নিঝুম দ্বীপ

Back to Posts

নিঝুম দ্বীপ

নিঝুম দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠা একটি ছোট দ্বীপ যা চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলার অন্তর্গত। পূর্বে চর ওসমান নামে এ দ্বীপ পরিচিত ছিল। মূল ভূখণ্ডের হাতিয়া উপজেলা সদর থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। সমুদ্র বালুচরবেষ্টিত ছোট্ট সবুজ ভূখণ্ড নিঝুম দ্বীপে রয়েছে অগণিত শ্বাসমূলে ভরা কেওড়া বাগান। দ্বীপের এক পাশ সাদা বালুচর অন্য পাশে সৈকত। আর সৈকতে হেলে পড়ে অস্তগামী সূর্য, হাজার পাখির কলতান নিস্তব্দতার ঘুম ভাঙ্গায়, মায়াবী হরিনের পদচারনায় মুখরিত হয় জনপদ, সারি সারি কেওড়া গাছের কোল ঘেষে বয়ে চলে নদী, চুপিসারে কাছে ডাকে, মায়াবী ইন্দ্রজানে বেধে ফেলে প্রকৃতিপ্রেমীদের। 

নিঝুম দ্বীপ- সত্যিই নিঝুম। একবারই স্বতন্ত্র, সব কিছুর বাহিরে। এ এমনই এক মায়াবী অরণ্য ঘেরা প্রকৃতি যা শহুরে কাজের মধ্যে ডুবে থাকা মানুষগুলোকে দেয় এক নতুন জীবন। তবে এখানে নেই পর্যটনের চাকচিক্য, রং বেরং এর বাতির ঝলক কিংবা যান্ত্রিক কোন বাহনের বিকট শব্দ।  শীতকালে দেখা মিলে অতিথি পাখির মেলা। প্রাণীকুলের অভয়ারণ্য সবুজ চিরে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায় হরিনের দল। হঠাৎ-ই চোখে পড়বে সমুদ্রকোল হতে সরু খাল সবুজের বুক চিরে চলে গেছে গহীন বনে। সে যে সবুজ আর নোনা জলের কি এক প্রেমকাব্য না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। যেন সবুজ গালিচা বিছিয়ে দেয়া হয়েছে সমুদ্রের তলানী পর্যন্ত। স্বচ্ছ পানির নিচে সবুজ ঘাষ আর মাছেরা খেলা করে আপন খেয়ালে। দেখলেই মন চাইবে ঝাপিয়ে পড়ে পরাণ জুড়াই।

১৯৪০ এর দশকে এই দ্বীপটি বঙ্গোপসাগর হতে জেগে উঠা শুরু করে। চর গঠনের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ৪০ এর দশকের শেষদিকে নিঝুমদ্বীপ তৃণচর বা গোচারণের উপযুক্ত হয়ে উঠে। মাছ ধরতে গিয়ে হাতিয়ার জেলেরা নিঝুমদ্বীপ আবিস্কার করে। পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি নিঝুমদ্বীপে জনবসতি শুরু হয়। মূলত হাতিয়ার জাহাজমারা ইউনিয়ন হতে কিছু জেলে পরিবার প্রথম নিঝুমদ্বীপে আসে। নিঝুমদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় প্রচুর ইছা মাছ (চিংড়ি মাছ) ধরা পড়তো বিধায় জেলেরা এই দ্বীপের নাম দেয় ‘‘ইছামতির দ্বীপ’’। এই দ্বীপটিতে মাঝে মাঝে বালির ঢিবি বা টিলার মত ছিল বিধায় স্থানীয় লোকজন এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেও ডাকতো। কালক্রমে ইছামতি দ্বীপ নামটি হারিয়ে গেলেও স্থানীয় লোকেরা এখনো এই দ্বীপকে বাইল্যার ডেইল বলেই সম্বোধন করে। নিঝুম দ্বীপ বা বাইল্যার ডেইল যে নামই হোক না কেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের দিয়ারা জরিপ বিভাগ এই দ্বীপের জমি চর ওসমান মৌজা হিসেবে জরিপ করে। কথিত আছে সর্দার ওসমান নামের এক সাহসী বাথানিয়া ১০০ মহিষ নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পাড়ি দিয়ে প্রথম এই দ্বীপে অসে এবং দিয়ারা জরিপ কর্মচারীদেরকে জরিপ কাজে প্রভূত সহায়তা করে বিধায় তার নামে অনুসারে নিঝুম দ্বীপে মৌজার সরকারি নাম হয় ‘চর ওসমান’। সমগ্র নিঝুম দ্বীপের প্রায় ৩০০০.০০ একরে মানুষের বসতি রয়েছে এবং অবশিষ্ট অংশে ম্যানগ্রোভ বনায়ন রয়েছে। ইছামতির দ্বীপ, বাইল্যার চর বা চর ওসমান যে নামেই স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হোক না কেন ৮০ এর দশকের শুরু হতে এই দ্বীপটি বাংলাদেশের জনগণের নিকট নিঝুম দ্বীপ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

