সাংস্কৃতিক জনপদ- কুষ্টিয়া

সাংস্কৃতিক জনপদ- কুষ্টিয়া

সাহিত্য ও সংস্কৃতির রাজধানী হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। কুষ্টিয়ার উত্তর পশ্চিম এবং উত্তরে পদ্মা নদীর অপর তীরে রাজশাহী, নাটোর ও পাবনা, দক্ষিণে ঝিনাইদহ, পশ্চিমে মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা এবং ভারতের নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলা এবং পূর্বে রাজবাড়ী জেলা অবস্থিত। কুষ্টিয়া জেলার আয়তন ১,৬২১.১৫ বর্গকিলোমিটার। কুষ্টিয়ার ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রধান নদীগুলো হল পদ্মা, গড়াই নদী, মাথাভাঙ্গা, কালীগঙ্গা ও কুমার নদী ভারতের সাথে কুষ্টিয়ার ৪৬.৬৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা আছে।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই কুষ্টিয়া শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বাংলাদেশকে করেছে সমৃদ্ধ। এছাড়াও বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেন এবং বাউল সম্রাট লালনের তীর্থভূমি, পুরাতন কুষ্টিয়া হাটশ হরিপুর গ্রামে গীতিকার, সুরকার ও কবি আজিজুর রহমানের বাস্ত্তভিটা ও কবর, এ জনপদে জন্মগ্রহণকারী বিশিষ্ট কবি দাদ আলী, লেখিকা মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা, ‘‘এই পদ্মা এই মেঘনা’’ গানের রচয়িতা আবু জাফর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজুর রহমান, কুষ্টিয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠাতা কাঙাল হরিণাথ, নীল বিদ্রোহের নেত্রী প্যারী সুন্দরী, স্বদেশী আন্দোলনের নেতা বাঘা যতিন, প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সঙ্গীত শিল্পী মোঃ আব্দুল জব্বার, ফরিদা পারভীনসহ অসংখ্য গুণীজনের পীঠস্থান কুষ্টিয়াকে সমৃদ্ধ করেছে।

পূর্বে কুষ্টিয়া নদীয়া জেলার (বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে) অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৬৯ সালে কুষ্টিয়ায় একটি পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য কুষ্টিয়া কোনো প্রাচীন নগর নয়। সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে এখানে একটি নদীবন্দর স্থাপিত হয়। যদিও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ বন্দর বেশি ব্যবহার করত, তবুও নীলচাষী ও নীলকরদের আগমনের পরেই নগরায়ন শুরু হয়। ১৮৬০ সালে কলকাতার (তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজধানী) সাথে সরাসরি রেললাইন স্থাপিত হয়। একারণে এ অঞ্চল শিল্প-কারখানার জন্য আদর্শ স্থান বলে তখন বিবেচিত হয়েছিল। তৎকালীন সময়ে যজ্ঞেশ্বর ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস (১৮৯৬), রেণউইক, যজ্ঞেশ্বর এণ্ড কোং (১৯০৪) এবং মোহিনী মিলস (১৯১৯) প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৪৭-এ ভারতবর্ষ ভাগের সময় কুষ্টিয়া পৃথক জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এর সাবডিভিশন ছিল কুষ্টিয়া সদর, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর। কুষ্টিয়া ৬টি উপজেলা, ৭টি থানা, ৫টি পৌরসভা, ৭১টি ইউনিয়ন পরিষদে বিভক্ত। উপজেলাগুলো হলো: কুমারখালী, কুষ্টিয়া সদর, খোকসা, দৌলতপুর, ভেড়ামারা ও মিরপুর।

 

চিত্তাকর্ষক স্থান

কুষ্টিয়া একটি প্রাচীন জনপদ। পূর্বে কুষ্টিয়া নদীয়া জেলার একটি মহকুমা ছিল। এখানে দেখার মত অনেক স্থান রয়েছে-

