খুলনা

খুলনা

ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার খুলনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের রূপসা ও ভৈরব নদীর তীরে অবস্থিত। ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পরে বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। খুলনা জেলা এবং খুলনা বিভাগের সদর দপ্তর এই খুলনা শহরে অবস্থিত। দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর মংলা সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। এছাড়া খুলনা শিল্প ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় খুলনাকে শিল্প নগরী হিসেবে ডাকা হয়। এখানে একাধিক পাটকল, দেশের একমাত্র নিউজপ্রিন্ট এবং হার্ডবোর্ড কারখানা, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত একমাত্র দেয়াশলাই কারখানা (দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি পরে ঢাকা ম্যাচ ফ্যাক্টরি), অক্সিজেন কোম্পানী, জাহাজ নির্মান প্রতিষ্ঠান (শিপ ইয়ার্ড) অবস্থিত।

 খুলনার উত্তরে যশোর ও নড়াইল জেলা, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে বাগেরহাট জেলা, পশ্চিমে সাতক্ষীরা জেলা।এ জেলার প্রতিষ্ঠাকাল- ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দ, আয়তন- ৪৩৯৪.৪৬ বর্গকিলোমিটার, উপজেলা- ০৯ টি (রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া, ডুমুরিয়া, ফুলতলা, বটিয়াঘাটা, পাইকগাছা, দাকোপ, কয়রা), থানা- ০৫ টি, ইউনিয়ন-৬৮টি, হাট-বাজার-২৬১ টি, মহল্লা- ১৮৪টি, পৌরসভা- ০২ টি, মৌজা- ৭৪৭টি, গ্রাম- ১১০৬টি।

লোকসংস্কৃতি জারি, সারি, কীর্তন, গাজীর গান, হালুই গান, মনসার ভাসান, ভাটি পূজার গান উল্লেখযোগ্য। কাবাডি, গোল্লললাছুট, হাডুডু, ঘোড়দৌড়, কানামাছি, লাঠিখেলা, কুস্তি, ডাংগুটি, নৌকাবাইচ, বাঘবন্দি, জোড়-বিজোড় প্রভৃতি খেলা এ অঞ্চলে এখনও প্রচলিত। বিভিন্ন নাট্যগোষ্ঠীর নাট্যচর্চাও এখানে পরিলক্ষিত হয়। প্রধান নদীপশুর, ভদ্রা, ভৈরব, রূপসা, শিবসা, কাজীবাছা, কপোতাক্ষ,আতাই, শোলমারী এবং সুতারখালী।

খুলনার দর্শনীয় স্থান সমূহ

খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, খানজাহান আলী সেতু, জাহানাবাদ বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও শিশু পার্ক, শহীদ হাদিস পার্ক, জাতিসংঘ পার্ক, রাজা ভরতের “ভরত ভায়না” ভায়না,যশোর, গল্লামারী লিনিয়ার পার্ক, কবি কৃষ্ণ চন্দ্র ইনস্টিটিউট, দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্স, গল্লামারী বধ্যভূমি ও স্মৃতিসৌধ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের সমাধি, সোনাডাঙ্গা সোলার পার্ক, সুন্দরবন, মিস্টার চার্লির কুঠিবাড়ি, পিঠাভোগ, রাড়ুলী, সেনহাটি, বকুলতলা, শিরোমণি, চুকনগর, গল্লামারী, এরশাদ শিকদারের বাড়ি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, কুয়েট, বিএল কলেজ, খানজাহান আলী কর্তৃক খননকৃত বড় দীঘি, মহিম দাশের বাড়ি, খলিশপুর সত্য আশ্রম বেশ জনপ্রিয়।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

খান জাহান আলী (রঃ), বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী – চর্যাপদের আবিষ্কর্তা, নাট্যকার শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত, কবি কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার, নকশাল আন্দোলন সংঘটক সুশীতল রায় চৌধুরী, বিপ্লবী ইন্দুভূষণ রায়, সাহিত্যিক আনিস সিদ্দীকী, ঔপন্যাসিক কাজী আকরাম হোসেন, মৃণালিনী দেবী (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সহধর্মিনী), চিত্রনায়িকা মৌসুমী, চিত্রনায়িকা পপি, ক্রিকেটার শেখ সালাহউদ্দিন, ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক, রুমানা আহমেদ একজন বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার, জাহানারা আলম একজন বাংলাদেশী মহিলা ক্রিকেটার মনোহর মৌলি বিশ্বাস, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বাঙালি সাহিত্যিক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান মিরাজ ক্রিকেটার।

দর্শনীয় স্থান

সুন্দরবন

জীববৈচিত্রে সমৃদ্ধ সুন্দরবনকে জীব ও উদ্ভিদ জাদুঘর বললেও কম বলা হয়ে যায়! সুন্দরবনের ১,৮৭৪ বর্গকিলোমিটার জুড়ে রয়েছে নদীনালা ও বিল মিলিয়ে জলাকীর্ণ অঞ্চল। রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বিচিত্র নানান ধরণের পাখি, চিত্রা হরিণ, কুমির ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে সুন্দরবন পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রায় ৩৫০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ১২০ প্রজাতির মাছ, ২৭০ প্রাজাতির পাখি, ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ৩৫ সরীসৃপ এবং ৮ টি উভচর প্রাণী। সুন্দরী বৃক্ষের নামানুসারে এই বনের নাম সুন্দরবন রাখা হয়। সুন্দরবনের ভেতরে যেতে হলে নৌপথই একমাত্র উপায়। শীতকাল সুন্দরবন ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড

