প্রকৃতির রাণী – খাগড়াছড়ি

প্রকৃতির রাণী – খাগড়াছড়ি

অপরুপ সৌন্দর্যের লীলা নিকেতন, নানা বৈচিত্র্য, পাহাড়ী ঝর্ণাধারা আর সবুজের সমাহারপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি জেলা যেন ভ্রমণ স্বর্গ। সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে নয়নাভিরাম নানান দৃশ্য। প্রকৃতি যেন এখানে তৈরি করেছে নজরকাড়া হাজারও চিত্র। চার পাশে বিছিয়ে রাখা শুভ্র মেঘের চাদরের নিচে রয়েছে সবুজ বনরাজিতে ঘেরা ঢেউ খেলানো অসংখ্য ছোট-বড় পাহাড়। তার মাঝ দিয়ে চলে গেছে আঁকাবাঁকা সড়ক। পাহাড়ের বুক চিরে আপন মনে বয়ে চলেছে নাম না জানা নদ-নদী ও ঝর্ণাধারা। এ জেলার বৈচিত্র্যময় জীবনধারা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে বিমোহিত করে।

বৈচিত্র্যময় ও ভ্রমন স্বর্গ খ্যাত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা চট্টগ্রাম বিভাগ এর অন্তর্গত বাংলাদেশের একটি জেলা। এখানে রয়েছে অসম্ভব সুন্দর সব পর্যটন কেন্দ্র, যা দেখার জন্য বছরে প্রায় প্রতিদিনই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে। গলামুন, ছোট পানছড়ি, কারমি মুড়া, লুটিবান, কুরাদিয়া, ভাঙ্গামুরা ও জপিসিল খাগড়াছড়ির উল্লেখযোগ্য পাহাড়।

রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ২৭০ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ১১১ কিলোমিটার। খাগড়াছড়ির পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলা, দক্ষিণে রাঙ্গামাটি জেলা ও চট্টগ্রাম জেলা, পশ্চিমে চট্টগ্রাম জেলা ও ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশ এবং উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা প্রদেশ অবস্থিত। চেঙ্গী, মাইনি ও ফেণী প্রধান নদী। চাকমাদের বিঝু উৎসব, মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব এবং ত্রিপুরাদের বৈসাবী উৎসব উল্লেখযোগ্য লোকসংস্কৃতি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে- গণকবর: ১টি, স্মৃতিফলক: ১টি ও স্মৃতিস্তম্ভ ২টি।

খাগড়াছড়ি জেলার মোট আয়তন ২৬৯৯.৫৬ বর্গ কিলোমিটার। জনসংখ্যা ৫,২৫,৬৬৪ জন। এ জেলায় ৯টি উপজেলা, ৯টি থানা, ৩টি পৌরসভা, ৩৮টি ইউনিয়ন, ১২১টি মৌজা, ১৩৮৮টি গ্রাম ও ১টি সংসদীয় আসন আছে। উপজেলাগুলো হল- দীঘিনালা, পানছড়ি, মাটিরাঙ্গা, গুইমারা, মানিকছড়ি, মহালছড়ি, লক্ষ্মীছড়ি, রামগড় ও খাগড়াছড়ি সদর।

খাগড়াছড়ি একটি নদীর নাম। নদীর পাড়ে খাগড়া বন থাকায় পরবর্তী কালে তা পরিষ্কার করে জনবসতি গড়ে উঠে, ফলে তখন থেকেই এটি খাগড়াছড়ি নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৮৬০ সালের ২০ জুন রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য অঞ্চলকে নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা সৃষ্টি হয়। জেলা সৃষ্টির পূর্বে এর নাম ছিল কার্পাস মহল। পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা থেকে ১৯৮১ সালে বান্দরবান এবং ১৯৮৩ সালে খাগড়াছড়ি পৃথক জেলা সৃষ্টি করা হয়।

 

