দ্য ল্যান্ড অব টি – মৌলভীবাজার

দ্য ল্যান্ড অব টি – মৌলভীবাজার

চায়ের দেশ নামে পরিচিত মৌলভীবাজার জেলা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরুপ লীলাভূমি। বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল মৌলভীবাজার জেলা। শাহ মোস্তফা-এর বংশধর মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি মনু নদীর উত্তর তীরে কয়েকটি দোকানঘর স্থাপন করে ভোজ্যসামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেন। মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ প্রতিষ্ঠিত এ বাজারে নৌ ও স্থলপথে প্রতিদিন লোকসমাগম বৃদ্ধি পেতে থাকে। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমের মাধ্যমে মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মৌলভীবাজারের খ্যাতি।

মৌলভীবাজার জেলার উত্তরে সিলেট জেলার বালাগঞ্জ উপজেলা, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা, গোলাপগঞ্জ উপজেলা ও বিয়ানীবাজার উপজেলা; দক্ষিণে ত্রিপুরা রাজ্য (ভারত); পূর্বে কাছাড় (ভারত)এবং পশ্চিমে হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা। জেলার প্রধান নদ-নদী ৬ (ছয়)টি- মনু, বরাক, ধলাই, সোনাই, জুড়ী ও কুশিয়ারা। কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর এবং শ্রীমঙ্গল এই সাতটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। জনসংখ্যা ১৭৮০৭৯৭; ইউনিয়ন: ৬৭ টি, গ্রামের সংখ্যা: ২,০১৫ টি।

লোকসংস্কৃতিঃ রাসনৃত্য, খাম্বা-থোইবি, লাই-হারাওবা, থাবল-চংবা, মৃদঙ্গনৃত্য, দোল-উৎসব, বিষু-উৎসব, করমপূজা, কাঠি-নৃত্য, ঝুমুর নৃত্য, শব্দকর সম্প্রদায়ের চড়ক-নৃত্য, প্রবাদ, পই, ডিটান, ধাঁধা, প্রবচন, ডাক, গীত, বিয়ের গান, ধামাইল গান, বাউল গান, সারি গান, বাউলা গান, লাচাড়ি, বান্ধা গান, বারোমাসি, মালজোড়া গান, বিচ্ছেদের গান ইত্যাদি। আদিবাসীদের মধ্যে মণিপুরী, খাসিয়া, ত্রিপুরা, হালাম উল্লেখযোগ্য।

 

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত চা-কন্যা স্থাপত্য
  • শাহ মোস্তফা-এর মাজার – মৌলভীবাজার শহরের কেন্দ্রস্থলের বেড়ীরপাড়ের দক্ষিণ তীর;
  • রাজা সুবিদ নারায়ণ – রাজনগরের শেষ রাজা।
  • ঐতিহাসিক কমলারানীর দিঘি, রাজনগর।
  • খাজা ওসমান – সপ্তদশ শতকের বাংলার শেষ পাঠান সেনাপতি;
  • বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান-এর কবর – কমলগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম আমবাসা;
  • চা বাগানসমূহ;
  • মাধবকুন্ড জলপ্রপাত – বড়লেখা;
  • হাকালুকি হাওর,
  • খোজার মসজিদ;
  • গাছপীর আব্রু মিয়ার মাজার – সিরাজনগর;
  • ইউনুছ পাগলার মাজার – সাতগাঁও বাজার, শ্রীমঙ্গল।
  • খাজার টিলা – হযরত শাহ মন্জুর আলী রহঃ মাজার সিন্দুরখান, শ্রীমঙ্গল।
  • হযরত খরমশাহ মাজার পাচাউন, মির্জাপুর।
  • ৩০০ বছরের পুরোনো মাজার
  • হযরত খাজা শাহ হাছন আলী চিশতী রহঃ মাজার লাহারপুর, শ্রীমঙ্গল।
  • হাইল হাওর – শ্রীমঙ্গল ;
  • জোরা তমাল তলা মন্দির – সাতগাও রুস্তুমপুর।
  • মৌলোভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলায় অবস্তিত বাংলাদেশের বৃহত্তম একমাত্র প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মাধবকুন্ড এবং মাধবকুন্ড ইকো পার্ক এবং কমলগঞ্জে হাম হাম জলপ্রপাত রয়েছে।
  • বাইক্কা বিল – কালাপুর।
  • বধ্যভূমি – শ্রীমঙ্গল।

