স্টক কাংরি : একটি অসম্পূর্ণ অভিযান

Back to Posts

স্টক কাংরি : একটি অসম্পূর্ণ অভিযান

শেষ কয়েক বছরে গুরু দায়িত্বটা আমাকেই নিতে হয়েছে। মাথা ধরে মাটিতে শোয়ানোর প্রথম স্টেপ টা আমার। কিন্তু এবার খুব সতর্ক। কোন রিস্ক নেয়া যাবেনা বরং পারলে এই দায়িত্ব অন্য কারো কাঁধে চাঁপাই। কিন্তু দায়িত্ব এড়ানো কি এতটা সহজ!

প্রথম গরুটা বাড়ীর সবচেয়ে বড়। ইয়া বড় বড় শিং। দেখলেই ভয় ধরে। যাহোক, প্রথমে এড়িয়ে যাচ্ছিলাম কিন্তু অনেকে মিলে পেরে উঠছিল না বলে বাধ্য হয়েই যেতে হলো। মাথায় ধরলাম। শোয়ানোর এক পর্যায়ে ইটের সাথে দিল ঘষা। মারাত্বক ভাবে চার নম্বর আঙ্গুল আহত হলো। চারপাশে দেখলাম কেউ দেখেছে কিনা! যাহোক দ্রুত কার্য শেষ করলাম। নখের পাশ দিয়ে থেতলে গেছে। বাকী গরু গুলোয় ইচ্ছে করেই কম ভূমিকা রেখেছি। তবে শেষ করেছি সবগুলো। বলে রাখা ভালো যে, শেষ কয়েকবছর সফলতার সাথেই দায়িত্ব পালন করেছিলাম।

ঘরে আগেই বলে দেয়া ছিল যে গোশত প্রসেসিং এ বেশি সময় দিতে পারবনা। তাই আয়েশে রেস্ট নিচ্ছি। ভাবীগণ গোশত প্রসেস করছে। আর এদিকে আমি লুকিয়ে লুকিয়ে ব্যাগ গোছাই। দুপুরের ভোজ শেষে বলে উঠলাম। আমি যাচ্ছি! কি? আজ কোরবানির ঈদের দিনে এই ছেলে বলে কি? একেকজনের চক্ষুগোচর অবস্থা। বুঝিয়ে বললাম। অফিসিয়াল ব্যাপার আছে। যেতে হবে। কি আর করা! না যেতে উপায় নেই ভেবে মন খারাপের সহিত সবাই শুভকামনা দিল।

৩.৩০ এর বাসে কুমিল্লা থেকে চড়ে বসলাম। গন্তব্য ফাঁকা নগরী ঢাকা। এই ঈদের দিনেও দেখি জ্যাম। কি একটা অবস্থা। বাসায় পৌঁছাই ৬ টার দিকে। দ্রুত ব্যাগ গুছিয়ে নিলাম। এক্ষুণী যে আবার বেড়োতে হবে। এবার বাস টাইম ৯ টা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় মেখে আসাদগেটে উপস্থিত। সঙ্গীগণের সাথে সাক্ষাৎ শেষে যথারীতি ড্রাইব্রারের পিছনের প্রিয় সিটে বসে পড়লাম।

ড্রাইভার স্যার। তাকে স্যার না বললে সম্মানহানি হয়। পিএইচিডি ডিগ্রীধারীর চেয়ে বেশি। তার আবার ত্রিপল ডিগ্রী। সহযাত্রী ইত্যাদির কাশেম টিভির রিপোর্টার শুভাশিস দা একবার মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল গাড়ীতে ট্যাপ আছে? এইতো! ড্রাইভার স্যার বুঝে ফেলেছে নিশ্চয়ই এই ট্যাপ খোঁজা হচ্ছে তার মুখে মারার জন্য। এমন হাজারো ঘটনা। যাহোক এই বান্দা থেকে যখন মুক্তি পাই তখন ঘড়িতে বরাবর ১০ টা বাজে।

বাব্বাহ। বিশাল লাইন। এই লাইন পাড়ি দিতে দিতে সন্ধ্যা হয়ে যাবে। একটু ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়ে ওপাড়ে যখন পৌঁছাই ঘড়িতে তখন ১টা। বাকী টিম মেম্বাররা আটকা পড়েছে। এসময় চা-বিস্কিট, ডলারের মূল্যমান ও শুয়ে বসে কাটাই। সবাই যখন একসাথ হই ঘড়িতে তখন ৩টার বেশি বাজে। দ্রুত কাজ শেষে ট্রেন ধরার জন্য বেড়িয়ে পড়লাম।

ও এখনো তো বলা হয়নি, কোথায় আসলাম, কোথায় যাব! সঙ্গী-সাথী কারা! বলে দেই- ইন্ডিয়া আসলাম, গন্তব্য কোলকাতা-দিল্লী হয়ে লেহ-লাদাখ আর উদ্দেশ্য- স্টক কাংগ্রি এক্সপেডিশন। সঙ্গে আছে ট্যুর গ্রুপ বিডি (টিজিবি) এর কর্ণধার প্রিয় ইমরান ভাই, শান্তশিষ্ট শাহেদ ভাই আর সর্দারজী মিস্টার আবিদ খান।

শিয়ালদহ’র উদ্দেশ্যে বনগাঁর ট্রেনে চড়ে বসলাম। সবারই এই ট্রেনে চড়ার অভিজ্ঞতা প্রথম। তিনজনের সিটে পাঁচজন! আবার বলে দাদা-দাদা, আপনি তো অনেকক্ষণ বসেছেন এবার আমাকে একটু বসতে দিন। বিভূতিভূষণ, চাঁদপাড়া, ঠাকুরনগর, গোবরডাঙা, মসলন্দপুর, সংহতি, হাবরা, অশোকনগর, দত্তপুকুর, বামনগাছি, বারাসাত, হৃদয়পুর, মধ্যমগ্রাম, নিউ বারাকপুর, কোদালিয়া, বিশরপাড়া, বিরাটি, দুর্গানগর, দমদম, হয়ে বিধাননগরে নেমে পড়লাম কাঙ্ক্ষিত ডিকাথলন এর উদ্দেশ্যে। একেকজন কয়েকটি করে ব্যাগ হাতে ধরে ডিকাথলন থেকে বেড়িয়ে আসলাম।

ঈদের দিন দুপুরের পর আর মাত্রই খাওয়ার সময় পেলাম। স্ট্রিট ফুডের দোকানে চিকেনচিলি, রুটি-মাসালা, ডিম দোপেয়াজা, টমেটো চাটনি পেটপুরে খেয়ে নিলাম। এতক্ষণ ঘড়ির দিকে নজর দেয়া হয়নি। ফ্লাইটের সময় বেশি সময় নেই। ভো-দৌড়। গন্তব্য নেতাজি সুবাস চন্দ্র বসু বিমানবন্দর। ১৫ আগষ্টের বাড়তি সতর্কতার জন্য আরো কিছু সময়ক্ষেপণ হয়। এন্ট্রি গেইট খুঁজে পেতে আমাদের ব্যাগ পোহাতে হয়। ভেতরে গিয়ে শিক্ষা-দীক্ষা, ভোগান্তি সহ আরো অনেক কাহিনী। সে অন্য একদিন এসব বলা যাবে।