দর্শনীয় স্থান দর্শনীয় স্থান

  • আলুটিলা গুহা
  • হ্যালিপেড
  • রিসাং ঝর্ণা
  • তৈদুছড়া ঝর্ণা
  • পাবলাখালি বন্যপ্রাণী অভয়াশ্রম
  • কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ
  • রামগড় লেক ও ঝুলন্ত ব্রিজ,
  • রাইফেলস স্মৃতি স্তম্ভ (রামগড়),
  • জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক (ঝুলন্ত ব্রীজ)
  • মং রাজবাড়ি
  • গুইমারা
  • পুরাতন চা বাগান
  • দেবতা পুকুর
  • সিন্ধুকছড়ি পুকুর
  • বৌদ্ধ মন্দির
  • রামগড় জঙ্গল
  • রামগড় পাহাড় ও টিলা
  • লক্ষীছড়ি জলপ্রপাত
  • স্বার্থক
  • সাপমারা রিসাং ঝর্ণা
  • পানছড়ি রাবার ড্রাম
  • খাগড়াছড়ি গেইট
  • শিবছড়ি ঝর্ণা
  • নুনছড়ি দেবতা পুকুর
  • পানছড়ি অরণ্য কুঠির
  • ঐতিহাসিক লোগাং ধুদুকছড়া
  • শুকনাছড়ি রহস্যে ঘেরা মন্দির
  • দীঘিনালা শিবছড়ি পাহাড়
  • জেলা সদরে পাহাড়ী কৃষি গবেষণা কেন্দ্র
  • সর্বোচ্চ বৌদ্ধমূর্তি সম্বলিত পানছড়ি অরণ্য কুটির
  • আলুটিলা আলোক ধাতু চৈত্য বৌদ্ধ বিহার
  • হাতিমাথা পাহাড়: পাহাড়িরা একে এ্যাডোশিরা মোন বলে
  • দীঘিনালায় উপজাতীয়দের সংস্কৃতিসমৃদ্ধ মানিক্যাদীঘি
  • মাটিরাঙ্গায় শত সহস্র বছরের পুরনো মায়ের মমতা ও মাতৃত্ববোধের অপরূপ দৃশ্য বটতলী
  • শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মানিকছড়ি মং রাজবাড়ি ও দৃষ্টি নন্দন কর্নেলের বাগান
  • মহালছড়িতে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ বীরউত্তম ক্যাপ্টেন আফতাবুল কাদেরের শাহাদাত বরণের স্থান ও রামগড়ে সমাধিস্থল,
  • ঝর্ণা টিলায় মনোরম পাহাড়ী ঝর্ণা এবং প্রায় ১৬ শ’ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ভগবান টিলা
  • রামগড়ে বিডিআর’র এর জন্মস্থান ও প্রথম সদর দফতর
  • কৃত্তিম পর্যটন লেক ঝুলন্ত সেতু, বনবীথি মৎস্য লেক ও বাগান
  • চা বাগান পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় স্থান।

 

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র

খাগড়াছড়ি শহরের প্রবেশ পথে পড়বে আলুটিলা। জেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। প্রায় হাজার ফুট উঁচু এ ভূ-নন্দন বিন্দুটি বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন স্পট। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন, পার্বত্য জেলা পরিষদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নবোর্ডের উদ্যোগে আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের বসার জন্য পাকা বেঞ্চ, বিশ্রামের জন্য পাকা ছাউনি, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার করা হয়েছে। টিলার মাথায় দাঁড়ালে শহর, চেঙ্গী নদীর প্রবাহ ও মেঘের কারুকাজ মনকে মুগ্ধতায় ভরিয়ে তোলে। চোখে পড়ে ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়ের বুকে সর্পিল রাস্তা। জুম চাষীদের ছোট ছোট মাচাং ঘর। সড়ক ও জনপথ বিভাগের চমৎকার ডাক বাংলো রয়েছে এখানে।