মাধবপুর লেক, পরীকুন্ড, মনু ব্যারেজ, হাকালুকি হাওর (কমলগঞ্জ), মুরাইছড়া ইকোপার্ক, রাবার বাগান ও টিলা (কুলাউড়া), বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক, চা বাগান ও মনু ব্যারেজ (মৌলভীবাজার সদর), লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, ভাড়াউড়া লেক, মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি ও গ্যাসকূপ, ডেনস্টন সিমেট্রি (শ্রীমঙ্গল)

দর্শনীয় স্থান ও স্থাপনা 

  • রাজা সুবিদ নারায়ণ – রাজনগরের শেষ স্বাধীন রাজা।
  • কমলারানীর দিঘি – রাজনগর;
  • খাজা ওসমান – সপ্তদশ শতকের বাংলার শেষ পাঠান সেনাপতি;
  • বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ – কমলগঞ্জ;
  • মাধবকুন্ড ইকোপার্ক ও মাধবকুন্ড জলপ্রপাত – বড়লেখা;
  • পরিকুন্ড জলপ্রপাত – বড়লেখা;
  • হাকালুকি হাওড় – – কুলাউড়া;
  • খোজার মসজিদ – মৌলভীবাজার সদর;
  • গাছপীর আব্রু মিয়ার মাজার – সিরাজনগর;হযরত মাওলানা আব্রু মিয়া গাছপীর সাহেবের মাজার শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজার রোডের কাকিয়া বাজারে অবস্থিত।
  • ইউনুছ পাগলার মাজার – সাতগাও;:হযরত খাজা ইউনুছ রহ: এর মাজার শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও রেলষ্টেশন এর পাশে সাতগাঁও সিক্কা রোডের মাধবপাশা গ্রামে অবস্থিত। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ভক্ত বৃন্দ এসে বার্ষরিক উরসে যোগদান করে থাকেন। তিনি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার নদনা গ্রামের অধিবাসী ছিলেন।
  • তমাল তলা – সাতগাও রুস্তুমপুর;জোড়া তমাল তলা,জোড়া তমাল গাছকে ঘিরে এই তমাল তলা উৎসবের আবির্ভাব। এখানে হবিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শচীন্দ্র মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বাবু শচীন্দ্র দেব এক‌টি মন্দির নির্মাণ করে দিয়েছেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের ঢাকা সিলেট মহাসড়কের সাতগাঁও চৌমুহনীর পাশে রুস্তম পুর গ্রামে অবস্থিত। এখানে প্রতি বছর বার্ষরিক পুজা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পুজা উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মানুরাগীরা অংশ গ্রহণ করেন
  • পৃথিমপাশা জমিদার বাড়ি – কুলাউড়া;
  • হামহাম জলপ্রপাত – কমলগঞ্জ;
  • লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান – কমলগঞ্জ;
  • মাধবপুর চা বাগান ও লেক – কমলগঞ্জ;
  • চা বাগানসমূহ – পুরো জেলা জুড়ে ৯২টি

 

দর্শনীয় স্থানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। মৌলভীবাজার ফরেস্ট রেঞ্জের আওতাধীন শ্রীমঙ্গলের এই ন্যাশনাল পার্ক শুধু যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য শুধু তাই নয়, দেশের সবকটি বনাঞ্চলের মধ্যে সব চেয়ে নান্দনিক ও  আকর্ষনীয়। কমলগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত এই জাতীয় উদ্যানটি মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে ৩০ কিমি দূরে। শ্রীমঙ্গল থেকে ভানুগাছ-কমলগঞ্জের রাস্তায় ৭ কিমি এগুলেই পাবেন এর সীমানা।