রাত ১০.৪৫ এর ফ্লাইটে চড়ে বসলাম। সবার সিট আলাদা আলাদা। ভিআইপি সিটে বসেছি। সম্ভবত কোন ভিআইপি না যাওয়ায় আমাদের বসতে দিয়েছে। যাহোক, ক্ষাণিক বাদেই সহযাত্রী আসলো। সেইম এইজ মনে হলো। বিমান ছাড়তেই আলাপ শুরু। আমি আবার পাশের যাত্রীর সাথে আলাপে আলাপেই যাত্রার সময় কাটিয়ে দেই। সে যে কোথাও হউক। সহযাত্রী জওহরলাল নেহেরুতে পিএইচডি করছে। হিসেব করে দেখি ব্যাচমেট। বাব্বাহ কতমিল। নাম প্রীতি আগারওয়াল। কোলকাতার চুরুলিয়ায় বাসা। ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক, স্ব-স্ব দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থাসহ ব্যক্তিগত অনেক বিষয়ে আলাপে আলাপে কখন যে চলে আসলাম টেরই পেলাম না। অথচ জানতাম দিল্লী বহুদূর!

রাত ২.৩০। ব্যাকপ্যাক সংগ্রহ করে এদিক ওদিক ঘুরছি। ভাবছি টার্মনাল ১ মনে হয় ক্ষানিক দূরত্বেই। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা পরামর্শ দিল আগেই চলে যাও। প্রয়োজনে ওখানে গিয়ে ঘুমাও। হেল্প সেন্টারের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে গাড়ীতে চড়ে বসলাম। হায় এ দেখি ২০ মিনিটের মত হয়ে গেল। এয়ারপোর্টেই ঘুরছি কিন্তু টার্মিনাল ১ আসেনা! বোর্ডিং সংগ্রহ করে নিলাম। বাব্বাহ এই বিমানবন্দরের এই অংশটা মনে হয় লেহ-লাদাখের তাপমাত্রার সাথে ম্যাচ করেছে। সবাই কম বেশি শীতের জামা পড়ে নিয়েছে।

আবছা আলোয় বিমানে উঠার ডাক পড়ল। ফ্লাইট এখনি ছেড়ে যাবে। মহা মুশকিল। এবার সিট পড়েছে ইমারজেন্সি গেইটের সাথে। বিমানবালা বারবার যেভাবে তাকাচ্ছে আর বলছে ইমারজেন্সি গেইট দিয়ে কিভাবে নামতে হবে এবিষয়ে ব্রিফ দিবে ভয়ে অবস্থা শেষ। মনে হচ্ছে এই গেইট দিয়ে সত্যিই নামতে হতে পারে। আবার এর মধ্যে একজন লেডি ক্রু না চাইতেও পানি দিয়ে গেল। এবার আরও বেশি ভয়ের উপক্রম। মনে হলো শেষবারের মত পানি খাওয়াচ্ছে। এদিকে কেমন যানি এখনি হাই এল্টিটিউড ব্যাপার শরীরে অনুভব হচ্ছে। যাহোক, বিমানে আকাশে উড়াল দিল। জানালা দিয়ে যতদূর দেখা যায় দেখে পাশ ফিরেই দেখি ইমরান ভাই ঘুমিয়ে গেছে। ভাভারে ভাভা। সূর্‍্য্যি মামা উঁকি দিচ্ছে তাও আবার মেঘের সমুদ্র থেকে। অসম্ভব সুন্দর দৃশ্যের অবতারণা। বাকীটা সময় লাদাখের আকাশের উপর অংশ অর্থাৎ মেঘ সমুদ্র অবলোকনে কেটে যায়। হঠাত চোখে পড়ে একটি পাহাড়ের ঘা ঘেষে অনেকগুলো ঘড় দাঁড়িয়ে আছে। দৃশ্যটি খুবই পরিচিত মনে হলো। ইমরান ভাইকে ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেখালাম। বলল এটি শান্তিস্তুপা। হ্যাঁ। ওয়ালপেপারে দেখেছিলাম।

লেহ। স্বপ্নের গন্তব্য। হীম শীতল পরিবেশ। বিমানন্দরে রিসিভ করতে অপেক্ষায় আছে রানা ভাই ও ইরাজ ভাই। ওরা আগের ফ্লাইটেই ল্যান্ড করেছে। তারা বলছিল আরো দুই বাংলাদেশি আমাদের সাথে যোগ হবে। বিমানেই পরিচয়। ভাবতে পারিনি আমার জন্য চমক অপেক্ষা করছে। দুজনকে পরিচয় করিয়ে দিতে কাছে ঢাকল। হায়! এ দেখি জাহাঙ্গীরনগরিয়ান এবং ব্যাচমেট বন্ধু রাশিব ও ছোটবোন রিনি। খোশগল্প শুরু।

পুণ্যভূমি বলতে আমাদের মনে ভেসে আসে তীর্থস্থানের কথা। কিন্তু ভ্রমণ জগতের তীর্থস্থান বললে অনায়াসে প্রথম যে নামগুলো আসবে তার প্রথম দিকে থাকবে লেহ- লাদাখ। লেহ লাদাখের মূল শহর। লেহ জেলা ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখ অঞ্চলের দুইটি জেলার মধ্যে একটি জেলা এবং আয়তনের দিক থেকে গুজরাট রাজ্যের কচ্ছ জেলার পরেই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই জেলার উচ্চতার বিস্তার আনুমানিক ২৩০০ মিটার উচ্চতা থেকে ৫০০০ মিটার উচ্চতা। লেহ-এর পশ্চিম দিকে কার্গিল, উত্তর পশ্চিম দিকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান রাজ্যের ঘাংচে, উত্তর দিকে ও পূর্বদিকে চীন, দক্ষিণ দিকে হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের লাহুল ও স্পিটি অবস্থিত। লেহ-তে হিমালয়ের কারাকোরাম, লাদাখ ও জাংস্কার পর্বতশ্রেণী এই তিনটি পর্বতশ্রেনী পরস্পর সমান্তরালে অবস্থিত। এই তিন পর্বতমালার মধ্যে দিয়ে শ্যোক, সিন্ধু ও জাংস্কার নদী প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ জনবহুল নদী উপত্যকা সৃষ্টি করেছে। এই জেলায় খার্দুংলা, চাং, তাংলাংলা প্রভৃতি বিশ্বের সর্বোচ্চ বাইপাস রোড অবস্থিত। তবে লাদাখের মূল আকর্ষণ নুব্রা ভ্যালি ও প্যাংগং লেক, লামায়ুরু, তুর্তুক, মনুল্যান্ড, থ্রি ইডিয়টস এর রাঞ্চো’স স্কুল, শান্তিস্তুপা, হল অব ফেইম ও ম্যাগনেটিক হিল।

