নৈসর্গিক নেত্রকোনা

নৈসর্গিক নেত্রকোনা

ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস প্রাচীন ঐতিহ্যে টই-টুম্বুর ও ঐতিহ্যের বিচিত্র ঘটনা সম্ভারে গর্বিত। নেত্রকোনা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ময়মনসিংহ বিভাগের একটি প্রশাসনিক এলাকা। জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ জেলা, পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে ময়মনসিংহ জেলা। আয়তন: ২৭৪৭.৯১ বর্গ কিমি। জনসংখ্যা ১৯৮৮১৮৮; এ জেলায় গারো, হাজং, হদি, বানাই প্রভৃতি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। প্রদান নদী-ধনু নদী, ধলাই নদী, গুনাই নদী, ঘোড়াউতরা নদী, পিয়াইন নদী, সোমেশ্বরী নদী। ময়মনসিংহ গীতিকা, বাউল সঙ্গীত, পালাগীত, গারো সম্প্রদায়ের প্রবাদ, ছড়া এবং হাজং সম্প্রদায়ের শ্লোক (হিলুক), ধাঁধাঁ (থাচিকথা), গান (গাহেন) হচ্ছে জেলার লোকসংস্কৃতি।

 

নেত্রকোনা মহকুমা গঠিত হয় ১৮৮২ সালে এবং মহকুমাকে জেলায় রূপান্তর করা হয় ১৯৮৪ সালে। জেলার দশটি উপজেলা- কলমাকান্দা (সর্ববৃহৎ ৩৭৭.৪১ বর্গ কিমি), কেন্দুয়া, খালিয়াজুড়ি, দুর্গাপুর, নেত্রকোণা সদর, পূর্বধলা, বারহাট্টা, মদন এবং মোহনগঞ্জ।

 

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

কাহ্নপাদ (দ্বাদশ শতক) – চর্যাপদের চুরাশিজন বৌদ্ধ মহাসিদ্ধদের একজন; মনসুর বয়াতি (আনু. ১৮ শতক)- পল্লিকবি ও গায়ক; নলিনীরঞ্জন সরকার – অবিভক্ত ভারতবর্ষের মন্ত্রী, কলকাতার সাবেক মেয়র ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ; জ্ঞানচন্দ্র মজুমদার – ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব, অগ্নিযুগের বিপ্লবী এবং অনুশীলন সমিতির অন্যতম শীর্ষনায়ক; চন্দ্রকুমার দে – লেখক ও লোকগল্প, লোকগীতি গবেষক ও সংগ্রাহক; রশিদ উদ্দিন – প্রখ্যাত বাউল শিল্পী ও সাধক; জালাল উদ্দিন খাঁ – বিশিষ্ট বাউল কবি ও গায়ক; উকিল মুন্সী – বাউল শিল্পী-সাধক; কমরেড মণি সিংহ- প্রখ্যাত বামপন্থী রাজনীতিবিদ; রশিমনি হাজং – টঙ্ক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী নেত্রী; কুমুদিনী হাজং- টংক আন্দোলনের বিপ্লবী নেত্রী; যাদুমনি হাজং (বিশ শতক) – টঙ্ক আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী কর্মী; শৈলজারঞ্জন মজুমদার- রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ও গবেষক, সংগীতগুরু; মোহাম্মদ সিরাজুদ্দীন কাসিমপুরী – লোক সাহিত্য বিশারদ; খালেকদাদ চৌধুরী – খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক, গল্পকার, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক; গোলাম সামদানী কোরায়শী – বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট সহিত্যিক, গবেষক ও অনুবাদক; বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ – প্রখ্যাত আইনবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধান বিচারপতি এবং দু’বার দায়িত্বপালনকারী রাষ্ট্রপতি; যতীন সরকার – প্রগতিবাদী চিন্তাবিদ ও লেখক; খগেশ কিরণ তালুকদার – ফোকলোর গবেষক, শিক্ষাবিদ; কর্নেল আবু তাহের- মুক্তিযোদ্ধা, ১১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং বামপন্থী বিপ্লবী নেতা; মলয় কুমার গাঙ্গুলী  – বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক; নির্মলেন্দু গুণ – প্রখ্যাত কবি এবং চিত্রশিল্পী; হেলাল হাফিজ – জনপ্রিয় আধুনিক কবি; হুমায়ুন আহমেদ – জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক; মুহম্মদ জাফর ইকবাল- লেখক, পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ; ওবায়দুল হাসান শাহীন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর সাবেক চেয়রম্যান; আহসান হাবীব (কার্টুনিস্ট)- জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট, রম্য সাহিত্যিক ও একজন কমিক বুক রাইটার; বারী সিদ্দিকী – সংগীত শিল্পী, গীতিকার ও বাঁশি বাদক; অখিল পাল- বাংলাদেশের খ্যাতিমান ভাস্কর শিল্পী।