 

মাধবপুর লেক ও চা বাগান

চারিদিকে সুউচ্চ পাহাড়ের মাঝখানে অবস্থিত লেকটি সত্যি অপূর্ব। লেকের ঝলমল পানি, ছায়া সুনিবিড় পরিবেশ, শাপলা শালুকের উপস্থিতি আরও মনোমুগ্ধকর করে তুলে। কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নে পাত্রখলা চা বাগানে লেকটির অবস্থান। এটি মৌলভীবাজার শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও শ্রীমঙ্গল থেকে ১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

 

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত ও ইকোপার্ক

মৌলভীবাজার জ়েলার বড়লেখা উপজেলার কাঁঠালতলিতে অবস্থিত। পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে অন্যতম বিখ্যাত এই স্থানটিতে বর্তমানে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এছাড়া সরকারি উদ্যোগে পুরো এলাকাটিকে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে “মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক”। সিলেট সদর থেকে ৭২ কিলোমিটার, মৌলভীবাজার জেলা থেকে ৭০ কিলোমিটার, কুলাউড়া রেলওয়ে জংশন থেকে ৩২ কিলোমিটার এবং কাঁঠালতলী থেকে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

 

পরিকুন্ড জলপ্রপাত

আমরা কমবেশী সবাই মাধবকুন্ড জলপ্রপাত এর সাথে পরিচিত। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানি না যে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের খুব কাছেই লুকিয়ে আছে আর এক বিস্ময়, একটি বুনো ঝর্না- পরিকুন্ড জলপ্রপাত। সবুজে আবৃত আর পাহাড়ে ঘেরা এই জলপ্রপাতটি সিলেট বিভাগের মৌলবিবাজার জেলায় অবস্থিত। মাধবকুন্ড জলপ্রপাত হতে মাত্র ১০-১৫ মিনিট হাটার পথ। তার পরেই পেয়ে যাবেন নিরবে নিভৃতে ঝরে পরা এই দৃষ্টিনন্দন ঝর্নাটি। শীতকালে  জলপ্রপাতে পানি কম থাকে। এজন্য বর্ষায় যাওয়া ভালো।

 

হাকালুকি হাওর

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর।  এর আয়তন ১৮,১১৫ হেক্টর। এটি মৌলভীবাজার ও সিলেট জেলায় অবস্হিত। বর্ষাকালে বিস্তৃত জলরাশি এ হাওরের রূপ ঠিক যেন ভাসমান সাগর। আদিগন্তু বিস্তৃত জলরাশি। জলের মাঝে মাঝে দুই-একটি বর্ষীয়ান হিজল, তমাল বৃক্ষ। অথচ শীতকালে বিস্তৃত এই হাওর ধু-ধু সবুজপ্রান্তর, কোথাও বা ধান ক্ষেত এবং খানাখন্দ নিচু ভূমিতে প্রায় ২৩৮ টি বিলের সমষ্টি। হাকালুকি হাওর মাছের জন্য প্রসিদ্ধ। হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সংরক্ষিত জলাভূমি। শীত মৌসুমে এশিয়ার উত্তরাংশের সাইবেরিয়া থেকে প্রায় ২৫ প্রজাতির হাঁস এবং জলচর নানা পাখি পরিযায়ী হয়ে আসে। এছাড়া স্থানীয় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি সারাবছর এখানে দেখা মিলে।

 

