সৈকত সৌন্দর্যের বরগুনা

সৈকত সৌন্দর্যের বরগুনা

বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের নদী বেষ্টিত জেলা বরগুনা সৈকত সৌন্দর্য্যে অপরূপ। বঙ্গোপসাগরের উপকূল ঘেষে এ জেলার অবস্থান। তাল-তমাল, হিজল-পিয়াল, কেওড়া-বাবলা এবং নাম না জানা লাখো বৃক্ষ ও গাছ-গাছালির পত্রে-পুষ্পে শোভিত বরগুনা। জেলা বিষখালী, পায়রা এবং খাকদোন নদীর নিয়ত প্রবাহমান উর্মিল খরস্রোত এবং বিশাল বঙ্গোপসাগরের অদিগন্ত বিস্তীর্ণ বেলাভূমির সাথে বনভূমির নৈসর্গিক শোভা পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ। প্রকৃতির অপার লীলা সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত যেমন কারে তেমনি সবুজের সমারোহের মাঝে হরিণের চারণভূমি বরগুনার রয়েছে নিজস্ব স্বকীয়তা। এছাড়া বরগুনা জেলায় রয়েছে কিছু প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন।

বরগুনা জেলা বাংলাদেশের দক্ষিনাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের অন্তর্গত একটি জেলা। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডর-এর আঘাতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা বরগুনা জেলার দক্ষিণে পটুয়াখালী ও বঙ্গোপসাগর, উত্তরে ঝালকাঠি, বরিশাল, পিরোজপুর ও পটুয়াখালী; পূর্বে পটুয়াখালী এবং পশ্চিমে পিরোজপুর ও বাগেরহাট।

১৯৬৯ সালে বরগুনা পটুয়াখালী জেলার অধীনে একটি মহকুমা হয়। ১৯৮৪ সালে দেশের প্রায় সকল মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করা হলে বরগুনা জেলায় পরিণত হয়। লোকসংস্কৃতি হিসেবে জারিগান, সারিগান, কবিগান, কীর্তন, হয়লা, লোকগাঁথা, লোকনাট্য উল্লেখযোগ্য। এ অঞ্চলের প্রসিদ্ধ গান – “হয়লা” যা বিয়ের সময় গাওয়া হয়। তাছাড়াও – কীর্তন , জারিগান, সারিগান, কবিগান, লোকগাঁথা, লোকনাট্য উল্লেখযোগ্য। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি জাগরিত ভাস্কর্য “অগ্নিঝরা একাত্তর “বরগুনা জেলার পৌর শহরের টাউন হল চত্বরে অবস্থিত। যার ফলশ্রুতিতে টাউন হলের নতুন নামকরণ করা হয়েছে স্বাধীনতা স্কয়ার। প্রধান নদী- পায়রা, বিষখালী,বলেশ্বর, খাকদোন। 

বরগুনার আয়তন- আয়তন   ১৯৩৯.৩৯ বর্গ কি:মি। জনসংখ্যা ৮,৯২,৭৮১ জন। আমতলী, তালতলী, পাথরঘাটা, বরগুনা সদর, বামনা ও বেতাগি নিয়ে উপজেলা ০৬ টি, থানা ০৬ টি, পৌরসভা ০৪ টি, ইউনিয়ন ৪২ টি, গ্রাম ৫৬০ টি,সংসদীয় আসন ২টি

দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • ফাতরার চর
  • আশার চর
  • হরিণঘাটা বনাঞ্চল ও লালদিয়ার চর ও সমুদ্র সৈকত
  • রাখাইন পল্লী তালতলী
  • বিবিচিনি শাহী মসজিদ
  • সোনাকাটা ফরেস্ট
  • ছোনবুনিয়া
  • মাঝেরচর
  • লালদিয়া সমুদ্রসৈকত

বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব

  • সেলিনা হোসেন
  • শাহজাদা আবদুল মালেক খান
  • অধ্যাপক আখতারুজ্জামান (উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

খ্যাত খাবার

বরগুনার বিখ্যাত খাবার -চুইয়া পিঠা, চ্যাবা পিঠা, মুইট্টা পিঠা, আল্লান, বিসকি, তালের মোরব্বা, শিরনি, নাড়িকেলের সুরুয়া, চালের রুটি, মাছ, মিষ্টি।

বরগুনায় খাবারের জন্য বেশ কিছু স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে সবধরণের সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছেঃ

রহমান রেস্তোরা – সদর।

 

রাত্রী যাপন

বরগুনায় থাকার জন্য স্থানীয় পর্যায়ের কিছু সাধারণ মানের হোটেল রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকার জন্যে উন্নতমানের –

  • জেলা পরিষদ ডাকবাংলো – বরগুনা।
  • হোটেল তাজবিন – সদর।
  • হোটেল বে অব বেঙ্গল – সদর রোড, বরগুনা; মোবাইলঃ ০১৭১২-২৩৪ ৩৩২।

 

কিভাবে যাবেন?