খুলনার মংলা উপজেলার দুবলার চর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হিরণ পয়েন্ট ও দুবলার চরের মাঝখানে বঙ্গোপসাগরে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড বা বঙ্গবন্ধু দ্বীপ অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় দুই মিটার উচ্চতায় অবস্থিত চরটির আয়তন প্রায় ১০ বর্গ কিলোমিটার। আশেপাশের স্থানীয় জেলেরা মাছ ধরতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড খুঁজে পেলেও চর আবিষ্কারের সুনিদৃষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ১৯৯২ সালে মালেক ফরাজী নামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এক ভক্ত দুজন সাথী নিয়ে এই দ্বীপে নামেন এবং পরবর্তীতে তিনি সেখানে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড নামের একটি সাইন বোর্ড লাগিয়ে আসেন। সেই থেকে এর নাম হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড।

এ সমুদ্র সৈকতে সূ্র্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। দ্বীপটি সবুজ শ্যামল ম্যানগ্রোভ ফরেষ্ট, একপাশে কাশবন। এ দ্বীপে কেওড়া, গেওয়া, পশুর, গরান গাছ ও বিভিন্ন লোনা পানির ফার্ণ জাতীয় লতাগুল্ম আছে। দ্বীপটি জীব বৈচিত্র্যময়। লাল কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ও কচ্ছপ আছে এ দ্বীপে। স্বচ্ছ নীল জলে ঘুরে বেড়ায় সামুদ্রিক মাছ। সৈকতে বসে মাঝে মধ্যে দেখা যায় ডলফিনের খেলা। দ্বীপে আছে অগনিত গাঙচিল, বালিহাঁস। বালিহাঁস ডিমে তা দিচ্ছে এমন দৃশ্যে চোখ জুড়িয়ে দিবে আপনার। পুরো আইল্যান্ড জুড়ে লাল কাঁকড়ার বিচরণ। ঢাকার সায়দাবাদ থেকে মংলাগামী সরাসরি বেস কিছু বাস সার্ভিস চালু আছে। মংলা বন্দর থেকে বঙ্গবন্ধু আইল্যান্ড যাওয়ার জন্যে ট্রলার ভাড়া করতে পারবেন। অথবা মংলা থেকে হিরণ পয়েন্ট যেয়ে ওখান থেকে ট্রলার নিতে পারেন।

শহীদ হাদিস পার্ক

এটি বিভাগীয় শহর খুলনার বাবুখান রোডে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক পার্ক। যা ১৮৮৪ সালে ‘খুলনা মিউনিসিপ্যাল পার্ক’ প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ হাদিসুর রহমান বাবুর নামে নামকরণ করা হয়। শহীদ হাদিস পার্কে ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের অনুকরণে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়েছে। হাদিস পার্কে রয়েছে বিশাল লেক। লেকের উপর শহীদ মিনার ও পানির ফোয়ারা তৈরী করা হয়েছে। এছাড়াও শহীদ হাদিস পার্কে নির্মিত পর্যবেক্ষন টাওয়ার থেকে এক নজরে খুলনা শহরটাকে দেখা যায়। খুলনা শহরে এসে রিকশা কিংবা ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা দিয়ে সহজে হাদিস পার্কে আসতে পারবেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুরবাড়ি

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূণ্য স্মৃতি বিজড়িত স্থান ফুল, ফল আর বিচিত্র গাছ গাছালিতে ঠাসাসৌম্য-শান্তগ্রাম দক্ষিণডিহি। খুলনা শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ফুলতলা উপজেলা। উপজেলা সদর থেকে তিন কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে গেলে দক্ষিণডিহি গ্রাম। গ্রামের ঠিক মধ্য খানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্র-মৃণালিনীর স্মৃতিধন্য একটি দোতলা ভবন। এটাই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ি। এখানে এলে দেখবেন, বাংলা সাহিত্যের প্রবাদপুরুষ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আবক্ষ ভাস্কর্য, কবিপত্নীর আবক্ষ ভাষ্কর্য, শ্বশুর বাড়ির দ্বিতল ভবন। এছাড়া রয়েছে সবুজ-শ্যামল ঘন বাগান, পান-বরজ ও নার্সারি।

কলকাতার জোড়া সাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ ডিহির সম্পর্ক নিবিড়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাসারদা সুন্দরী দেবী জন্ম গ্রহণ করে ছিলেন এই দক্ষিণডিহি গ্রামে। রবীন্দ্রনাথের কাকি ত্রিপুরা সুন্দরী দেবী এই গ্রামেরই মেয়ে। রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী দক্ষিণ ডিহিরই মেয়ে। ২২ বছর বয়সে কবির বিবাহ হয় দক্ষিনডিহি গ্রামের বেনীমাধব রায় চৌধুরীর মেয়ে ভবতারিনী ওরফে মৃণালিনী দেবীর সাথে।  যৌবনে কবি কয়েক বার তার মায়ের সঙ্গে দক্ষিণডিহি গ্রামের মামা বাড়িতে এসেছিলেন। ২৫শে বৈশাখ ও ২২শে শ্রাবণে এখানে নানা আয়োজনে রবীন্দ্রজয়ন্তী ও কবিপ্রয়াণ দিবস পালন করা হয়।