বাইক্কা বিল

শ্রীমঙ্গলের হাইল হাওড়ের পূর্ব দিকের প্রায় ১০০ হেক্টর আয়তনের একটি জলাভূমির নাম বাইক্কা বিল। ১ জুলাই ২০০৩ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় এ বিলটিকে মৎস্য সম্পদের একটি স্থায়ী অভয়াশ্রম হিসেবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিল মাছের জন্যেই শুধু নয়, উপরন্তু পাখি ও অন্যান্য অনেক প্রাণীর জন্যও একটি চমৎকার নিরাপদ আবাসস্থল। নয়নাভিরাম এ জলাভূমিতে হাজারো শাপলা আর পদ্ম ফুল ফোটে। বিলের বুনো বাসিন্দা আর শীতের অতিথিদের ভালোভাবে দেখার জন্য এখানে একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থান এই বিলের।

 

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট

১৯৫৭ সালে পাকিস্তান চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান (পিটিআরআই) স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৩ সালে এ গবেষণা প্রতিষ্ঠানটিকে একটি পূর্নঙ্গ গবেষণা ইনষ্টিটিউট এ রূপান্তর করে এর নামকরণ করা হয় বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনষ্টিটিউট (বিটিআরআই)। এ ইনষ্টিটিউটটি চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গলের গর্ব। শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চায়ের গবেষণার মাধ্যমেতার অবস্থান সুসংহত করে আসছে। দুরত্ব : মৌলভীবাজার জেলা শহর হতে প্রায় ২৫ কিলোমিটার।

 

বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক

সবুজে আচ্ছাদিত, পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত মৌলভীবাজারের বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক। এটি মৌলভীবাজারের ৯০ বছরের পুরনো রিজার্ভ ফরেস্ট। ব্রিটিশ সরকার ১৯১৬ সালে এ এলাকাকে রিজার্ভ ফরেস্ট ঘোষণা করে। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে এটিকে ইকোপার্ক ঘোষণা করা হয়। বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক এর অবস্থান মৌলভীবাজার শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার ভিতরে। মিশ্র চিরহরিৎ প্রকৃতির এই বনে একসময় মায়াহরিণ, চিতাবাঘ ও উল্লুক দেখা গেলেও এখন তা বিলুপ্ত। তবে এখনও বানর, হনুমান, শিয়াল, মেছোবাঘ, কাঠবিড়ালি সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী দেখা যায়। ঘুঘু, শালিক, কাঠঠোকরা, বাবুই সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং শাল,গর্জন,শিমুল,সেগুন সহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ দেখা যায়।

 

 হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর মাজার শরীফ:

হযরত শাহজালাল (র:) এর অন্যতম অনুসারী হযরত শাহ মোস্তফা (র:) ইসলামের চতুর্থ খলিফা হযরত আলী (র:) এর বংশধর ছিলেন। প্রায় সাতশত বছর আগে মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুর-এ বসতি স্থাপন করেন এবং এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালন করেন। মৌলভীবাজার শহরের প্রতিষ্ঠাতা মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লা হযরত শাহ মোস্তফা (র:) এর বংশধর ছিলেন।

 

হামহাম জলপ্রপাত

সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের কুরমা বনবিটের গহিন অরণ্যঘেরা দুর্গম পাহাড়ী এলাকার রযেছে অপূর্ব এই জলপ্রপাত। এডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটক যারা চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন কেবল তাদের জন্যই এই ঝর্না দর্শন। সরকারী কোন উদ্যোগ না থাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।

 

খাবার

মৌলভীবাজারে স্থানীয় পর্যায়ের বিশেষ কোনো বিখ্যাত খাদ্য নেই, কেবল আখনী পোলাও ও সাতকরা (হাতকরা) ব্যতীত। এখানকার মাস্টার কেবিনের রসগোল্লা খুব বিখ্যাত। তবে স্থানীয় আনারস, কমলা, পান, লেবু এবং কাঠালের বেশ সুখ্যাতি রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে চা-পাতা। হাওড় এলাকায় প্রচুর মাছ পাওয়া যায় এবং খামার ভিত্তিক হাঁস পালন করা হয়। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।