কখন যাবেন

অক্টোবর থেকে এপ্রিল এখনকার আবহাওয়া অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের জন্য ভালো। অন্য সময় বর্ষা থাকে ও ঝড়ের কারনে মেঘনা নদী ও সাগর উত্তাল থাকে।

বর্ষাকালে গেলে পুরা হাটু সমান কাদা থাকবে ও পুরা দ্বীপের এমাথা ও মাথা আপনাকে হেঁটে পার হতে হবে, কাঁদার কারণে রাস্তায় কিছু চলতে পারেনা। তবে মাছ খেতে পারবেন প্রচুর। শীত কালে গেলে রাস্তাঘাট সব ভালো পাওয়া যাবে, খালের মধ্যে পানি কম থাকবে, ফলে বনের মধ্যে যেকোনো জায়গায় যাওয়া যাবে, বিকেলে হরিণের পাল দেখা যাবে, সমুদ্র সৈকত শুকনো থাকবে। শরতকাল আর বসন্তকাল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে নিঝুমদীপে ২ ভাবে যাওয়া যায় – সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে এবং ট্রেন/বাসে নোয়াখালী হয়ে।

সড়ক বা রেল পথে- যেকোন পরিবহনের বাসে যেতে হবে নোয়াখালীর সোনাপুরে। প্রতিদিন সকাল দুপুর ও সন্ধ্যায় ঢাকার সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে নোয়াখালীর সোনাপুর এর দিকে বাস ছেড়ে যায়। অথবা রেলে করে নোয়াখালীর মাইজদি পর্যন্ত যাওয়া যাবে। ঢাকা কমলাপুর থেকে বৃহস্পতি বার বাদে, প্রতিদিন বিকাল ৪.২০ মিনিট এ ৭১২ নং আন্তঃনগর উপকুল এক্সপ্রেস নোয়াখালী এর দিকে ছেড়ে যায়, মাইজদি পৌঁছে রাত ১০.২২ মিনিট। ভাড়া – স্নিগ্ধা – ৫০৩ টাকা, প্রথম চেয়ার – ৩৫৫ টাকা, শোভন চেয়ার – ২৭০ টাকা, শোভন – ২৩০ টাকা।

নোয়াখালীর সোনাপুর / মাইজদি থেকে স্থানীয় বাস বা সিএনজিতে করে নামতে হবে বয়ার চর – চেয়ারম্যান ঘাটে।

চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সি-ট্রাক, ট্রলার ও স্পীড বোট ছাড়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সি-ট্রাক ছাড়ে প্রতিদিন সকাল ৮ টায়। ভাড়া জনপ্রতি – ৮০ টাকা, ট্রলার – ১২০ – ১৫০ টাকা ভাড়া প্রতিজন ও স্পীড বোট জনপ্রতি ভাড়া – ৪০০-৫০০ টাকা। যাত্রীদেরকে নামাবে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটে, নলচিরা থেকে বেবিটেক্সিতে (৬০০-৭০০) করে যেতে হবে মোক্তারিয়া ঘাটে, সরাসরি নলচিরা ঘাট থেকে মোটর সাইকেল রিজার্ভ করে মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায়। ভাড়া দুই জন ৩৫০ – ৪৫০ টাকা, দর দাম করে ঠিক করে নেয়া যেতে পারে। সেখান থেকে ট্রলারে ১৫ মিনিট লাগবে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে যেতে। ভাড়া জনপ্রতি – ১০ টাকা। এরপর আপনি যদি নামার বাজার থাকেন তবে ভ্যান/রিক্সা/মোটর সাইকেল এ যেতে হবে। ভাড়া ৮০-১০০ টাকা মটরসাইকেল দুইজন। বন্দর টিলায় ও থাকতে পারেন। নলচিরা থেকে নোয়াখালী চেয়ারম্যান ঘাট যাওয়ার ফিরতি সী ট্রাক ছাড়ে সকাল ১১ টায়।