লাদাখের মূল শহর লেহ। যা সমূদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১১৫০০ ফিট উপরে। বাঁধানো ছবির মতো সুন্দর এই শহরে বাতাসে অক্সিজেন লেভেল খুব কম। তাই বাংলাদেশিদের মতো লো ল্যান্ডের মানুষদের একিউট মাউন্টেইন সিকনেস (AMS) দেখা দিতে পারে। অতি উচ্চতা, অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ার কারনে AMS এর লক্ষণ গুলো দেখা দেয়। মাথা ঘুরানো, দুর্বল লাগা, বমি বমি ভাব, মাথা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট উল্লেখযোগ্য AMS এর লক্ষণ। এ অবস্থায় ঘন ঘন পানি খেতে হবে তাতে দেহে অক্সিজেন লেভেল বাড়বে। লেহ-তে সব ফার্মেসিতে অক্সিজেন মিনি ক্যান পাওয়া যায়। কেউ প্রব্লেম মনে করলে ১/২ পাফ নিয়ে নিলে ভালো লাগবে।

গেস্ট হাউজের উদ্দেশ্যে চড়ে বসলাম। মিনিট ২০ পরেই চলে আসলাম লেহ-লাদাখ স্মৃতির অবিচ্ছেদ অংশ হয়ে যাওয়া হালধোপা গেস্ট হাউজ। ১১২ নম্বর রুমে ফ্রেশ হয়ে আপেলতলায় আসতেই কাজিন গরম চা নিয়ে হাজির। সাথে আছে গরম গরম নাস্তা। এ পর্ব শেষে দ্রুতই চারপাশ দেখতে বাহির হয়ে গেলাম। চমৎকার এক সম্মিলন স্থান লেহ শহর। আয়তনে ছোট তবে চারদিকে এক্টিভিটির পসরা সাজিয়ে বসে আছে নেটিজেনরা। কেউ সাইক্লিং, কেউ মাউন্টিয়ানিয়ারিং, কেউবা বাইক। অলি গলিতে ফরেইনারদের আনাগোনা। বাংলাদেশি একদলের সাথে দেখা হয়ে গেল। বিদেশের মাটিতে দেশীয় লোকের দেখা পেলে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে বলে মনে হয়না। খোশগল্প জমে উঠল। অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পরবর্তী প্ল্যান সন্ধ্যায় কফি আড্ডা হবে বলে আপাতত বিদায় নিলাম।

লেহ-তে সবচেয়ে বড় বিষয় এক্লাইমাইজেশন। এরই সূত্রধরে উদ্দেশ্য এবার লেহ প্যালেস। শহরের এক কর্ণারে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। লাদাখের রাজা সেঙ্গে নামগিয়াল ষোড়শ শতাব্দিতে রাজপরিবারের জন্য প্রাসাদটি নির্মাণ করেন। নয়তলা বিশিষ্ট তিব্বতীয় স্থাপত্যের প্রাসাদটির সবচেয়ে উপরের তলায় রাজপরিবার থাকত। নীচতলায় ছিল ঘোড়ার জন্য আস্তাবল ও স্টোর রুম। ডোগরা বাহিনী লাদাখ দখল করে নিলে রাজ পরিবারকে স্টোক প্যালেসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই সময় প্রাসাদটি মারাত্বকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া কর্তৃক পূণনির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এর ভেতরে একটি মিউজিয়াম করা হয়েছে। যাতে প্রচুর পরিমানে গহনা, অলংকার, রাজকীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানিক পোশাক ও রাজকীয় মুকুট রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ বছরের পুরোনো চাইনিজ চিত্রকর্মও রয়েছে। প্রাসাদের ছাঁদ থেকে পুরো লেহ-লাদাখের সকল পর্বত ও আশপাশের দৃশ্য অবলোকন করে এবার উদ্দেশ্যে পাহাড়ের চূঁড়ায় সেমো মৈত্রী টেম্পল বা নামগিয়াল সেমো গোম্পা। লেহ প্যালেস এর প্রবেশ মুখ থেকে বের হয়ে পাহাড়ে হাইকিং করে উঠা যায়। আবার গাড়ী নিয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরেও যাওয়া যায়। লেহ শহরের সবচেয়ে উঁচু স্পট এটা আর লেহ শহরের বার্ডস আই ভিউ পয়েন্টও এই গোম্পা। এখানে তিনতলার সমান উঁচু স্বর্ণের বুদ্ধ মূর্তি রয়েছে। ১৪৩০ সালে লাদাখের রাজা তাশি নামগিয়্যাল এই মন্দিরটি নির্মাণ করেন। অনেক পর্যটকই লেহ প্যালেসের সামনে থেকে পাহাড় বেয়ে এখানে উঠে ছোটখাট ট্রেকিং অভিজ্ঞতা নেয়ার জন্য। আকাশ পরিস্কার থাকলে এখান থেকে রাতের বেলা মাঝে মাঝে চমৎকার মিল্কিওয়ে দেখা যায়।

ক্যাফে লেহ। মুহুর্তেই ধারণ করে এক খন্ড বাংলাদেশ রূপে। একে একে সমবেত হয় বাংলাদেশি সাদা পাহাড় প্রেমীরা। শামসুল আলম বাবু ভাই, জয়নব শান্তুনু, মনিরা নওরোজ সেতু, রেশমা নাহার রত্না, মামুনুর রশিদ রানা, ইরাজ আহমেদ, দ্বীন ইসলাম রাজ, হোসাইন বিন সায়েম, ফজলুর রহমান শামিম, দীপু শিকদার, শাহেদুল হক, আবিদ খান, রাশেদ রাশিব, ফওজিয়া রিনি, কামাল হোসাইন সৈকত ও টিজিবির কর্ণধার ইমরানুল আলম ভাই। গল্প, আড্ডা ফটোসেশনের পাশাপাশি চলে ট্রেকিং এ করণীয় বাঞ্চনীয় আলাপ।

রাতের খাবারের আয়োজন হয় কাজিনের বাসায়। হিন্দি কথায় সবার ভূলবাল কথা বার্তা চলতে থাকে। উল্লেখযোগ্য শব্দ ‘কমদামা’। এরই মধ্যে শাহেদ ভাই ও আবিদ ভাইয়ের নতুন নাম দেয়া হয়। পরিচিত হই ছোট্ট তেনজিং এর সাথে। হোটেলের সকল ডকুমেন্টস পূরণ করা হয়। রাশিব রিনিকে বিদায় দিয়ে মধ্যরাতের লেহ দর্শনে বের হই। কিন্তু দিবাগত রাত ১৫ আগস্ট হওয়ায় পুলিশের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে ফিরে যেতে বাধ্য হই।