সাত রং চা- বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় উষ্ণ পানীয়। চায়ের এই স্বাদ নিতে চা প্রেমীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ছুটে আসেন। শরবত-মিষ্টি স্বাদ থেকে শুরু করে ঝাঁঝালো লবঙ্গ সহ প্রতিটা স্তরের আলাদা আলাদা স্বাদ রয়েছে এবং বর্ণের দিক থেকে রংধনুর মতো বর্ণীল। এই সাত রং চায়ের উদ্ভাবক রমেশ রাম গৌড়। সাত রং চা নীলকণ্ঠ টি কেবিনে পাওয়া যায়, একটি বিখ্যাত চায়ের দোকান, যা শ্রীমঙ্গল, সিলেটে অবস্থিত।

 

থাকা ও রাত্রী যাপনের স্থান

মৌলভীবাজারে থাকার জন্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় পর্যায়ের কিছু মানসম্মত আবাসন এবং রেস্ট হাউস ও হোটেল রয়েছে, যেখানে ৪০০ থেকে ২০,০০০ টাকায় বিভিন্ন ধরণের রুম পাওয়া যায়। এসব আবাসন এবং রেস্ট হাউস ও হোটেলের মধ্যে রয়েছেঃ

  • সার্কিট হাউস : কোর্ট রোড, মৌলভীবাজার, ☎ ০৮৬১-৬৩০২৫;
  • হোটেল সোনাগাঁও : শ্রীমঙ্গল রোড, মৌলভীবাজার;
  • পর্যটন রেস্ট হাউজ : কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার;
  • সেরাটন প্লাজা : কুসুমবাগ, মৌলভীবাজার, ☎ ০৮৬১-৫২০২০;
  • হোটেল হেলাল : সাইফুর রহমান রোড, মৌলভীবাজার;
  • গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গলফ সেন্টার : রাধানগর, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭৩০ ৭৯৩ ৫৫২-৯

 

কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব

হয়রত শাহ মোস্তফা (র:), মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ, মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী হামিদুর রহমান,কবি মুজাফফর খান, সৈয়দ মুজতবা আলী, জাতীয় পরিষদ সিলেটের প্রথম মহিলা সদস্য বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী, সাবেক স্পীকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, গবেষক ড. রঙ্গলাল সেন প্রমুখ।

 

কিভাবে যাবেন?

ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন যোগে মৌলভীবাজার জেলায় আসা যায়। রাজধানী ঢাকা থেকে সড়ক পথে ২০৩ কিলোমিটার এবং বিভাগীয় শহর সিলেট থেকে ৭৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। সড়ক পথে ঢাকা হতে মৌলভীবাজারের দূরত্ব ২০৩ কিলোমিটার।

ঢাকার সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল ও মহাখালী বাস স্টেশন থেকে মৌলভীবাজারে আসার সরাসরি দুরপাল্লার বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৪ হতে ৫ ঘন্টা। ঢাকা থেকে সরাসরি মৌলভীবাজারে আসার জন্য পরিবহণ কোম্পানিগুলো হচ্ছে – হানিফ এন্টারপ্রাইজ (এসি ও নন-এসি), শ্যামলী পরিবহন (এসি ও নন-এসি), সিলেট এক্সপ্রেস (নন-এসি), মৌলভীবাজার সিটি (নন-এসি), টিআর ট্রাভেলস (এসি), রূপসী বাংলা (এসি ও নন-এসি) এবং তাজ পরিবহন (নন-এসি)।

 