 

দর্শনীয় স্থান

বিরিশিরি উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী, বিজয়পুর সাদা মাটির খনি, দুর্গাপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, রাশিমনি স্মৃতিসৌধ, রাণীখং ক্যাথলিক চার্চ, গারো ব্যাপ্টিস্ট কনভেনশন ক্যাম্পাস (দুর্গাপুর), ৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার মাজার (কলমাকান্দা), মদনপুর শাহ সুলতান কমরুদ্দিনের মাজার। 

 

চিত্তাকর্ষক স্থান

  • হযরত শাহ সুলতান কমরউদ্দিন রুমি(র:) মাজার শরীফ,,মদনপুর,নেত্রকোনা সদর,
  • উপজাতীয় কালচারাল একাডেমী – বিরিশিরি, দুর্গাপুর উপজেলা;
  • বিজয়পুরের চিনামাটির পাহাড় – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • কমলা রাণীর দিঘী;
  • কমরেড মণি সিংহ-এর স্মৃতি বিজড়িত বাড়ি ও স্মৃতিস্তম্ভ – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • কুমুদীনি স্তম্ভ – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • সোমেশ্বরী নদী – দুর্গাপুর উপজেলা;
  • ডিঙ্গাপোতা হাওর – মোহনগঞ্জ উপজেলা;
  • চরহাইজদা হাওর
  • মগড়া নদী – মদন উপজেলা
  • কংস নদী
  • নিঝুম পার্ক
  • নারায়ণডহর জমিদার বাড়ি
  • বাঘবেড় জমিদার বাড়ি

 