কাজিনের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। গরম গরম চায়ের সাথে নাস্তা সেরে এজেন্সিতে যাই। পুরো ব্রিফ নিয়ে এক্লামাইজেশনের অংশ হিসেবে উদ্দেশ্য এবার তাংলাংলা পাশ। কাশ্মীরী মুসলিম সিরাজ ভাই এর সাথে রওয়ানা হই। ছোটগাড়ীতে কনযাস্ট করে বসে যাই। ছবির মত সুন্দর চারপাশ। বরফের আচ্ছাদনে পাহাড়গুলো ঢেকে গেছে। যতই উঁচুতে উঠছি ততই উচ্চতাজনিত সমস্যা অনুভব করছি। তবে বাংলা-হিন্দি সাথে ইংরেজি গান আর চারপাশে মনোমুগ্ধকর উঁচু উঁচু পাহাড় দেখে আপাতত এটাই মনে ঘুরছে। আহা জীবন সুন্দর। হঠাৎই রানা ভাইয়ের গানের প্লে লিস্ট বেজে উঠল। সবার একটাই কথা। পায়ে পড়ি রানা ভাই। এবার বন্ধ করুন। মূলত রানা ভাইয়ের পছন্দের গানের  তালিকা তার সময়ের অর্থাৎ ১৯৭০ এর দশকের এবং এ বয়সী কেউ না থাকায় ভেটো দেওয়ার মূল কারণ।

তাংলাংলা পাশ। সমুদ্রপৃষ্ট থেকে উচ্চতা ১৭৮৫২ ফিট। যতই নিকটবর্তী হচ্ছিলাম ততই যেন মাথা ধরে আসছিল। ঘুরতে বাস উঠতে লাগল, এক সময় দেখি সামনে একটা গোল দুরত্ব লেখা বেদী আর বাঁ দিকে একটা মন্দির। বুঝতে পারলাম তর্কযোগ্য ভাবে পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম মোটরযান চলাচলকারী গিরিপথ তাংলাং’লা পৌঁছে গিয়েছি। উচ্চতা সমুদ্রতল থেকে ১৭,৫৮২ ফুট, একটা মাইলফলক তার জানান দিচ্ছে। সময় প্রায় দুপুর ১টা। অনেক ভারি বাতাস ও ঠান্ডা হাওয়া বইছে। প্রত্যেকটা পদক্ষেপ নিতে বেশ কষ্ট হচ্ছে। উচ্চতাজনিত উপসর্গগুলি অনুভব হচ্ছিল। একটি তাবুওয়ালা ঘর চোখে পড়ল। ভেতরে ঢুকতেই খুশিতে চক্ষুগোচর অবস্থা। চা-কফির আয়োজন আছে। রয়েল এনফিল্ড করে কয়েকটি গ্রুপ আসলো। চারদিকটা অসম্ভব সুন্দর দেখাচ্ছিল।

ফেরার পথে থ্রি ইডিয়ট সিনেমার সেই বিখ্যাত আলোচিত রাঞ্চো’স স্কুল ডু মেরে আসি। জানালা দিয়ে সাইল্যান্সারের উপর হিসু করে দেয়ালটায় লিখা অল ইজ ওয়েল’। সাইল্যান্সারের পোজে কয়েকটি ছবি উঠিয়ে নিলাম।

থ্রি ইডিয়ট স্টাইলে ড্রামে বসে পেছন ফিরে আরো কয়েকটি ক্লিক। মনে হচ্ছে যা করছি সিনেমারই অংশ। স্কুলটি সুন্দর ও পরিপাটি। ছুটি হয়ে যাওয়ার কোন শিক্ষার্থীর সাথে দেখা হয়নি।

 

লেহ-তে সবচেয়ে বড় সংকট যোগাযোগ ব্যবস্থার। অনেকেই বর্ডার কিংবা কোলকাতা থেকে সিম কিনে নেয় যা এই বিশেষ এলাকায় চলেনা তাই ওয়াইফাই একমাত্র ভরসা। সিরাজ ভাইকে বিদায় দিয়ে এমনি এক ওয়াইফাই রেস্টুরেন্ট এ বসে দুপুরের লাঞ্চ আর সন্ধ্যার নাস্তা একেবারে সেড়ে নেই। শপিং যা বাকী ছিল নিয়ে ফেরার পথে বাংলাদেশি জাফর ভাইকে দেখতে যাই। ম্যাসেঞ্জার বরাত জানতে পারি ভাইয়ের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। সেও স্টক কাংগ্রি থেকে ফিরেছে তবে বেসক্যাম্প থেকে অসুস্থ্য হয়ে। অক্সিজেন লেভেল কমে যাওয়ায় অবস্থা খুব নাজুক হয়ে পড়েছিল। বেসক্যাম্প থেকে স্ট্রেচারে করে নামিয়ে আনা হয়েছে। সবার মাঝে ভীতির সঞ্চার জাগে। জাফর ভাইয়ের মালামাল ফেরত শর্তে গনিমতের ন্যায় ভাগ করে নেই।

কাজিনের হালধোপায় রাতের খাবার সেড়ে ব্যাগ গোছানোর প্রস্তুতি শুরু। প্রথমে ৮ জনের ব্যাগকে ৪ টা ব্যাগে ব্যবস্থা করার প্ল্যান হয় কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে যার ব্যাগ বহন করবে বলে প্রস্তুতি নেয়। কোন কিছুতেই ঘুম আসছেনা। এ ঘুম না আসা কিন্তু টেনশনে না। এটা নেহাত উচ্চতা জনিত কারণে। পুরো উল্টো। টেনশনে ঘুম আসছেনা এটা না হয়ে কেন ঘুম আসছেনা বরং এটা নিয়ে টেনশন হচ্ছিল।

প্রত্যুষে বেরিয়ে পড়লাম। পথে এক সাদা চামড়ার লোকের সাথে দেখা। কোথায় যাব জিজ্ঞেস করল। এজেন্সির ঠিকানা চাইল। দেওয়া মাত্রই দৌড়ে এগিয়ে গেল। যাহোক মাউন্টেইন এডভেঞ্চার এর স্বত্বাধিকারী আজিজ ভাই পরিচয় করিয়ে দিল চন্দ্রা মূল গাইড এবং তার সাথে আছে আরো ৫ জনের টিম ও ১০টি ঘোড়া। সমস্ত মাউন্টেনিয়ার গিয়ারিং নিয়ে স্টক ভিলেজের উদ্দেশ্যে ক্ষাণিক বাদেই রওয়ানা হব এসময় ওই সাদা চামড়া এসে হাজির। সে একা এবং আমাদের সাথে স্টক কাংরি তে যেতে চায়। আজিজ ভাই আমাদের কাছে জানতে চাইল কি করা যায়। ৩০ মিনিটের সময় দিলাম। যেহেতু একা ও বিশাল স্বপ্ন নিয়ে এসেছে তাই নিরাশ করাটা ঠিক হবেনা। পরে পরিচয়ে জানতে পারলাম তার নাম মারভীন।