  • রবীন্দ্রনাথের কুঠিবাড়ী – কুমারখালি উপজেলার শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথের স্মৃতিবিজড়িত কুঠিবাড়ী রয়েছে;
  • ফকির লালন সাঁইজির মাজার – বাউল ফকির লালন সাঁইজির মাজার কুমারখালি উপজেলার চাঁপড়া ইউনিয়নের ছেউড়িয়া গ্রামে;
  • টেগর লজ – কুষ্টিয়া শহরের মিলপাড়ায় অবস্থিত এই দোতলা ভবনটি;
  • পরিমল থিয়েটার – কুষ্টিয়া শহরের স্থায়ী রঙ্গমঞ্চ;
  • গোপীনাথ জিউর মন্দির – নলডাঙ্গার মহারাজা প্রমথ ভূষণ দেব রায় কর্তৃক দানকৃত জমির উপর নির্মিত;
  • মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা – বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্ত্তভিটা কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত;
  • পাকশী রেল সেতু – কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় অবস্থিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেল সেতু;
  • লালন শাহ সেতু – কুষ্টিয়া জেলার পদ্মা নদীর উপর নির্মিত “লালন শাহ” সেতুটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সেতু।

 

বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব

  • লালন শাহ্ – প্রখ্যাত বাউল ও মরমী গানের স্রষ্টা;
  • ব্যারিস্টার এম,আমীর-উল-ইসলাম – বিশিষ্ট আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা
  • প্যারীসুন্দরী দেবী – নীলকর টমাস আইভান কেনির কৃষকদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কৃষক আন্দোলন করেন;
  • কাঙাল হরিনাথ – সাময়িক পত্রসেবী, সমাজ বিপ্লবী ও বাউল কবি;
  • জলধর সেন – ভ্রমণ কাহিনী ও উপন্যাস লেখক
  • মোহিনী মোহন চক্রবর্তী – প্রখ্যাত ব্যবসায়ী ও পূর্ববাংলার সর্ববৃহৎ কাপড়ের কল চক্রবর্তী এন্ড সন্স-এর প্রতিষ্ঠাতা;
  • গগন হরকরা – প্রখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ;
  • মীর মশাররফ হোসেন – প্রখ্যাত সাহিত্যিক;
  • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয় – ইতিহাসবিদ, আইনজীবি ও সাহিত্যিক এবং বিজ্ঞান সম্মত প্রণালীতে বাংলা ভাষায় ইতিহাস রচনায় পথিকৃত;
  • মাহবুব উল আলম হানিফ – বর্তমান সংসদ সদস্য;
  • যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় (বাঘা যতীন) – অগ্নিযুগের প্রখ্যাত স্বদেশী নেতা ও সশস্ত্র সংগ্রামী;
  • ড. রাধা বিনোদ পাল – প্রখ্যাত আইনজীবি, আইন সম্পর্কিত বহু গ্রন্থের রচয়িতা ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক সামরিক আদালতের বিচারকের দায়িত্ব পালনকারী;
  • খগেন্দ্রনাথ মিত্র – খ্যাতনামা শিশু সাহিত্যিক।
  • ড. কাজী মোতাহার হোসেন – সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ ও দাবাড়ু;
  • মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা – বাঙ্গালী মুসলিম মহিলাদের মধ্যে প্রথম সনেট ও গদ্য ছন্দে কবিতা লিখেছেন;
  • আজিজুর রহমান – কবি, গীতিকার ও কুষ্টিয়ার ইতিহাস সন্ধানী;
  • রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই – খ্যাতনামা শিশু সংগঠক;
  • কাজী আরেফ আহমেদ – মুক্তিযুদ্ধের বিশিষ্ট সংগঠক ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার রূপকার;
  • স্যার মন্মথনাথ মুখোপাধ্যায় – কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি ও আইনশাস্ত্রবিদ
  • শিবেন্দ্রমোহন রায় – ব্রিটিশ আমলের কমিউনিস্ট কর্মী এবং মানবাধিকার আন্দোলনের শহীদ;
  • শাহ আজিজুর রহমান – রাজনীতিবিদ ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী;
  • হাবিবুল বাশার সুমন – বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক;
  • এনামুল হক বিজয় – বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওপেনার;
  • সালাউদ্দিন লাভলু – বিশিষ্ট নাট্য নির্মাতা ও অভিনেতা।
  • এস আই টুটুল – বিশিষ্ট সংগীত পরিচালক, সুরকার ও গায়ক
  • এ্যাডটোকেট আজিজুর রহমান আক্কাস – মুক্তিযোদ্ধা,সংগঠক , কুষ্টিয়া ১ আসনের এম পি;
  • আহসানুল হক (পচামোল্লা) – জেলা বিএনপি সাবেক সভাপতি, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী;
  • কোরবান আলী – সাবেক খাদ্য প্রতিমন্ত্রী
  • মারফত আলী-মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং রাজনীতিবিদ
  • মিজু আহাম্মেদ – অভিনেতা
  • আহাম্মেদ শরিফ – অভিনেতা
  • আব্দুল জব্বার -মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী।

