সাতক্ষীরা- সড়ক পথে সুন্দরবন

Back to Posts

সাতক্ষীরা- সড়ক পথে সুন্দরবন

লৌকিক আচার-আচরণ,বিশ্বাস আর পৌরাণিকতায় সমৃদ্ধ সাতক্ষীরা। নানা কিংবদন্তীর প্রবাহমান ধারায় সজীব এখানকার ঐতিহ্য। বঙ্গোপসাগরের আঁচলছোঁয়া সুন্দরবন, আর সুন্দরবনকে বুকে নিয়ে সমৃদ্ধ এখানকার প্রকৃতি, এমনি অর্থনীতিও। সুন্দরবনের চোখ জুড়ানো চিত্রল হরিণ, বিশ্ববিখ্যাত ডোরাকাটা বাঘ থেকে শুরু করে বনদেবী, রাজা প্রতাপাদিত্যের জাহাজঘাটা, বিভিন্ন মোঘলীয় কীর্তি, অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, পুরাকালের কাহিনী, জারি-সারি,পালাগান, পালকি গান এসবের মধ্যেই সাতক্ষীরার মানুষের আত্মীক পরিচয় গ্রন্থ।

এখানে জন্মেছেন কবি,সাহিত্যিক,শিল্পী, সুফী দরবেশসহ বহু বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, জন্মেছেন জীবন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ সাহসী মানুষ। শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর আত্নত্যাগী বীর। গ্রামবাংলার লোকজ ঐতিহ্যই এখনো পর্যন্ত সাতক্ষীরার সংস্কৃতির মূলধারাটি বহন করে চলেছে। খুব সহজেই এখানে মিলিত হয়েছে লৌকিক আচার -আচরণের সাথে পৌরাণিকত্বের । যেন দুটো নদীর সম্মিলিত এক বেদবান ধারা। বছরের প্রায় প্রতিটি সময়ধরে অগনিত মেলা বসে সাতক্ষীরায়। সাগরদ্বীপ দুবলোর মেলা থেকে শুরু করে খুলনা, যশোর এমনকি পশ্চিমবঙ্গেওএর প্রভাব পরিলক্ষিত। এ জেলার শুধু নয় দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মেলাটি বসে সাতক্ষীরা শহরেই,পলাশপোল, গুড়পুকুরের পারে ।

সাতক্ষীরা বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। সাতক্ষীরা বাংলাদেশের নৈঋত কোণে অবস্থিত, দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা; যার পূর্বে খুলনা, উত্তরে যশোর, পশ্চিমে পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশপরগনা এবং দক্ষিণে মায়াময় সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর। উচ্চতার দিকে বিবেচনা করলে এ অঞ্চল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১৬ ফুট উচুঁতে। জেলার সীমানা যেভাবে নির্ধারিত হয়েছে তাতে উত্তর-দক্ষিণে দীর্ঘ। তবে এ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের সব অংশে জনবসতি নেই। এর মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল। সুন্দরবনের মধ্যে যে পরিমাণ ভূমি তার পরিমাণ ১৪৪৫.১৮ বর্গ কিলোমিটার।

এই জেলাটি আশাশুনি, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, তালা, দেবহাটা, শ্যামনগর এবং সাতক্ষীরা সদর – এই সাতটি উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত।

সাতক্ষীরা জেলায় ৭টি (আশাশুনি, কলারোয়া, কালিগঞ্জ, তালা, দেবহাটা, শ্যামনগর এবং সাতক্ষীরা সদর) উপজেলা, ৮টি থানা, ২ টি পৌরসভা, ৭৮ টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ১৪২৩টি গ্রাম রয়েছে এবং জাতীয় সংসদের ৪টি সংসীয় আসন রয়েছে।

নদ নদীর সংখ্যা ও নাম ২৭- কাকশিয়ালী, কালিন্দী, ইছামতি, হাওড়া, গুতিয়াখালী নদী কপোতাক্ষ, লাবণ্যবতী, রায় মঙ্গল ইত্যাদি। লোকসংস্কৃতি জারিগান, পুঁথি পাঠ, রথের মেলা, নৌকা বাইচ ও ঘোড়দৌড় উল্লেখযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে- গণকবর ২, বধ্যভূমি ৬, স্মৃতিস্তম্ভ ৫, স্মৃতিফলক ১, স্মরণি ৩, বাংলাদেশের মানচিত্রে দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে সাতক্ষীরা জেলার অবস্থান। এ জনবসতি প্রাচীনকালে খ্যাত ছিল বুড়ন দ্বীপ নামে। এর পাশে চন্দ্রদ্বীপ, মধুদ্বীপ, সূর্যদ্বীপ, সঙ্গদ্বীপ, জয়দ্বীপ ইত্যাদি দ্বীপ খ্যাত ছোট ছোট ভূখণ্ডের অবস্থান পাওয়া যায় প্রাচীন ইতিহাস ও মানচিত্রে।

