সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

Back to Posts

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ

সাগরের নীল জল আর আকাশের নিলীমার অপরূপ হাতছানির সম্মিলন সেন্টমার্টিন দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সেন্টমার্টিন বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা মূল ভূখণ্ডের সর্ব দক্ষিণে এবং কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে ১৭ বর্গ কিলোমিটারের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ। স্থানীয় ভাষায় সেন্টমার্টিনকে নারিকেল জিঞ্জিরা বলেও ডাকা হয়। নীল আকাশের সাথে সমুদ্রের নীল পানির মিতালী, সারি সারি নারিকেল গাছ এ দ্বীপকে করেছে অনন্য। 

সেন্টমার্টিনের যেদিকে চোখ যায় শুধু নীল আর নীল, আকাশ আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার। অগভীর দীর্ঘ সমুদ্রতট, সামুদ্রিক প্রবাল, সাগরের ঢেউয়ের ছন্দ, প্রচুর দখিনা হাওয়া, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি, সাগর তীরে বাঁধা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এসবই সেন্টমার্টিন দ্বীপের মহাত্ম যা ছোট্ট এই দ্বীপটিকে করেছে অনন্যসুন্দর। বালি, পাথর, প্রবাল কিংবা নানা জীব বৈচিত্র্যের সমন্বয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণ পিপাসু মানুষের জন্য একটি অনুপম অবকাশ কেন্দ্র। এর স্বচ্ছ পানিতে জেলি ফিশ, হরেক রকমের সামুদ্রিক মাছ, কচ্ছপ, প্রবাল দেখতে পাওয়া যায় যা এই দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ।

যাতায়াত

ঢাকা থেকে বাসে টেকনাফ। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়েদাবাদে টেকনাফের বাস পাওয়া যায়। ঈগল, মডার্ন লাইন, এস আলম, শ্যামলী, গ্রীন লাইন ইত্যাদি বাস টেকনাফ যায়। ১০-১৩ ঘণ্টা লাগে পৌঁছাতে। ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৭ টার গাড়িতে উঠলে সকালে ৬-৭ টার মধ্য দমদমিয়া জাহাজ ঘাট বা টেকনাফ শহরে নেমে জাহাজ বা ট্রলারে যেতে পারেন। তবে লম্বা বন্ধ থাকলে ঢাকা- চিটাগাং রোড়ে যানজট বেশি হওয়ার কারণে অনেকের পৌছাতে দেরি হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে জাহাজ মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ সব জাহাজ ৯:৩০ টায় ছেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে ট্রলারে করে যাওয়া যায়।

এছাড়াও ঢাকা থেকে বিমানে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়া যায়।

টেকনাফ থেকে জাহাজে সেন্টমার্টিন। টেকনাফের জাহাজ ঘাটে গিয়ে আপনাকে সী ট্রাকের/শীপের টিকেট কাটতে হবে। টেকনাফ হতে সেন্টমার্টিনের দুরত্ব ৯ কিমি। উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে হয় এখানে। শীত মৌসুমে সাগর শান্ত থাকে তাই এই সময় এখানে যাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ। এই পর্যটন মৌসুমে এখানে টেকনাফ হতে সেন্ট মার্টিন পর্যন্ত গ্রীন লাইনের ওয়াটার বাস, এল সি কুতুবদিয়া, কাজল, কেয়ারী সিন্দবাদ সহ বেশ কয়েকটি জাহাজ বা সী-ট্রাক চলাচল করে। সকাল ১০ টায় এই নৌযানটি সেন্ট মার্টিনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং বিকাল ৩ টায় ফিরে আসে।

এছাড়াও ট্রলার ও স্পীড বোটে করে যাওয়া যায় সেন্টমার্টিন। সী ট্রাক গুলো এপ্রিল মাস পর্যন্ত চলাচল করে। এর পর বৈরি আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন একে চলতে দেয় না। তবে যারা বৈরি মৌসুমে এডভেঞ্চার হিসেবে যেতে চান সেন্টমার্টিন তারা ট্রলার ভাড়া করে যেতে পারেন। তবে এই যাত্রাটি খুব একটা নিরাপদ নয়। সাধারণত দুর্ঘটনা ঘটে না, তবে ঘটে যেতে পারে। তাই সাবধান। কিন্তু উত্তাল সাগরের প্রকৃত রূপ দেখা কিংবা নির্জন দ্বীপে বসে বৃষ্টিস্নান করার লোভ যারা সামলাতে না পারেন তাদের জন্য ট্রলার ছাড়া বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই, ৮০০ টাকায় ট্রলার ভাড়া করা যাবে অথবা প্রতি জন ১০০ টাকা করে ভাড়া দিয়েও যাওয়া যাবে।