করমজল

করমজল পর্যটন কেন্দ্রটি সুন্দরবনে পশুর নদীর তীরে অবস্থিত। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ৩০ হেক্টর জমির উপর পর্যটন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। যদি একদিনে সুন্দরবন ভ্রমণ স্বাদ নিতে চান তবে করমজল হচ্ছে সবচেয়ে উপযুক্ত জায়গা। প্রকৃতির শোভা বাড়াতে এখানে রয়েছে কুমির, হরিণ, রেসাস বানরসহ নানা প্রজাতির পশুপাখি। এছাড়াও নির্মিত হয়েছে কাঠের ট্রেইল, টাওয়ার এবং জেলেদের মাছ ধরার কর্মজজ্ঞ হচ্ছে অতিরিক্ত প্রাপ্তি। করমজলে বাংলাদেশের একমাত্র কুমিরের প্রাকৃতিক প্রজনন কেন্দ্র অবস্থিত। দাকোপ উপজেলা সদর থেকে করমজলের দুরত্ব ৩০ কি:মি:, জেলা শহর থেকে ৫৫ কি:মি:। এখানে নৌপথ ও সড়ক পথে সহজেই ভ্রমন করা যায়।

কটকা সমুদ্র সৈকত

সুন্দরবনের দক্ষিন পূর্বকোনে অবস্থিত কটকা সমুদ্র সৈকত যা সুন্দরবনের আকর্ষনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। কটকা মংলা বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং সুন্দরবন পূর্ব অভয়ান্যের মধ্যে প্রধান কেন্দ্র। খুলনা লঞ্চঘাট খেকে লঞ্চযোগে কটকা যাওয়া যাবে। রাতে ও সকালে লঞ্চ রয়েছে।

সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিন্তু বনে বাঘের দেখা মেলা যেমন ভার, তেমনি ঝুঁকিপূর্ণও বটে। তবে বাঘের দেখা পাওয়া ও নিরাপদে থাকা এ দুই-ই সম্ভব সুন্দরবনের চমৎকার পর্যটন কেন্দ্র কটকা অভয়ারণ্য থেকে। এখানে প্রায়ই দেখা মেলে সুন্দরবনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের। এ ছাড়া মনোরম চিত্রা হরিণের দল, বিভিন্ন জাতের পাখি, শান্ত প্রকৃতি এবং বিভিন্ন বন্য প্রাণীর উপস্থিতির কারণে পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় কটকা অভয়ারণ্য সব সময়ই আলাদা স্থান দখল করে আছে। সুন্দরবন সড়ক পথে: খুলনা খেকে বাসযোগে কয়রা হয়ে সুন্দরবন যাওয়া যায়।

শিরোমণি স্মৃতিসৌধ খুলনা থেকে বাসে ফুলতলা যাবার পথে শিরোমনি বাসস্ট্যান্ডে নামতে হয়। পরে স্থানীয় হালকা যানবাহনে করে যাওয়া যায়

গল্লামারী বধ্যভূমি খুলনা শহরের সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্সা কিংবা অটোরিক্সায় যাওয়া যায়।

রূপসা নদীর তীরে ৭ বীরশ্রেষ্ঠর মধ্যে অন্যতম রুহুল আমিন খুলনা থেকে বাসে রূপসা উপজেলায় পৌঁছে স্থানীয় যানবাহনে বাগমারা গ্রামে যাওয়া যায়।

কবি কৃষ্ণচন্দ্র ইনস্টিটিউট খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়ন বাজারের প্রাণকেন্দ্রে কবি অবস্থান। খুলনা জেলা থেকে সড়ক পথ বা নদী পথে সেনহাটি বাজার আসা যায়। এছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা থেকে সড়ক পথে ভ্যান/ইজিবাইক যোগে সেনহাটি বাজারে আসা যায়।

বকুলতলা (জেলা প্রশাসকের বাংলো) খুলনা শহরে রূপসা নদীর তীরে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বাংলো। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উদারতায় যে কোন সময় পরিদর্শনের অনুমতি পাওয়া যায়।

স্যার পি.সি. রায়ের বাড়ি খুলনা থেকে বাসে পাইকগাছা যাবার পথে, রাড়ুলী পাইকগাছা সংযোগ সড়কে নেমে, সেখান থেকে রিক্সা কিংবা অটোরিক্সায় যাওয়া যায়

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পূর্বপুরুষের বসতভিটা (পিঠাভোগ) খুলনা থেকে বাসে রূপসা উপজেলায় গিয়ে সেখান থেকে স্থানীয় যানবাহন পাওয়া যায়।

বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্বশুর বাড়ি, দক্ষিণডিহি খুলনা থেকে বাসে ফুলতলা উপজেলায় গিয়ে, সেখান থেকে অটোরিক্সা কিংবা স্থানীয় বাহনে যাওয়া যায়