আলুটিলার রহস্যময় গুহা

গা ছমছম করা অনুভূতি নিয়ে পাহাড়ি সুড়ঙ্গ পথ বেয়ে পাতালে নামার কল্পনা আলুটিলায় বাস্তব রূপ নেয়। এখানে রয়েছে বিখ্যাত একটি গুহা ও সুড়ঙ্গ। পাহাড়ি পিচ্ছিল পথ বেয়ে গুহার মুখ পর্যন্ত যেতে দর্শনার্থীদের এক সময় কষ্ট হলেও এখন জেলা পরিষদের অর্থায়নে পাকা সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের চূড়া থেকে ২৬৬টি সিঁড়ি বেয়ে নামলেই গুহামুখ। সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮২ ফুট। মশাল নিয়ে ঢুকতে হয়। গুহার সৌন্দর্য ও হাজার হজার বাদুড় ঝুলে থাকার দৃশ্যও চোখে পড়ার মতো। পাহাড় কেটে নিপুণ কারিগররা যেন নিখুঁত এ গুহাটি তৈরি করেছে। অন্য প্রান্ত দিয়ে বের হয়ে হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে নিজেকে ভাবতে পারেন দুঃসাহসিক অভিযাত্রী।

রিছাং ঝর্ণা

আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্র থেকে কিছুটা দূরেই রিছাং ঝর্ণা। শিরশির ছন্দে হিম শীতল ঝর্ণার বহমান স্বচ্ছ পানি যে কাউকেই কাছে টানবে। এর জন্য মূল সড়ক থেকে কিছুটা পথ পায়ে হেঁটে যেতে হবে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবেশ মুখে একটি গেটসহ পর্যটকদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে বেশ কটি গোল ঘর। নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে পুলিশ পাহারা। আর কিছু উন্নয়ন প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে।

হাজাছড়া ঝর্ণা

দীঘিনালা-বাঘাইহাট সড়ক থেকে মাত্র ১শ’ গজ ভিতরে হাজাছড়া ঝর্ণা। হাজাছড়া আবিষ্কার হয় ২০১১ সালে। যারা সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাবেন, ফেরার পথে হাজাছড়া ঝর্ণার শীতল পানির ছোঁয়া নিতে ভুলবেন না।

তোয়ারি মাইরাং

ত্রিপুরা শব্দ তোয়ারি মাইরাংয়ের বাংলা অর্থ পানির কূপ। ঝর্ণাটি দীঘিনালা বোয়ালখালীতে অবস্থিত। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের ভৈরফা ব্রিজ থেকে কিছুটা ভেতরে গেলে ঝর্ণাটির দেখা মিলবে।

কাশিং তৈ কলাই ঝর্ণা

‘কাশিং তৈ কলাই’ এর অর্থ কচ্ছপ পড়ে। স্থানীয় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মতে, এক সময় এ ঝর্ণার পানির সঙ্গে কচ্ছপ পড়ত। সে থেকে এর নাম ‘কাশিং তৈ কলাই’। এটি দীঘিনালা উপজেলার সীমানা পাড়ায় অবস্থিত। খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়ক থেকে মাত্র আধা কিলোমিটারের পথ।

দুই মুড়া ঝর্ণা

দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নে অবস্থিত। সড়ক ও পায়ে হাটা পথ মিলে ৫ কিলোমিটার।

দেবতা পুকুর

জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে খাগড়াছড়ি-মহালছড়ি সড়কের কোল ঘেঁষে মাইসছড়ির নুনছড়ি মৌজার আলুটিলা পর্বতশ্রেণী হতে সৃষ্ট ছোট্ট নদী নুনছড়ি। নুনছড়ির সমতল ভূমি হতে প্রায় ৭শ’ ফুট উপরে পাহাড়ের চূড়ায় দেবতা পুকুর। ৫ একর আয়তনের পুকুরটির স্বচ্ছ জলরাশি পর্যটকদের উদাসীন করে তোলে। পুকুরের চারিদিকে ঘন সবুজ বনরাজি। কথিত আছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জলতৃষ্ণা নিবারণের জন্য জলদেবতা পুকুরটি খনন করেন। পুকুরের পানিকে স্থানীয় পাহাড়িরা দেবতার আশীর্বাদ বলে মনে করেন। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে অজস্র নারী-পুরুষ পূন্য লাভের আশায় দেবতা পুকুর দর্শনে আসেন।