কেয়ারী সিন্দবাদ এর যোগযোগ / ফোন নাম্বারঃ ০১৮১৭২১০৪২১, ০৩৪১-৬২৮১২, ৮১২৫৮৮১

সাধারণত নভেম্বর থেকে মার্চ এই পাঁচ মাস জাহাজ চলে। এই সময় ছাড়া অন্য সময়ে গেলে ট্রলার কিংবা স্পিডবোট দিয়ে যেতে হবে। শীত মৌসূম ছাড়া বাকি সময় সাগর উত্তাল থাকে, তাই এই সময়ে ভ্রমণ নিরাপদ নয়।

এক্টিভিটি

স্নোরকেলিং, স্কুবা ডাইভিং, সাইকেলে দ্বীপ প্রদক্ষিণ, হেটে ছেড়া দ্বীপ যাওয়া আসা, সমুদের পাড়ে ক্যাম্পিং। 

ছেঁড়া দ্বীপ ভ্রমণ

দেশের সর্ব দক্ষিণের ভূখন্ড ছেঁড়া দ্বীপ। জায়গাটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পাথর, প্রবাল এবং নারিকেল গাছে পরিপূর্ণ। জোয়ারের সময় ছেঁড়া দ্বীপের এক-তৃতীয়াংশ সাগরের পানির নিচে তলিয়ে যায়। সাগরের নীল ঢেউ যখন পাথরের গায়ে আঁচড়ে পরে তখন এক মোহনীয় দৃশ্যের অবতারণা হয়। সুনীল সাগর, আকাশ আর সূর্যাস্তের মিতালী দেখতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ছেঁড়া দ্বীপে বেড়াতে আসে। এছাড়া ছেঁড়া দ্বীপে চাঁদের আলোয় যাদুকরী মুগ্ধতার সৃষ্টি হয়। তাই অনেকে পূর্নিমার রাতে ক্যাম্পিং করতে আসেন এই অপূর্ব ছেঁড়া দ্বীপে।

সাইকেল ভাড়া 

দ্বীপের কয়েক জায়গা বিশেষ করে পশ্চিম বীচ থেকে সাইকেল ভাড়া নেওয়া যায় ঘন্টা প্রতি ৬০-৮০ টাকায়। বীচ ধরে ঘুরতে পারবেন মনের সাধ মিটিয়ে। 

সারাদিনের ভ্রমণ

যারা সময়ের অভাবে সারা দিনের যাত্রায় সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যাবেন তারা জাহাজ থেকে নেমে সময় নষ্ট না করে ভ্যান নিয়ে সরাসরি চলে আসুন পশ্চিম সমুদ্র সৈকতে। এর জন্য আপনাকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা ভ্যান ভাড়া গুণতে হবে। এখানে হেঁটে আসতে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগে। এই জায়গাটা পানিতে নামার জন্য ভালো তাই সমুদ্র সৈকতে এসে চাইলে সচ্ছ পানিতে গা ভেজাতে পারেন। যাই করেন না কেন অবশ্যই মাথায় রাখবেন আপনাকে ২ টার আগে ফ্রি হতে হবে নইলে খাওয়ার সময়টুকুও পাবেন না। আর অবশ্যই ৩ টার আগেই আপনাকে জাহাজে পৌঁছাতে হবে। হাতে সময় থাকলে মেইন সমুদ্র সৈকতের কাছে হুমায়ূন আহমেদের কটেজ দেখে আসতে পারেন। সেন্টমার্টিন ভ্রমণে এই ধরণের যাত্রা আপনাকে সময়ের প্রতি সীমাবদ্ধ করে রাখবে তাই অন্তত এক দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সেন্টমার্টিন আসুন।