স্টক ভিলেজের উদ্দেশ্যে গাড়ী ছুটে চলল। বাংলাদেশ থেকে ইমরান ভাইয়ের নেতৃত্বে সাথে আছে রানা ভাই, ইরাজ ভাই, শাহেদ ভাই, আবিদ ভাই, রাশিব, রিনি, সৈকত ও ফিলিপাইন থেকে মারভিন। লেহ- শহরের অপরূপ দালান কোঠা দেখতে দেখতে ঘন্টা খানিক বাদেই পৌঁছে যাই স্টক ভিলেজ। এখান থেকেই ট্রেকিং শুরু। কাগজপত্রের ফরমালিটিস শেষ করে যখন রওয়ান দেই তখন ঘড়িতে প্রায় ১.৩০ বাজে। হিম শীতল বাতাস আর কড়া রোদে এগিয়ে চলছি। চারদিকটা অপরূপ সুন্দর। স্টক মিশন শেষে যারা ফিরছে তাদের সাথে জুলে বলে কর্মমদন আর একটাই জিজ্ঞাসা। মিশন কম্পলিট হে? উওর হতাশা জনক অনেকের মুখেই। দেখা যায় ১০ জনের টিমে ২-৩ জন। ২০ জনের টি থেকে ৫-৬ জন। যাহোক লাঞ্চ ব্রেক বিশাল পাহাড়ের নীচে লাঞ্চ করে আবার রওয়ানা। ‘রেশম ফিরিরি-রেশম ফিরিরি’ ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ প্রভৃতি গানে গানে এগিয়ে চলি বাকী পথ।

চ্যাংমা। ৪১০০ মিটার উচ্চতা। চারপাশটা মনে হলিউড মুভির জন্য সেট বানানো। পাহাড়ের অদ্ভুত কারুকার্য। ক্যাম্প এখানেই স্থাপন করল চন্দ্রা। ফ্রেশ হতেই গ্রম গরম চা হাজির। এই ট্রিপের সবচেয়ে ভালোলাগার বিষয় ছিল গরম গরম চা পাওয়া। বিকেল টা এক্লামাইজেশনের জন্য ক্ষানিক উপরে গিয়ে হেটে আসা কিন্তু বৃষ্টির হানায় ফিরতে হলো দ্রুতই। এই যে বৃষ্টি শুরু হলো থেমে থেমে চলতেই থাকলো। এর মধ্যেই ডিনার উইথ স্পেশাল পোড়া কলা ডেজার্ট ছিল চিরদিন মনে রাখার মত। যাহোক এই পর্ব শেষে রাতের অর্ধেক টা কাটিয়ে দেই উনো খেলে। এখানে চ্যাম্পিয়ন রিনি ও আবিদ ভাই। এবার ঘুমের পালা। কিন্তু কারোরই ঘুম আসেনা। এল্টিটিউড সিকনেস কাজ করে। অনেক গরম লাগে এই ঠান্ডা পরিবেশে। যাহোক ইমরান ভাইয়ের সাথে আলাপে আলাপে রাতের দুই-তৃতীয়াংশ কেটে যায়। কখন যে ঘুমের রাজ্যে চলে গিয়েছিলাম টের পাইনি।

সকালে স্টেঞ্জিং এর ঢাকে ঘুম ভাঙ্গে। গরম চা হাতে দিয়ে নাস্তার টেবিলে যাবার নিমন্ত্রন্য করে। তাবুর বাহিরের অংশটা বরফে ঢেকে গেছে। নাস্তা সারতে সারতে গাইড চন্দ্রা জানালো বেসক্যাম্পের অবস্থা ভালোনা। টানা বৃষ্টি ও তুষারপাত হচ্ছে। যাওয়াটা আমাদের উপর তবে পরিবেশ ভালোনা। ট্রিপের শুরুতেই গাইডের এমন কথা কারোরই ভালো লাগার কথা না। কিন্তু আমরা অবিচল ছিলাম। ঘন্টা খানেক বাদেই বৃষ্টি গাঁয়ে মাখিয়ে রওয়ানা দিলাম।

ম্যানকারমা। উচ্চতা ৪৫০০ মিটার। ঘন্টা তিনেক হেটেই চলে আসলাম। চাইলে বেসক্যাম্প পর্যন্তই যাওয়া যায়। আসলে পাহাড়কে অর্জন করার একটা বিষয়ে আছে মানে গেলেই হবে না এল্টিটিউড মানিয়ে নেয়াটা সবচেয়ে বড় সুখকর বিষয়। টানা বর্ষণ আর স্নোফলে ম্যানকারমা এলাকা স্যাঁতস্যাঁতে অবস্থা। এর মধ্যে ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। বৃষ্টিতে ভিজে যায় তৈজসপত্র। এটাই পরে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গল্প আড্ডা আর গান- চিন্তায় বাকিটা সময় কেটে যায়।

সকাল থেকে বৃষ্টি সমেত স্নোফল হয়েই যাচ্ছে। বেসক্যাম্পের খবর নিয়ে গাইড জানালো ওদিকটায় আরো বেশি স্নোফল হচ্ছে। যাওয়াটা একদম অনুচিত হবে। সিদ্ধান্ত আমাদের উপরে। দমে যাইনি। যাবই বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম। স্নোফল গাঁয়ে মেখে রওয়ানা হয়ে যাই। তবে প্রতি কদমে কদমে বুঝতে পারি উপরের অবস্থা আসলে বেশি সুবিধার না। সারা রাস্তায় রেস্ট নেওয়ার মত কোন জায়গা কিংবা একটা গাছও নেই। এদিকে শাহেদ ভাই বার বার পিছিয়ে পড়ছে যদিও মাউন্টেন গেইন করার জন্য এটা তার একটা স্ট্রাটেজি ছিল কিন্তু আমরা দাড়িয়ে পিছন ফিরে তার অপেক্ষায় ছিলাম। বরফে ঢাকা পিচ্ছিল রাস্তা, বাতাস আর স্নোফল সঙ্গে করে ৪ ঘন্টার মত হেটে কাঙ্ক্ষিত স্টক কাংগ্রির বেসক্যাম্প এ যখন পৌঁছি ঘড়িতে তখন প্রায় ১টা।

বেইসক্যাম্প। উচ্চতা ৫০০০ মিটার। তাবু সেট করে দুপুরের লাঞ্চ সেরে নেই। স্নোফল এখনো অব্যাহত আছে। তবে বিকেলের দিকে ক্ষানিকটা বন্ধ হয় সূর্‍্যের আলোর দেখা মিলে। কিন্তু গত ২-দিনে কেউ সামিট করতে পারেনি এবং অবস্থা সাকুল্যে দাঁড়ায় যে কেউ যাচ্ছেও না। আমরা সিদ্ধান্ত হীনতায় ভূগছি। পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেদিকে নজর রাখছি। লাদাখ মিত্র চলে যাওয়ায় বেসক্যাম্পের অবস্থা নাজুক। তেমন কোন সুযোগ-সুবিধা নেই।