ভাড়া হলো- এসি বাসে – ৮০০ টাকা এবং নন-এসি বাসে – ৩০-৫০০০ টাকা।

সরাসরি চলাচলকারী পরিবহণগুলোর তথ্য পেতে যোগাযোগ করতে হবেঃ

এনা ট্রান্সপোর্ট (প্রাঃ) লিঃ মোবাইল ০১৭৬০-৭৩৭ ৬৫০ (মহাখালী), ০১৮৭২-৬০৪ ৪৯৮ (এয়ারপোর্ট), ০১৭৬০-৭৩৭ ৬৫১ (উত্তরা), ০১৭৬০-৭৩৭ ৬৫৩ (টঙ্গী), ০১৮৭২-৬০৪ ৪৭৫ (ফকিরাপুল), ০১৮৬৯-৮০২ ৭৩১ (মিরপুর);

  • হানিফ এন্টারপ্রাইজ – মোবাইলঃ ০১৭১১-৯২২ ৪১৭;
  • শ্যামলী পরিবহন – মোবাইলঃ ০১৭১১-৯৯৬ ৯৬৫;
  • সিলেট এক্সপ্রেস – মোবাইলঃ ০১৭১৩-৮০৭ ০৬৯;
  • মৌলভীবাজার সিটি – মোবাইলঃ ০১৭১৬-২৯১ ১১২;
  • টিআর ট্রাভেলস – মোবাইলঃ ০১৭১২-৫১৬ ৩৭৮;
  • রূপসী বাংলা – মোবাইলঃ ০১৭১৩-৮০৭ ০৬৯;
  • তাজ পরিবহন – মোবাইলঃ ০১৭১৬-৩৮৭ ৯৩১।

এছাড়াও সিলেট বিভাগের যেকোন স্থানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা দুরপাল্লার বাসে শ্রীমঙ্গলের মিরপুর বা শেরপুর এসে সেখান থেকে বাস, ম্যাক্সি, লেগুনা, সিএসজি অটোরিক্সা, জীপ প্রভৃতিতে করে মৌলভীবাজার জেলা সদরে আসা যায়। মিরপুর ও শেরপুর হচ্ছে সড়কপথে সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রবেশদ্বার ও প্রধান বাস স্টেশন এবং এখান দিয়েই মূল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক বিস্তৃত বলে যেকোন বাসে এখানে এসে তারপর মৌলভীবাজার আসা সম্ভব। ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে হানিফ, শ্যামলী, এনা, ইউনিক, মামুন, সাউদিয়া, গ্রীনলাইন, মিতালী প্রভৃতি পরিবহণ কোম্পানীর বাস আছে প্রতি ১০ মিনিট পর পর।

 

ভাড়া হলোঃ এসি বাসে – ১২০০ টাকা এবং নন-এসি বাসে – ৪০০ টাকা।

৭৬ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বিভাগীয় শহর সিলেট হতে ‘হবিগঞ্জ বিরতিহীন এক্সপ্রেস’ বাসে ২ থেকে ২:৩০ ঘন্টায় মৌলভীবাজার আসা যায়। এপথে ভাড়া নেয়া হয় ১২০ টাকা।

 

রেলপথ

রেলপথে ঢাকা হতে শ্রীমঙ্গল রেল স্টেশনের দূরত্ব ২৩১ কিলোমিটার; এখানে রেল যোগাযোগ নেই বিধায়, প্রথমে শ্রীমঙ্গল এসে তারপর জেলা শহরে মৌলভীবাজার আসতে হয়। ঢাকা থেকে সবচেয়ে নিকটবর্তী ও আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির স্থান শ্রীমঙ্গল।

ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন বা চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনে সরাসরি শ্রীমঙ্গল এসে সেখান থেকে সড়ক পথে মৌলভীবাজার আসা যায়; কারণ শ্রীমঙ্গল হচ্ছে রেলপথে সিলেট বিভাগে প্রবেশের অন্যতম প্রধান স্টেশন এবং এই শহরটির উপর দিয়েই মূল ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথটি বিস্তৃত। কমলাপুর রেল স্টেশন ও চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন সিলেটের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। ঢাকা – সিলেট এবং চট্টগ্রাম – সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলো হলোঃ

 

