বাংলাদেশের শীর্ষ পাহাড়সমূহ (উচ্চতায়)

Back to Posts

বাংলাদেশের শীর্ষ পাহাড়সমূহ (উচ্চতায়)

সৌন্দর্য, বিশালতা আর দুর্গমতা নিয়ে পাহাড়সমূহ দাঁড়িয়ে আছে যুগ যুগ ধরে। সাক্ষ্য বহন করে চলছে ইতিহাসের। সর্বোচ্চ উচ্চতার পাহাড়গুলো বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে পাহাড় জয়ীদের কাছে। চূড়া জয় হয়ে উঠেছে ট্রেকারদের কাছে স্বপ্ন ও নেশা। তবে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এ পথে। উচ্চতার দিক দিয়ে শীর্ষ পাহাড়সমূহের অনেকগুলোতে নিরাপত্তা জনিতকারণে যাওয়া যায়না।

বাংলাদেশ নিম্নভূমির দেশ। বাংলাদেশে শুধুমাত্র দক্ষিণ পূর্বে চট্টগ্রামে পাহাড়, উত্তর পূর্বে সিলেটে নিচু পাহাড় এবং উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে কিছু উচ্চভূমি আছে। পার্বত্য চট্টগামের পাহাড়সমূহ হলো আরাকানের পাহাড় সমূহের অংশ বিশেষ। এই পাহাড়সমূহ টারশিয়ারি যুগের। পাহাড়সমূহ ভাঁজ বা ভঙ্গিল পর্বত শ্রেণির।  এ আলাপে শীর্ষ পাহাড় সমূহের বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

 

সাকা হাফং

উচ্চতা- ৩,৪৬৫ ফুট (১,০৫৬ মিটার), অবস্থান: থানচি, বান্দরবান। বেসরকারি হিসেবে সাকা হাফং চূঁড়াকে বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর উচ্চতা ১,০৫২ মিটার (৩,৪৫১ ফুট)। বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে চূড়াটি অবস্থিত।

আনুষ্ঠানিকভাবে সাকা হাফংকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়া হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে বলা যায়, সম্ভবত এর চেয়ে বেশি উচ্চতার আর কোন চূড়া বাংলাদেশে নেই। চূড়াটি ২০০৫ সালে ইংরেজ পর্বতারোহী জিং ফুলেন সর্বপ্রথম আরোহণ করেন। সেসময় তিনি চূঁড়াটির উচ্চতা নির্ণয় করেন ১,০৬৪ মিটার আর অবস্থান দেখান 21°47′11″উ. 92°36′36″পূ. / 21.78639°উ. 92.61°পূ.। তার দেখানো এ অবস্থান রাশিয়া নির্মিত ভৌগোলিক মানচিত্রে এর অবস্থানের সাথে হুবহু মিলে যায়। ২০০৭ সালে প্রথম বাংলাদেশী দল সাকা হাফং আরোহণ করেন। ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বে সেই দলে ছিলেন দেশের এভারেস্ট আরোহণকারী পর্বতারোহী সজল খালেদ। মূলত সেই সময় থেকে পরিচিত হয়ে উঠে সাকা হাফংনামটি। ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে দুটি অভিযাত্রিক দল সাকা হাফং-এর উচ্চতা নির্ণয় করেন ৩,৪৮৮ ও ৩,৪৬১ ফুট। বাংলাদেশের স্বীকৃত সর্বোচ্চ চূড়া কেওক্রাডং-এর (৩,১৭২ ফুট) চেয়ে এর উচ্চতার সকল পাঠই অনেক বেশি।

 

জ-ত্লং/মোদক মুয়াল

উচ্চতা: ৩,৩৩৫ ফুট (১,০১৭ মিটার), অবস্থান: থানচি, বান্দরবান। জ-ত্লং বা মোদক মুয়াল, পর্বতটি অনেক ভ্রমণকারীর কাছে অপরিচিত হলেও পর্বতারোহীরা চিনে থাকেন এক নামে। কারণ আর কিছুই নয়, এর দুর্গমতা। অন্য যেকোনো পর্বত এমনকি সুউচ্চ সাকাহাফং-এর চেয়েও কঠিন এই পর্বতের চূড়ায় পৌঁছানো। তবে দুর্গমতাই এর প্রতি তৈরি করেছে মাদকতা। নাসার স্যাটেলাইট ডাটা থেকে দেখা যাওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় চূড়া এটি।

 

দুমলং

বেসরকারিভাবে এটিকে বাংলাদেশের ৩য় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ বলে দাবী করা হয়। এ পর্বতের উচ্চতা ৩,৩১৪ ফুট। এটি রাঙ্গামাটি জেলার সর্বোচ্চ পর্বত ও দেশের ১০০০ মিটারের অধিক উচ্চতার ৩ টি পর্বতের মধ্যে একটি। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাঙ্গামাটি জেলার বিলাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত। এটি রাংত্লং পর্বতশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ও রাইংক্ষ্যং হ্রদের পার্শবর্তী প্রাংজং পাড়ার কাছে এর অবস্থান।