সুন্দরবনের দুবলার চর নদী পথে: খুলনা লঞ্চঘাট খেকে লঞ্চযোগে সুন্দরবনের দুবলার চর যাওয়া যাবে। রাতে ও সকালে লঞ্চ রয়েছে।

সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট নদী পথে: খুলনা লঞ্চঘাট খেকে লঞ্চযোগে সুন্দরবনের হিরণপয়েন্ট যাওয়া যাবে। রাতে ও সকালে লঞ্চ রয়েছে।

রূপসার পাড়ে খান জাহান আলী সেতু খুলনা শহর থেকে ইজিবাইক বা রিক্সায় খানজাহান আলী সেতু-তে যা্ওয়া যায়

চুকনগর বদ্ধভূমি খুলনা শহর থেকে বাস বা মাহেন্দ্র-তে চুকনগর বদ্ধভূমি যাওয়া যায়।

 

যাতায়াত

রাজধানী ঢাকা থেকে খুলনা শহরের দূরত্ব সড়কপথে ৩৩৩কি.মি.। রাজধানী সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সংগে স্থলপথ, আকাশপথ, জলপথ ব্যবহার করা যায়।

কাউন্টার

সায়েদাবাদ- ০১৭৪৬৪৮৭১৮১, ০১৭১৯৮১৩০০৪, ০১৭১২২৮১৬০১, মিরপুর-১০)    -০১৭২৫১২১০০৯

বাইপাল ০১৭১৩২৬২৮৪৯, আব্দুল্লাহপুর  ০২-৮৯১২১৭৪,  ০১৭১১৩৯৩৩৯৬,  ০১৭১১২০৭৬৮৬, নর্দা-বারিধারা    ০২-৯৮৮৮৮৬১

গন্তব্য ভাড়া

খুলনা ৪০০/-, রায়েন্দা ৫২০/-, সোনাডাংগা ৪২০/-

 

সুন্দরবন সার্ভিস প্রা: লি:

ঢাকাস্থ বুকিং অফিস

  • সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল। মোবাইল +৮৮-০১৬৭৫-৯৪৩৫৭৮
  • জনপথ পূর্বপাড় +৮৮-০১৮১৮-৫২৯০০৮, ০১৬৭২-৭৫৫৩৩৮
  • জনপথ মোড় পূর্বপাড় +৮৮-০১৭২০-২২০২৭২, ০১৯২০-২২২৫৭১
  • জনপথ মোড় পূর্বপাড় +৮৮-০১৭২০-২২০২৭২

 

গন্তব্য ভাড়া

মংলা-৩০০, ফকিরহাট-৩০০, খুলনা-৩০০

লঞ্চ পারাপার

খুলনা রুটের অনেক গাড়ী লঞ্চে যাত্রী পারাপার করে থাকে। লঞ্চে যাতায়াত করলে সময় ও অর্থ দুটোই কম লাগে।

ট্রেনে ভ্রমণ  

কমলাপুর রেল ষ্টেশন থেকে যমুনা সেতু হয়ে খুলনা ট্রেন যোগে ভ্রমণ করা যায়। এই রুটের ট্রেন গুলোর মধ্যে চিত্রা, তূর্ণা ও সুন্দরবন এক্সপ্রেস এর মধ্যে অন্যতম।

ট্রেনের নাম- সুন্দর বন এক্সপ্রেস

মোবাইল নম্বর:+৮৮- ০১৭১১-৬৯১৬১২, ০২-৯৩৩১৮২২

ভাড়া ৩৫০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা।

 

যাত্রা পথে পড়বে চোখে

ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, সাভার স্বৃতিসৌধ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, গোপালগঞ্জ, নড়াইল জেলার বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান চোখে পড়বে।

খাবার

ভোজনের দিক দিয়ে বেশ শৌখিন খুলনার মানুষ। সাধারণ রেসিপিগুলোতেও এমন সব উপাদান ব্যবহার করে তারা যা খাবারগুলোকে করে অনন্য স্বাদে পরিপূর্ণ। খুলনাকে বলা যায় চুইঝাল আর কাচ্চি বিরানির শহর। খুলনায় আছে এমন কিছু রেস্টুরেন্ট যেগুলো বাইরে থেকে একদম সাদামাটা মনে হলেও দুপুর বেলায় একদিন খেতে হলে আগে থেকেই ফোন করে যেতে হয়। কোথায় কোন খাবার মিলবে দেখে নেয়া যাক-

জিরো পয়েন্টের কামরুলের গরু আর খাসি

যারা খুলনার বাসিন্দা না, কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে এসেছেন খুলনায় তারা খুলনায় আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধব থেকে প্রথমেই যে হোটেলের নাম শুনবেন সেটা হলো জিরো পয়েন্টের কামরুল হোটেল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটু সামনে এগোলেই পড়বে জিরো পয়েন্ট। সেখানে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দিবে কামরুল হোটেলটা কোন দিকে।
কামরুলের চুইঝালের গরু আর খাসির ঐতিহ্য এতই জনপ্রিয় যে আশেপাশের দোকানগুলো খাঁ খাঁ করে দুপুরবেলায় যখন কামরুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় মানুষদের। গরু বা খাসির সাথে মিলবে এখানে ভাত। একবেলা খেতে খরচ পড়বে একশো থেকে একশো দশ টাকা।