জল পথে- লঞ্চে করে ঢাকার সদরঘাট থেকে যেতে হবে। ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ২ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে – মোট ৪ টা লঞ্চ ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে প্রতিদিন ২টি করে ছেড়ে যায়, প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ মিনিট এবং সন্ধ্যা ৬.০০ মিনিটে। লঞ্চ গুলোর নাম এম.ভি ফারহান – ৩ ও ৪ এবং এম. ভি. তাসরিফ – ১ ও ২। এম. ভি. তাসরিফ লঞ্চগুলো সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে এই পথে চলাচল করছে। এদের মধ্যে প্রতিদিন ২টা করে লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টায় এবং ৬ টায় ছেড়ে যায়। সেটি হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে পৌঁছবে পরদিন সকাল ৮-৯ টায়। আপনাকে নামতে হবে হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে । (ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর ১২.৩০ টায় এবং ১.৩০ টায়)

এম.ভি. ফারহান – ৩ : +৮৮০ ১৭৮৫৬৩০৩৬৫, এম. ভি. ফারহান – ৪ : +৮৮০ ১৭৮৫৬৩০৩৭০ এম.ভি. তাসরিফ- ১ : +৮৮০ ১৭৩০৪৭৬৮২২, এম.ভি. তাসরিফ-২ : +৮৮০ ১৭৩০৪৭৬৮২৪

কোন কারনে হাতিয়ার লঞ্চে উঠতে না পারলে বিকাল ৬.৩০ মিনিটে সম্পূর্ণ নতুন ভাবে চালু করা এম ভি টিপু-৫ অথবা এম ভি পানামা লঞ্চে করে তজুমুদ্দিন অথবা মনপুরা নেমে গিয়ে হাতিয়ার লঞ্চ ধরা যাবে অথবা মনপুরা থেকে ট্রলারে করে হাতিয়া যাওয়া যাবে। এই লঞ্চ দুটো এই রুটে চলেঃ

ঢাকা – চাঁদপুর – কালিগঞ্জ (মেহেন্দীগঞ্জ) – বিশ্বরোড (ভোলা) – দৌলত খাঁ (ভোলা) – মির্জাকালু – শরাশগঞ্জ – ভোলা তজুমুদ্দিন – মনপুরা (রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট) ও মনপুরা হাজির হাট লঞ্চ ঘাট।

বিশেষ কারনে যদি এই দুটো অর্থাৎ টিপু -৫ বা পানামা লঞ্চ। এছাড়া বিকাল ৬.৩০ মিনিট এম ভি ফারহান-৬ অথবা ফারহান-৭ লঞ্চ এ করে তজুমুদ্দিন গিয়ে হাতিয়ার লঞ্চ ধরতে পারবেন অথবা তজুমুদ্দিন থেকে ট্রলার এ হাতিয়া যেতে পারবেন।

এম ভি ফারহান – ৬ অথবা ফারহান – ৭ লঞ্চ দুটো এই রুটে চলে: ঢাকা-ফতুল্লা-কালিগঞ্জ(মেহেন্দীগঞ্জ)-বিশ্বরোড (ভোলা)-দৌলত খাঁ (ভোলা)-মির্জাকালু-শরাশগঞ্জ-ভোলা তজুমুদ্দিন-শরশী সী-ট্রাক ঘাট-মঙ্গল শিকদার- বেতুয়া (চরফ্যাশন)। আপনাকে নামতে হবে তজুমুদ্দিন লঞ্চ ঘাটে।

লঞ্চে গেলে ভাড়া পড়বে- ডেকে ২০০ টাকা, একা কেবিন- ৮০০+ টাকা, দ্বৈত-১৫০০+ টাকা, পরিবার-২৫০০/৩০০০, ভিআইপি -৪০০০/৫০০০ হাতিয়া এর তমুরদ্দী ঘাট পর্যন্ত।

