্যন্তও বাসে যাওয়া যায়। কাওড়াকান্দি থেকে ভাংগা পর্যন্ত বাস ভাড়া-৪০, ভাংগা থেকে বরিশাল পর্যন্ত বাস ভাড়া- ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরিশাল থেকে ঝলকাঠি ভাড়া ৪০ টাকা।

জেলা সদর হতে কাঠালিয়া উপজেলায় বাস ও লঞ্চ যোগে যাওয়া যায় এবং এতে ভাড়া লাগে ৪০-৮০ টাকা;

জেলা সদর হতে নলছিটি উপজেলায় সিএনজি, টেম্পু, বাস, লঞ্চ ও স্টীশার যোগে যাওয়া যায় এবং এতে ভাড়া লাগে ৩০-১০০ টাকা;

জেলা সদর হতে রাজাপুর উপজেলায় রিক্সা, টেম্পু ও বাস যোগে যাওয়া যায় এবং এতে ভাড়া লাগে ১৫-৫০ টাকা।

নৌপথে

ঢাকা সদরঘাট নদী বন্দর লঞ্চ টার্মিনাল থেকে ঝালকাঠির উদ্দেশ্যে যেসব লঞ্চ ছেড়ে যায় সেগুলো হল এম ভি টিপু-০, এম ভি টিপু-১ সুরভী-৭, সুরভী-৮, পারাবত-২, পারাবত-৯, পারাবত-১১।

রাত্রীযাপন 

ঝালকাঠিতে পর্যটকদের থাকার জন্য ভালো তেমন কোনো হোটেল নেই। ধানসিঁড়ি রেস্ট হাউস ও হোটেল আরাফাত নামে মধ্যম মানের দুটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। তবে এলজিইডি, জেলা পরিষদ ও পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে রেস্ট হাউস রয়েছে। বরিশাল শহরে অ্যাথেনা, এরিনা, হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালসহ বেশ কিছু ভালোমানের হোটেল রয়েছে।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!