জেলার ঐতিহ্য

ঐতিহাসিক স্থাপত্যনেত্রকোণা জেলায় অনেক প্রাচীন স্থাপত্য রয়েছে। সে সকল স্থাপত্যগুলো অধিকাংশই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। কিছু স্থাপত্য এখনো ইতিহাসের  সাক্ষী হয়ে আছে। নেত্রকোণার ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মদনপুরের হযরত শাহ্ সুলতান কমর উদ্দিন রুমি(র) মাজার, শাহ্ সুখূল আম্বিয়া মাজারের পাশে মোগল যুগের এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, পুকুরিয়ার ধ্বংশপ্রাপ্ত দূর্গ, নাটেরকোণার ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারতের স্মৃতি চিহৃ, দূর্গাপুর মাসকান্দা গ্রামের সুলতানি যুগের এক গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ।সুসলরাজসুসলরাজ রঘুনাথ সিংহ মাধবপুর ছোট পাহাড়ের উপর একটি শিব মন্দির স্থাপন করেছিলেন। সে মন্দিরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে গেছে। তবে মাধবপুরের সেই পাহাড়ে এখন পর্যন্ত অসংখ্য ভগ্নইট পাওয়া যায়। সুসল জমিদার বাড়ির শেষ অস্তিত্বও এখন বিলীন। ষোড়শ শতাব্দির প্রথম ভাগে সুসল রাজ জানকি নাথ মল্লিক এক বিশাল পুকুর খনন করেছিলেন। সে পুকুর স্থানীয় ভাবে কমলারাণী দীঘি নামে খ্যাত। একটি মাত্র পাড় ছাড়া কমলারাণীর দীঘির আর কোন চিহৃ নেই। কালে ভরাট হয়ে গেছে। সুসল রাজ পরিবারের প্রথম পুরুষ সুমেস্বর পাঠক একটি দশভূজা মন্দির স্থাপন করেছিলেন। সে মন্দিরটি কোথায় নির্মিত হয়েছিল তা এখন আর কেউ বলতে পারেন না।পূর্বধলার জমিদার বাড়ি ও পাগল পন্থিপূর্বধলার জমিদার বাড়ির অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়েছে স্বাধীনতার পূর্বেই। ঘাগড়া জমিদার বাড়ির প্রাচীন ইমারত গুলো ও বাঘবেড় এবং নারায়নদহ জমিদার বাড়ির ইমারতগুলো প্রায় বিলুপ্ত। সোনাইকান্দা, লেটিরকান্দা ও একই থানার লালচাপুর গ্রামের মোঘল যুগের মসজিদ গুলো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইচুলিয়া গ্রামের সুলতানি যুগের মসজিদ ও আগল সরকারের আক্রার মন্দিরটি ৭১ পরবর্তি কালে বিলুপ্ত হয়েছে। লেটিরকান্দা গ্রামে পাগল পন্থিদের পারিবারিক কবর রয়েছে। সে কবরস্থানে পাগল পন্থিকরণ শাহ্, টিপু শাহ্, ছপাতি শাহ্ সহ তাঁদের বংশের অন্যান্যদের কবর রয়েছে। সে কবরস্থানের প্রাচীরটি বৃটিশ শাসনামলে নির্মিত হয়েছিল, যা এখনো দাঁড়িছে আছে । কিন্তু পাগল পন্থিদের সমাধিগুলো আধুনিক টাইলসে বেঁধে দেয়ায় ঐতিহাসিক মূল্য হারিয়ে ফেলেছে।সাত পুকুর ও হাসানকুলী খাঁর সমাধিআটপাড়া থানার রামেশ্বরপুর ও সালকি গ্রামে সাতটি পুকুর রয়েছে। বিশাল এ পুকুরগুলো অতি প্রাচীনকালে খনন করা বলে মনে হয়। বড় পুকুরের পশ্চিম পাশে হাসানকুলী খাঁর সমাধি। সে সমাধিটি কালো শিলা দিয়ে বাঁধানো। হাসানকুলী খাঁ ছিলেন একজন পুঁথি লেখক। তার পুঁখির সুত্র ধরে বিচার করলে এ পুকুর ও সমাধিটি মোঘলযুগের বলে ধরে নিতে হয়। এ ছাড়া শুনই গ্রামের প্রাচীন দূর্গ এখন বিলুপ্ত।