বেজেরডাঙ্গার মুসলিমের গরু আর খাসি

বেজেরডাঙ্গার মুসলিম হোটেল সেরা নাকি জিরো পয়েন্টের কামরুল এই নিয়ে তর্ক এখন জমজমাট খুলনার প্রতিটি ভোজন রসিকদের মধ্যে। দেড় বা দুই বছর হলো ফুলতলা পার হয়ে বেজেরডাঙ্গার মুসলিম হোটেল খুলেছে। প্রথমবার যেবার যাই, মানুষের ভিড় এতই বেশি ছিল যে খাওয়াটাই হয়ে ওঠেনি সেবার। বেজেরডাঙ্গার গরু পুরো খুলনায় বিখ্যাত।

যারা গরু খান না, খাসিটা চেখে দেখতে পারেন। অনেক সুস্বাদু, মুসলিমের খাসিটা। ছোট ছোট পিস করা খাসির টুকরোর সাথে দেয়া হয় গোটা রসুন। একবেলা খেতে মোট খরচ পড়বে ১৫০ টাকার মতো। তবে এখানে অনেকগুলো মুসলিম হোটেল আছে, ঢোকার আগে জিজ্ঞেস করে নেবেন আসল মুসলিম কোনটা।

মেজবান বাড়ির সরিষা-খাসি
জিরো পয়েন্ট থেকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে আসতে হাতের ডান দিকে ছোট ছিমছাম একটা রেস্টুরেন্ট পড়বে, নাম মেজবান বাড়ি। যাদের কামরুলে খাওয়া শেষ তাদের পরের টার্গেট থাকে মেজবান বাড়ির সরিষা তেলে রান্না করা খাসির মাংস। মোটে চারটে টেবিলের এই রেস্টুরেন্ট ভোজনরসিক মানুষে থাকে পরিপূর্ণ। সবচেয়ে সুন্দর হলো মেজবানের খাবার পরিবেশনের ধরণটা। মাটির সুন্দর পালিশ করা পাত্রে পরিবেশন করা হবে ভাত, ডাল আর সরিষা খাসি। যতবার খুশি ততবার ভাত নেয়া যাবে এমন একটা প্যাকেজে সঙ্গে থাকে খাসি অথবা গরু, একটা ঠাণ্ডা পানীয় আর অফুরন্ত ডাল। সব মিলিয়ে খরচ পড়বে ১৮০ টাকা।

কাচ্চিঘরের কাচ্চি বিরিয়ানি
খুলনার কাচ্চি বিরিয়ানির ঐতিহ্য বহুদিন ধরে টিকিয়ে রাখা রেস্টুরেন্টের নাম কাচ্চিঘর। রয়েলের মোড়ে অবস্থিত এই রেস্টুরেন্টের ভেতরটা বেশ ভালো করে সাজানো। পরিবার-পরিজন নিয়ে কাচ্চি খাওয়ার শখ জাগলে চলে যেতে পারেন কাচ্চিঘরে। খুব সুন্দর আর যত্ন করে রান্না করা খাসির কাচ্চি বিরিয়ানির সাথে অতিরিক্ত আর্কষণ হিসেবে থাকে চাটনি, বোরহানি আর সেদ্ধ ডিম। এবং এই বোরহানি তারা পরিবেশন করবে একদম ফ্রিতে। ফ্রিতে পাওয়া জিনিসের গুণগত মান নিয়ে যাদের সন্দেহ আছে, তারা অর্ডার করতে পারেন কোমল পানীয়। সব মিলিয়ে প্রতিজনে খরচ পড়বে ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মতো।

মেগার কাচ্চি বিরিয়ানি
খুলনার নতুন রাস্তা থেকে রিক্সা নিয়ে একটু সামনের দিকে এগিয়ে গেলে হাতের বামপাশে পড়বে খুলনার বিখ্যাত কাচ্চির আস্তানা “মেগা বিরিয়ানি হাউজ”। আধুনিক ভোজন রসিকরা ভালো খাবারের সাথে ভালো পরিবেশও চায়। সেদিক থেকে মেগা বিরিয়ানির ভেতরের পরিবেশ ছোট কিন্তু  সুন্দর। এখানকার কাচ্চি বিরিয়ানি পরিমাণের দিক থেকে একজনের জন্য প্রচুর। কাচ্চিতে মসলা আলু, চাটনি আর ডিম তো আছেই। এখানকার বোরহানিটাও বেশ ভালো। খুলনা স্টেডিয়ামের পরের এলাকাগুলোতে এক সময়কার সবচেয়ে ভালো কাচ্চি বানানোর ঐতিহ্য ছিল মেগা বিরিয়ানি হাউজের। এখনো কাচ্চির গুণগত মান ধরে রেখেছে সগৌরবে। এখানে কাচ্চির মূল্য ১৩০ টাকা।