তমুরদ্দী ঘাট থেকে বেবি টেক্সিতে (৫০০-৬০০ টাকা) সরাসরি মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায় অথবা সরাসরি মোটর সাইকেল রিজার্ভ করে মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায় ভাড়া দুই জন ৩০০ – ৩৫০ টাকা। সেখান থেকে ট্রলারে ১০ মিনিট লাগবে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে ভাড়া জনপ্রতি – ১০ টাকা। এরপর আপনি যদি নামার বাজার থাকেন তবে ভ্যান/রিক্সা/মোটর সাইকেল এ যেতে হবে। ভাড়া ৮০-১০০ টাকা মটরসাইকেল দুইজন। বন্দর টিলায় ও থাকতে পারেন। প্রতিদিন সকাল ১০ টায় তমুরদ্দি থেকে মাছ ধরার ট্রলার সরাসরি নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার যায়। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় হলে যেতে পারেন মেঘনা নদীর বুক চিরে ট্রলারে। নিঝুম দ্বীপে ভাড়া যার কাছে যেমন রাখে ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া আপনি ট্রলার রিজার্ভ করতে পারেন নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার ভাড়া ট্রলারের আকার অনুযায়ী ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা।

চট্রগাম থেকে হাতিয়া আসতে হলে’, চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়াগামী জাহাজ এম ভি বার আওলিয়া অথবা এম ভি আব্দুল মতিন এ উঠে হাতিয়ার নলচিরা ঘাট এ নামতে হবে। শুক্র ও রবিবার বাদে প্রতিদিন সকাল ৮.৩০ এ চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে জাহাজ ছেড়ে যায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে। সন্দীপ হয়ে হাতিয়া পৌছে বিকাল ৫ টায়। সময়সূচী : প্রতিদিন সকাল ৯ টা (শুক্র ও রবিবার বাদে)

স্থান : চট্টগ্রাম সদরঘাট, ভাড়া : প্রথম শ্রেনী/ দ্বিতীয় শ্রেনী/ চেয়ার ক্লাস, সন্দীপ : ১২০০/- ৬২০/- ২৩০/- হাতিয়া : ২২১৫/- ১১১০/- ৩৫০/-

রাত্রীযাপন

নিঝুম দ্বীপে বেশ কয়েকটি হোটেল আছে

  • নিঝুম রিসোর্ট (অবকাশ হোটেল) নামার বাজারঃ এটা অবকাশ পর্যটন লিমিটেডের একটা রিসোর্ট। নামার বাজার সমুদ্র সৈকতের কাছে অবস্থিত। নিঝুম রিসোর্ট নামে নিঝুম দ্বীপে থাকার জন্য একটি ভালো মানের রিসোর্ট। এখানে ২ কক্ষের ভিআইপি রুম ভাড়া ২০০০ টাকা, ২ কক্ষের রুম ভাড়া ১৫০০ টাকা, ৩ কক্ষের এক্সিকিউটিভ রুম ভাড়া ১৮০০ টাকা, ৪ কক্ষের এক্সিকিউটিভ রুম ভাড়া ২০০০ টাকা, ৫ কক্ষের পারিবারিক কক্ষ ভাড়া ৩০০০ টাকা এবং ৫ বেড এর শয়নালয় রুম ভাড়া ১৮০০ টাকা ও ১২ বেড এর শয়নালয় রুম ভাড়া ৩০০০ টাকা। যোগাযোগঃ ঢাকা অফিসঃ অবকাশ পর্যটন লি., আলহাজ সামসুদ্দিন ম্যানসন (নবম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা। ফোন : ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯। নিঝুম দ্বীপ অফিস: ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪, ০১৮৪৫৫৫৮৮৯৯ , ০১৭৩৮২৩০৬৫৫
  • হোটেল শাহিন, নামার বাজার। ফোন নম্বরঃ ০১৮৬৩১৫০৮৮১
  • হোটেল সোহেল, নামার বাজার। ফোন: ০১৮৬৮৬১২১৩৫ (শাহজাহান)।
  • মসজিদ বোর্ডিং, নামার বাজার। এটা সবচেয়ে সস্তায় থাকার ব্যবস্থা। স্থানীয় মসজিদ থেকে এই ব্যবস্থা করেছে, অতিরিক্ত দুটি একক এবং দুটি দুই কক্ষ আছে, আর সব শয়নালয় । শয়নালয় – ভাড়া ২০০ – ৩০০ টাকা। যোগাযোগ: মোঃ আব্দুল হামিদ জসিম, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, নামার বাজার, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোনঃ ০১৭২৭-৯৫৮৮৭৯
  • নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, বন্দরটিলা।
  • হোটেল দ্বীপ সম্পদ (থাকা ও খাওয়ার হোটেল) নামার বাজার। ফোনঃ ০১৭২০ ৬০১ ০২৬, ০১৭৬০ ০০৮১০৬।
  • হোটেল শেরাটন, বন্দরটিলা বাজার ।
  • জেলা প্রশাসন ডাক বাংলো।

খাবার

খাবার জন্য নিঝুম দ্বীপের নামার বাজারের কিছু হোটেল আছে। বিদ্যুৎ নেই বলে সব টাটকা খাবার পাওয়া যায়। দেশি মুরগি, মাছ, হাঁস, গরুর মাংশ সব খড়ির চুলায় রান্না করা। যদি নিজের পছন্দের কিছু খেতে চান, তাহলে তাঁদের বলুন অথবা তাদেরকে কিনে দিলে তারা রান্না করে দিতে পারবে। আর প্রায় সব থাকার হোটেলে বারবিকিউর চুলা থাকে, হোটেলের বয়দের সহায়তায় অথবা আপনি নিজেই বানিয়ে নিতে পারেন বিভিন্ন মাছ বা মুরগির বারবিকিউ। মাছের জন্য হোটেল সোহেলের পাশে ২টি আড়ত আছে।

দর্শনীয় স্থান

  • কমলার দ্বীপ: সেখানের কমলার খালে অনেক ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। এছাড়াও আশে পাশের দ্বীপগুলো সুন্দর। পুরো দ্বীপটা হেঁটে হেঁটে ঘুরে আসা যায়,মন ভরে যাবে। ঘূর্ণিঝড়ের পরে জাহাজ থেকে এই দ্বীপে কয়েক বাক্স কমলা পড়ে থাকতে দেখে এর নামকরন করা হয় কমলার দ্বীপ।
  • চৌধুরী খাল ও কবিরাজের চরঃ বিকেলে যেতে হবে, চৌধুরীর খাল নেমে ঘন্টা খানেক হাঁটলেই বনের মধ্যে হরিন এর পালের দেখা পেতে পারেন। একটা ট্রলার রিজার্ভ নিন ১০-১৫ জনের গ্রুপ এর জন্য ১০০০-১২০০ টাকা ওরাই হরিন দেখিয়ে আনবে, সন্ধ্যার সময় কবিরাজের চর এ নেমে সূর্যাস্ত ও হাজার হাজার মহিষের পাল দেখতে ভুলবেন না।
  • চোয়াখালি ও চোয়াখালি সমুদ্র সৈকতঃ চোয়াখালি তে গেলে খুব সকালে হরিন দেখা যায়
  • ম্যানগ্রোভ বন: নিঝুম দ্বীপ বনায়ন প্রকল্প। আছে কেওড়া গাছ আর লতাগুল্ন।
  • নামার বাজার সমুদ্র সৈকত
  • দমার চর: বঙ্গোপসাগরের সম্প্রতি আরো একটি সমুদ্র সৈকত জেগে উঠেছে। সৈকতটি একেবারে আনকোরা, কুমারী। একে এখন ডাকা হচ্ছে ‘কুমারী সমুদ্র সৈকত’ বলে। নিঝুম দ্বীপের লোকজন এবং মাছ ধরতে যাওয়া লোকেরা এই সৈকতকে বলে ‘দেইলা’ বা বালুর স্তুপ।

ট্রলার এর মাঝির নম্বরঃ জাকির – ০১৭৮৭ ৬০৫ ৪৪৪

ক্যাম্পিং এর সুবিধা ভরপুর পুরা দ্বীপে। সবচাইতে ভালো যায়গা হলো নামার বাজারে নিঝুম রিসোর্ট এর পাশের খাল পার হয়ে সাগর পাড়ের বিশাল (৫/৬ মাইল) খোলা মাঠটা।

তথ্য সহযোগিতার প্রয়োজনে যোগাযোগঃ  শাহাদাত হোসেন, উদ্যোক্তা, জাহাজমারা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, হাতিয়া, মোবাইল- 01711139090

Share this post

Comment (1)

  • AffiliateLabz Reply

    Great content! Super high-quality! Keep it up! 🙂

    February 16, 2020 at 11:40 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!