দর্শনীয় স্থান

  • খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ সমাধি কমপ্লেক্স
  • মান্দারবাড়ীয়া সমুদ্র সৈকত
  • যশোরেশ্বরী মন্দির
  • হরিচরণ রায়চৌধুরীর জমিদারবাড়ি
  • সাত্তার মোড়লের স্বপ্নবাড়ি সাতক্ষীরা শহর থেকে ৩৪ কিলোমিটার দূর কালীগঞ্জ। উপজেলা সদর থেকে আরো প্রায় ১২ কিলোমিটার।
  • প্রবাজপুর মসজিদ সাতক্ষীরা থেকে মুকুন্দপুর, মুকুন্দপুর থেকে প্রায় ২ মাইল পূর্বে যমুনা-ইছামতি নদীর পূরান তীরবর্তী এলাকায় প্রবাজপুর গ্রামে মসজিদটি রয়েছে। মুকুন্দপুর, সাতক্ষীরা।
  • জমিদারবাড়ি জোড়া শিবমন্দির
  • যিশুর গির্জা
  • মোজাফফর গার্ডেন এন্ড রিসোর্ট
  • মায়ের মন্দির
  • মায়ি চম্পার দরগা
  • জোড়া শিবমন্দির
  • চেড়াঘাট কায়েম মসজিদ শহর থেকে আনুমানিক দুরত্ব ২৫ কিলোমিটার। রাস্তার নাম তালা -পাইকগাছা সড়ক। স্পটে পৌছানোর ব্যয় ৩৫ টাকা। ভ্রমণের জন্য পাওয়া যায় বাস, বেবী টেক্সি রিকসা, ভ্যান।
  • তেঁতুলিয়া জামে মসজিদ
  • সুন্দরবন
  • খাওয়া দাওয়া
  • সাতক্ষীরা চিংড়ি চাষের জন্য বিখ্যাত
  • প্রবাজপুর শাহী মসজিদ
  • তেতুলিয়া জামে মসজিদ
  • ইশ্বরীপুর হাম্মামখানা
  • জাহাজ ঘাটা হাম্মামখানা ও তৎসংলগ্ন প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ
  • ঝুঁড়িঝাড়া ঢিবি
  • দরবার স্তম্ভ
  • গোবিন্দ দেবের মন্দির ঢিবি
  • যীশুর র্গীজা (শ্যামনগর)
  • যশোরেশ্বরী মন্দির
  • শ্যাম সুন্দর মন্দির
  • কোঠাবাড়ির থান
  • ছয়ঘরিয়া জোড়াশিব মন্দির
  • অন্নপূর্ণা মন্দির
  • দ্বাদশ শিব মন্দির
  • জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ
  • মান্দারবাড়ী সমুদ্র সৈকত – শ্যামনগর;
  • জমিদার বাড়ি ও যশোরেশ্বরী মন্দির – শ্যামনগর;
  • নলতা রওজা শরীফ – কালীগঞ্জ;
  • নীলকুঠি – দেবহাটা থানা;
  • মাইচম্পার দরগা;
  • লাবসা – সাতক্ষীরা;
  • জাহাজমারী বিল (এবি পার্ক) – কলারোয়া;
  • বৌদ্ধ মঠ – কলারোয়া;
  • তেঁতুলিয়া মসজিদ – তালা;
  • মোজাফফর গার্ডেন;
  • বনলতা বাগান ও মিনি পিকনিক স্পট – কালিগঞ্জ,সাতক্ষীরা;
  • আব্বাস গার্ডেন;
  • শ্যামনগর জমিদার বাড়ি (জমিদার হরিচরনের বাড়ি)- শ্যামনগর;
  • রেজওয়ান খানের জমিদার বাড়ি
  • দেবহাটা জমিদার বাড়ি
  • জাহাজঘাটা-ভুরুলিয়া, শ্যামনগর;
  • মাটির টালি তৈরির কারখানা – কলারোয়া, সাতক্ষীরা;
  • বনবিবির বটগাছ- দেবহাটা, সাতক্ষীরা;
  • কলাগাছি, সুন্দরবন;
  • আকাশনীলা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার; মুন্সিগঞ্জ, শ্যামনগর;
  • ভোমরা স্থল বন্দর, সাতক্ষীরা;
  • শ্যামনগর উপজেলার ঐতিহাসিক গোপালপুর স্মৃতিসৌধ;
  • রেডিও নলতা- নলতা, কালীগঞ্জ, সাতক্ষীরা[১৭]

 