রাজকচুরীর রাজস্থানি খাসি
খাসিটা যদি হয় একটু ভিন্নধর্মী তাহলেই তো কথাই নেই। বলছি খুলনার দৌলতপুরের রাজস্থানি খাসির কথা। সাধারণ খাসির মাংসের চেয়ে একটু অন্যরকম খাসির মাংসের স্বাদ পাওয়া যাবে রাজকচুরীতে। গাজর-পোলাও এর সাথে পরিবেশন করা এই রাজস্থানি খাসির মাংসের চেহারা দেখেই ভোজনরসিক না হয়েও জিভে পানি এসে যাবে যে কারো।
এখানেও ব্যবহার করা হয় খাসির ঝোলের সাথে গোটা রসুন। তবে এই খাবারের একটাই ঝামেলা, পোলাওটা একটু কম দেয় তারা। যারা প্রথমবার রাজস্থানি খাসির স্বাদ নিচ্ছেন তাদের ব্যক্তিগতভাবে বলবো, চলে যান রাজকচুরীতে। মূল্য ১৬০ টাকা।

বাঁশ বাগানের খিচুড়ি-কলিজা-মুরগী ভুনা
অনেক তো গরু-খাসি খাওয়া, এবার একটু আবহমান বাংলার বাঙালিদের বৃষ্টিবাদলের দিনে প্রিয় খাবার খিচুড়ির দিকে আসা যাক। খুলনার মতো এত ভালো মানের ও দামে কম খিচুড়ি আর কোথাও আমি পাইনি। তবে সবসময়ই বিশেষ কিছু জায়গা আছেই যেখানে গেলে পাওয়া যাবে সবচেয়ে ভালো স্বাদ। তেমনই একটি রেস্টুরেন্ট বাঁশ-বাগান।
বাঁশ-বাগান নাম দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, খিচুড়ি-কলিজা আর মুরগী ভুনার যে আইটেম এখানে পাওয়া যায় তা চেখে দেখলে ভক্ত হয়ে যাবেন এটার। সোনাডাঙ্গা মজিদ সরণিতে গাজী মেডিকেলের একটু সামনে হাতের বামে গেলেই মিলবে বাঁশ-বাগান রেস্টুরেন্ট। খিচুড়ির দাম ৩০ টাকা, মুরগী ভুনা ৫০ টাকা আর কলিজা ভুনা ৬০ টাকা।

হানিফ কাকার ভর্তা হোটেল

সকালের নাস্তায় যারা ভাত খেতে পছন্দ করেন বা না করলেও নতুন কিছু চেখে দেখতে পছন্দ করেন তাদের জন্য খুলনার নতুন রাস্তার মোড়ে রয়েছে হানিফ কাকার ভর্তা হোটেল। সাধারণের চেয়ে সাধারণ এই হোটেলে কেবলমাত্র দুটি বড় টেবিল আছে, ইট দিয়ে বানানো হয়েছে বসার জায়গা। একদম রেললাইনের পাশেই ছোট বেড়ার ঘরমতন এই হানিফ কাকার ভর্তা হোটেল। প্রায় ২০ রকমের ভর্তা আর ভাত দিয়ে সকালটা শুরু করতে পারেন একটু অন্যরকম করে।
হোটেলের অবস্থা যেমনই থাকুক ভর্তার গুণগত মান নিয়ে কোনো প্রশ্ন করার উপায় নেই। সকাল সকাল গেলে আপনাকে সামনে রেখেই সেখানকার চাচী বানিয়ে দেবে চিংড়ি, আলু, পেঁপে, কালিজিরা, ডাল সহ আরো পনেরো রকমের ভর্তা। যতখুশি খাওয়া যাবে ভর্তা তবে প্রথমবার ভাতের জন্য ৩০ টাকা আর পরের প্রতি প্লেট অতিরিক্ত ভাতের জন্য খরচ হবে মাত্র ১০ টাকা।

নিউমার্কেটের দই-ফুচকা
ভারী খাবার-দাবার অনেক হলো, এখন একটু বিকালের নাস্তা কোথায় করা যায় সেটায় আসি। বিকালে খুলনার নিউমার্কেট আসলেই আপনার নাস্তার খোরাক হিসেবে পেয়ে যাবেন আশেপাশের অনেক দোকান, স্ট্রিট ফুডও আছে তাদের মধ্যে। তবে একটু স্বাস্থ্যকর আর মজাদার খাবার চেখে দেখতে চাইলে নিউমার্কেটের ১নং গেটের বাম পাশ ধরে এগোতে থাকলে একটা পল্লী-বাইকের মধ্যে দিল্লির লসসি, দই ফুচকা আরো অদ্ভুত সব খাবার বিক্রি করতে দেখা যায় একজনকে।
মোট চারটি খাবার বিক্রি করেন তিনি যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো লেগেছে দই ফুচকা। প্রচুর পরিমাণ দই দেয় ফুচকায়। এক প্লেটে ১০টা ফুচকা দেবে, প্রতি প্লেটের মূল্য মাত্র ৪০ টাকা।