এক দিনের পরিকল্পনা

যারা এক দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সেন্টমার্টিন ভ্রমণে আসবেন তারা জাহাজ থেকে নেমে হোটেলে উঠে পড়ুন। দুপুরের খাবার খেয়ে হালকা বিশ্রাম নিয়ে চলে আসতে পারেন ছেঁড়াদ্বীপ। যদি পায়ে হেটে ছেঁড়া দ্বীপে যেতে চান, চেষ্টা করবেন ৪ টার আগে আগেই রওনা দিতে তাহলে ছেঁড়া দ্বীপে সূর্যাস্ত দেখে ফিরতে পারবেন। ছেঁড়া দ্বীপের সূর্যাস্ত অসাধারণ তবে সূর্যাস্তের পরে বেশি দেরি করবেন না। পায়ে হেটে যেতে ঘন্টা খানেক সময় লাগবে আর পায়ে হাঁটার জন্য বিকালটাই সবচেয়ে বেশি ভালো। সেন্টমার্টিন থেকে স্থানীয় মানুষের কাছে ভাটার সময় জেনে নিন। কারন শুধুমাত্র ভাটার সময়ই হেটে যাওয়া যাবে। জোয়ারের সময় ছেড়া দ্বীপ সেন্টমার্টিন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চাইলে ট্রলারে ছেঁড়াদ্বীপ পৌঁছে ফেরতে পারেন পায়ে হেঁটে। সন্ধ্যায় মূল দ্বীপে ফিরে বাজারের জেটিতে আড্ডা দিতে পারেন কিংবা পশ্চিম সমুদ্র সৈকতের যে কোন জায়গায় বসাতে পারেন গানের আসর। সমুদ্র সৈকতে নিরাপত্তা নিয়ে কোন সমস্যা নেই তাই চাইলে ক্যাম্পিং করে ফেলতে পারেন। তাবুতে সুনীল সাগরের পাশে রাত কাটানো আপনাকে অনন্য অভিজ্ঞতা দিবে। বার-বি-কিউ করার ক্ষেত্রে কোন রিসোর্টে করতে পারেন। রিসোর্টে মাছের দাম একটু বেশি নিলেও মাছগুলো সতেজ থাকে। যতই রাত পর্যন্ত জেগে থাকুন না কেন পুরো দ্বীপ ঘুরে দেখার ইচ্ছে থাকলে ভোর ৫ টা থেকে ৫ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘুম থেকে উঠে পূর্ব দিক থেকে হাঁটা শুরু করুন। পুরো দ্বীপে চক্কর দিতে ৩-৪ ঘন্টার মত লাগবে। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ পশ্চিম অংশের সৌন্দর্য্য আপনাকে মুগ্ধ করবেই। এই অংশে না এলে সেন্টমার্টিনের প্রকৃত সৌন্দর্য অদেখাই রয়ে যাবে। সবকিছু ঠিকঠাক মতো করতে পারলে ১০ টা নাগাদ হোটেলে ফিরে আসতে পারবেন। খাবার খেয়ে নেমে পড়তে পারেন সমুদ্রে স্নানে। ১২ টা থেকে ১২ টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ব্যাগ গুছিয়ে খেয়ে নিন। দুপুরের খাবার খেয়ে আস্তে ধীরে ২ টা ৩০ এর মধ্যে নির্ধারিত জাহাজে উঠে পড়ুন। 

খাওয়াদাওয়া 

সেন্টমার্টিনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ জিনিস হল ডাব যা একাধারে মিষ্টি ও সুস্বাদু। সেন্টমার্টিনে গেলে অন্তত একটা ডাবের পানি পান করা উচিত। যারা মাছ খেতে পছন্দ করেন তাদের জন্য সেন্টমার্টিন কোরাল, সুন্দরী পোয়া, ইলিশ, রূপচাঁদা, লবস্টার, কালাচাঁদা ইত্যাদি নানান ধরনের ও স্বাদের বাহার নিয়ে অপেক্ষা করছে। আর যদি সুযোগ হয় তবে কুরা খেয়ে দেখতে পারেন। (দেশী মুরগিকে কুরা বলে ডাকা হয়)। এখানে আরো রয়েছে অফুরন্ত লইট্টা, ছুড়ি, রূপচাঁদা, কাচকি ইত্যাদি জানাঅজানা শুঁটকি মাছের ভান্ডার। জানুয়ারী বা ফেব্রুয়ারীতে সেন্টমার্টিন গেলে স্থানীয় তরমুজ পাওয়া যাবে।

