হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়

হিমালয় কন্যা পঞ্চগড়

হিমালয় কন্যা পঞ্চগড় বাংলাদেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা এবং তিন দিক থেকে ভারতের সীমান্তঘেষা। হাজার বছরের গৌরব-গাঁথা, প্রাচীন ইতিহাস ঐতিহ্যের অগনিত স্মৃতি চিহ্ন ধারণ করে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের নানান মঞ্চ নিয়ে পর্যটন নগরী হিসেবে যে উপাদান প্রয়োজন তার সবই বিদ্যমান রয়েছে পঞ্চগড় জেলায়। দেশের যে কোন জেলার চেয়ে এখানে আইন শৃংখলা পরিস্থিতি ভাল। পঞ্চগড়ের মানুষজন অতি সহজ সরল এবং অতিথি পরায়ন। এখান থেকে হেমন্ত ও শীতকালে অবলোকন করা যায় কাঞ্চনজংঘার অপরূপ দৃশ্য যা পর্যটকদের অতি সহজে আকৃষ্ট করে। পঞ্চগড়ে রয়েছে সমতল ভূমিতে চা বাগানের অপার সৌন্দর্য্য। রয়েছে বাংলাদেশের একমাত্র রকস মিউজিয়াম। রয়েছে মহানন্দা নদীর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ডাকবাংলো যেখান থেকে দুই বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

পঞ্চগড় জেলা রংপুর বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। যার উত্তরে ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুঁড়ি জেলা, উত্তর পূর্ব ও পূর্বে জলপাইগুঁড়ি ও কুচবিহার জেলা এবং বাংলাদেশের নীলফামারী জেলা, পশ্চিমে ভারতে পুর্নিয়া ও উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বে ঠাকারগাঁও ও দিনাজপুর জেলা অবস্থিত।

রাজধানী ঢাকা থেকে ৪৯৪ কিলোমিটার দূরে দেশের সর্ব উত্তর প্রান্তে অবস্থিত পঞ্চগড় জেলার আয়তন প্রায় ১,৪০৪.৬২ বর্গ কি.মি। আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর ও বোদা – এই ০৫টি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত জেলাটিতে আছে  থানা- ৫টি, পৌরসভা- ২টি, ইঊনিয়ন- ৪৩টি ও গ্রাম- ৮২৫টি।

পঞ্চগড়ে ২৩টি নদী রয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকটি প্রধান নদী হলো করতোয়া, তিস্তা, নাগর, মহানন্দা, টাঙ্গন, দহুক, পথরাজ, ভুলি, তালমা, চাওয়াই, কুরুম, তিরোনি এবং চিলকা। লোকসংস্কৃতি হিসেবে ভাওয়াইয়া গান, সত্যপীরের গান, জঙ্গের গান, বৈষ্ণব গান, বাউল গান, মর্সিয়া, নটুয়া, গুরুসঙ্গীত, কীর্তন, কবি গান, লোকগাঁথা, লোকনাট্য, প্রবাদ-প্রবচন, ছড়া, ধাঁধাঁ উল্লেখযোগ্য।

পঞ্চগড় একটি প্রাচীন জনপদ। প্রাচীন ও মধ্য যুগে এই ভূখন্ডের পাশেই ছিল মগধ, মিথিলা, গৌড়, নেপাল, ভূটান, সিকিম ও আসাম রাজ্যের সীমান্ত। আধুনিককালের মত অতীত কালেও জনপদটি ছিল সীমান্ত অঞ্চল। এই ভূখন্ডটি পর্যায়ক্রমে শাসিত হয়েছে প্রাগজ্যোতিষ, কামরূপ, কামতা, কুচবিহার ও গৌর রাজ্যের রাজা, বাদশা, সুবাদার এবং বৈকুন্ঠপুর অঙ্গ রাজ্যের দেশীয় রাজা ও ভূ-স্বামীদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে।