সন্ধ্যার পরে ইমরান ভাইকে এল্টিটিউড সিকনেস ধরে বসে। মূলত সারাদিন স্নোফলের মধ্য দিয়ে ট্রেকিং ও ভেজা স্লিপিং ব্যাগে শোয়ার কারনে এই অবস্থা হয়। রাতের খাবার তেমন খেতে পারেনি। মধ্য রাতে অবস্থা খুবই নাজুক হয়ে যায়। প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা শুরু হয়। সারারাত বিছানায় গড়াগড়ি আর আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করেই কেটেছে। অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে এখানে থাকলে আরো বাড়তে পারে তাই নিচে নেমে যাবে এবং যত দ্রুত সম্ভব লেহ শহরে ফিরে যাবে। সকালে একটু কমলেও সিদ্ধান্তে অবিচল থাকে। কিছুক্ষণ পর সবার সাথে গ্রুপ ফটোর মাধ্যমে বিদায় নিয়ে রানা ভাইয়ের হাতে টিমের দায়িত্ব ও টিজিবি’র পতাকা তুলে দিয়ে নেমে যায়।

টিম লিডারের এভাবে প্রস্থান সবার মনে ভীতির সঞ্চার ঘটায় এবং আরো সাবধানী হতে বার্তা দেয়। যাহোক, আমরা তাকিয়ে পরিবেশ-পরিস্থিতির উপর। এদিকে চন্দ্রা দা আমাদের স্টক সামিটের অবিচল ইচ্ছা দেখে প্রশিক্ষণের জন্য ডাক দেয়। স্নো ফলের মধ্যে মাউন্টেন গিয়ারিং- হার্নেন্স, ক্রেমপন, রোপ, আইস এক্স সহ সবকিছুর ব্যবহার ও গ্রুপ ওয়ার্কে কিভাবে একসাথে মুভ করতে হবে এজন্য প্র্যাকটিস হিসেবে প্রায় ২০০ মিটার প্রদক্ষিণ করি।

স্নোফল এখনো অব্যাহত রয়েছে। আশ-পাশের ট্রেকারদের খোঁজ নিলাম কেউ যাবে কিনা। কেউ সাহস করছেনা এরই মধ্যে ঢাক আসল লাঞ্চের। চন্দ্রা দা বলল স্পেশাল আছে আজ। ভয় পেয়ে গেছি। স্পেশাল মানেই জগন্য। আমার খারাপ লাগা শুরু। মাথা ব্যাথার দরুন এই বুঝি বমি হবে হবে ভাব। বাকীরাও কোনমতে খেল। হঠাৎ-ই শুরু হলো কাল বৈশাখীর চেয়ে বড়মাত্রার ঝড়। আমাদের খাবারের তাবুসহ ক্যাম্পের গোটা দশেক তাবু মুহুর্তেই উড়ে গেল। সবাই রিস্ক নিয়ে নিজের ছোট ছোট তাবু গুলোতে ফিরে গেছি। কি ঝড়ের মুখোমুখি হয়েছি বলে বুঝানো যাবেনা। আল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ করে বাকিটা সময় কেটেছে। ঝড় শেষে এটাই মনে হয়েছে আল্লাহ্‌ এ যাত্রায় বাঁচিয়ে দিয়েছে। শুকরিয়া।

বিকেলে ঝড় বন্ধ হলে ঝলমল হয়ে উঠে চারপাশ। এর মধ্যে গাইড চন্দ্রা দার কাছ থেকে ভিন্ন প্রস্তাব উঠে আসে আর তা হলো ৬১৫০ মিটারের স্টক কাংগ্রির অভিযান সম্ভব না তবে বিকল্প হিসেবে ৫৯০০ মিটারের গোলাপকাংরি স্টেপ নেয়া যায়। এটাতে সময় কম লাগে ও তুলনামূলক সহজ। কিন্তু ভয়ংকর ঝড় আমাদের মনোবল ভেঙ্গে দেয়। চুরমার হয় শেষ ইচ্ছা। কি করব ভেবে পাচ্ছিনা। সিদ্ধান্ত সন্ধার পর জানাবো বলে জানিয়ে দেই। গাইড চন্দ্রা দা সিদ্ধান্ত জানানোর টাইম বলে দেয়। ৮টার মধ্যে জানাতে হবে পরে জানালে হবে না এবং ৩টায় রওয়ানা হবে।

বিধ্বস্ত মনে রানা ভাইয়ের তাবুতে আড্ডায় মশগুল। হলিউড বলিউড শেষে বাংলার টালিউড নিয়ে আলাপ চলছে। নায়কদের একেক ডায়ালগ। আহা। এর মধ্যে চন্দ্রা দা হাজির। সিদ্ধান্ত জানতে। বাকীরা কি বলেছে জেনে জানলাম ফিলিপানি মারভীন ছাড়া কেউ যেতে রাজী নয়। তবে পরিবেশ ভালো না থাকলে সেও যাবেনা। আমরাও জানিয়ে দিলাম যাচ্ছিনা। আড্ডা চালিয়ে গেলাম প্রায় ১১ টা পর্যন্ত। রানা ভাই ঘুমিয়ে পড়লে নিজেদের তাবুতে ফিরে আসি।

ঘুম আসছেনা। ভাবছি পুরো ট্রিপের অর্জন নিয়ে। কি পেলাম। সুস্থ্য আছি কিন্তু পরিবেশের কারণে যাওয়া যাচ্ছেনা। কি যে করি! যাহোক পরিবেশ ভালো হলে রওয়ানা হবো কিনা? যতটুকু পারি সুস্থ্যতার সহিত গেলাম না পারলে ফিরে আসব। কিন্তু সবাইকে তো বলে দিয়েছি যাবনা। কি করি! সিদ্ধান্তহীনতার মাঝেও ভাবলাম যদি ২টার পর জেগে উঠি তাহলে একবার বের হওয়ার চেষ্টা করব। এ ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়লাম টের পাইনি।

হঠাৎ তাবুর পাশে কারো হেটে যাওয়া ও ফিশফিশ শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। মুহুর্তেই তাবু খুলে দেখি চন্দ্রা দা মারভীন কে প্রস্তুত হতে বলছে। ডাক দিয়ে বললাম আমিও যাব। চন্দ্রা দা বলল ওকে। তবে সময় ১০ মিনিট। সময়। এর মধ্যে পারলে আসো। না পারলে ঘুমাও। হাতের কাছে যা পেয়েছি তা নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। ঠিক ৩.১০ এর দিকে রওয়ানা হলাম। চাঁদের আলো আছে কিন্তু প্রচণ্ড ঠান্ডা। ট্রেকসঙ্গী হলো আরো ৩ জন। ওরা আবার একেবারেই নতুন। ১০০ মিটারের উপর গিয়ে ক্রেমপন লাগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করি কিন্তু দ্রুত বের হওয়ার দরুন অন্য একটা ক্রেমপন নিয়ে আসায় সমস্যা হলো। ক্রেমপন ছাড়াই হাটছি। কিছুটা আলো উঠলে চেষ্টা করে লাগাতে পারি।