দুমলং রাংগামাটি জেলার বিলাইছড়িতে হলেও এখানের মানুষের সাথে যোগাযোগ বান্দরবন জেলার রুমা বাজারের সাথে কারন বিলাইছড়ি যেতে অনেক সময় লাগে, আর রুমা যেতে লাগে মাত্র এক দিন। বান্দরবান থেকে রুমা বাজার বগা লেক হয়ে পুকুর পাড়া / প্রাংজং পাড়া । সেখান থেকে একদিনেই দুমলং উঠে ফিরে আসা যায়।

 

যোগি-হাফং

বাংলাদেশের এ পর্যন্ত অভিযান হয়েছে এমন পাহাড়গুলোর মাঝে সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ চুড়া যোগী হাফং তথা কংদুক। এর অবস্থান চতুর্থ এবং উচ্চতা ৯৮৩ মিটার বা ৩২২২ ফুট। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বেশ দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত মোদক রেঞ্জের অন্তর্ভুক্ত এই পাহাড়। স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে যেন বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে পার্থক্য একে দিয়েছে। যোগীর মূলত ৪টি চূড়া। আসলে সর্বোচ্চ চূড়া ১টি আর বাকি ৩টি সাব পিক। ৪র্থ চূড়াটি বেশ ভয়ংকর ও বিপজ্জনক। এ জন্য অনেকে মিশন শেষ করতে পারেন না।

 

কেওক্রাডং

কেওক্রাডং বাংলাদেশের ৫ম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলায় অবস্থিত অবস্থিত। এক সময় এটিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ ধরা হত। তবে আধুনিক গবেষণায় এই তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সাকা হাফং। কেওক্রাডং শব্দটি মারমা ভাষা থেকে এসেছে। মারমা ভাষায় কেও মানে ‘পাথর’, কাড়া মানে ‘পাহাড়’ আর এবং ডং মানে ‘সবচেয়ে উঁচু’। অর্থাৎ কেওক্রাডং মানে সবচেয়ে উঁচু পাথরের পাহাড়।

 

মাইথাই জামা হাফং

৩,১৭৪ ফুট (৯৬৭ মিটার), বিলাইছড়ি, রাঙামাটি

 

থিংদৌল তে ত্ল্যাং

৩,১৪৯ ফুট (৯৬০ মিটার), রুমা, বান্দরবান

 

মুখ্রা থুথাই হাফং

৩,১২৯ ফুট (৯৫৪ মিটার), বিলাইছড়ি, রাঙামাটি

 

কপিতাল

৩,০৯৪ ফুট (৯৪৩ মিটার), রুমা, বান্দরবান

ক্রেইকুং তং/ন্যারা্ম্ ত্ল্যাং

৩,০৮৩ ফুট (৯৪০ মিটার), রুমা, বান্দরবান

 

রাং ট্লাং

বিলাইছড়ি, রাঙামাটি

 

নাসাই হুম

৩,০০৫ ফুট (৯১৬ মিটার), থানচি, বান্দরবান। বাংলাদেশের সবচেয়ে দূর্গম চুড়া নাসাইহুম । ২০১১ তে ডি-ওয়ে আর নেচার এডভেঞ্চার ক্লাবের যৌথ উদ্দ্যোগে অভিযান পরিচালিত হয় এই চুড়ায়।

 

 

আইয়াং ত্লং

অবস্থান: থানচি, বান্দরবান।

সম্প্রতি সবচেয়ে আলোচিত পাহাড় আইয়াং ত্লং। দলিয়ান পাড়া থেকে Y জংশন হয়ে জোতলং এর রাস্তায় গিয়ে একটু পরেই আইয়াং ত্লং এর দিকে একটি রাস্তা চলে গেছে।  ভয়ঙ্কর সব বন্য প্রাণীর আবাসস্থল খ্যাত এ পাহাড়ে বাঘ, ভাল্লুক, সাপ সহ আরো অনেক কিছু রয়েছে বলে দলিয়ান পাড়ার গাইডরা জানান। দলিয়ান পাড়ার লালঠাকুম বম ও আরেকজন গাইড এ পাহাড়ের রাস্তা ভালো করে চিনেন। হাটার গতি ভালো হলে সকালে রওয়ানা দিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসা যায়। এই পাহাড়ের উচ্চতা নিয়ে নানামত রয়েছে। তবে নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের শীর্ষ পাহাড়গুলোর মধ্যে এটি একটি।

তথ্যসূত্র (উইকিপিডিয়া)

Share this post

Comments (2)

  • SEO Reseller Reply

    Awesome post! Keep up the great work! 🙂

    January 25, 2020 at 10:33 pm
  • cbd Reply

    It’s remarkable to visit this web site and reading the views of all friends on the topic of this paragraph,
    while I am also zealous of getting experience.

    March 16, 2020 at 9:03 am

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to Posts
error: Content is protected !!