দর্শনীয় স্থান স্থাপনা

  • বার আউলিয়া মাজার – আটোয়ারী উপজেলা;
  • মির্জাপুর শাহী মসজিদ – আটোয়ারী উপজেলা;
  • মহারাজার দিঘী – পঞ্চগড় সদর;
  • ভিতরগড় দুর্গনগরী – পঞ্চগড় সদর;
  • বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর – তেঁতুলিয়া উপজেলা;
  • গোলকধাম মন্দির – দেবীগঞ্জ উপজেলা;
  • তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো – তেঁতুলিয়া উপজেলা;
  • বোদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির – বোদা উপজেলা;
  • মহারাণী বাঁধ;
  • রকস্ মিউজিয়াম – পঞ্চগড় শহর;
  • মিরগড় – পঞ্চগড় সদর;
  • সমতল ভূমির চা-বাগানসমূহ;
  • তেঁতুলিয়ার পিকনিক কর্ণার – তেঁতুলিয়া উপজেলা;
  • ডাহুক বনভোজন কেন্দ্র – তেঁতুলিয়া উপজেলা;
  • রৌশনপুর আনন্দধারা ও চা-বাগান – তেঁতুলিয়া উপজেলা;
  • ভদ্রেশ্বর মন্দির – তেঁতুলিয়া উপজেলা;
  • মির্জাপুরের ইমামবাড়া – আটোয়ারী উপজেলা;
  • চীন বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু – দেবীগঞ্জ উপজেলা;
  • চন্দ্রিমা উদ্যান – দেবীগঞ্জ উপজেলা;
  • কাজলাদীঘি – পঞ্চগড় সদর;
  • পঞ্চগড় ফরেস্ট – পঞ্চগড় সদর
  • ভিতরগড়,
  • মহারাজার দিঘী,
  • বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির,
  • মির্জাপুর শাহী মসজিদ
  • বার আউলিয়া মাজার
  • গোলকধাম মন্দির
  • বাংলাবান্ধা জিরো (০) পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থল বন্দর
  • সমতল ভূমিতে চা বাগান
  • রকস্ মিউজিয়াম।

কিভাবে যাবেন?

সড়ক পথে ঢাকা হতে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ৪৯৪ কিলোমিটার এবং রেলপথে ঢাকা হতে পঞ্চগড় রেল স্টেশনের দূরত্ব ৬৮০ কিলোমিটার।

সড়কপথ- ঢাকার গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ, শ্যামলী, কল্যানপুর, কলাবাগান, ফকিরাপুল, আসাদগেট – প্রভৃতি বাস স্টেশন থেকে পঞ্চগড় আসার সরাসরি দুরপাল্লার এসি ও নন-এসি বাস সার্ভিস আছে; এগুলোতে সময় লাগে ৭.৩০ হতে ১০ ঘন্টা। ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে হানিফ, নাবিল, বাবলু, কেয়া প্রভৃতি পরিবহণ কোম্পানীর বাস আছে প্রতিদিন।

  • নাবিল পরিবহনঃ ☎ ০২-৮১২৭৯৪৯ (আসাদ গেট), ৯০০৭০৩৬, ৮০১২১৩৬ (গাবতলী);
  • বাবলু এন্টারপ্রাইজঃ ☎ ০২-৮১২০৬৫৩, মোবাইল ০১৭১৬-৯৩২১২২ (শ্যামলী-রিং রোড);
  • হানিফ এন্টারপ্রাইজঃ ☎ ০২-৮১২৪৩৯৯, মোবাইল ০১৬৭৩-৯৫২৩৩৩ (কলেজ গেট), ০১৭১৩-৪০২৬৬১ (কল্যাণপুর), ০১৭১৩-৪০২৬৭১, ০১৭১৩-৪০২৬৩১ (আরামবাগ);
  • শ্যামলী পরিবহনঃ ☎ ০২-৯০০৩৩১, ৮০৩৪২৭৫ (কল্যাণপুর), ৯১২৪১৩৯ (শ্যামলী)।

ভাড়া এসি বাসে – ৮০০/- (রেগুলার) ও ১২০০/- (এক্সিকিউটিভ) এবং নন-এসি বাসে – ৩৫০/- হতে ৬০০/-।

রেলপথ- ঢাকার কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ে আসার সরাসরি কোনো ট্রেন নেই; ট্রেনে করে ঢাকা থেকে শান্তাহার, বা পার্বতীপুর বা দিনাজপুর এসে সেখান থেকে পঞ্চগড় আসতে হয়। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন একাধিক ট্রেন দিনাজপুরে ও শান্তাহারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

