“মুজিবনগর একাত্তর, গৌরবদীপ্ত মেহেরপুর”।

“মুজিবনগর একাত্তর, গৌরবদীপ্ত মেহেরপুর”।

মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ও বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের সাক্ষ্যবহকারী মেহেরপুর অবিভক্ত নদীয়ার অন্যতম প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি জেলা। মেহেরপুর বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। মুক্তিযুদ্ধের সময় মেহেরপুর পাকিস্তান বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সংঘটিত বেশ কিছু প্রাথমিক যুদ্ধের সাক্ষী। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার বোদ্দনাথতলায় আম্রকাননে শপথ গ্রহণ করে অস্থায়ী সরকার গঠন করে এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী ঘোষণা করে। 

মেহেরপুর বাংলাদেশের উচুতম জেলা গুলোর একটি এবং আয়তনে সবচেয়ে ছোট জেলা। সমুদ্রপৃষ্ঠ হতে এর গড় উচ্চতা ২১ মিটার। এটি বাংলাদেশের পশ্চিমাংশের সীমান্তবর্তী জেলা। এ জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত); দক্ষিণে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা , দামুড়হুদা উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ (ভারত); পূর্বে কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর উপজেলা , চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলা , পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। মেহেরপুরের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত প্রায় ৬০ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্ত রয়েছে।

মেহেরপুরের আয়তন ৭১৬.০৮ বর্গ কিঃমিঃ। জনসংখ্যা মোট-৬,৫৫,৩৯২ জন। বর্তমানে এ জেলায় ৩টি উপজেলা, ১৮টি ইউনিয়ন, ১৮০টি মৌজা, ২৮৫টি গ্রাম, ২টি পৌরসভা, ১৮টি ওয়ার্ড এবং ১০০টি মহল্লা রয়েছে। উপজেলাগুলো হচ্ছে- মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর কুষ্টিয়ার লালন শাহের লালনগীতির ব্যাপক চর্চার প্রভাব মেহেরপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া মেহেরপুরের লোক-সংস্কৃতি, বাউলগীতি, আঞ্চলিক গীতি, নাট্যচর্চা, ভাসানগান ও মানিকপীরের গান উল্লেখযোগ্য।

মেহেরপুর জেলায় ৩টি নদী রয়েছে। নদীগুলো হচ্ছে ভৈরব নদ, মাথাভাঙ্গা নদী ও কাজলা নদী। জলাশয়সমূহ- এ জেলার প্রধান বিলগুলো হল – ধলার বিল, চাঁদবিল, পাটাপুকুর বিল, গোপালপুর বিল, বামুন্দি বিল, শালিকা বিল, বিজনবিল (তেরঘরিয়া), এলাঙ্গী বিল

দর্শনীয় স্থান

  • মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ
  • পৌর ঈদগাহ
  • মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ
  • আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন
  • সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির
  • আমঝুপি নীলকুঠি
  • ভাটপাড়া নীলকুঠি
  • ভবানন্দপুর মন্দির
  • কালাচাঁদপুর শাাহ ভালাই এর দরগা
  • বল্লভপুর চার্চ
  • ভবরপাড়া রোমান ক্যাথলিক চার্চ
  • নায়েব বাড়ি মন্দির
  • স্বামী নিগমানন্দ সারস্বত আশ্রম
  • আমঝুপি নীলকুঠি
  • করমদী গোসাঁইডুবি মসজিদ
  • শিব মন্দির , বল্লভপুর
  • বরকত বিবির মাজার
  • বাঘুয়াল পীরের দরগা
  • ভবানীপুর মন্দির
  • ভাটপাড়া ও আমঝুপি নীলকুঠি
  • মুজিবনগর বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী
  • মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও ঐতিহাসিক আম্রকানন
  • মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কমপ্লেক্স মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে আম্রকাননের দূরত্ব ১৮ কি: মি:। বাস, স্থানীয় যান টেম্পু/লছিমন/করিমন এর সাহায্যে ৩০ মি: সময়ে ঐতিহাসিক আম্রকাননে পৌছানো যায়। মেহেরপুর সদর হতে বাস ভাড়া ২৫-৩০ টাকা ।
  • পৌর ঈদগাহ
  • মেহেরপুর পৌর কবর স্থান মেহেরপুর জেলা সদরে এটি অবস্থিত। বাস টার্মিনাল হতে রিক্সা/ভানে পৌঁছানো যায়।
  • মেহেরপুর পৌর হল
  • মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ মেহেরপুর জেলা সদরে এটি অবস্থিত। বাস টার্মিনাল হতে রিক্সা/ভানে পৌঁছানো যায়।
  • আমদহ গ্রামের স্থাপত্য নিদর্শন
  • সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির মেহেরপুর জেলা সদরে এটি অবস্থিত। বাস টার্মিনাল হতে রিক্সা/ভানে পৌঁছানো যায়।
  • আমঝুপি নীলকুঠি মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে দূরত্ব ৭ কি: মি: । বাস, স্থানীয় যান টেম্পু/লছিমন/করিমন এর সাহায্যে ২৫ মি: সময়ে আমঝুপি নীলকুঠিতে পৌঁছানো যায়।
  • ভাটপাড়ার নীলকুঠি মেহেরপুর জেলা সদর থেকে সড়ক পথে দুরত্ব ১৭ কি: মি: । বাস, স্থানীয় যান টেম্পু/লছিমন/করিমন এর সাহায্যে ৪০মি: সময়ে ভাটপাড়া নীলকুঠিতে পৌঁছানো যায়।