 

কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক এবং দর্শনীয় স্থানসমূহ

কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ী

অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরদা দ্বারকানাথ ঠাকুর শিলাইদহ জমিদারী ক্রয় করে ১৮১৩ সালে তিনি কুঠিবাড়িটি নির্মাণ করেন। দ্বিজেন্দ্রনাথ, জ্যোতিবিন্দ্র নাথ, হেমেন্দ্রনাথ, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরসহ ঠাকুর বংশের প্রায় সকলেই পদ্মা গড়াই বিধৌত এখানে বসবাস করেন। মূলতঃ জমিদারী কাজকর্ম দেখাশুনার জন্য এই বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময়ে ঠাকুর পরিবারে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ; নাটোরের পতিসর ও পাবনার শাহজাদপুরে তিনটি জমিদারী ছিল। পারিবারিক আদেশে রবীন্দ্রনাথকে শিলাইদহে জমিদারী পরিচালনার জন্য এসেছিলেন।

কুষ্টিয়া শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে এই কুঠিবাড়ী অবস্থিত। এখানে জেলা পরিষদের ডাক বাংলো আছে। পিয়ন এবং নৈশ প্রহরি আছে।

 

টেগোর এন্ড কোম্পানী (টেগর লজ)

১৮৯৫ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেকে ব্যবসার সাথে জড়িয়ে ফেলেন। তিনি ও তার দুই ভাগ্নে সুরেন্দ্রনাথ ও বলেন্দ্রনাথ এর সহায়তায় শিলাইদহে টেগোর এন্ড কোম্পানীগড়ে তোলেন যৌথ মুলধনী ব্যবসা। সে বছরই ব্যবসায়িক সুবিধার্থে টেগোর এন্ড কোম্পানী শিলাইদহ থেকে কুষ্টিয়ায় স্থানান্তরিত করেন। কোম্পানী দেখাশুনার জন্য কবি শহরের মিলপাড়ায় একটি দোতলা ভবন নির্মাণ করেন। এখানে বসে কবি অসংখ্য কবিতা লিখেন যা পরবর্তিকালে ‘‘ক্ষণিকা’’, কথা ও কাহিনীতে প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে এ ভবনটিও একটি দর্শনীয় স্থান।

 

ছেঁউড়িয়াস্থ বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার

আধ্যাত্মিক সাধক লালন শাহ’র কুমারখালীর ছেঁউড়িয়াতে আশ্রয় লাভ করেন এবং পরবর্তীকালে ছেঁউড়িয়াতে মৃত্যুর পর তাঁর সমাধি স্থলেই এক মিলন ক্ষেত্র (আখড়া) গড়ে ওঠে। ফকির লালন শাহের শিষ্য এবং দেশ বিদেশের অগনিত বাউলকুল এই আখড়াতেই বিশেষ তিথিতে সমবেত হয়ে উৎসবে মেতে উঠে। এই মরমী লোককবি নিরক্ষর হয়েও অসংখ্য লোক সংগীত রচনা করেছেন। বাউল দর্শন এখন কেবল দেশে নয়, বিদেশের ভাবুকদেরও কৌতুহলের উদ্রেক করেছে। ১৯৬৩ সালে সেখানে তার বর্তমান মাজারটি নির্মাণ করা হয় এবং তা উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর মোনায়েম খান। ২০০৪ সালে সেখানেই আধুনিক মানের অডিটোরিয়ামসহ একাডেমি ভবন নির্মাণ করা হয়।