৭১০ পারাবত এক্সপ্রেস – শ্রীমঙ্গল হতে দুপুর ০৪ টা ৪৮ মিনিটে ছাড়ে এবং ঢাকায় রাত ০৯ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে (মঙ্গলবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে ভোর ০৬ টা ৩৫ মিনিটে ছাড়ে এবং শ্রীমঙ্গল পৌছে সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে (মঙ্গলবার বন্ধ);

৭১৮ জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস – শ্রীমঙ্গল হতে সকাল ০৯ টা ২১ মিনেটে ছাড়ে এবং ঢাকায় বিকাল ০৪ টায় পৌছে (বৃহস্পতিবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে দুপুর ১২ টায় ছাড়ে এবং শ্রীমঙ্গল পৌছে সন্ধ্যা ০৬ টা ৪৪ মিনিটে (কোন বন্ধ নেই);

৭২০ পাহাড়ীকা এক্সপ্রেস – শ্রীমঙ্গল হতে দুপুর ১২ টা ৩৬ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে রাত ০৭ টা ৪৫ মিনিটে পৌছে (শনিবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে দুপুর ১২ টায় ছাড়ে এবং শ্রীমঙ্গল পৌছে দুপুর ০২ টা ২৮ মিনিটে (সোমবার বন্ধ);

৭২৪ উদয়ন এক্সপ্রেস – শ্রীমঙ্গল হতে রাত ১১ টা ১১ মিনিটে ছাড়ে এবং চট্টগ্রামে ভোর ০৫ টা ৫০ মিনিটে পৌছে (রবিবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে দুপুর ১২ টায় ছাড়ে এবং শ্রীমঙ্গল পৌছে রাত ০৩ টা ২৭ মিনিটে (রবিবার বন্ধ);

৭৪০ উপবন এক্সপ্রেস – শ্রীমঙ্গল হতে রাত ১২ টা ১২ মিনিটে ছাড়ে এবং ঢাকায় ভোর ০৫ টা ১০ মিনিটে পৌছে (কোন বন্ধ নেই) ও ঢাকা থেকে রাত ০৯ টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে এবং শ্রীমঙ্গল পৌছে রাত ২ টা ৫০ মিনিটে (বুধবার বন্ধ);

৭৭৪ কালনী এক্সপ্রেস – শ্রীমঙ্গল হতে সকাল ০৮ টা ৫০ মিনিটে ছাড়ে এবং ঢাকায় দুপুর ০১ টা ২৫ মিনিটে পৌছে (শুক্রবার বন্ধ) ও ঢাকা থেকে বিকাল ০৪ টায় ছাড়ে এবং শ্রীমঙ্গল পৌছে রাত ৮ টা ০৫ মিনিটে (শুক্রবার বন্ধ)।

ঢাকা-সিলেট রুটে চলাচলকারী ট্রেনে শ্রীমঙ্গল আসার ক্ষেত্রে ভাড়া হলোঃ ২য় শ্রেণির সাধারণ – ৬০ টাকা; ২য় শ্রেণির মেইল – ৮০ টাকা; কমিউটার – ১০০ টাকা; সুলভ – ১২০ টাকা; শোভন – ২০০ টাকা; শোভন চেয়ার – ২৪০ টাকা; ১ম শ্রেণির চেয়ার – ৩২০ টাকা; ১ম শ্রেণির বাথ – ৪৮০ টাকা; স্নিগ্ধা – ৪৬০ টাকা; এসি সীট – ৫৫২ টাকা এবং এসি বাথ – ৮২৮ টাকা।

 

জল পথে

প্রচুর হাওড় ও নদী এবং বিল থাকা সত্ত্বেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে এ জেলার সরাসরি নৌ পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রচলন নেই বললেই চলে; কেবলমাত্র সিলেট ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকা থেকে এখানকার কয়েকটি উপজেলায় সরাসরি নৌ পথে আসা যায়।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!