রোয়াইল বাড়ির প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনকেন্দুয়া থানার ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সংখ্যা যেমন বেশি তেমনি প্রাচীন। রোয়াইল বাড়ির প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন অন্যতম। ১৯৯২ খৃস্টাব্দে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কতৃক রোয়াইল বাড়িতে খনন কাজ পরিচালিত হলে বেরিয়ে আসে মসজিদ, দূর্গ, রাস্তা, পরিখা, কবরস্থান ও অনেক অট্টালিকা। তারমধ্যে বারোদুয়ারী ঢিবির দক্ষিণাংশে সমতল ভূমি। খননে আরো পাওয়া গেছে কারুকার্যময় অট্টালিকার চিহ্ন ও দূর্গে সৈনিকদের কুচকাওয়াজের প্রসস্ত মাঠ। ঐ প্রাচীন চিহ্নবহ স্থানটি ৮ হেক্টর। এটি আয়তকার ছিল বলে ধারনা করা হয়। দক্ষিণে বেতাই নদীর তীর ঘেঁষে ভাঙ্গন অথবা নোঙ্গরঘাটের জন্য দেয়াল গাঁথুনি ছিল। মূল দুর্গের দৈঘ্য ৪৫০ মিটার ও প্রস্থ ১৫৭ মিটার। ইটের পরিমাণ ৩৭১৮৬ সেন্টিমিটার। সন্মুখভাগে জোড়াদিঘি। এর একটির দৈঘ্য ২৭০ মিটার ও প্রস্থ ৭০ মিটার, অপরটির দৈঘ্য ১৫০ মিটার ও প্রস্থ ৯০ মিটার। খননে বেরিয়ে আসা মসজিদটির কারুকাজ ও ইটের আকৃতি সুলতানী আমলের। সংস্কার ও কারুকাজ সংযোজন হয়েছিল মুঘল যুগে।একই থানার জাফরপুর গ্রামে একটি মসজিদের ইটের নকশা ও কারুকাজে রোয়াইল বাড়ির মসজিদের ইট ও কারুকাজের সঙ্গে মিল রয়েছে। মনে হয় এ দুটি মসজিদ একই সময়ে প্রাতিষ্ঠা লাভ করেছিল। একই এলাকা পরিখা বেষ্টিত ছিল বলে প্রমাণ মিলে। নোয়াপাড়া গ্রামের জমিদার ও আশুলিয়া গ্রামের অনেক প্রাচীন স্থাপত্য আজ বিলুপ্ত।প্রাচীন নিদর্শনমদন থানার ফতেপুর ও জাহাঙ্গীরপুরের দেওয়ানদের বাতিঘরের অস্তিত্ব এখন আর নেই। চাঁনগাও গ্রামে ১টি প্রচীন মসজিদ রয়েছে। ধারনা করা হয় মসজিদটি মোঘল যুগে নির্মিত হয়েছিল। জেলার মোঘল যুগে নির্মিত অন্যান্য মসজিদের আকৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে। এছাড়া মদন সদরে শাহ্ সুফি সাধক সৈয়দ আহম্মদ বসরির মাজার শরীফ। বারহাট্রা থানার পিরিজপুর গ্রামে প্রাচীন জোড়া পুকুর। এর মধ্যে বড় পুকুরটি ৬ শতাংশ ও ছোট পুকুরটি ২ শতাংশ ভূমি নিয়ে গঠিত। প্রাচীন পাট্রা ইটের গাথুনীতে পুকুরের ঘাট বাঁধানো ছিল। তার ধ্বংসপ্রাপ্তের চিহ্ন এখনো পরিলক্ষিত হয়। বাড়ির নাম কোর্টবাড়ি, বাজার এখন না থাকলেও স্থানের নাম দেওয়ানের বাজার। সে এলাকায় ভগ্ন ইটের ছড়াছড়ি রয়েছে। বাড়ি নির্মাণের পরিবেশ এখনো চমৎকার। আমঘোয়াইল গ্রামের দক্ষিণের সাউথপুরে একটি ভাঙ্গা ইমারত রয়েছে। যা ৩৬০ বর্গফুট। এ ইমারতটি অতি প্রাচীন তা সহজেই অনুমিত হয়। সিংদা গ্রামে একটি প্রাচীন দেব মন্দির ছিল। মন্দিরটি এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। বারহাট্রা বাজারের মন্দিরটিও অতি প্রাচীন তা সহজেই অনুমিত হয়।মোহনগঞ্জের সেখের বাড়ির মসজিদটি সুলতানি আমলে নির্মিত। মাঘান গ্রামে মোঘল যুগের আরো একটি মসজিদ রয়েছে। দৌলতপুর গ্রমে ৮৭৬ বঙ্গাব্দে নির্মিত পাশাপাশি দুটি মন্দির আছে। সেথায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারতগুলো এখন তার শেষ চিহ্নও ধরে রাখতে পারেনি।খালিয়াজুরী থানার প্রাচীন স্থাপত্য বলতে শুধুমাত্র একটি পর্যবেক্ষণ ইমারতের ভাঙ্গা অংশ রয়েছে। সেই ইমারতটি প্রাচীন বলে অনুমান করা হয়।

 

বিখ্যাত খাবার

বালিশ মিষ্টি বাংলাদেশের নেত্রকোনা জেলার একটি প্রসিদ্ধ মিষ্টি। এটি আকারে বালিশের মত বড় না হলেও দেখতে অনেকটা বালিশের মত, এবং এর উপরে ক্ষীরের প্রলেপ থাকাতে একটি আবরণীসমেত বালিশের মত দেখায়। এই মিষ্টি গয়ানাথের বালিশ নামেও পরিচিত।

বালিশ মিষ্টির জনক গয়ানাথ ঘোষাল। হিন্দুদের মধ্যে ঘোষ পরিবার মিষ্টি তৈরিতে বিখ্যাত। নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোডের ‘গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার’-এর স্বত্বাধিকারী গয়ানাথ ঘোষ শত বছরেরও বেশি সময় আগে বালিশ মিষ্টি উদ্ভাবন করেন। গয়ানাথের স্বপ্ন ছিল নতুন কোন ধরনের মিষ্টি আবিষ্কার করে অমর হয়ে থাকা। একদিন তিনি বিশাল সাইজের একটি মিষ্টি তৈরি করলেন এবং ক্রেতাদের খেতে দিলেন এবং ক্রেতারা খুব প্রশংসা করলো। এর আকার অনেকটা কোল বালিশের মতো (টাঙ্গাইলের চমচমের মতো)। তাই ক্রেতাদের পরামর্শে মিষ্টিটির নাম রাখেন বালিশ। স্বাদে অতুলনীয় হওয়ায় অল্পদিনেই সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে বালিশের নাম। এর উদ্ভাবক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান গয়ানাথ ঘোষও। তাই এক সময় তাঁর নামটিও জড়িয়ে যায় বালিশের সঙ্গে। লোকমুখে বালিশের নাম হয়ে ওঠে ‘গয়ানাথের বালিশ’। সে সময়ে শুধু তার দোকানেই এই মিষ্টি বিক্রি হতো। কিন্তু এখন তার দোকান ছাড়াও অন্যান্য দোকানেও বিক্রি হয় বালিশ মিষ্টি।

 

যোগাযোগ ব্যবস্থা

আন্তজেলা যোগাযোগ: নেত্রকোণা থেকে ঢাকা ও ময়মনসিংহ, সরাসরি বাস ও ট্রেন। সিলেট, কিশোরগঞ্জ, মৌলভীবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, চট্রগ্রাম, পঞ্জগড়, বগুড়া, টাংগাইল, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, দেবীগঞ্জ, খুলনা, পাবনা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোহর, নেত্রকোণা জেলা থেকে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে।

 

জেলার অভ্যন্তরীন যোগাযোগ ব্যবস্থা

জেলার সাথে ঢাকার যোগাযোগ সড়ক পথঃ  প্রায় ১৬২ কিঃমিঃ(নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ-৩৯ কিঃমিঃ; ময়মনসিংহ শহর-৩ কিঃ মিঃ এবং ময়মনসিংহ-ঢাকা-১২০ কিঃমিঃ),সড়ক পথে বাসযোগে সরাসরি যাতায়াত চালু আছে।

 

জেলার সাথে উপজেলার (Head Quarter)যোগাযোগ

১. নেত্রকোণা সদরঃ   ১০০ মিটার, ৫ মিনিট

২. বারহাট্টাঃ   ১৬ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-৪০ মিনিট।

৩. আটপাড়াঃ   ১৯ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-৪৫ মিনিট।

৪. কেন্দুয়াঃ   ২৭ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-৪০মিনিট।

৫. মদনঃ   ৩০ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-১ ঘন্টা।

৬. মোহনগঞ্জঃ    ৩০ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-১ ঘন্টা।

৭. পূর্বধলাঃ    ২০ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-১ ঘন্টা।

৮. দুর্গাপুরঃ    ৪৫ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-২ ঘন্টা।