ডাকবাংলা বাদাম-চা ও নিউমার্কেটের পেছনের দুধ-চা
ভারী খাবার-দাবার সারার পর আমার মতো প্রচুর মানুষের অভ্যেস একটুখানি চায়ের কাপে চুমুক দেয়া। খুলনার বিখ্যাত দুটি জায়গা ডাকবাংলা আর নিউমার্কেটেই পাওয়া যায় বিখ্যাত দুই ধরনের দুধ-চা। ডাকবাংলা ফেরীঘাটে যেখানে বাসস্ট্যান্ড আছে তার ঠিক সামনে কাপড়ের দোকানগুলোর পাশেই বেড়া আর কাঠের পুরনো বেঞ্চি সাজানো দোকানে বিক্রি করা হয় বাদাম-চা। প্রচুর পরিমাণ বাদামে ভরপুর এই চায়ে চুমুক দিলেই বোঝা যায় বাদামের গুণ কত। প্রতি কাপ চায়ের মূল্য ১০ টাকা।
আরেকটি বিখ্যাত চা পাওয়া যায় নিউমার্কেটের ঠিক পেছনে ভাই-ভাই টি স্টলে। রাস্তার ধারে পেতে দেয়া চেয়ার বা টুলে বসে বড় একটা মগে সেই দুধ-চায়ের স্বাদ জিভে লাগলেই বুঝে যাবেন সাধারণ চায়ের চেয়ে অনেকখানি আলাদা সে চা। দুধের সর দেয়া সেই চায়ের মূল্য ২০ টাকা।

আব্বাসের হোটেলের খাসির মাংস

খুলনার সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত খাবারের মধ্যে আব্বাসের হোটেলের এই খাসির মাংস বেশি জনপ্রিয়। খুব সুস্বাদু লাগে খাসির মাংস। খুলনা থেকে সাতক্ষীরা যাওয়ার পথে হাইওয়ের পাশেই চুকনগর নাম করে একটি জায়গা আছে। যেখানে এই আব্বাসের হোটেল অবস্থিত। এখানে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে অনেক মানুষ খাসির মাংস খেতে আসে। এরা খুবই মজাদার ভাবে খাসির মাংস রান্না করে।

কেউ আবার চুকনগরের খাসির মাংসও বলে। প্রতি পিস গোসের দাম ৭০ টাকা করে নেয়। তাই আপনি খুলনা আসলে চুকনগরে অবস্থিত আব্বাসের হোটেলের খাসির মাংস খেতে ভুল করবেন না।

গরুর দুধের সরের চা

খুলনা নিউ মার্কেটের পাশে প্রাক্তন ঝিনুক হলের পাশেই আপনি পাবেন এই বিখ্যাত গরুর দুধের সরের চা। যে চা এর স্বাদ অসাধারণ। এখানে প্রচুর মানুষ ভিড় করে এই চা এর জন্য। যা গরুর দুধের সর দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে। যার ফলে স্বাদটা একটু ব্যতিক্রমী হয়ে থাকে। শুধু নিউ মার্কেট নয়, এটি আপনি খুলনার সাত রাস্তার মোড়েও পাবেন।

মান্নানের চটপটি ফালুদা

খুলনার আরেকটি নাম করা খাবার হল মান্নানের চটপটি ও ফালুদা। খুলনার শহীদ হাদিস পার্কের বিপরীতে শঙ্খ মার্কেটের পাশেই এই মান্নান চটপটির দোকান। খুলনা যে কোন লোক জনই এক নামে চেনে এই দোকান। খুবই সুন্দর করে চটপটি ও ফালুদা বানায়। প্রতি প্লেটের দাম নেয় ৫০ টাকা।

খুলনায় এই ব্যক্তি চটপটি বিক্রি করেই চার তলা বাড়ি বানিয়েছে। চিন্তা করে দেখুন কত বিখ্যাত তার খাবার। তাই খুলনায় আসলে মিস করবেন না মান্নানের দোকানের চটপটি ও ফালুদা।

বিস্ট্রোসি এর ফাস্ট ফুড

খুলনা শহরের প্রান কেন্দ্রে রয়েলের মোড়ে ক্যাসল সালাম হোটেলের দো-তলায় রয়েছে এই বিস্ট্রো-সি। যদিও এখানে খাবারের দাম একটু বেশি। কিন্তু এখানের ফাস্ট ফুডের খাবার গুলো খুবই সুস্বাদু। বিশেষ করে এখানে অনেক ধনী ধনী লোকেরাই যাওয়া আসা করে। কারণ এখানে সকল খাবারের মূল্য বেশি। তবে এরা অনেক সুন্দর করে প্রতিটা খাবার রান্না করে থাকে।

প্রায় ফাস্ট ফুডের সকল খাবারই এখানে পাবেন আপনি। যদি খুলনায় আসেন তাহলে এখানে খেয়ে যাবেন অবশ্যই।

কাচ্চি বিরিয়ানি

খুলনার সাত রাস্তায় রয়েছে কাচ্চি ঘর নাম করে একটি বিরিয়ানির দোকান। যার নাম সবাই জানে। এখানের বিরিয়ানির স্বাদ খুবই জনপ্রিয়। প্রতিদিন অনেক মানুষের ভিড় থাকে এখানে। বেশি রাত হয়ে গেলে আপনি এখানে খাবার পাবেন না। কারণ নির্দিষ্ট টাইমের মধ্যেই খাবার শেষ হয়ে যায়। এখানে বিফ বিরিয়ানির সাথে চিকেন বিরিয়ানিও পাবেন।

টাকার পুরি

এই যুগে ১ টাকায় পুরি পাওয়া যায় সেটা শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন। কিন্তু খুলনার মিনা বাজারের পাশ দিয়ে ময়লা পোতার দিকে যে রোডটা গিয়েছে সেই রোদে পাবেন এই ১ টাকার পুরি। দাম কম হলেও স্বাদের দিক দিয়ে ফাস্ট ক্লাস।