এছাড়াও যেসব হোটেল ও রেস্তোরাঁতে গিয়ে খেতে পারেন তার কয়েকটি হল কেয়ারি মারজান রেস্তোরাঁ, বিচ পয়েন্ট, হোটেল আল্লার দান, বাজার বিচ, আসাম হোটেল, সি বিচ, সেন্টমার্টিন, কুমিল্লা রেস্টুরেন্ট, রিয়েল রেস্তোরাঁ, হাজী সেলিম পার্ক, সেন্টমার্টিন টুরিস্ট পার্ক, হোটেল সাদেক, ইউরো বাংলা হোটেল, এশিয়া বাংলা হোটেল ইত্যাদি।

রাত্রিযাপন

সেন্টমার্টিনে রাতে থাকার জন্য বেশ কিছু উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এছাড়াও অনেক বাড়িতে পর্যটকদের জন্য থাকার সুব্যবস্থা আছে।

নোনাজল – Nonajol বিচ রিসোর্ট 

২৪ ঘন্টা বিদ্যুৎ সুবিধা রয়েছে। রিসোর্টের ভাড়া–#বিল্ডিং_কটেজঃ শুক্রবার, শনিবার এবং ছুটির দিনে ৩০০০ টাকা, অন্য দিন ২৫০০ টাকা।#স্ট্যান্ডার্ড_তাবুঃ শুক্র-শনি ২০০০ টাকা, অন্য দিন ১৫০০ টাকা। রুম কিংবা তাবুতে ৪ জন করে থাকা যায়। যোগাযোগ: +8801818747946, +8801767-511404 

ব্লু মেরিন
জেটি থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত হোটেলটির অবকাঠামো চমৎকার। তিন তলা বিশিষ্ট এ হোটেলে ৩৪টি বিলাসবহুল রুমসহ নিজস্ব রেস্টুরেন্ট রয়েছে। বাজারের কাছে বলে এর আশপাশে মানুষের সমাগম খুব বেশি। এছাড়া রুম থেকে সরাসরি বিচ দেখা যায় না। যোগাযোগ: ০১৭১৩৩৯৯০০০ (ঢাকা), ০১৭১৩৩৯৯২৫০ (সেন্টমার্টিন)।

সী ভিউ
জেটি থেকে ৭ মিনিট হাঁটতে হয়। এখানে নিজস্ব রেস্টুরেন্টসহ ১৬টি রুম ও ৪টি তাবু রয়েছে। এর অধিকাংশ রুম থেকে সমুদ্র দেখা যায়। এছাড়া ফ্রি ওয়াইফাই ও স্পোর্টসের সুবিধা রয়েছে। তবে নিজস্ব রেস্টুরেন্টটি প্রায় ত্রিশ মিটার দূরে অবস্থিত। যোগাযোগ: ০১৮৪০৪৭৭৭০৭ (ঢাকা), ০১৮৪০৪৭৭৯৫৬ (সেন্টমার্টিন)।

নীল দিগন্ত
দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রিসোর্টটির রুমের সংখ্যা ৩৮টি। রেস্টুরেন্টও রয়েছে এখানে। এর সব রুমই টিনশেড। তবে জেটি থেকে দূরে হওয়ায় ভ্যান ভাড়া পরে ২শ’ টাকা। এছাড়া রুম থেকে বিচ দেখারও সুযোগ নেই। অন্যান্য সবকিছু ঠিকঠাক আছে। যোগাযোগ: ০১৭৩০০৫১০০৫, ০১৭৩০০৫১০০৬, ০১৭৩০০৫১০০৭।

লাবিবা বিলাস
রিসোর্টের ৪৩টি রুম, একটি রেস্টুরেন্ট ও একটি ছোট্ট সেমিনার রুম রয়েছে। এর অবস্থান নর্থ বিচে। শিপঘাট থেকে যেতে একটু বেশি সময় লাগে, তবে হাঁটাপথে ১৫-২০ মিনিট। রিসোর্টে সবরকম আধুনিক সুবিধার পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে। যোগাযোগ: ০১৭৪৪১৩৬১৪৫ (ঢাকা), ০১৮৩৪২৬৭৯২২ (সেন্টমার্টিন)।

প্রাসাদ প্যারাডাইজ
এর অবস্থান ব্লু মেরিনের কিছুটা উত্তরে। এখানে মোট ১৬টি কক্ষ। হোটেলের সাথে রেস্টুরেন্টও আছে। বিচ থেকে একটু দূরে বলে অল্প কয়েকটি রুম থেকে সমুদ্রের কিছুটা দেখা যায়। যোগাযোগ: ০১৫৫৬৩৪৭৭১১।