৯. কলমাকান্দাঃ    ৩৩ কিঃমিঃ, সড়ক পথে যাতায়াতের সময়-২ ঘন্টা।

১০.খালিয়াজুরীঃ   ৫৫.০০ কিঃ মিঃ, বর্ষাকালে ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও মোটর গাড়ী/বাস যোগে ৩.০০ ঘন্টা, শুষ্ক মৌসুমে মোটর গাড়ী/বাস ও মোটর সাইকেলযোগে ৩.৩০ ঘন্টা এবং মোটর গাড়ী, ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও পদব্রজে ৪.৩০ ঘন্টা।

 

রেলপথঃ প্রায় ১৮৩ কিঃ মিঃ, নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন সার্ভিস এবং নেত্রকোণা থেকে ঢাকা- আন্তঃ নগর ও লোকাল ট্রেন সার্ভিস চালু আছে। আন্তঃ নগর ট্রেন হাওড় এক্সপ্রেস সকাল ৮:৩০ মিনিটে মোহনগঞ্জ উপজেলা থেকে যাত্রা শুরু করে দুপুর ২:৪০ মিনিটে ঢাকা পৌছায় এবং রাত ১১:৫০ মিনিটে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল ৬:১০ টায় মোহনগঞ্জ উপজেলা পৌছায়।

 

রেলস্টেশনের কাউন্টার থেকে নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ এবং নেত্রকোণা-ঢাকা আন্তঃনগর ট্রেন হাওর এক্সপ্রেসের টিকেট সরবরাহ করা হয়।

নেত্রকোণা রেল স্টেশনঃ ট্রেনের সময়সূচী

 

ডাউন ট্রেন

ট্রেন নং ট্রেনের নাম প্রারম্ভিক ষ্টেশন প্রারম্ভিক ষ্টেশন হতে ছাড়ে নেত্রকোণা গন্তব্য ষ্টেশন পৌঁছে
পৌঁছে ছাড়ে
৭৭৭ হাওর এক্সপ্রেস (আন্তঃনগর) ঢাকা ২৩.৫০ ৪.৩৫ ৪.৩৭ মোহনগঞ্জ ০৬.১০
২৬২ লোকাল ময়মনসিংহ ০৬.০০ ০৭.৩৩ ৭.৩৫ মোহনগঞ্জ ০৯.২০
২৬৪ লোকাল ময়মনসিংহ ১৩.৩০ ১৫.১৩ ১৫.১৫ মোহনগঞ্জ ১৬.৩৫
৪৩ মহুয়া এক্সপ্রেস ঢাকা ১২.২০ ১৮.০৮ ১৮.০৬ মোহনগঞ্জ ১৯.১০

 

আপ ট্রেন

ট্রেন নং ট্রেনের নাম প্রারম্ভিক ষ্টেশন প্রারম্ভিক ষ্টেশন হতে ছাড়ে নেত্রকোণা গন্তব্য ষ্টেশন পৌছে
পৌঁছে ছাড়ে
৭৭৮ হাওর এক্সপ্রেস (আন্তঃনগর) মোহনগঞ্জ ০৮.৩০ ৯.২৮ ৯.৩০ ঢাকা ১৪.৪০
২৬১ লোকাল মোহনগঞ্জ ০৯.৪০ ১০.৪৯ ১০.৫১ ময়মনসিংহ ১২.৩০
২৬৩ লোকাল মোহনগঞ্জ ১৭.৩০ ১৯.০০ ১৯.০২ ময়মনসিংহ ২০.৫০
৪৪ মহুয়া এক্সপ্রেস মোহনগঞ্জ ২০.৩০ ২১.৩৮ ২১.৪০ ঢাকা ০৪.০০

 

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!