 

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

  • এম. এ. হান্নান – মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপত
  • শাহ আলম – ক্রীড়াক্ষেত্রে অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রাপত
  • ইমরুল কায়েস- ক্রিকেটার, বাংলাদেশ জাতীয় দল
  • মোঃ উজ্জল আহম্মেদ- দেবদাস দরগাপাড়া
  • ভবানন্দ মজুমদার – নদিয়া রাজপরিবার এর প্রতিষ্ঠাতা
  • দীনেন্দ্রকুমার রায় – লেখক
  • রাখী গুলজার – অভিনেত্রী
  • বলরাম হাড়ি – সমাজসংস্কারক, সাধক
  • জগদীশ্বর গুপ্ত – বৈষ্ণব পদকর্তা
  • কৃষ্ণকান্ত ভাদুড়ী – কবি
  • আব্দুল হামিদ কাব্যবিনোদ – সাহিত্যিক
  • মুন্সি শেখ জমিরউদ্দীন – ধর্মসংস্কারক
  • রমণীমোহন মল্লিক – বৈষ্ণব পদকর্তা
  • কিরণ কুমার বোস – লেখক
  • ড. মোঃ মোজাম্মেল হক – পদার্থবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ
  • নুরুল হক – শিক্ষাবিদ
  • প্রসেনজিৎ বোস বাবুয়া – সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব
  • স্বামী নিগমানন্দ – ধর্মসংস্কারক
  • আবদুল মোমিন – বাংলায় শ্রমিক আন্দোলনের নেতা
  • ওয়ালিল হোসেন – বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা
  • আ.ক.ম.ইদ্রিস আলী – মুক্তিযোদ্ধা,বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ
  • রফিকুর রশীদ – লেখক
  • আবদুল্লাহ আল আমিন ধূমকেতু – লেখক
  • তোজাম্মেল আজম – সাংবাদিক, লেখক
  • মোজাফফর হোসেন – লেখক
  • শাশ্বত নিপ্পন – লেখক
  • আসিফ আজিম – মডেল,অভিনেতা
  • প্রফেসর আবদুল মান্নান – বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাবেক সংসদ সদস্য
  • আব্দুল্লাহ আল মাসুম – দক্ষতা উন্নয়নে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ প্রাপ্ত

 

কিভাবে যাবেন?

রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার। এখানে সড়ক পথে আসতে হয়। তবে, রেলপথ ও বিমান বন্দর নেই বলে এই দুটি মাধ্যমে এখানকার কোনো স্থানে সরাসরি আসা যায় না। এছাড়াও, অভ্যন্তরীণ নৌপথও ততটা উন্নত না-হওয়ায় সর্বত্র জলপথে আসা-যাওয়া করা যায় না।

আকাশপথ- এখানে কোন বিমানবন্দর না থাকায় সরাসরি আকাশপথে ভ্রমণ সম্ভব নয়। তবে অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানে ঢাকা থেকে যশোর; অতঃপর সড়ক পথে ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা হয়ে মেহেরপুর আসা যায়।