রাজধানী ঢাকা থেকে বরগুনা সদরের দূরত্ব ২৪৭ কিলোমিটার আর বিভাগীয় শহর বরিশাল থেকে ৯০ কিলোমিটার। এই জেলাটি একটি উপকূলী ও নদীবহুল অঞ্চল হওয়ায় এখানকার যেকোনো স্থানে আসার জন্য নৌপথ সবচেয়ে সুবিধাজনক পরিবহণ ব্যবস্থা। তবে, সড়ক পথেও এখানে আসা সম্ভব; সেক্ষেত্রে ফেরী পারাপার হতে হবে। বরগুনায় রেল যোগাযোগ বা বিমান বন্দর নেই বলে এই দুটি মাধ্যমে এখানকার কোনো স্থানে আসা যায় না।

সড়কপথে

ঢাকা থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং রাত ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত গাবতলী ও সায়েদাবাদ থেকে সাকুরা, সুগন্ধা, মিয়া, আব্দুল্লাহ্, পটুয়াখালী এক্সপ্রেস প্রভৃতি কোম্পানীর বাস ছাড়ে বরগুনার উদ্দেশ্যে। এছাড়া গাড়ী ভাড়া করে নিয়ে আসা যায়।

ঢাকা থেকে বরগুনা আসার ভাড়া : ননএসি বাসে ২২০/- হতে ৬৫০/-। চট্টগ্রাম থেকে সৌদিয়ার বাস আসে বরগুনায়; ভাড়া পড়ে ৬৫০/-।

বরগুনা সদর থেকে সড়ক পথে পায়রা, লেবুখালী ও কির্তনখোলা নদী ফেরী পারাপারের মাধ্যমে পটুয়াখালী হয়ে বরিশাল বিভাগীয় শহরে পৌছান যায়। এ পথের মোট দূরত্ব প্রায় ৯০ কিঃমিঃ এবং সময় লাগে প্রায় ০৪ ঘন্টা। বর্তমানে এ পথের বিকল্প হিসেবে বরিশাল বিভাগীয় শহরে যাতায়াতের জন্য বরগুনা-বেতাগী-মির্জাগজ্ঞ-বাকেরগজ্ঞ-দপদপিয়া সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এ পথে অপেক্ষাকৃত কম সময় লাগলেও সড়কটিতে সংস্কার কাজ চলমান থাকায় এ পথটি কম ব্যবহৃত হয়।

বরগুনা হতে সড়ক পথে কাকাচিড়া-শতকর-মঠবাড়িযা-ভান্ডারিয়া-পিরোজপুর হয়ে বাগেরহাট ও খুলনা বিভাগীয় শহরে যাতায়াতের ব্যবস্থা রয়েছে।

বরগুনা জেলা হতে বরিশাল এবং খুলনা বিভাগীয় শহরে পৌঁছে দেশের যেকোন স্থানে যাওয়া সম্ভব।

বরগুনা সদর থেকে পায়রা নদী ফেরী পারাপারের মাধ্যমে আমতলী উপজেলায় পৌছান যায়, এতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। আমতলী উপজেলা হতে সরাসরি সড়কপথে তালতলী উপজেলায় পৌঁছান যায় যাতে সময় লাগে প্রায় ১ ঘন্টা। এছাড়া বেতাগী উপজেলার সাথে বরগুনা সদর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে, এতে প্রায় ১ ঘন্টা সময় লাগে। বরগুনা জেলা সদর থেকে বড়ইতলা-বাইনচটকী ফেরী পারাপারের মাধ্যমে পাথরঘাটা ও বামনা উপজেলায় সড়ক যোগাযোগ বিদ্যমান এতে সময় লাগে যথাক্রমে ১.৩০ ঘন্টা এবং ২ ঘন্টা।

নৌপথে

প্রতিদিন একাধিক লঞ্চ ঢাকা সদরঘাট হতে বরগুনা যায়। লঞ্চ ছাড়ে ৪.৩০টা হতে ৮.০০টার মধ্যে। লঞ্চ ভাড়া ২০০ টাকা করে (ডেক), আর কেবিনে গেলে ৯০০ টাকা সিঙ্গেল, ১৮০০ টাকা ডাবল।

 

Share this post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


error: Content is protected !!