হেরিটেজ পার্ক

চেঙ্গী নদীর কোলে জেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উঁচু পাহাড়ে অবস্থিত হেরিটেজ পার্ক ইতিমধ্যে পর্যটন কেন্দ্রের তালিকায় নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে। পর্যটন মোটেলের বিপরীতে নান্দনিক হেরিটেজ পার্কটির অবস্থান। এখানকার প্রকৃতি যেন ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়। সকাল, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যায় বসে রঙের মেলা। আর পাহাড় ঘেরা প্রকৃতি চাঁদনী রাতের দৃশ্যপটে এনে দেয় ভিন্ন মাত্রা। ১০ একর ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত হেরিটেজ পার্কে সংবাদকর্মীদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ‘মিডিয়া সেন্টার’।

ভগবান টিলা

মাটিরাঙ্গা উপজেলা থেকে সোজা উত্তরে ভারতের সীমান্তবর্তী ভগবান টিলা। জেলা সদর থেকে উত্তর পশ্চিমে এর কৌণিক দূরত্ব আনুমানিক ৮৫ কিলোমিটার। সবুজের বুক চিরে আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে বিস্ময় বাড়তে থাকবে। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ছয়শ’ ফুট উঁচুতে অবস্থিত এ টিলা সম্পর্কে স্থানীয়দের ধারণা, এ টিলার উপরে দাঁড়িয়ে ডাক দিলে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা শুনতে পান। আর এ কারণেই এ টিলার নামকরণ ভগবান টিলা। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর একটি আউট পোস্ট রয়েছে এখানে।

রামগড় চা বাগান

রামগড় সীমান্ত ঘেঁষে জেলায় প্রবশের সম্মুখভাগে খাগড়াছড়ি-ফেনী আঞ্চলিক মহাসড়কের-সড়কের দুইধারে চোখ জুড়ানো চা বাগান। যা খাগড়াছড়ির পর্যটনকে করেছে স্বয়ংসম্পূর্ণ। যেন ভ্রমণপিপাসুদের স্বাগত জানাতে সদা প্রস্তুত সবুজ গালিচা।

রামগড় লেক

জেলা সদর হতে ৫০ কিমি উত্তর-পশ্চিমে খাগড়াছড়ির প্রবেশদ্বার রামগড় উপজেলা। উপজেলা পরিষদের সামনে ইংরেজি অর ডব্লিউয়ের অনুরূপ প্রায় ২৫০ মিটার লম্বা একটি হ্রদ। এতে রয়েছে ছোট-বড় বেশ কটি প্রমোদ তরী। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরিকল্পনায় গড়ে তোলা রামগড় পর্যটন লেকটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। চারপাশ বাঁধানো লেকটি রেলিং ঘেরা ও বাহারি সাজে সজ্জিত। মাঝখানে রয়েছে সুদৃশ্য ঝুলন্ত সেতু। রয়েছে সুন্দর বাগান, সবুজ ঘাস, আধুনিক লাইটিং, শান বাঁধানো সিঁড়ি। দুই তীরের উদ্যানে রয়েছে দেশি-বিদেশি গাছপালা। দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে ১২টি শেড। এ ছাড়া স্মৃতিস্তম্ভ, শহীদ মিনার ভ্রমণের আনন্দ বাড়িয়ে দেবে।

মানিকছড়ি রাজবাড়ী

খাগড়াছড়ি-ঢাকা সড়ক হয়ে জেলার প্রবেশমুখ মানিকছড়ি উপজেলা সদরে রয়েছে মানিকছড়ি রাজবাড়ী। রাজবাড়ীতে রয়েছে মংসার্কেল চিফ (মংরাজা) এর রাজত্বকালীন স্থাপত্য। রাজার সিংহাসন, মূল্যবান অস্ত্রশস্ত্রসহ প্রত্নতাত্ত্বিক অনেক স্মৃতি বিজড়িত এ রাজবাড়ী।