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

  • খান বাহাদুর আহ‌ছানউল্লা – সমাজ সেবক, সাহিত্যিক শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা সংস্কারক;
  • ডা: এম আর খান – জাতীয় অধ্যাপক, বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ;
  • পচাব্দী গাজী – বিশ্ব বিখ্যাত বাঘ শিকারী
  • আজিজুননেছা খাতুন – প্রথম মুসলিম মহিলা কবি
  • মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী – একজন বাঙালি লেখক/কবি;
  • সিকান্দার আবু জাফর – বিশিষ্ট সাহিত্যিক;
  • আবেদ খান – সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব;
  • অমর মিত্র (৩০ আগস্ট, ১৯৫১)
  • আবুল কাশেম মিঠুন- বিশিষ্ট চলচিত্র ব্যক্তিত্ব
  • সাবিনা ইয়াসমিন – প্রখ্যাত কণ্ঠশিল্পী;
  • নীলুফার ইয়াসমীন – বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী;
  • আমিন খান- চিত্রনায়ক;
  • রানী সরকার – বিশিষ্ট চলচিত্র অভিনেত্রী;
  • তারিক আনাম খান – নাট্যশিল্পী;
  • আফজাল হোসেন – নাট্যশিল্পী;
  • ফাল্গুনী হামিদ – নাট্যশিল্পী;
  • মৌসুমী হামিদ – অভিনেত্রী
  • সৈয়দ জাহাঙ্গীর – বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী (একুশে পদকপ্রাপ্ত);
  • মুস্তাফিজুর রহমান – ক্রিকেটার;
  • সৌম্য সরকার -ক্রিকেটার;
  • ডা: এ এফ এম রুহুল হক – সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী;
  • এম মনসুর আলী – সাবেক মন্ত্রী, সমাজ সেবক ও রাজনীতিবিদ;
  • সৈয়দ দিদার বখত – সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংবাদিক;
  • বিধান চন্দ্র রায় – ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী।
  • শঙ্কর রায় চৌধুরী – ভারতের সাবেক সেনা প্রধান, দেবহাটা, সাতক্ষীরা।
  • জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় অভিনেতা, আবৃত্তিশিল্পী।
  • পরীমনি ( চিত্র নায়িকা)।

 

কিভাবে যাবেন?

রাজধানী ঢাকা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার। রাজধানী শহরের সংগে সরাসরি বাস যোগাযোগ আছে। আন্তঃজেলা বাস যোগাযোগব্যবস্থা আছে। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা সাধারনত সড়ক পথেই যাতায়াত করা হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা জেলায় সড়ক পথে যাতায়াত করতে সময় লাগে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা, তবে ফেরী পারাপারের সময় যানজট থাকলে সময় বেশী লাগে। গাবতলী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি বাস সাতক্ষীরার উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এ সব বাস গুলোর মধ্যে পর্যটক পরিবহন, ঈগল পরিবহন, দিগন্ত পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, সুন্দরবন সার্ভিস প্রা: লি: দ্রুতি পরিবহন, আরা পরিবহন ও সোহাগ পরিবহন অন্যতম। সাতক্ষীরা ও খুলনা রুটের অনেক গাড়ী লঞ্চে যাত্রী পারাপার করে থাকে। লঞ্চে যাতায়াত করলে সময় ও অর্থ দুটোই কম লাগে।

আকাশপথ- এখানে কোন বিমানবন্দর না থাকায় সরাসরি আকাশপথে ভ্রমণ সম্ভব নয়। তবে ঢাকা থেকে পার্শ্ববর্তী জেলা যশোর বিমান বন্দরের নেমে ভাড়ায় চালিত গাড়ীতে তুলনামুলক স্বল্প সময়ে পৌছানো সম্ভব।

নৌপথ-

 

রাত্রী যাপন

রাত্রী যাপনের জন্যে সাতক্ষীরায় বেশকিছু ভাল মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।

হোটেল নামনামমোবাইল
হোটেল সীমান্তমোঃ মুজিবর রহমান০১৮১৬২৭৫৭৬২
হোটেল সম্রাট প্লাজামোঃ বশির আহমেদ০১৭৬৮৯৬৪৯৭১
সংগ্রাম আবাসিক হোটেলমোঃ বশির আহমেদ০১৭১২৯২৯৪৯৫, ০৪৭১-৬৩৫৫১
হোটেল মোজাফফার গার্ডেন এণ্ড রিসোর্টকে এম খায়রুল মোজাফফার (মন্টু)০১৭১৯৭৬৯০০৯
হোটেল হাসানমোঃ আব্দুল বারি০১৭৪০৬৫০৫০২
হোটেল আল-কাশেম ইন্টারন্যাশনালমোঃ তাহমিদ সাহেদ চয়ন০৪৭১-৬৪৪২২, ০১১৯০৯৪৯৮০২
পাতাল হোটেলজি,এম আব্দুর রহমান০১৮২৩৬৪৭৪৬২
সাতক্ষীরা আবাসিক হোটেলমোঃ আব্দুল গফুর গাজী০১৭১৮৪০৫০১৩
হোটেল টাইগার প্লাসমীর তাজুল ইসলাম০১৭৭৪৯৯৯০০০

,০৪৭১-৬৪৭৮৪

পদ্মা আবাসিক হোটেলমোঃ বেল্লাল হোসেন০১৯১৬১১৯৩৭৪

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!