সড়কপথ- রাজধানী শহরের সংগে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে। আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগব্যবস্থা আছে। গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে মেহেরপুর জেলায় ভ্রমণের জন্য সরাসরি বাস পাওয়া যায়। নন এসি বাসের ভাড়া ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং এসি বাসের ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত।

এছাড়া রাজশাহী থেকে মেহেরপুর জেলার সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে। গোল্ডেন স্টার এবং আশার প্রদীপ পরিবহন নামের দুইটি বাস সার্ভিস চালু আছে। গোল্ডেন স্টার পরিবহন রাজশাহীর ভদ্রার মোড় থেকে সকাল সাড়ে সাতটায় এবং আশার প্রদীপ পরিবহন বিকাল সাড়ে পাচটায় বাস ছাড়ে। এছাড়া বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু আছে যা রুয়েট গেটের নিকট থেকে দুপুরে মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে আসে। ভাড়া ৩৫০ টাকা।

বরিশাল থেকে আলসানি-বরিশাল ডিলাক্স নামের বাস সার্ভিস চালু আছে।

বাগেরহাট থেকে খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ হয়ে মাছরাঙ্গা ট্রাভেলস নামের বাস সার্ভিস চালু আছে। বাগেরহাট থেকে বাসটি দুপুর ২ঃ৩০ এ মেহেরপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে।

 

খুলনা থেকে আর এ পরিবহন নামের একটি বাস সার্ভিস চালু আছে। ভাড়া ২২০ টাকা।

রেলপথ-মেহেরপুর জেলায় কোন রেলপথ নাই। সড়ক পথে চুয়াডাঙ্গা যাওয়ার পর চুয়াডাঙ্গা থেকে রেলপথে ঢাকা, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, চাপাইনবাবগঞ্জ, সৈয়দপুর যাওয়া যায়।

খাওয়া দাওয়া

খাবারের ক্ষেত্রে বাস স্ট্যান্ডে অবস্থিত রনি রেস্তোরা, হোটেল বাজারে অবস্থিত ফুড রিপাবলিক, টিএন্ডটি বা হাসপাতাল রোডে অবস্থিত কুটুমবাড়ি, মহিলা কলেজ রোডে অবস্থিত লা ভোগ, ওভার ট্রাম্প সব চাইতে ভাল হবে।

 

রাত্রী যাপন

সরকারি

  • জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, কোর্ট মোড়, মেহেরপুর, ☎ +৮৮০৭৯১ ৬২৪৬৪। পরিচালনায়ঃ জেলা পরিষদ, মেহেরপুর সম্পাদনা
  • সাকিট হাউজ, ☎ +৮৮০১৭০৮ ৪১০০০৫। পরিচালনায়ঃ জেলা প্রশাসক সম্পাদনা
  • পরিদর্শন বাংলো, মুজিবনগর, মুজিবনগর কমপ্লেক্স ও আম্রকানন সংলগ্ন, মুজিবনগর, মেহেরপুর।, ☎ +৮৮০১৫৫৩৫৩৯১৮৫। সম্পাদনা
  • গেস্ট হাউজ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মেহেরপুর সদর, মেহেরপুর, ☎ +৮৮০৭৯১ ৬২৯৩৩।

বেসরকারি

  • পৌর গেস্ট হাউজ, পৌর হল, প্রধান সড়ক, মেহেরপুর, ☎ +৮৮০১৭২০ ৪৫৮৪৩০। পরিচালনাকারীঃ মেহেরপুর পৌর সভা সম্পাদনা
  • ফিন টাওয়ার আবাসিক হোটেল, বাসস্ট্যান্ড, মেহেরপুর, ☎ +৮৮০১৭৩৬ ৬৪৭৯৬১। সম্পাদনা
  • অনাবিল আবাসিক হোটেল, বড় বাজার, প্রধান সড়ক, মেহেরপুর।, ☎ +৮৮০১৭১২২৮৭৭০৩। সম্পাদনা
  • শাহাজাদী আবাসিক হোটেল, বাসষ্ট্যান্ড রোড, মেহেরপুর।, ☎ +৮৮০১৭১৭ ৪৮২৪৩৪। সম্পাদনা
  • সোহাগ গেস্ট হাউজ, জি এম টাওয়ার, মেহেরপুর বাস স্ট্যান্ড রোড, ☎ +৮৮০১৭১১২৪১৫২৬ , +৮৮০১৬৭৪০৭৫৪১৬।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!