গোলাপকাংরি আর কত দূর! রাস্তা শেষই হচ্ছে না। আবহাওয়া ভালো কিন্তু এত বাতাস মনে হচ্ছে বুক ফেটে যাবে। কষ্ট হচ্ছে তবে দম আছে। ইচ্ছাও আছে আগাবার। কঠিন রাস্তা শুরু হয়ে গেছে। চন্দ্রা দা বলল সাবধানী হও। পা ফসকালেই ভয়ংকর ঘটনা ঘটবে। জিজ্ঞেস করলাম আর কতদূর বলল আরো ৩ ঘন্টা। কি! অথচ অভিযান শুরুর আগে বলেছিল ৩-৪ ঘন্টার রাস্তা। ইতিমধ্যে ৩.৩০ মিনিট হেটে ফেলেছি। সার্বিক পরিস্থিতি ও মিথ্যা আশ্বাসে আর আগাবার সাহস হয়নি। জিজ্ঞেস করলাম এখন কত মিটারে অবস্থান করছি? জিপিএস দেখে বলল ৫৬০০+, ভাবলাম আগাই। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় স্কীপ করার সিদ্ধান্ত নিলাম। এখনো সুস্থ্য আছি সামনে আগালে অন্যরকমও হতে পারে ভেবে বিদায় নিলাম। চন্দ্রা দা যদিও আগাতে বলছিল কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে একা একাই দ্রুত নীচে নেমে আসলাম।

বেসক্যাম্পে এসে শরীরের অবস্থা খুবই খারাপ ফিল করছিলাম। ঘুমোতে ইচ্ছে করছিল। জানতাম এ মুহুর্তে শুয়ে পড়লে নির্ঘাত খারাপ অবস্থায় পতিত হব। এদিকে তাবু ঘোছানো চলছে। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আজ এখনি লেহ-এর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। বাড়ি ফিরব বললে যা সবার হয় তাই হলো। সুস্থ্য বোধ করলাম। বেইসক্যাম্প ছেড়ে ম্যানকারমা-চ্যাংমা-স্টক ভিলেজ হয়ে একেবারে লেহ শহর। গরম পানিতে গোসল আর কাজিনের আয়োজনে রাতের খাবার খেয়ে হুশ ফিরলো বোধহয়। বাকিটা সময় আড্ডা আর পরের দিন প্ল্যান বিছানায় গড়াতে গড়াতেই করা হয়।

খুব প্রত্যুষেই ম্যাপিং ও প্লেস স্পেশালিষ্ট ইরাজ ভাইয়ের নির্দেশনায় বেড়িয়ে পড়েছি। চমৎকার যাত্রাপথ শেষে- প্রথম গন্তব্য ইন্দাস ও জাঁসকার নদীর সঙ্গমস্থল। যাত্রাপথ বেশ চমৎকার, লেহ-শ্রীনগর জাতীয় সড়ক ধরে নিমো পর্যন্ত আসতে হয়। চারদিকে পাহাড়ে ঘেরা, কোনও কোনও পাহাড়ের মাথায় বরফ। বলে রাখা ভালো যে, ভারতের এই অঞ্চল অত্যন্ত স্পর্শকাতর জায়গা। এখানেই দক্ষিন-পূর্ব দিক থেকে আসা হাল্কা সবুজাভ ইন্দাস (সিন্ধু) দক্ষিন-পশ্চিম দিক থেকে আসা ঈষৎ ঘোলা জলের জাঁসকার নদীর সাথে মিশে উত্তর-পশ্চিমে ইন্দাস নামে বয়ে যেয়ে এক সময় পাকিস্তানে চলে গিয়েছে। আকাশ-পাহাড় আর দুই নদীর মিলন রূপ নিয়ে নিয়েছে সৌন্দর্যের মহা সম্মিলনে।

লামেয়ারু ল্যান্ড যেন ছবিতে বাঁধানো। অসাধারণ গড়ন আর কারুকার্যের ন্যায় পাহাড়গুলো সাজানো। মনে হয় স্রষ্টা এখানে একটু বেশি সৌন্দর্য দিয়ে ফেলেছেন। মনেষ্ট্রি থেকে চারদিকটায় নজর দিলে মনে হয় ওয়ালপেপার দেখছি। দুপুরের লাঞ্চ এখানে সেরে উদ্দেশ্য এবার ম্যাঘনেট হিল। পথিমধ্যে আরেকটি মনেস্ট্রি দেখে নেই। তবে রানা ভাই হাতদুটোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। লেহ-লাদাখের রাস্তার এমন কোন কর্ণার বাকী নেই যে রানা ভাইয়ের ক্যামেরায় আসেনি।

চারপাশের মনমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে দেখতে ম্যাগনেট হিলে এসে পৌঁছাই। এক্টিভিটি করার ইচ্ছা থাকলেও তেমন আকর্ষনীয় না হওয়ায় কেউ সম্মত হয়নি। আর এদিকে আমার জীবনের অন্যতম একটা ইচ্ছা পূরণ হয়ে গেল। স্বপ্ন ছিল লেহ-লাদাখের রাস্তায় রয়েল এনফিল্ড করে ঘুরে বেড়াবো। যদিও গত এক সপ্তাহে চেষ্টা ও সময়ের অভাবে সুযোগ হয়নি এখানে দেখি এক ইন্ডিয়ান বাইকে বসে আছে। চেয়ে নিলাম। কিছুক্ষণ চালালাম। অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। যদিও বাইক চালনায় আমি নবীন। কিন্তু এক্সাইমেন্টে সব ভূলে গিয়েছিলাম।

গোধূলিলগ্নে লেহ-এর মেইন মার্কেটে পৌঁছে আশপাশটা ঘুরে সোজা স্ট্রীট ফুড এর দোকানে ভীড় জমাই। ৮ জনে তেইশ-শ রুপীর উপর কাবাব খেয়ে বিল উঠাই। আরো খেতে মন চাচ্ছিল কিন্তু কাজিনের তৈরিকৃত গ্র্যান্ড ডিনার মনে আসতেই আপাতত বন্ধ করি। গেস্ট হাউজে ফিরে দেখি বিশাল অবস্থা! কাজিন ৮ জনের জন্য ৮ প্লেটে ৮০টা মম ও ইয়া বড় বড় চিকেন ফ্রাই সাজিয়ে রেখেছে। আমাদের পেটে অতটুকুও জায়গা নেই যে কয়েকটা মুখে নেয়ার। যাহোক এত আন্তরিকতার সহিত বানিয়েছে কি আর করি শুরু করে দিলাম। সবাই মিলে মনে হয়ে ১৫-২০ টার মত খেতে পারলাম। কি করি! কাজিন কষ্ট পাবে বলে লুকোচুরি এবং ছলচাতুরীর আশ্রয় নিব ভাবছি। এই ধরুন এক টা পলিথিনে মমগুলো ডুকিয়ে অন্যত্র ফেলে দিব। কিন্তু সবাই নাও করছে এবং কাজিনও আমাদের সামনে থেকে সরছিল না। কি কষ্টে রাতের খাবারের মুহুর্ত পার করেছি তা অবর্ণনাতীত। যাহোক- কাজিনের সাথে এ পর্বেই বিদায় নিতে হলো কেননা খুব প্রত্যুষেই আমাদের ফ্লাইট।