সী ইন
সেন্টমার্টিন বাজারের মূল রাস্তা ধরে পাঁচ মিনিট হাঁটলেই এর অবস্থান। এতে ২৬টি কক্ষ রয়েছে। নিজস্ব রেস্টুরেন্ট নেই, তবে আশেপাশে রয়েছে। এখান থেকে সমুদ্র দেখার কোনো উপায় নেই। নির্জনতা উপভোগের সুযোগও কম। যোগাযোগ: ০১৭২২১০৯৬৭০, ০১৭৩৫৫৮১২৫১, ০১৭৭৫০১১২০৮।

সীমানা পেরিয়ে
এর অবস্থান ওয়েস্ট বিচে, ভ্যানে করে যেতে হয়। এতে ১৪টি রুম ও একটি রেস্টুরেন্ট আছে। বিচের কাছাকাছি বলে কয়েকটি রুম থেকে সমুদ্র দেখা যায়। যোগাযোগ: ০১৯১১১২১২৯২, ০১৮১৯০১৮০২৭।

কোরাল ভিউ
রিসোর্টটি নৌবাহিনী পরিচালনা করে। ইস্ট বিচে এর অবস্থান। জেটি থেকে দূরে বলে ভ্যান বা বোট নিয়ে যেতে হয়। এর আয়তন অনেক বড়ো এবং রুম থেকে সমুদ্র দেখা যায়। রিসোর্টের সামনে একটি সবুজ মাঠ রয়েছে। একে হেলিপ্যাড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আছে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট। যোগাযোগ: ০১৯৮০০০৪৭৭৭, ০১৯৮০০০৪৭৭৮।

প্রিন্স হ্যাভেন
নর্থ বিচের পাশে এর অবস্থান। এখান থেকে সমুদ্র বেশ ভালো দেখা যায়। রিসোর্টে ২৪টি কক্ষ ও রেস্টুরেন্ট আছে। যোগাযোগ: ০১৮৩৩৩৬০৩৩৩।

সী প্রবাল
নর্থ বিচের রিসোর্টটি সী ভিউ থেকে সামান্য দূরে। এখানে ১৬টি রুম ও একটি রেস্টুরেন্ট আছে। এর চারটি রুম ছাড়া অন্য রুম থেকে সমুদ্র দেখার উপায় নেই। যোগাযোগ: ০১৮১৬৪৬৭৪০৬, ০১৭৬১২০০৬৮৯।

সেন্টমার্টিনে হোটেল বা রিসোর্ট বুকিং দেওয়ার সময় এর অবস্থান, দূরত্ব, রেস্টুরেন্ট, নিরাপত্তা ইত্যাদি দেখে নেওয়া ভালো। রুম ভাড়ার ক্ষেত্রেও ভালোভাবে দরদাম করা উচিত। তবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত রুম ভাড়া বেশি থাকে।

 

সেন্টমার্টিনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি সতর্কীকরণ নির্দেশনা নিম্নরূপ:

  • সমুদ্র স্নানের পূর্বে জোয়ার ভাটার সময় জেনে নিন।
  • এক হাঁটু পানির নিচে না নামাই শ্রেয়।
  • পানিতে নেমে উত্তেজনার বসে তীর হতে দূরে যাবেন না।
  • প্রাপ্ত বয়স্কদের অনুপস্থিতিতে ছোট ছোট বাচ্চা পানিতে নামা নিষেধ।
  • সাঁতার না জানলে পানিতে নামবেন না।
  • একা একা কখনই পানিতে নামবেন না।
  • নৌ যান চলাচল কালে লাইফ জাকেট পরিধান করুন।
  • মনে রাখবেন আপনার জীবনের নিরাপত্তা আপনাকেই নিশ্চিত করতে হবে।

 

সেন্টমার্টিনে ট্রিপ, হোটেল ও তথ্য সহযোগিতার প্রয়োজনে যোগাযোগ- #টিজিবি হেল্প লাইনঃ +8801877722851 থেকে +8801877722855

মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উদ্যোক্তা, সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, টেকনাফ, কক্সবাজার, 01818090767, saintmartinudc@gmail.com

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!