শান্তাহার থেকে একটি ট্রেন পঞ্চগড়ের পথে চলাচল করে; যার সময়সূচী হলোঃ

লোকাল ট্রেন – পঞ্চগড় পৌছে রাত ১২টায় এবং পঞ্চগড় ছাড়ে সকাল ৮ টায়।

পার্বতীপুর থেকে দুটি ট্রেন পঞ্চগড়ের পথে চলাচল করে; যার সময়সূচী হলোঃ

একতা শাটল ট্রেন – পঞ্চগড় হতে ছাড়ে রত ৮ টায় এবং পার্বতীপুর পৌঁছে রাত ১০ টা ৫৫ মিনিটে;

দ্রুতযান শাটল ট্রেন – পার্বতীপুর হতে ছাড়ে রাত ৩টা ৩০ মিনিটে এবং পঞ্চগড় পৌঁছে সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটে।

ট্রেন সম্পর্কিত তথ্যের জন্য যোগাযোগ করতে পারেনঃ

কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন, ☎ ০২-৯৩৫৮৬৩৪,৮৩১৫৮৫৭, ৯৩৩১৮২২, মোবাইল নম্বর: ০১৭১১-৬৯১৬১২; বিমানবন্দর রেলওয়ে ষ্টেশন, ☎ ০২-৮৯২৪২৩৯; ওয়েবসাইট: www.railway.gov.bd

আকাশ পথে- পঞ্চগড়ে বিমানবন্দর না-থাকায় এখানে সরাসরি আকাশ পথে আসা যায় না, তবে ঢাকা থেকে সরাসরি বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সাথে; ঢাকা থেকে সৈয়দপুর এসে সেখান থেকে সড়কপথে পঞ্চগড়ে আসা যায়। বাংলাদেশ বিমান, জেট এয়ার, নোভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার, ইউনাইটেড এয়ার – প্রভৃতি বিমান সংস্থার বিমান পরিষেবা রয়েছে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর আসার জন্য।

খাওয়া দাওয়া

‘সিদল ভর্তা’ এখানকার জনপ্রিয় খাবার, যা কয়েক ধরনের শুঁটকির সঙ্গে নানা ধরনের মসলা মিশিয়ে বেটে তৈরি করা হয়। এছাড়াও রয়েছে বিখ্যাত “হাড়িভাঙ্গা” আম, তামাক ও আখ। এখানে সাধারণভাবে দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়ার জন্য স্থানীয় হোটেল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। স্থানীয় কিছু হোটেল হলোঃ

  • মৌচাক হোটেলে, সিনেমা হল রোড, পঞ্চগড়;
  • নিউ মৌচাক হোটেল, তেঁতুলিয়া রোড, পঞ্চগড়;
  • গাউসিয়া হোটেল, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়;
  • নুরজাহান হোটেল, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়।

রাত্রী যাপনের স্থান

পঞ্চগড়ে থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও থাকার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উন্নতমানের কিছু হোটেল ও আবাসন রয়েছে –

  • সার্কিট হাউজ, মিঠাপুকুর, পঞ্চগড়;
  • জেলা পরিষদ ডাক বাংলো;
  • ডিসি কটেজ, অফিসার্স কোয়ার্টার চত্ত্বর, পঞ্চগড়;
  • সেন্ট্রাল গেষ্ট হাউস, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়, মোবাইল ০১১৯০-৭১৬ ০২৭;
  • হোটেল মৌচাক, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়, মোবাইল ০১৭৩৭-৩৪৮ ০৬৬;
  • হোটেল প্রিতম, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়, ☎ ০০৫৬৮-৬১৫৪৫;
  • হোটেল রাজনগর, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়, ☎ ০৫৬৮-৬২৪৬৮, মোবাইল ০১৭১৫-২১৯ ৩৭৩;
  • হোটেল অভিনন্দন, বিডিআর ক্যাম্প সংলগ্ন, ধাক্কামারা, পঞ্চগড়;
  • হোটেল এইচ কে প্যালেস, পঞ্চগড় বাজার, পঞ্চগড়, ☎ ০৫৬৮-৬১২৩৯, মোবাইল ০১৭৫২-২৪৩ ০৪৮।

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!