এলার্মের কর্কষ শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেল। ফ্লাইটের সময় বেশি নেই। দ্রুত রওয়ানা হলাম। যথারীতি শাহেদ ভাইয়ের দেরী। এবার প্ল্যান তাকে রেখেই চলে যাবো। যাহোক গাড়ী আসতে দেরি করায় এ যাত্রায় পার পেয়ে যায়। হালধোপা ছেড়ে যতই এয়ারপোর্টের দিকে আগাচ্ছি ততই খারাপ লাগা কাজ করছিল। স্মৃতিগুলো ভেসে আসছিল। এয়ারপোর্টে একেকজনের একেক ধরণের অনুভূতি। চারপাশটা মিলে এক বৈচিত্রের ভান্ডার। নিশ্চুপ লেহকে বিদায় দিয়ে দিল্লীর ফ্লাইট ধরলাম। স্টক কাংরি যেন তাকিয়ে আছে আর ডেকে বলছে। এসো। আবার এসো।

দিল্লী। দুপুর ১১ টা। কোলকাতার ফ্লাইট ৬.৩০। হাতে আছে পাক্কা ৫ ঘন্টা। আবিদ ভাইয়ের অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে এয়ারপোর্টেই বাকী সময় থাকতে চায়। ইমরান ভাই, শাহেদ ভাই আর আমি সোজা ওল্ড দিল্লীতে চলে আসলাম। শাহেদ ভাই দিল্লীতে একদিন থাকার প্ল্যান করে তাই তাকে দিল্লীর ট্যুরিজম বোর্ডের সাথে আলাপ করে একদিনের দিল্লী শহর ট্রিপ ধরিয়ে দিয়ে ওডোমাস সহ আরো শপিং শেষ করে ৩৫০ রপী করে ভিআইপি টিকেট নিয়ে সোজা পিএসভি সিনেমা হলে ঢুকে যাই। ছবির নাম মিশন মঙ্গল। ২০১৩ সালে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ যে মিশন নিয়েছিল, সেই গল্পটাই বাস্তবে ফুটিয়ে তুলে অক্ষয়কুমার, বিদ্যা বালন, তাপসী পন্নু ও  সোনাক্ষী সিনহা। অবশেষে তাঁরা এলেন, দেখলেন এবং জয় করলেন। মঙ্গলযানকে পাঠালেন মঙ্গলের মাটিতে। দেখিয়ে দিলেন, যে বাড়িতে ব্রেকফাস্ট বানায় সে ইসরোতে মঙ্গলযান বানাতেও সাহায্য করে। গোটা ছবি জুড়েই নারী শক্তির জয়জয়কার। সব মিলে দূর্দান্ত কাহিনী ও ভালো সময় কেটেছে।

হল থেকে বেড়িয়ে দেখি এক খন্ড মেঘ দিল্লী শহরকে ভিজিয়ে দিয়ে গেছে। সময় বেশি নেই। দ্রুত এয়ারফোর্ট মুখী হলাম। সর্দারজী সমেত ফ্লাইটে ছড়ে বসলাম। কোলকাতায় যখন নামি রাত ৯ টার বেশি। নিউমার্কেট এরিয়ায় ইমরান ভাই আগেই হোম স্টে ঠিক করে রেখেছিল। এয়ারফোর্ট থেকে অনেক দূর। পৌছাতে প্রায় ১০.৩০ বেজে যায়। দ্রুত ফ্রেশ হয়ে দাওয়াত রেস্টুরেন্টে গিয়ে ভাত-খাসী, ভেন্ডি ভাজি আর ঢাল আহ। মনে হলো জীবন ফিরে পেলাম। খাওয়া শেষে ডেজার্ট বিখ্যাত কুলপি। রাতের কোলকাতায় হাটব আর মাটির কাপে চা খাব এ ছিল অনেক দিনের লালিত ইচ্ছা। পূরণ করে নিলাম। এর মাঝে জাহাঙ্গীরনগরের এক ছোট ভাইয়ের সঙ্গেও দেখা হয়ে গেল। আহা শান্তি!

কর্কষ এলার্মের শব্দ বেজেই চলছে। ঘুম ছাড়ছেই না। কিন্তু উঠতে যে হবেই। বাড়ি যেতে হবে। ফ্রেশ হয়ে উদ্দেশ্য এবার শ্রীলেদার। চমৎকার সব বাহারি আয়োজন। ঢুকলেই মনে হয় সাধ্যের মধ্যে সবটুকু সুখ এখানেই নিহিত। ধারদেনা করে একগাদা শপিং ব্যাগ সঙ্গী করে উদ্দেশ্য এবার শিয়ালদহ। জনপ্রতি ১০০ রুপীতে ট্যাক্সি নিয়ে পৌঁছেই ইমরান ভাই বনগাঁ মেট্রোর টিকেট নিশ্চিত করে। আর আমরা ব্যাগ পাহারা দেই। সকালের নাস্তাটা এখানেই সেড়ে নেই।

ট্রেন আসা মাত্রই সবাই হুমড়ি খেয়ে পড়ল। আমরা ছোট একটি কর্ণার নিয়ে নেই। ভাবছিলাম ৪ জন বসবে। পরে ৮ জনের বেশি বসেছে। যাহোক ক্যান্টনমেন্ট এলাকার উজ্জ্বল দার সাথে মহুর্তেই সর্দারজী আবিদ ভাই ও ইমরান ভাইয়ের সখ্যতা গড়ে উঠে। বেশ রসিক মানুষ তবে কথাটা একটু বেশি বলে। তার মাধ্যমেই পরে আলাপ হয় সিআরপির সাথে। চমৎকার সময় কাটে তাদের সাথে। বনগাঁও ট্রেন এসে যখন ভিড়ে ঘড়িতে তখন ৩.৩০। বর্ডারে এসে আরো কিছু চকলেট সঙ্গী করে রুপীকে টাকা করে এবার সময় দাদাদের দেশ ছাড়ার। বর্ডারে ভিড় কম থাকায় পিযুজ দা আর কাস্টমস অফিসার গল্প জুড়ে দেয়। এতে আরো কিছু সময় দিতে হলো। অথচ, মনটা চলে গেছে স্বদেশে। অবশেষে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। আহা। আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।

 

কামাল হোসাইন সৈকত

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!