হোটেল রয়েলের ফালুদা

খুলনার রয়েলের মোড়ে রয়েল হোটেলের ফালুদার রয়েছে অনেক ডাকনাম। খুবই সুন্দর ভাবে এখানে ফালুদা তৈরি করে। যা খেতে আপনার অনেক টেষ্ট লাগবে।

EFC এর  Fried Chicken

এটি পাওনিয়ার কলেজের পাশেই পাবেন। যার টেষ্ট অসাধারণ। খুলনার কমার্স কলেজের পাশেই পাওনিয়ার কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে কেউকে বললেই চিনিয়ে দেবে। তাই খুলনায় আসলে এখানের ফ্রাইড চিকেন মিস করবেন না।

জিরো পয়েন্টের গরুর মাংস

চুকনগরের খাসির মাংসের মত জিরো পয়েন্টের গরুর মাংসও খুবই বিখ্যাত। খুলনার গল্লামারি থেকে খুলনা ভার্সিটির পাশ দিয়ে যে রোড চলে গেছে তার ঠিক মাথায় জিরো পয়েন্ট। আপনি চাইলে গল্লামারি থেকে ভ্যানে বা অটোতে করে যেতে পারবেন। যেতে মাত্র ৫ টাকা খরচ হবে।

এখানে গরুর মাংসের টেষ্ট খুবই সুস্বাদু। এখানে চুঁই ঝালের গরুর মাংস রান্না করা হয়। শুধু গরু নয়, চুঁই ঝালের খাসির মাংসও পাবেন এখানে। প্রতি পিস মাংস এখানে ১০০ টাকা নেবে।

রাত্রী যাপন

সি এস এস রেষ্ট হাউজ ফোনঃ০৪১-৭২২৩৫, এলজিইডি রেষ্ট হাউজ ফোনঃ ৭২৩১৮৩

৭২২১৮৯কারিতাস রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭২২৯০৬বিআইডব্লিউটিসি রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭২৫৯৭৮

৭৩২৩৫৪ঢাকা ম্যাচ ইন্ডাঃ রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭২১৩৩৬খুলনা সিটি কর্পোরেশন রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭২০৪০৯

৮১০৬৪৩বাংলাদেশ ব্যাংক রেষ্ট হাউজফোনঃ ৮১৩৮০৫পানি উন্নয়ন বোর্ড-১

ফোনঃ ৭৬২৪০৮পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশনফোনঃ ৭৬১৮৫৪

বিআইডব্লিউটিসি রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭২১৫৩২

৭২৫৯৭৮প্লাটিনাম জুট মিলস লিঃ রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭৬০২৯৫

৭৬২৩৩৫ক্রিসেন্ট জুট মিলস লিঃ রেষ্ট হাউজফোনঃ ৭৬২২৩৭

৭৬০২৮৪খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস লিঃফোনঃ ৭৬২৫৪৭

৭৬০১৮৪গোয়ালপাড়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রফোনঃ ৭৬২৩১১

 

খুলনার হোটেল: খুলনাতে বেশ ভালো কিছু হোটেল গড়ে উঠেছে। এসব হোটেল থেকে বাছাই করা কিছু হোটেলের বিবরন নীচে দেয়া হলো। এখানে মূল্যও সংযোজন করা হলো। ফোনে কথা বললে ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে পারে। 

১. হোটেল রয়্যাল, কেডিএ এভিনিউ, খুলনা
ফোন: ০৪১-৭২১৬৩৮

স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল: ১২০০/- ++, স্ট্যান্ডার্ড টুইন: ২০০০/-++, স্ট্যান্ডার্ড কাপল ১৮০০/- ++ সব রুম এসি। ভ্যাট ও সার্ভিস চার্জ প্রজোয্য 

২. হোটেল ক্যাসেল সালাম, কেডিও এভিনিউ, খুলনা 
ফোন: ০৪১-৭২০১৬০

নন এসি সিঙ্গেল: ১০০০/- ++,স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল: ১৫০০/- ++ (এসি), স্ট্যান্ডার্ড কাপল : ১৮০০/- ++, * এ হোটেলে সুইমিং পুল আছে

৩. হোটেল সিটি ইন, মজিদ স্বরনী, খুলনা
ফোন: ০৪১-২৮৩৪০৬৭

স্ট্যান্ডার্ড সিঙ্গেল: ১৬০০/- ++, স্ট্যান্ডার্ড টুইন: ২৪০০/-++, স্ট্যান্ডার্ড কাপল: ২২ ০০/- ++ * এ হোটেলে সুইমিংপুল আছে।

৪. হোটেল জেলিকো, লোয়ার যশোর রোড, জেল টাওয়ার, খুলনা
ফোন: ০৪১-৭২৫৯১২

ইকোনমি সিঙ্গেল: ৯৫০/- (এসি), ৫০০/- (নন এসি)
ইকোনমি টুইন : ১২০০/- (এসি), ৭৫০/- (নন এসি)
এক্জিকিউটিভ সিঙ্গেল : ১০০০/- (এসি), ৫৫০/- (নন এসি )
এক্জিকিউটিভ টুইন : ১২৫০/- (এসি), ৮০০/- (নন এসি )

 

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!