শতায়ু বটগাছ

মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদরের খুব কাছাকাছি আলুটিলা-বটতলী এলাকায় এ শতবর্ষী বটবৃক্ষটি ইতিহাসের সাক্ষী। ৫ একরের অধিক ভূমির উপরে এ গাছটি হাজারো পর্যটক দারুণ আকর্ষণ করে। মূল বটগাছটি থেকে নেমে আসা ডালপালা ও ঝুরি মাটিতে মিশে এক একটি নতুন বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। বটগাছটিকে ঘিরে আছে নানা কাহিনী। যেমন এটি রোগমুক্তির প্রতীক। মাটিরাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিমি উত্তরে অবস্থিত এ বটবৃক্ষের নামানুসারেই গড়ে উঠেছে বটতলী বাজার। গাছটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে স্কুল, মাদ্রাসা ও বাজার।

শিবছড়ি পাহাড়

দীঘিনালা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৬ কিমি দূরে দেওয়ানপাড়ায় অবস্থিত শিবছড়ি পাহাড়। পাহাড়ী ছড়া, নালা ও গভীর অরণ্য পেরিয়ে বোয়ালখালী নদীর পাশ ঘেঁষে সুউচ্চ পাহাড়ি ঝর্ণা ও সৌন্দর্য্যমণ্ডিত পাথরের রূপ পর্যটকদের আকৃষ্ট করবেই।

 

যাতায়াত

ঢাকা হতে খাগড়াছড়ির দূরত্ব ৩১৬ কিমি ও চট্টগ্রাম হতে ১০৯ কিমি। রাজধানী ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আরামদায়ক বাস ছাড়ে প্রতিদিন কমপক্ষে ১০-১৫টি। ঢাকার কমলাপুর, সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল, কলাবাগান থেকে সরাসরি বাস রয়েছে খাগড়াছড়িতে। উপকূল সেন্টমার্টিনের এসি বাস, এস আলম, সৌদিয়া, শান্তি পরিবহন, ঈগল ও শ্যামলী পরিবহনের যে কোনো একটি বেছে নিতে পারেন। নন-এসিতে গুণতে হবে ৫০০-৫৫০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে আসতে হলে অক্সিজেন অথবা কদমতলী বিআরটিসি বাস টার্মিনাল যেতে হবে। অক্সিজেন থেকে রয়েছে শান্তি পরিবহন ও লোকাল বাস এবং কদমতলী থেকে বিআরটিসি। চট্টগ্রাম থেকে আসতে ১৮০-২২০ টাকা গুণতে হবে।

 

রাত্রী যাপন

শহরের প্রবেশমুখে চেঙ্গী নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত পর্যটন মোটেলের ডবল রুম নন-এসি ১০৫০ টাকা, ডবল এসি রুম ১৫০০ টাকা, ভিআইপি স্যুইট ২৫০০ টাকা। এছাড়াও রয়েছে জেলা সদরের মিলনপুরে হোটেল গাইরিং ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হোটেল ইকোছড়ি ইন। সেখানে থাকা-খাওয়ার সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। খাগড়াছড়ি বাজার এলাকার হোটেল আল-মাসুদ, হোটেল লবিয়ত, হোটেল ফোর স্টারসহ অনেকগুলো হোটেলে থাকতে পারবেন সুলভে। কয়েকটি হোটেলের নম্বর দেয়া হলো। খোঁজ খবর নিয়ে যাবেন-

  • পর্যটন মোটেলঃ ০৩৭১-৬২০৮৪ ও ৬২০৮৫
  • হোটেল শৌল্য সুবর্ণঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬
  • থ্রি ষ্টার: ০৩৭১-৬২০৫৭
  • ফোর ষ্টারঃ ০৩৭১-৬২২৪০
  • উপহারঃ ০৩৭১-৬১৯৮০
  • হোটেল নিলয়ঃ ০১৫৫৬-৭৭২২০৬
  • জিরান হোটেলঃ ০৩৭১-৬১০৭১
  • হোটেল লিবয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০
  • চৌধুরী বাডিং: ০৩৭১-৬১১৭৬

 

দৃষ্টি আকর্ষনঃ যেকোন সমস্যা কিংবা তথ্যের প্রয়োজনে কল দিয়ে যোগাযোগ করুন।

  • ৩৩৩- জাতীয় তথ্য সেবা (সরকারি-বেসরকারি সকল তথ্য সেবা)
  • ৯৯৯- জরুরী সেবা (পুলিশ, এম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিস)

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!