সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রাজশাহী বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। তাঁতশিল্প এ জেলাকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছে। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু এবং সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধের অপূর্ব সৌন্দর্য এ জেলাকে পর্যটনসমৃদ্ধ জেলার খ্যাতি এনে দিয়েছে। তা ছাড়া শাহজাদপুর উপজেলার রবীন্দ্র কাঁচারিবাড়ি, এনায়েতপূর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, মিল্কভিটা, বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্তের ইকোপার্ক, বাঘাবাড়ি বার্জ মাউনন্টেড বিদ্যুত্ উৎপাদন কেন্দ্র, বাঘাবাড়ি নদী বন্দর ইত্যাদি বিখ্যাত স্থাপত্য ও শৈল্পকর্মের নিদর্শন এ জেলাকে সমৃদ্ধতর করেছে।

ক্রমিক নাম স্থানের বৈশিষ্য কিভাবে যাওয়া যায়
নবরত্ন মন্দির   ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোন বাসে চড়ে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্তর নেমে রিক্সা/ভ্যানগাড়ী/সিএনজি যোগে প্রায় ১(এক) কিলোমিটার দূরের নবরত্ন মন্দিরে ঘুরে আসতে পারবেন। দেশের পূর্বাঞ্চলের ভ্রমন পিয়াসীগণ রাজধানী ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী বাস টার্মিনাল হতে অথবা মহাখালী বাসটার্মিনাল হতেও ঢাকা হতে বগুড়াগামী অথবা ঢাকা হতেরাজশাহী গামী যেকোন বাসে চড়ে ভ্রমন করতে পারবেন। এছাড়া যাহারা রাজশাহী তথা পশ্চিমাঞ্চল বা রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া তথা উত্তরাঞ্চল হতে ভ্রমণে আগ্রহী অথবা যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, পাবনা তথা দক্ষিনাঞ্চল হতে ভ্রমনে আগ্রহী তাহারা স্ব-স্ব অঞ্চল হতে সিরাজগঞ্জগামী বিভিন্ন বাসযোগে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্তর এসে নেমে রিক্সা/ভ্যানগাড়ী/সিএনজি যোগে প্রায় ১(এক) কিলোমিটার দূরের নবরত্ন মন্দিরে ঘুরে আসতে পারবেন।

ভাড়াঃ ঢাকা হতে সাধারণত ভাড়া ৩০০/- এবং এসি বাস ৪০০-৪৫০/- ভাড়ায় যাতায়াত করা যায়।

কবি রজনী কান্ত সেন এবং ছায়া ছবির কিংবদন্তী নায়িকা সূচিত্রা সেনের জন্ম স্থান সেন ভাঙ্গাবাড়ী গ্রাম   ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোন বাসে চড়ে সিরাজগঞ্জের কড্ডার মোড় বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে অথবা রেলযোগে ঢাকার যেকোন স্টেশন হতে ক্যাপ্টেন মনসুর আলী রেলওয়ে স্টেশনে নামতে হবে। উক্ত বাস স্ট্যান্ড/রেলস্টেশন হতে বাস/সিএনজি যোগে বেলকুচি উপজেলার চালা বাসস্ট্যান্ডে নেমে রিক্সা/ভ্যানগাড়ী/সিএনজি যোগে প্রায় ১.৫(দেড়) কিলোমিটার দূরের সেন ভাংগাবাড়ী বাজার নামতে হবে। বাজার হতে মাত্র ২ মিনিটের পথ কাঠের ব্রিজ পার হয়েই কবি রজনী কান্ত সেনের বসতবাড়ী পাওয়া যাবে।
জয়সাগর দিঘি   ঢাকা টু বগুড়া মহাসড়কে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার ভূইঁয়াগাঁতী নামক বাসস্ট্যান্ড নামতে হয়। ভূইঁয়াগাঁতী বাসস্ট্যান্ড হতে সিএনজি/রিক্সা/ভ্যানগাড়ী যোগে নিমগাছী বাজার হয়ে  নিমগাছি বাজার থেকে প্রায় ৫০০মিটার দূরত্ব পশ্চিম দিকে জয়সাগর দীঘিতে আসতে পারবেন।

তবে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে যারা আসবেন তারা সিরাজগঞ্জ রোড গোলচত্ত্বর ও চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ডের মাঝামাঝি ভূইঁয়াগাঁতী বাসস্ট্যান্ড নেমে সিএনজি/রিক্সা/ভ্যানগাড়ী/মোটরসাইকেল যোগে নিমগাছী বাজার হয়ে সরাসরি জয়সাগর দীঘিতে আসতে পারবেন।