 

পরিমল থিয়েটার

উনবিংশ শতকের শুরুতে কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন স্থানে নাটক মঞ্চায়ন হতে থাকে। তখনই জেলায় স্থায়ী রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয়। তৎকালীন কুষ্টিয়ার মহকুমা শাসক এর পুত্রের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় পরিমল থিয়েটার। এখানে কলকাতার বিখ্যাত অভিনেতা প্রমতেশ বড়ুয়া, দুর্গা দাস, শিশির ভাদুড়ী, আঙুরবালা, ইন্দুবালা প্রমুখেরা বহুবার এসেছিলেন। এখানেই ১৯১২ সালে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে জনতার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল।

 

গোপীনাথ জিউর মন্দির

কুষ্টিয়া শহরে ১৯০০ সালে যশোর জেলার নলডাঙ্গার মহারাজা প্রমথ ভূষণ দেবরায় কর্তৃক দানকৃত জমির উপর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চাঁদার টাকায় এ মন্দিরটি নির্মাণ করা হয়। ১৯০৫ সালে মহারাজা প্রমথ ভূষণ দেব তার স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষার্থে বর্তমান রথখোলা গোপীনাথ জিওর মন্দির ও রথের মেলা প্রচলন করেন। ১৯১৩ সালে ধনী ব্যবসায়ী মাখন রায় অপূর্ব কারুকার্য খচিত বিরাট আকৃতির একটি পিতলের রথ নির্মাণ করে দেন যা সমগ্র ভারতবর্ষের একমাত্র রথ ছিল।

 

মীর মশাররফ হোসেনের বাসত্মভিটা

বিষাদ সিন্ধুর রচয়িতা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ঔপন্যাসিক মীর মশাররফ হোসেনের বাস্ত্তভিটা কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়ায় অবস্থিত। এখানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ছোট আকারের একটি লাইব্রেরী আছে। সম্প্রতি ১৭ অক্টোবর ২০০৮ সালে মীর মশাররফ হোসেনের নামে স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ কুষ্টিয়া কর্তৃক বাস্তবায়নের জন্য একটি লাইব্রেরী ও অডিটরিয়াম এর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় মন্ত্রিপরিষদ সচিব জনাব আলী ইমাম মজুমদার।

 

ঝাউদিয়ার শাহী মসজিদ

কুষ্টিয়া সদর থানার অর্ন্তগত ঝাউদিয়া গ্রামে শাহী মসজিদ মোঘল সম্রাট শাহজাহানের রাজত্বকালে ঝাউদিয়ার জমিদার শাহ সূফী আহমদ আলী ওরফে আদারী মিয়া নির্মাণ করেন। এটি মোঘল শিল্পকলার এক অপূর্ব নিদর্শন। মসজিদটি তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এবং এর চার কোনায় চারটি বড় মিনার আছে। ১৯৮০ সাল থেকে প্রত্নতত্ব বিভাগ এটি সংরক্ষণ করে আসছে।

 

স্বসিত্মপুর শাহী মসজিদ

সুবেদার শায়েস্তা খাঁর আমলে নির্মিত সদর উপজেলার স্বস্তিপুর গ্রামে চারটি পিলার ও চারটি মিনার বিশিষ্ট এ মসজিদটি বহুদিন ধরে জঙ্গলে ঢাকা ছিল। জনশ্রুতি আছে যে এ গ্রামের আদি নাম ছিল শায়েস্তাপুর। শায়েস্তা খাঁর আমলে এ গ্রামের পাশ দিয়ে একটি শাহী সড়ক ছিল যা পশ্চিম বাংলার কৃষ্ণনগর থেকে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা হয়ে ফরিদপুরের ভিতর দিয়ে ঢাকা পর্যন্ত চলে গিয়েছিল।

 

হার্ডিঞ্জ ব্রিজ

ব্রিটিশ আমলে কুষ্টিয়ার সাথে কলকাতার রেল যোগাযোগ ছিল। ১৯০৯ সালে পদ্মা নদীর উপর ভেড়ামারা-পাকশি রেল সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৫ সালে শেষ হয়। তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড হার্ডিঞ্জ এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ব্রিজটি লম্বায় এক কিলোমিটার এবং এতে ১৮টি স্প্যান আছে। এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহতম রেল সেতু। ১৯৭১ সালে পাকবাহিনীর বোমার আঘাতে এর দুটি স্প্যান নষ্ট হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে পুনরায় তা মেরামত করা হয়। বর্তমানে এর পাশেই লালন শাহ্ সেতুর অবস্থান।

 

কিভাবে যাবেন:

বাসে: ঢাকার গাবতলী কিংবা টেকনিক্যাল মোড় থেকে এসবি, শ্যামলী, হানিফ, সোহাগ, খালেক পরিবহনের বাস বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা-কুষ্টিয়া সরাসরি চলাচল করে।

এস বি সুপার ডিলাক্স, গাবতলী কাউন্টার, ফোন: ০২-৯০০০৬২৭ ভাড়া: ৬০০ টাকা (এসি), ৪৫০ টাকা (নন এসি)

শ্যামলী পরিবহন,গাবতলী কাউন্টার, ফোন: ০১৭১১৯৮৭০২৮

ট্রেনে: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সুন্দরবন ও ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে চিত্রা ট্রেনে যেতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে কুষ্টিয়ার অদূরে অবস্থিত পোড়াদহ রেল স্টেশনে নেমে বাস কিংবা অটোরিকশায় চড়ে শহরে আসতে হবে।

 

কোথায় থাকবেন:

কুষ্টিয়া শহরে বেশ কিছু ভালো মানের আবাসিক হোটেল আছে। রাত্রিযাপনের জন্য কিছু স্থান হচ্ছে এলজিইডি রেষ্ট হাউস, কুষ্টিয়া, পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি রেষ্ট হাউস, কুষ্টিয়া, বিসিক রেষ্ট হাউস, কুষ্টিয়া, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রেষ্ট হাউস। এছাড়া শহরেই মানসম্মত হোটেলের মধ্যে আছে পদ্মা, হোটেল রিভার ভিউ, গোল্ডস্টার, সানমুন অন্যতম। কয়েকটি হোটেল এর যোগাযোগ এর নম্বর-

  • আজমিরী হোটেল, ফোন: 071-53012
  • দেশা গেস্ট হাউস,ফোন : 01720510212
  • হোটেল আল -আমিন, ফোন: 071-54193
  • হোটেল গোল্ডষ্টার, ফোন: 071-61675
  • হোটেল রিভার ভিউ, ফোন: 071-71660

 

কোথায় খাবেন

কুষ্টিয়া শহরে বেশ কিছু ভালো মানের রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে বিভিন্ন ধরণের খাবার পাওয়া যায়। কুষ্টিয়ার তিলের খাঁজার সুখ্যাতি আছে। এন.এস. রোডের মৌবন মাসালা, জাহাঙ্গীর হোটেল, শিল্পী হোটেল, শফি হোটেল, চৌড়হাস মোড়ে রান্নাঘর হোটেল, শিশির বেকারিতে ভাল নাস্তা পাওয়া যায়। বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য আছে বড় বাজারের গান্ধী হোটেল। কুষ্টিয়ার বিখ্যাত খাবারের মধ্যে আছে তিলের খাজা, কুঠি বাড়ির সামনে কুলফি, জগদীশ মিষ্টান্ন ভান্ডার – বড় বাজার (চমচম), অশোক মিষ্টান্ন ভান্ডার ইত্যাদি।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!