ইলিয়ট ব্রীজ   সিরাজগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড হতে  ০.৫ (হাফ) কিলোমিটার দূরত্ব এসএস রোড দিয়ে মাত্র ১৫ মিনিট পায়ে হেটে  অথবা ১০ টাকা রিক্সা ভাড়া দিয়ে ব্রীজটি দেখার জন্য আসতে পারবেন।
সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাধ   সিরাজগঞ্জ শহর থেকে ‍রিক্সা যোগে যাতায়াত করা যায়।
  বঙ্গবন্ধু সেতু।   বঙ্গবন্ধু সেতু বা যমুনা বহুমুখী সেতু যমুনা নদীর উপরে অবস্থিত একটি সড়ক ও রেল সেতু । ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এই সেতুটি বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় দীর্ঘতম সেতু। এটি যমুনা নদীর পূর্ব তীরের ভূঞাপুর (ভুয়াপুর) এবং পশ্চিম তীরের সিরাজগঞ্জকে সংযুক্ত করেছে। পায়ে হেঁটে সেতু দেখার কোন সুযোগ নেই। তবে গড়ি বা যানবাহনে করে এটি পাড় হওয়া যায়। কার/হালকা যানবাহনে এটি অতিক্রম করতে খরচ হবে ৫০০ টাকা। চাইলে জেলে বা মাঝিদের নৌকায় সেতুর নিচে দিয়ে ভ্রমণের মাধ্যমে সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব
ইকো পার্ক   সিরাজগঞ্জ শহর হতে দক্ষিনে প্রায় ০৮ কি.মি বাসযোগে যেতে হবে ।

ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যেকোনো বাসে বঙ্গবন্ধু-যমুনা সেতু পেরিয়েই ইকোপার্কের অবস্থান। আর উত্তরবঙ্গের যেকোনো জেলা থেকে এলে সিরাজগঞ্জ রোড পেরিয়ে কড্ডার মোড়ের পরেই এই ইকোপার্ক। ট্রেনে এলে যমুনা সেতু পশ্চিম স্টেশনে নামতে হবে। পুরো ইকোপার্ক ঘুরতে ২/৩ ঘন্টার বেশী সময় লাগার কথা না।

 

মুক্তির সোপান   ১। রেল পথে ২। সড়ক পথে
যাদব চক্রবর্তীর বাড়ী   সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রায় ১ কি. মি পূর্ব প্রান্তে যমুনা নদী সংলগ্ন যাদব চক্রবর্তীর বাড়িতে গাড়ী ও রিক্সা যোগে যাওয়া যায়।
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর বাড়ী   সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রায় ৫০০ গজ উত্তর প্রান্তে প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর বাড়িতে গাড়ী ও রিক্সা যোগে যাওয়া যায়।
১০ মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর বাড়ী   সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে প্রায় ২ কি. মি. উত্তর পশ্চিম প্রান্তে মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর বাড়ীতে গাড়ী ও রিক্সা যোগে যাওয়া যায়।
১১ ভোলা দেওয়ানের মাজার   রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিঃ মিঃ দূরে নিমগাছি বাজারে সোনাখাড়া ইউনিয়ন পরিষদ অবস্থিত। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৫০০ মিটার দক্ষিণে এটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে বাস, সি এন জি, রিক্সা, মটর সাইকেল ইত্যাদিযোগে ভোলা দেওয়ানের মাজারে যাওয়া যায়।
১২ ধুবিল কাটার মহল জমিদার বাড়ী   উপজেলা সদর হতে প্রায় ২০ কি. মি. দূরে ধুবিল ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষিন দিকে এ কাটার মহল জমিদার বাড়িটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে বাস, সি এন জি, রিক্সা, মটর সাইকেল ইত্যাদিযোগে ধুবিল কাটার মহল জমিদার বাড়ী যাওয়া যায়।
১৩ আটঘরিয়া জমিদার বাড়ী   উপজেলা সদর হতে ধানগড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রায় ৪ কিঃমিঃ দক্ষিণে অবস্থিত। উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ হেত আরও ৩ কিঃমিঃ দক্ষিণে আটঘরিয়া জমিদার বাড়ী অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে বাস, সি এন জি, রিক্সা, মটর সাইকেল ইত্যাদিযোগে আটঘরিয়া জমিদার বাড়ী যাওয়া যায়।
১৪ সান্যাল জমিদার বাড়ীর শিব দুর্গা মন্দির   রায়গঞ্জ উপজেলা সদর থেকে রায়গঞ্জ পশু হাসপাতাল প্রায় ৩.৫ কিঃমিঃ দূরে অবস্থিত। এই পশু হাসপাতালের পশ্চিম পার্শ্বে কাচা রাস্তায় মাত্র ৩/৪ দূরে এটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে বাস, সি এন জি, রিক্সা, মটর সাইকেল ইত্যাদিযোগে পশু হাসপাতাল পর্যন্ত যাওয়া যায়। ঐ স্থান হতে পায়ে হেটে সান্যাল জমিদার বাড়ীর শিব দুর্গা মন্দিরে যাওয়া যাবে।
১৫ মকিমপুর জমিদার বাড়ীর মন্দির   রায়গঞ্জ উপজেলা সদর হতে উত্তরদিকে প্রায় ২ কিঃমিঃ দূরে পৌরসভার আওতাধীন মকিমপুর গ্রামে এই মন্দিরটি অবস্থিত। উপজেলা সদর থেকে বাস, সি এন জি, রিক্সা, মটর সাইকেল ইত্যাদিযোগে মকিমপুর জমিদার বাড়ীর মন্দিরে যাওয়া যায়।

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *